📄 সন্তানের প্রতি মায়া-মমতা
রাসূলে পাক (স.) বলেন “কুরাইশ বংশের মহিলাগণ উত্তম ও আদর্শ মহিলা। কেননা তারা যেমন স্বামীর প্রতি আস্থাশীলা, তেমনি হয় সন্তানের প্রতি দয়াবতি ও মমতাশীলা।” মায়া-মমতাহীনা মা জননী কখনও সন্তানের সঠিক লালন-পালন করতে সক্ষম হয় না। কোনো সন্তান পৃথিবীতে অমর হয়ে আসে না। একদিন অবশ্যই তাকে মৃত্যুবরণ করে বস্তুজগত থেকে বিদায় নিতে হয়। আখেরাতের জীবনই হচ্ছে আসল ও স্থায়ী জীবন। মূলত এ জীবনের শান্তি ও প্রশান্তিই হচ্ছে কাম্য। এ সত্য কেবল মাতা পিতাই বুঝতে সক্ষম হতে পারে। আর এ অনুধাবনের জন্য প্রয়োজন মাতা পিতার জন্য সন্তানের প্রতি প্রকৃত স্নেহ-মমতার অধিকারী ও দয়াশীল হওয়া। সন্তানের প্রতি হযরত হাজেরার স্নেহ-মমতার জ্বলন্ত সাক্ষী হচ্ছে সাফা-মারওয়া পাহাড় এবং উভয় পাথরের মধ্যভাগে সা'য়ী প্রতিপালনের বিধান। শিশু সন্তান ইসমাঈল যখন একফোটা পানির জন্য ছটফট করছিল তখন যে মা-জননী তাকে দশ মাস উদরে রেখে রক্তকে পানি করে অসহনীয় দুঃখ কষ্ট সহ্য করতঃ প্রসব ব্যথায় মুমূর্ষে অবস্থায় সন্তানের মুখ দেখে সব ভুলে গিয়েছিলেন। সন্তানের এহেন দুরাবস্থায় মাতা কি করে স্থির থাকতে পারে? দয়া-মায়ার সাগর হযরত হাজেরা সন্তানের প্রাণ রক্ষার তাগিদে একফোটা পানির জন্য পাগলীনির ন্যায় এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। তার কান্না ও অশ্রু পাহাড়-পর্বত থেকে নির্গত হয়ে যমযম কূপের আকার ধারণ করে নিদর্শন হয়ে রয়েছে। সন্তানগণ কি কখনও তা অনুধাবন করে? হযরত হাজেরা এখন আর বস্তুজগতে নেই। কিন্তু মৃত্যুবরণ করেও তিনি এখনও অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন চিরকাল। আল্লাহপাক হযরত হাজেরা ও তাঁর অনুসারীদের জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন!
রাসূলে পাক (স.) বলেন “কুরাইশ বংশের মহিলাগণ উত্তম ও আদর্শ মহিলা। কেননা তারা যেমন স্বামীর প্রতি আস্থাশীলা, তেমনি হয় সন্তানের প্রতি দয়াবতি ও মমতাশীলা।” মায়া-মমতাহীনা মা জননী কখনও সন্তানের সঠিক লালন-পালন করতে সক্ষম হয় না। কোনো সন্তান পৃথিবীতে অমর হয়ে আসে না। একদিন অবশ্যই তাকে মৃত্যুবরণ করে বস্তুজগত থেকে বিদায় নিতে হয়। আখেরাতের জীবনই হচ্ছে আসল ও স্থায়ী জীবন। মূলত এ জীবনের শান্তি ও প্রশান্তিই হচ্ছে কাম্য। এ সত্য কেবল মাতা পিতাই বুঝতে সক্ষম হতে পারে। আর এ অনুধাবনের জন্য প্রয়োজন মাতা পিতার জন্য সন্তানের প্রতি প্রকৃত স্নেহ-মমতার অধিকারী ও দয়াশীল হওয়া। সন্তানের প্রতি হযরত হাজেরার স্নেহ-মমতার জ্বলন্ত সাক্ষী হচ্ছে সাফা-মারওয়া পাহাড় এবং উভয় পাথরের মধ্যভাগে সা'য়ী প্রতিপালনের বিধান। শিশু সন্তান ইসমাঈল যখন একফোটা পানির জন্য ছটফট করছিল তখন যে মা-জননী তাকে দশ মাস উদরে রেখে রক্তকে পানি করে অসহনীয় দুঃখ কষ্ট সহ্য করতঃ প্রসব ব্যথায় মুমূর্ষে অবস্থায় সন্তানের মুখ দেখে সব ভুলে গিয়েছিলেন। সন্তানের এহেন দুরাবস্থায় মাতা কি করে স্থির থাকতে পারে? দয়া-মায়ার সাগর হযরত হাজেরা সন্তানের প্রাণ রক্ষার তাগিদে একফোটা পানির জন্য পাগলীনির ন্যায় এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। তার কান্না ও অশ্রু পাহাড়-পর্বত থেকে নির্গত হয়ে যমযম কূপের আকার ধারণ করে নিদর্শন হয়ে রয়েছে। সন্তানগণ কি কখনও তা অনুধাবন করে? হযরত হাজেরা এখন আর বস্তুজগতে নেই। কিন্তু মৃত্যুবরণ করেও তিনি এখনও অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন চিরকাল। আল্লাহপাক হযরত হাজেরা ও তাঁর অনুসারীদের জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন!
