📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আল্লাহর ভয়ভীতি

📄 আল্লাহর ভয়ভীতি


যাদের অন্তর আল্লাহর মারিফাত ও মহব্বত সিক্ত ও পরিতৃপ্ত; হযরত সারা ছিলেন তাদের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কেননা স্বামীর সাথে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার পথে হযরত সারা মিশরে পৌঁছলে তিনি মিশরের পাপাচারি রাষ্ট্র-প্রধানের কুদৃষ্টির স্বীকার হন। কিন্তু সেদিন তিনি যেভাবে স্বীয় সতীত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষা করেছিলেন তা কেবল আল্লাহ ভীরু ও আল্লাহ-প্রেমিকের পক্ষেই সম্ভব, অন্য কারো নয়।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 স্বামীর আদেশ

📄 স্বামীর আদেশ


আদর্শ স্ত্রী তাকেই বলা চলে, যে সতী, স্বামীর অনুগত এবং স্বামীর পরামর্শ উপদেশ মেনে চলে। হযরত সারার জীবনে এর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম মিশরে পৌঁছেই স্ত্রী সারাকে জানালেন, মিশরের বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক অত্যন্ত কু-চরিত্রের অধিকারী। কোনো রূপসী নারীর সন্ধান পেলেই সে যৌন উন্মাদ ও পাগল হয়ে উঠে এবং অপহরণের চেষ্টা করে। তার নিয়োজিত বাহিনী তোমার সন্ধান পেয়ে আমার নিকট তোমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে আমি তোমাকে আমার বোন বলে পরিচয় দিয়েছি। তুমি তো ইসলামি সূত্রে আসলেও আমার বোন। আর আমি জানতে পেরেছি যে, এরা ভাইয়ের সামনে বোনকে লাঞ্ছিত করে না। পক্ষান্তরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় পেলে স্বামীকে হত্যা করতঃ স্ত্রীকে অপহরণ করে থাকে। সুতরাং তোমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমাকে ভাই বলে পরিচয় দিতে মোটেও কুণ্ঠাবোধ করবে না। হযরত সারা স্বামীর পরামর্শ ও উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। ফলে কুচক্রের হাত থেকে উভয়ের মুক্তি পথ সুগম হয়।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত সারা’র কারামাত

📄 হযরত সারা’র কারামাত


কারামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল হযরত সারার মাঝেও। পাপাচারী রাষ্ট্রপ্রধান যখন কু-মতলবে হযরত সারার প্রতি হাত প্রসারিত করে। সাথে সাথে তার হাত অবশ হয়ে পড়ে। উপায়ান্ত না দেখে রাষ্ট্রপ্রধান নতশীর হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে হযরত সারা তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করতঃ তার সুস্থতার জন্য আল্লাহ নিকট মুনাজাত করেন। দোয়ার বরকতে তার হাত সুস্থ হয়ে যায় বটে। কিন্তু রাষ্ট্র প্রধানের দেমাগ তখনো সুস্থ হয় নি। সে বুঝতে পারে নি যে, সে কার হাতে ধরা পড়েছে। তাই পুনরায় যৌনস্বাদ উপভোগের তাড়নায় হযরত সারার প্রতি হাত প্রসারিত করে। তৎক্ষণাৎ পুনরায় তার হাত সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। নিরূপায় হয়ে সে আবার ক্ষমা প্রার্থনা করলে হযরত সারা ক্ষমা করে দেন। কিন্তু অবাক ব্যাপার যে, এবারও তার চোখ খুললো না। বরং কুমতলবে এবারও হযরত সারার প্রতি হাত প্রসারিত করল। সাথে সাথে তৃতীয়বারও তার হাত অকেজো হয়ে পড়ল। দয়ামতী সারা এবারও তার কাকুতি-মিনতি ও ক্ষমা প্রার্থনার কারণে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। ফলে এবারও তার হাত সুস্থ হয়ে ওঠে। দুরাচার রাষ্ট্রপ্রধান এবার বুঝতে সক্ষম হয় এবং তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করে। অতঃপর সে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করে গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পূর্বক স্বীয় আদরের একমাত্র কন্যা হাজেরাকে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর নিকট বিবাহ দিয়ে সৌভাগ্যবান হয়। একজন মহিলার চারিত্রিক পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক সফলতার এর চেয়ে উজ্জ্বল নিদর্শন আর কি হতে পারে! আল্লাহ হযরত সারা ও তার আদর্শ অনুসরণকারী সমাজকে জান্নাতে উচ্চ সম্মানের অধিকারী করুন। আমীন!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00