📄 ত্যাগ ও স্বামীর আনুগত্য
বর্তমানে এক শ্রেণীর মহিলা স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং তাদের আদেশ পালনে অসম্মত। কারণ স্বামীরা তাদের চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। স্বামীর একান্ত ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও অসঙ্গত চাহিদা অথবা অপারগতার কারণে তাদের চাহিদা পূরণ করতে অসমর্থ হলে ধৈর্য-সহ্য, সহনশীলতা ও সংযমশীলতার পরিবর্তে ধৈর্যহারা ও ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে। এমনকি স্বামীকে পরিত্যাগ করার ঘটনাও বিরল নয়। অথচ এরূপ আচরণ কোনদিন কোন মহিলার জন্য সফলতা বয়ে আনতে পারে না। যে মহিলার চরিত্রে ধৈর্য-সহ্য, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও স্বামীর প্রতি আনুগত্য নেই, সে মহিলার জীবন হবে তিক্ত-বিষাক্ত। এক্ষেত্রে হযরত হাজেরার জীবন লক্ষ্য করার মত। তিনি ছিলেন মিশরের প্রভাবশালী রাষ্ট্র প্রধানের আদরের কন্যা। রাজ পরিবারের সুখ-সামগ্রী ও ভোগবিলাসের মধ্যে লালিত-পালিত হওয়া সত্ত্বেও হযরত হাজেরা সহায়-সম্বলহীন মুসাফির নবী হযরত ইব্রাহীমের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একদিকে যেমন পিতা-মাতার ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যে পরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। অপরদিকে স্বামীর অর্থাভাব ও সহায়-সম্বলহীনতার বিষয়কে উপেক্ষা করে তার চরিত্র-মাধুর্য এবং আদর্শের প্রতি আন্তরিকতার অপূর্ব নিদর্শন স্থাপন করেন। যৌবনকালে বৃদ্ধ স্বামী গ্রহণ ও সতিনের সম্ভাব্য জ্বালা-পোড়া বরণ করে হযরত হাজেরা ত্যাগ ও কুরবানীর যে আদর্শ স্থাপন করেছেন, তা কি বর্তমান যুগের মহিলাদের জন্য দীপ্তিময় পাথেয় নয়।
বর্তমানে এক শ্রেণীর মহিলা স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং তাদের আদেশ পালনে অসম্মত। কারণ স্বামীরা তাদের চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। স্বামীর একান্ত ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও অসঙ্গত চাহিদা অথবা অপারগতার কারণে তাদের চাহিদা পূরণ করতে অসমর্থ হলে ধৈর্য-সহ্য, সহনশীলতা ও সংযমশীলতার পরিবর্তে ধৈর্যহারা ও ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে। এমনকি স্বামীকে পরিত্যাগ করার ঘটনাও বিরল নয়। অথচ এরূপ আচরণ কোনদিন কোন মহিলার জন্য সফলতা বয়ে আনতে পারে না। যে মহিলার চরিত্রে ধৈর্য-সহ্য, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও স্বামীর প্রতি আনুগত্য নেই, সে মহিলার জীবন হবে তিক্ত-বিষাক্ত। এক্ষেত্রে হযরত হাজেরার জীবন লক্ষ্য করার মত। তিনি ছিলেন মিশরের প্রভাবশালী রাষ্ট্র প্রধানের আদরের কন্যা। রাজ পরিবারের সুখ-সামগ্রী ও ভোগবিলাসের