📄 হযরত সারা’র কারামাত
কারামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল হযরত সারার মাঝেও। পাপাচারী রাষ্ট্রপ্রধান যখন কু-মতলবে হযরত সারার প্রতি হাত প্রসারিত করে। সাথে সাথে তার হাত অবশ হয়ে পড়ে। উপায়ান্ত না দেখে রাষ্ট্রপ্রধান নতশীর হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে হযরত সারা তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করতঃ তার সুস্থতার জন্য আল্লাহ নিকট মুনাজাত করেন। দোয়ার বরকতে তার হাত সুস্থ হয়ে যায় বটে। কিন্তু রাষ্ট্র প্রধানের দেমাগ তখনো সুস্থ হয় নি। সে বুঝতে পারে নি যে, সে কার হাতে ধরা পড়েছে। তাই পুনরায় যৌনস্বাদ উপভোগের তাড়নায় হযরত সারার প্রতি হাত প্রসারিত করে। তৎক্ষণাৎ পুনরায় তার হাত সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। নিরূপায় হয়ে সে আবার ক্ষমা প্রার্থনা করলে হযরত সারা ক্ষমা করে দেন। কিন্তু অবাক ব্যাপার যে, এবারও তার চোখ খুললো না। বরং কুমতলবে এবারও হযরত সারার প্রতি হাত প্রসারিত করল। সাথে সাথে তৃতীয়বারও তার হাত অকেজো হয়ে পড়ল। দয়ামতী সারা এবারও তার কাকুতি-মিনতি ও ক্ষমা প্রার্থনার কারণে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। ফলে এবারও তার হাত সুস্থ হয়ে ওঠে। দুরাচার রাষ্ট্রপ্রধান এবার বুঝতে সক্ষম হয় এবং তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করে। অতঃপর সে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করে গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পূর্বক স্বীয় আদরের একমাত্র কন্যা হাজেরাকে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর নিকট বিবাহ দিয়ে সৌভাগ্যবান হয়। একজন মহিলার চারিত্রিক পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক সফলতার এর চেয়ে উজ্জ্বল নিদর্শন আর কি হতে পারে! আল্লাহ হযরত সারা ও তার আদর্শ অনুসরণকারী সমাজকে জান্নাতে উচ্চ সম্মানের অধিকারী করুন। আমীন!