📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 বিভিন্ন পাপে ভিন্ন ভিন্ন আযাব

📄 বিভিন্ন পাপে ভিন্ন ভিন্ন আযাব


রিয়াকারদের আযাবঃ ইবাদত পুণ্যের যদিও, তবুও যদি ইহার উদ্দেশ্য লোক দেখানো হয়, তবে উহাকেই বলে রিয়া বা লৌকিকতা।
হুযুর (সা.) বলেছেন, 'জুরুল হুজন' অর্থাৎ চিন্তার কুপ হতে তোমরা আল্লাহর দরবারে পরিত্রাণ চাও।'
সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, হুযুর! 'জুব্বুল হুজন' কি জিনিস? হুযুর (সা.) উত্তর করলেন, উহা জাহান্নামের একটি গর্ত, যাহা হতে স্বয়ং জাহান্নামই দৈনিক চারশতবার আল্লার দরবারে পানাহ চায়।'
সাহাবারা (রা.) বললেন, তথায় কারা শাস্তি পাবে? হুযুর (সা.) উত্তর করলেন, সেইসব ইবাদতকারী তথায় গমন করবে, যারা লোককে দেখানোর নিমিত্তে ইবাদত করেছে।
মদখোরের আযাব : বুদ্ধিশূন্যতা মানবতা বিরোধী। মানবতা ও বিবেকশূন্য মানুষ সমাজে ঘৃণিত এবং আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে তার খেয়াল থাকে না আদৌ। মদের নেশায় মানুষ নির্লজ্জ ভাবে সব কিছুই করতে পারে। এজন্যই ইহা পান করা মহা পাপ। এ প্রকার পাপের শাস্তি সম্পর্কে হুজুর আকরাম (সা.) বলেছেনঃ
'আল্লাহ তা'আলা আপন ইজ্জতের কসম খেয়ে ওয়াদা করেছেন, আমার বান্দাগণের মধ্যে যে ব্যক্তি একগ্লাস মদও পান করবে আমি তাকে সেই পরিমাণ পুঁজ পান করাব এবং যে ব্যক্তি আমার ভয়ে শরাব পান ত্যাগ করবে, আমি তাকে পবিত্র হাউযে কাউসার হতে পান করাব।'
হযরত নবীয়ে কারীম (সা.) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি নেশার দ্রব্য পান করবে, আল্লাহ তা'আলা ওয়াদা করেছেন যে, তাকে রোজ কিয়ামতে 'তীনাতুল খেয়াল' পান করানো হবে।
সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, হুযুর! 'তীনাতুল খেয়াল' আবার কি জিনিস? হুযুর পাক উত্তর করলেন- উহা জাহান্নামীদের ঘাম ও নিংড়ানো পুঁজ-রক্ত।
হযরত আবূ মূসা আশ'আরী হতে বর্ণিত আছে, হুযুর (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শরাব বা মদ পান করে ও সে অবস্থাই মৃত্যু মুখে পতিত হয়, আল্লাহ তা'আলা তাকে 'নহরুল গোতা' হতে পান করাবেন। সাহাবারা উহার তথ্য জানতে চাইলে হুযুর (সা.) উত্তর দিলেন: উহা এমন একটি নহর যা ব্যভিচারী নারীদের লজ্জাস্থান হতে প্রবাহিত কুৎসিত পদার্থ।
আমলহীন বক্তার আযাবঃ 'যে ব্যাপারে তোমার আমল নাই, তার নসীহত অন্যদের করো না'- আল্লাহর এ বাণীর বিরুদ্ধে গিয়ে যারা মানুষকে উপদেশ করে, তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
যে রাত্রে আমি মেরাজে গমন করি, সেই রাত্রে আমি কতগুলি লোককে দেখেছি যে, তাদের ঠোঁট আগুনের কেঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা
করলাম, ভাই জিব্রাঈল, ওরা কারা? তিনি উত্তর করলেন, ওরা আপনার ঐ সমস্ত উম্মত, যারা লোকদিগকে সৎকাজের আদেশ করত অথচ নিজেরা তার প্রতি আমল বা নিজ কর্মে পরিণত করত না এবং আল্লাহর কিতাব পড়ত অথচ তদানুযায়ী আমল ও কর্ম-সম্পাদন করত না।
এ সম্পর্কে রাসূলে কারীম (সা.)-এর অন্য একটি হাদীসে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেখা যায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন-
কিয়ামতের দিবসে এক ব্যক্তিকে হাযির করার পর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সঙ্গে সঙ্গে তার পেটের ভিতরের নাড়ী ভুঁড়ি সব বের হয়ে যাবে। আর তারা নাড়িভুঁড়ির চারপাশে গাধার ন্যায় ঘুরতে থাকবে, যেমন- গাধা চাকা ঘুরিয়ে গম পিষে থাকে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে বলবে- 'হে অমুক ব্যক্তি! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতে আর অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতে?'
সে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতাম বটে, কিন্তু আমি তা করতাম না আর আমি তোমাদেরকে অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতাম, অথচ আমিই তা করতাম। (বুখারী, হাদীস নং ৩২৬৭)
অনুরূপ, ইলম গোপনকারী আলেমের জিহ্বা ও মুখে আগুনের লাগাম লাগানো হবে। এ সম্পর্কে হযরত নবীয়ে কারীম (সা.) বলেছেন:
'যার নিকট কোন মাসায়েল জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, অথচ সেই ব্যক্তি জানা সত্ত্বেও নিজের ইলমকে গোপন রাখে। কিয়ামতের দিনে এ প্রকার আলেমের মুখে আগুনের লাগাম পড়ানো হবে।
আত্মহত্যার আযাব : আত্মহত্যা মহাপাপ। কারণ এতে আল্লাহর কাজে নাখোশ থাকার শামিল।
এ সম্পর্কে রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি পর্বত হতে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের অগ্নির পর্বত হতেও পড়তে থাকবে। ইহাতে তার কোন বিরাম হবে না। আর যে ব্যক্তি বিষ পানে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের অগ্নিতে উক্ত বিষ সর্বদা পান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি লৌহির কোন অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, সে উক্ত লৌহ অস্ত্র জাহান্নামের অগ্নিতে নিজের পেটে বিদ্ধ করতে থাকবে।
অহংকারীর সাজা : অহংকার শয়তানের স্বভাব। এই শয়তানী স্বভাব মানুষের দ্বীন দুনিয়ার সুখ নষ্ট করে। দুনিয়ার কোন ব্যাপারে তার শান্তি থাকবে না। পরকালের আযাব সম্পর্কে হুযূর আকরাম (সা.) ইরশাদ করেন :
যারা অহঙ্কার ও গর্ব করে বেড়ায়, তারা পিপীলিকার মত ক্ষুদ্র শরীর নিয়ে কিয়ামতের মাঠে উঠবে। অবশ্য আকৃতি তাদের মানুষের আকৃতিই হবে। অতঃপর হুযূর (সা.) বলেন, চতুর্দিক হতে তারা বেইজ্জত হতে থাকবে। অবশেষে জাহান্নামের জেলখানার দিকে চালিত হতে থাকবে, যার নাম বুলেছ। উক্ত বুলেছ নামীয় জেলখানায় এত কঠিন আগুনের ব্যবস্থা রয়েছে যে, যা অন্যান্য আগুনকে খেয়ে ফেলতে পারে এবং তাদেরকে তীনাতুল খেয়াল-অর্থাৎ জাহান্নামীদের নিংড়ানো রক্ত-পুঁজ ও চর্বি ইত্যাদি খাওয়ানো হবে।' (মরণের আগে ও পরে, ইমাম গাজ্জালী)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীরা আবদ্ধ থাকবে আগুনের বেষ্টনীতে