মধ্যে লালিত-পালিত হওয়া সত্ত্বেও হযরত হাজেরা সহায়-সম্বলহীন মুসাফির নবী হযরত ইব্রাহীমের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একদিকে যেমন পিতা-মাতার ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যে পরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। অপরদিকে স্বামীর অর্থাভাব ও সহায়-সম্বলহীনতার বিষয়কে উপেক্ষা করে তার চরিত্র-মাধুর্য এবং আদর্শের প্রতি আন্তরিকতার অপূর্ব নিদর্শন স্থাপন করেন। যৌবনকালে বৃদ্ধ স্বামী গ্রহণ ও সতিনের সম্ভাব্য জ্বালা-পোড়া বরণ করে হযরত হাজেরা ত্যাগ ও কুরবানীর যে আদর্শ স্থাপন করেছেন, তা কি বর্তমান যুগের মহিলাদের জন্য দীপ্তিময় পাথেয় নয়।
📄 ধৈর্য ও বনবাস
এখানেই শেষ নয়। সুশ্রী-সুন্দরী রাজকীয় ভোগ-বিলাসে লালিত-পালিত একজন মহিলা তার নিজস্ব আশা আকাঙ্খা সবকিছু ত্যাগ করে সহায়-সম্বলহীন স্বামীর স্নেহ-মায়া এবং ভালোবাসা বিজড়িত সহচর্যে থেকে মনকে সান্ত্বনা দিবে এবং প্রশান্তি লাভ করবে, হযরত হাজেরার ভাগ্যে তাও জোটেনি। বরং নির্জন জনবসতিহীন এক দুর্গম অঞ্চল তার বনবাস স্থল হিসাবে নির্ধারিত হয়। সেটা ছিল এমন স্থান, সেখানে না আছে মানুষজন। না আছে অন্ন বস্ত্রের ব্যবস্থা। পবিত্র কুরআনের ভাষায়- ربنا اني اسكنت من ذریتی بواد غیر ذی زرع عند بيتك المحوم .
অরণ্য, মরুভূমি, অনাবাদ এলাকা, পাহাড় পর্বতে ঘেরা নির্জন স্থান, যেখানে জীবন ধারণের জন্য একফোটা পানির ব্যবস্থাও নেই। সেখানে একটি নবজাতককে নিয়ে হযরত হাজেরা বনবাসী হন। এ মুহূর্তে হযরত হাজেরাকে যেরূপ ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা করতে হয়। তা কি আজকের নারী সমাজ অনুধাবনে সক্ষম হবে? সক্ষম হবে কি হযরত হাজেরার আদর্শ গ্রহণে?
এখানেই শেষ নয়। সুশ্রী-সুন্দরী রাজকীয় ভোগ-বিলাসে লালিত-পালিত একজন মহিলা তার নিজস্ব আশা আকাঙ্খা সবকিছু ত্যাগ করে সহায়-সম্বলহীন স্বামীর স্নেহ-মায়া এবং ভালোবাসা বিজড়িত সহচর্যে থেকে মনকে সান্ত্বনা দিবে এবং প্রশান্তি লাভ করবে, হযরত হাজেরার ভাগ্যে তাও জোটেনি। বরং নির্জন জনবসতিহীন এক দুর্গম অঞ্চল তার বনবাস স্থল হিসাবে নির্ধারিত হয়। সেটা ছিল এমন স্থান, সেখানে না আছে মানুষজন। না আছে অন্ন বস্ত্রের ব্যবস্থা। পবিত্র কুরআনের ভাষায়- ربنا اني اسكنت من ذریتی بواد غیر ذی زرع عند بيتك المحوم .
অরণ্য, মরুভূমি, অনাবাদ এলাকা, পাহাড় পর্বতে ঘেরা নির্জন স্থান, যেখানে জীবন ধারণের জন্য একফোটা পানির ব্যবস্থাও নেই। সেখানে একটি নবজাতককে নিয়ে হযরত হাজেরা বনবাসী হন। এ মুহূর্তে হযরত হাজেরাকে যেরূপ ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা করতে হয়। তা কি আজকের নারী সমাজ অনুধাবনে সক্ষম হবে? সক্ষম হবে কি হযরত হাজেরার আদর্শ গ্রহণে?
