📄 জাহান্নামীরা আবদ্ধ থাকবে আগুনের বেষ্টনীতে
কাফিরগণ যারা জাহান্নামের চিরস্থায়ী অধিবাসী, তাদের পাপ যেমন তাদেরকে বেষ্টন করে আছে, তেমনি জাহান্নামের আগুন তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরবে। সেখান থেকে তাদের পালানোর কোন পথই থাকবে না।
যেমন- আল্লাহ তা'আলা ইহুদীদের কথার জবাবে বলেন- 'হ্যাঁ, যারা পাপকার্য করে এবং যাদের পাপরাশি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে তারাই জাহান্নামবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।' (সূরা বাক্বারাহঃ ৮১)
তিনি অন্যত্র বলেছেন, “কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়, তুমি কি জান, হুতামা কী? ইহা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত হুতাশন, যা হৃদয়কে গ্রাস করবে।” (সূরা হুমাযাত-৪)
অতএব, আগুন জাহান্নামীদের হাড্ডি, মাংস, মস্তিষ্ক সবকিছু খেয়ে ফেলবে তখনই পুনরায় নতুনভাবে সৃষ্টি করা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এইভাবে অনবরত শাস্তি চলতে থাকবে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন। আমীন।
📄 উল্লেখযোগ্য জাহান্নামীদের তালিকা
যারা জাহান্নামী হবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শ্রেণী এখানে উল্লেখিত হল :
১. মুনাফিকগণ : যাদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- 'মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে'। (সূরা নিসাঃ ১৪৫)
২. মুশরিকগণ : যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে শরীক করে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা মায়েদাহ: ৭২)
৩. বিদ'আতীগণ : যারা রাসূলুল্লাহ (সা.) মারফত প্রেরিত আল্লাহ তা'আলার বিধানকে উপেক্ষা করে নিজেদের মস্তিষ্ক প্রসূত কাজকে ভাল কাজের দোহায় দিয়ে ইবাদত হিসাবে চালু করেছে।
হাদিস শরীফে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- 'নবী ইসরাঈলের যা হয়েছিল আমার উম্মাতেরও ঠিক তাই হবে, যেভাবে এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনকি যদি তাদের মধ্যে এরূপ কেহ থেকে থাকে যে নিজের মায়ের সহিত প্রকাশ্যে কু-কাজ করেছিল, তাহলে আমার উম্মতের মধ্যেও তেমন লোক হবে, যে এরূপ কাজ করবে। এছাড়া বনী ইসরাঈল (আক্বীদার দিক দিয়ে) বিভক্ত হয়েছিল ৭২ দলে, আর আমার উম্মত বিভক্ত হবে ৭৩ দলে। এদের সকলেই জাহান্নামে যাবে একদল ব্যতীত। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূল (সা.) সেটি কোন দল? রাসূল (সা.) বললেন- যে দল আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর আছি তার উপর থাকবে। (তিরমিযী, হা-/২৮৫৩)
৪. প্রবৃত্তির অনুসারী : প্রবৃত্তির ভালবাসা যা মানুষের অন্তরে গভীরভাবে ধারণ করে আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- “মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালোবাসা-নারী, সন্তানাদি রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগ সামগ্রী।” (সূরা আল-ইমরান-১৪)
📄 জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা
আল্লাহ তা'আলার বান্দাগণের মধ্যে তাঁর সাথে বড় শিরকে লিপ্ত হয় এবং কুফরী করে তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। কখনই তারা জাহান্নামের শাস্তি হতে সামান্যতম অবকাশ পাবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
“আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহংকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।” (সূরা আ'রাফ: ৩৬)
তিনি অন্যত্র বলেছেন- নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের লা'নত। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। তাদের থেকে আযাব হালকা করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না। (সূরা বাকারাহ : ১৬১-১৬২)
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
তারা চাইবে আগুন থেকে বের হতে, কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হবার নয় এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব। (সূরা মায়েদাহঃ ৩৭)
তিনি অন্যত্র বলেছেন-
এরপর যারা যুলুম করেছে তাদের বলা হবে, স্থায়ী আযাব আস্বাদন কর। তোমরা যা অর্জন করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিদান দেয়া হচ্ছে। (সূরা ইউনুস: ৫২)
হাদীস শরীফে এসেছে- ইবনে উমর (রা.) সূত্রে নবী (সা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তখন তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেবে যে, হে জাহান্নামীরা! এখানে মৃত্যু নেই। আর হে জান্নাতবাসীরা! এখানে মৃত্যু নেই। এ জীবন চিরন্তন!
অন্য হাদীসে এসেছে, ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
জান্নাতীরা জান্নাতে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাওয়ার পর মৃত্যুকে উপস্থিত করা হবে, এমন কি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্য স্থানে রাখা হবে। এরপর তাকে জবাই করে দেয়া হবে, অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবে যে, হে জান্নাতীরা! আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামীরা! আর মৃত্যু নেই। তখন জান্নাতীদের বাড়বে আনন্দের উপর আনন্দ। আর জাহান্নামীদের বাড়বে দুঃখের উপর দুঃখ। (বুখারী, হাদীস নং ৬৫৪৮)
📄 জাহান্নামের অস্থায়ী বাসিন্দা
মানুষ এবং জ্বিন জাতীর মধ্যে বিপুল পরিমাণ মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করবে। কিন্তু তারা তাদের পাপের শাস্তি ভোগ করার পর জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তারা হলেন, তাওহীদপন্থীগণ যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে শরীক করেন না। কিন্তু তাদের নেকীর চেয়ে পাপের পরিমাণ বেশী হওয়ার কারণে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শাফা'আতের মাধ্যমেও আল্লাহ তা'আলার বিশেষ রহমতে জাহান্নাম থেকে শক্তি লাভ করে জান্নাত লাভ করবেন। কিন্তু তাদেরকে জাহান্নামী নাম করণ করে এই নামেই ডাকা হবে।
হাদীস শরীফে এসেছে- ইমরান ইবনে হুসাইন (রহ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উম্মতের একটি সম্প্রদায় আমার শাফা'আতের মাধ্যমে জাহান্নাম হতে বের হবে। তাদেরকে জাহান্নামী নামে নাম করণ করা হবে। অর্থাৎ, তাদেরকে জাহান্নামী বলে ডাকা হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকেই জান্নাত লাভ করার তাওফীক দান করুন। আমীন। (তিরমিযী, হাদীস নং-২৬০০)