📄 জাহান্নামীরা আবদ্ধ থাকবে আগুনের বেষ্টনীতে


কাফিরগণ যারা জাহান্নামের চিরস্থায়ী অধিবাসী, তাদের পাপ যেমন তাদেরকে বেষ্টন করে আছে, তেমনি জাহান্নামের আগুন তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরবে। সেখান থেকে তাদের পালানোর কোন পথই থাকবে না।
যেমন- আল্লাহ তা'আলা ইহুদীদের কথার জবাবে বলেন- 'হ্যাঁ, যারা পাপকার্য করে এবং যাদের পাপরাশি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে তারাই জাহান্নামবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।' (সূরা বাক্বারাহঃ ৮১)
তিনি অন্যত্র বলেছেন, “কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়, তুমি কি জান, হুতামা কী? ইহা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত হুতাশন, যা হৃদয়কে গ্রাস করবে।” (সূরা হুমাযাত-৪)
অতএব, আগুন জাহান্নামীদের হাড্ডি, মাংস, মস্তিষ্ক সবকিছু খেয়ে ফেলবে তখনই পুনরায় নতুনভাবে সৃষ্টি করা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এইভাবে অনবরত শাস্তি চলতে থাকবে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন। আমীন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 উল্লেখযোগ্য জাহান্নামীদের তালিকা