📄 অবিচল বিশ্বাস
আল্লাহর প্রতি নির্ভেজাল ভরসা এবং অবিচল বিশ্বাস নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই উৎকর্ষ সাধনের অন্যতম উপায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন সুচিন্তার ও তীক্ষ্ম মেধার। হযরত হাজেরা (আ.) ছিলেন বাস্তব নমুনা। তাই তাকে মক্কার অরণ্যে বনবাস দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি স্বামীকে প্রশ্ন করেছিলেন আপনি কি আমাকে আমার স্রষ্টা ও পালনকর্তার নির্দেশে এখানে রেখে যাচ্ছেন না অন্য কোনো কারণ? নিরুত্তর স্বামী এবার মুখ খুলে উত্তর দিলেন, “আল্লাহর নির্দেশে।” হযরত হাজেরা স্বামীর উত্তর শুনে বলে উঠেন, তাহলে কোনো ভয় নেই। আল্লাহ আমাকে এবং আমার সন্তানকে ধ্বংস করবেন না। হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রিয় নবী। আল্লাহ পাকের হুকুমে স্ত্রী ও স্বীয় সন্তানকে এখানে রেখে যাওয়ার পিছনে বিরাট রহস্য নিহিত; হযরত হাজেরা তা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন। মূলত হযরত হাজেরার দূরদর্শিতা, তীক্ষ্ম মেধা এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস তাকে উন্নতির শীর্ষ স্তরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।
আল্লাহর প্রতি নির্ভেজাল ভরসা এবং অবিচল বিশ্বাস নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই উৎকর্ষ সাধনের অন্যতম উপায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন সুচিন্তার ও তীক্ষ্ম মেধার। হযরত হাজেরা (আ.) ছিলেন বাস্তব নমুনা। তাই তাকে মক্কার অরণ্যে বনবাস দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি স্বামীকে প্রশ্ন করেছিলেন আপনি কি আমাকে আমার স্রষ্টা ও পালনকর্তার নির্দেশে এখানে রেখে যাচ্ছেন না অন্য কোনো কারণ? নিরুত্তর স্বামী এবার মুখ খুলে উত্তর দিলেন, “আল্লাহর নির্দেশে।” হযরত হাজেরা স্বামীর উত্তর শুনে বলে উঠেন, তাহলে কোনো ভয় নেই। আল্লাহ আমাকে এবং আমার সন্তানকে ধ্বংস করবেন না। হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রিয় নবী। আল্লাহ পাকের হুকুমে স্ত্রী ও স্বীয় সন্তানকে এখানে রেখে যাওয়ার পিছনে বিরাট রহস্য নিহিত; হযরত হাজেরা তা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন। মূলত হযরত হাজেরার দূরদর্শিতা, তীক্ষ্ম মেধা এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস তাকে উন্নতির শীর্ষ স্তরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।
📄 সন্তানের প্রতি মায়া-মমতা
রাসূলে পাক (স.) বলেন “কুরাইশ বংশের মহিলাগণ উত্তম ও আদর্শ মহিলা। কেননা তারা যেমন স্বামীর প্রতি আস্থাশীলা, তেমনি হয় সন্তানের প্রতি দয়াবতি ও মমতাশীলা।” মায়া-মমতাহীনা মা জননী কখনও সন্তানের সঠিক লালন-পালন করতে সক্ষম হয় না। কোনো সন্তান পৃথিবীতে অমর হয়ে আসে না। একদিন অবশ্যই তাকে মৃত্যুবরণ করে বস্তুজগত থেকে বিদায় নিতে হয়। আখেরাতের জীবনই হচ্ছে আসল ও স্থায়ী জীবন। মূলত এ জীবনের শান্তি ও প্রশান্তিই হচ্ছে কাম্য। এ সত্য