📄 জনসেবা ও সমবেদনা
জনসেবা, সমবেদনা ও উদারতা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই মহৎ গুণ। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একটি কুকুরের প্রতি সমবেদনা ও সেবামূলক আচরণ করার বদৌলতে একজন পাপাচারীর প্রতি আল্লাহ পাকের ক্ষমা প্রদর্শন ও জান্নাত দানের ঘটনা হাদীসে বর্ণিত আছে। বস্তুত ক্ষমা, সেবা, সমবেদনা ও উদারতাই একটি জাতির ঐক্যের বন্ধনকে অটুট রাখার অন্যতম উপায়। হযরত হাজেরা এর নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত কায়েম করেছিলেন। মক্কার অরণ্য জঙ্গল মরুভূমিতে জনবসতি গড়ে তোলা, আল্লাহর ঘর পুনঃনির্মাণ ও আবাদ করার পেছনে হযরত হাজেরার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর উদারতার কারণেই মক্কা নগরীতে বনী জুরহাম গোত্রের আগমন ও অবস্থান সম্ভব হয়। হযরত হাজেরার কলিজার টুকরা ইসমাঈলের বংশসূত্রের ধারাবাহিকতা এই গোত্রকে কেন্দ্র করেই অব্যাহত থাকে। আর এই বংশে উজ্জ্বল প্রদীপ হযরত মুহাম্মদ (স.)। হযরত হাজেরাকে স্মরণ করে মহানবি (স.) গৌরব করে বলতেন,
هذه امكم بني ماء السما .
অর্থ- হে হাজেরা! আপনি পরম ধন্য। ধন্য আপনার জীবন।
জনসেবা, সমবেদনা ও উদারতা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই মহৎ গুণ। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একটি কুকুরের প্রতি সমবেদনা ও সেবামূলক আচরণ করার বদৌলতে একজন পাপাচারীর প্রতি আল্লাহ পাকের ক্ষমা প্রদর্শন ও জান্নাত দানের ঘটনা হাদীসে বর্ণিত আছে। বস্তুত ক্ষমা, সেবা, সমবেদনা ও উদারতাই একটি জাতির ঐক্যের বন্ধনকে অটুট রাখার অন্যতম উপায়। হযরত হাজেরা এর নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত কায়েম করেছিলেন। মক্কার অরণ্য জঙ্গল মরুভূমিতে জনবসতি গড়ে তোলা, আল্লাহর ঘর পুনঃনির্মাণ ও আবাদ করার পেছনে হযরত হাজেরার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর উদারতার কারণেই মক্কা নগরীতে বনী জুরহাম গোত্রের আগমন ও অবস্থান সম্ভব হয়। হযরত হাজেরার কলিজার টুকরা ইসমাঈলের বংশসূত্রের ধারাবাহিকতা এই গোত্রকে কেন্দ্র করেই অব্যাহত থাকে। আর এই বংশে উজ্জ্বল প্রদীপ হযরত মুহাম্মদ (স.)। হযরত হাজেরাকে স্মরণ করে মহানবি (স.) গৌরব করে বলতেন,
هذه امكم بني ماء السما .
অর্থ- হে হাজেরা! আপনি পরম ধন্য। ধন্য আপনার জীবন।