📄 উল্লেখযোগ্য জাহান্নামীদের তালিকা


যারা জাহান্নামী হবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শ্রেণী এখানে উল্লেখিত হল :
১. মুনাফিকগণ : যাদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- 'মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে'। (সূরা নিসাঃ ১৪৫)
২. মুশরিকগণ : যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে শরীক করে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা মায়েদাহ: ৭২)
৩. বিদ'আতীগণ : যারা রাসূলুল্লাহ (সা.) মারফত প্রেরিত আল্লাহ তা'আলার বিধানকে উপেক্ষা করে নিজেদের মস্তিষ্ক প্রসূত কাজকে ভাল কাজের দোহায় দিয়ে ইবাদত হিসাবে চালু করেছে।
হাদিস শরীফে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- 'নবী ইসরাঈলের যা হয়েছিল আমার উম্মাতেরও ঠিক তাই হবে, যেভাবে এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনকি যদি তাদের মধ্যে এরূপ কেহ থেকে থাকে যে নিজের মায়ের সহিত প্রকাশ্যে কু-কাজ করেছিল, তাহলে আমার উম্মতের মধ্যেও তেমন লোক হবে, যে এরূপ কাজ করবে। এছাড়া বনী ইসরাঈল (আক্বীদার দিক দিয়ে) বিভক্ত হয়েছিল ৭২ দলে, আর আমার উম্মত বিভক্ত হবে ৭৩ দলে। এদের সকলেই জাহান্নামে যাবে একদল ব্যতীত। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূল (সা.) সেটি কোন দল? রাসূল (সা.) বললেন- যে দল আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর আছি তার উপর থাকবে। (তিরমিযী, হা-/২৮৫৩)
৪. প্রবৃত্তির অনুসারী : প্রবৃত্তির ভালবাসা যা মানুষের অন্তরে গভীরভাবে ধারণ করে আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- “মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালোবাসা-নারী, সন্তানাদি রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগ সামগ্রী।” (সূরা আল-ইমরান-১৪)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা

📄 জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা


আল্লাহ তা'আলার বান্দাগণের মধ্যে তাঁর সাথে বড় শিরকে লিপ্ত হয় এবং কুফরী করে তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। কখনই তারা জাহান্নামের শাস্তি হতে সামান্যতম অবকাশ পাবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
“আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহংকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।” (সূরা আ'রাফ: ৩৬)
তিনি অন্যত্র বলেছেন- নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের লা'নত। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। তাদের থেকে আযাব হালকা করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না। (সূরা বাকারাহ : ১৬১-১৬২)
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
তারা চাইবে আগুন থেকে বের হতে, কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হবার নয় এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব। (সূরা মায়েদাহঃ ৩৭)
তিনি অন্যত্র বলেছেন-
এরপর যারা যুলুম করেছে তাদের বলা হবে, স্থায়ী আযাব আস্বাদন কর। তোমরা যা অর্জন করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিদান দেয়া হচ্ছে। (সূরা ইউনুস: ৫২)
হাদীস শরীফে এসেছে- ইবনে উমর (রা.) সূত্রে নবী (সা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তখন তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেবে যে, হে জাহান্নামীরা! এখানে মৃত্যু নেই। আর হে জান্নাতবাসীরা! এখানে মৃত্যু নেই। এ জীবন চিরন্তন!
অন্য হাদীসে এসেছে, ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
জান্নাতীরা জান্নাতে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাওয়ার পর মৃত্যুকে উপস্থিত করা হবে, এমন কি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্য স্থানে রাখা হবে। এরপর তাকে জবাই করে দেয়া হবে, অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবে যে, হে জান্নাতীরা! আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামীরা! আর মৃত্যু নেই। তখন জান্নাতীদের বাড়বে আনন্দের উপর আনন্দ। আর জাহান্নামীদের বাড়বে দুঃখের উপর দুঃখ। (বুখারী, হাদীস নং ৬৫৪৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00