কেবল মাতা পিতাই বুঝতে সক্ষম হতে পারে। আর এ অনুধাবনের জন্য প্রয়োজন মাতা পিতার জন্য সন্তানের প্রতি প্রকৃত স্নেহ-মমতার অধিকারী ও দয়াশীল হওয়া। সন্তানের প্রতি হযরত হাজেরার স্নেহ-মমতার জ্বলন্ত সাক্ষী হচ্ছে সাফা-মারওয়া পাহাড় এবং উভয় পাথরের মধ্যভাগে সা'য়ী প্রতিপালনের বিধান। শিশু সন্তান ইসমাঈল যখন একফোটা পানির জন্য ছটফট করছিল তখন যে মা-জননী তাকে দশ মাস উদরে রেখে রক্তকে পানি করে অসহনীয় দুঃখ কষ্ট সহ্য করতঃ প্রসব ব্যথায় মুমূর্ষে অবস্থায় সন্তানের মুখ দেখে সব ভুলে গিয়েছিলেন। সন্তানের এহেন দুরাবস্থায় মাতা কি করে স্থির থাকতে পারে? দয়া-মায়ার সাগর হযরত হাজেরা সন্তানের প্রাণ রক্ষার তাগিদে একফোটা পানির জন্য পাগলীনির ন্যায় এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। তার কান্না ও অশ্রু পাহাড়-পর্বত থেকে নির্গত হয়ে যমযম কূপের আকার ধারণ করে নিদর্শন হয়ে রয়েছে। সন্তানগণ কি কখনও তা অনুধাবন করে? হযরত হাজেরা এখন আর বস্তুজগতে নেই। কিন্তু মৃত্যুবরণ করেও তিনি এখনও অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন চিরকাল। আল্লাহপাক হযরত হাজেরা ও তাঁর অনুসারীদের জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন!
রাসূলে পাক (স.) বলেন “কুরাইশ বংশের মহিলাগণ উত্তম ও আদর্শ মহিলা। কেননা তারা যেমন স্বামীর প্রতি আস্থাশীলা, তেমনি হয় সন্তানের প্রতি দয়াবতি ও মমতাশীলা।” মায়া-মমতাহীনা মা জননী কখনও সন্তানের সঠিক লালন-পালন করতে সক্ষম হয় না। কোনো সন্তান পৃথিবীতে অমর হয়ে আসে না। একদিন অবশ্যই তাকে মৃত্যুবরণ করে বস্তুজগত থেকে বিদায় নিতে হয়। আখেরাতের জীবনই হচ্ছে আসল ও স্থায়ী জীবন। মূলত এ জীবনের শান্তি ও প্রশান্তিই হচ্ছে কাম্য। এ সত্য কেবল মাতা পিতাই বুঝতে সক্ষম হতে পারে। আর এ অনুধাবনের জন্য প্রয়োজন মাতা পিতার জন্য সন্তানের প্রতি প্রকৃত স্নেহ-মমতার অধিকারী ও দয়াশীল হওয়া। সন্তানের প্রতি হযরত হাজেরার স্নেহ-মমতার জ্বলন্ত সাক্ষী হচ্ছে সাফা-মারওয়া পাহাড় এবং উভয় পাথরের মধ্যভাগে সা'য়ী প্রতিপালনের বিধান। শিশু সন্তান ইসমাঈল যখন একফোটা পানির জন্য ছটফট করছিল তখন যে মা-জননী তাকে দশ মাস উদরে রেখে রক্তকে পানি করে অসহনীয় দুঃখ কষ্ট সহ্য করতঃ প্রসব ব্যথায় মুমূর্ষে অবস্থায় সন্তানের মুখ দেখে সব ভুলে গিয়েছিলেন। সন্তানের এহেন দুরাবস্থায় মাতা কি করে স্থির থাকতে পারে? দয়া-মায়ার সাগর হযরত হাজেরা সন্তানের প্রাণ রক্ষার তাগিদে একফোটা পানির জন্য পাগলীনির ন্যায় এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। তার কান্না ও অশ্রু পাহাড়-পর্বত থেকে নির্গত হয়ে যমযম কূপের আকার ধারণ করে নিদর্শন হয়ে রয়েছে। সন্তানগণ কি কখনও তা অনুধাবন করে? হযরত হাজেরা এখন আর বস্তুজগতে নেই। কিন্তু মৃত্যুবরণ করেও তিনি এখনও অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন চিরকাল। আল্লাহপাক হযরত হাজেরা ও তাঁর অনুসারীদের জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন!