📄 আযাবের বিভিন্ন দিক
জাহান্নাম কাফেরদের জন্য দুঃখ ও আযাবের স্থান, এ আযাব তাদের চলবে অনন্তকাল এতটুকু বিরাম হবে না এ হতে কোন জাহান্নামীর।
খাদ্য-খাদকের বেলায় যেমনি আযাব হবে, তেমনি আযাব হতে থাকবে বিভিন্ন আযাবের বস্তু দ্বারা।
যখন তারা তৃষ্ণায় অস্থির হয়ে ছটফট করতে ও পানির জন্য আর্তনাদ করতে থাকবে তখন তাদেরকে এরকম পানি দেওয়া হবে যা তৈলের গাদের মত বিশ্রী হবে ও মুখমন্ডলকে জ্বালাইয়া ভষ্ম করে দিবে। উহ! উহা কত নিকৃষ্ট পানীয়।
এখানে কি কি রূপে এবং কিসের দ্বারা কিভাবে আযাব দিবে তার মোটামুটি বর্ণনা দেওয়া হল।
📄 আগুনের পাহাড়
জাহান্নামীদের আযাবের উপকরণের মধ্যে আগুনের পাহাড় একটি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'অতি সত্বর আমি তাকে "সাউদ الصعود নামক পাহাড়ে উঠাব।'
এই আয়াতের “সাউদের" ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নবী কারীম (সা.) বলেন- অগ্নির একটি পাহাড়ের নাম 'সাউদ'। জাহান্নামীদের উহার উপর অনবরত ৭০ বৎসর যাবত উঠানো হবে। অতঃপর সেখান হতে তাকে ফেলে দেয়া হবে এবং পুনরায় ৭০ বৎসর যাবত নীচের দিকে পড়তেই থাকবে। এভাবে অনন্তকাল পর্যন্ত শাস্তি পাবে। (মরণের আগেও পরে, ইমাম গাজ্জালী)
কতক উলামাগণ বলেন, 'ইয়াহমূম' يحموم জাহান্নামের একটি পাহাড়, যার ছায়াতে জাহান্নামীরা বিশ্রামের চেষ্টা করবে। জাহান্নামের আগুনের ধোঁয়া কঠিন গরম। তার গুণ হলো لَا بَارِ دو لَا كَرِيمٍ না তা ঠাণ্ডা হবে এবং না তা দেখতে ভালো লাগবে।”
📄 জাহান্নামের শিকল
দুনিয়ার কয়েদীদের যে প্রকার শিকল বা জিঞ্জির দ্বারা জেলখানায় আটক করা হয়, তেমনি জাহান্নামীদের আগুনের শিকল-কড়া দিয়ে বেঁধে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। উক্ত শিকল বহু শত গজ লম্বা। কোরআনের ভাষায় উহাকে সত্তর গজ লম্বা বলা হয়েছে-
: ফেরেশতাদের প্রতি আদেশ হবে, তাকে গ্রেফতার কর এবং পরাইয়া দাও তাকে কয়েদীর শৃঙ্খল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর। আর উহাকে এইরূপ এক জিঞ্জিরে আবদ্ধ কর যা ৭০ গজ লম্বা হবে। (সূরা আল হাক্কা-৩০, ৩১, ৩২)
তিরমিযি শরীফের একটি হাদীসে আছে, হযরত রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন:
'যদি রাং-এর একটি টুকরা প্রথম আসমান থেকে দুনিয়ার প্রতি ফেলে দেয়া হয়, তাহলে উক্ত টুকরা সন্ধ্যা হবার পূর্বেই যমীনের বুকে পতিত হবে। অথচ ইহা পাঁচশত বৎসরের রাস্তা। আর সেই রাং-এর টুকরা যদি জাহান্নামের জিঞ্জিরের একপ্রান্ত হতে অপর প্রান্তের দিকে ছাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে পূর্ণে জিঞ্জিরের দূরত্ব অতিক্রম করতে উহার দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর অতিবাহিত হবে।
পঙ্গপাল উত্তপ্ত অগ্নিতে কাবাব করার উদ্দেশ্যে লোহার দন্ডে ভরে যেভাবে কাবাব করা হয়, অনুরূপভাবে জাহান্নামীদের গুহ্যদ্বার দিয়ে জিঞ্জির ভরে দিয়ে আযাব দেয়া হবে।
এ কথার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় আল্লাহ পাকের পবিত্র কোরআন মাজিদের আয়াতে।
আল্লাহ পাক বলেন- : নিশ্চয় আমি কাফেরদের জন্য শৃঙ্খলসমূহ ও জ্বলন্ত অগ্নি তৈয়ার করে রেখেছি।
জাহান্নামীদের গুহ্যদ্বারে এ প্রকার জ্বলন্ত শিকল যে বিদ্ধ করা হবে, তাও কোরআন মাজিদে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- : ক্ষণকাল পরেই তারা জানতে পারবে, যখন তাদের ঘাড়ে বেড়ী লাগিয়ে শৃঙ্খল দ্বারা ফেরেস্তাগণ সজোরে টানতে টানতে অগ্নি সমতুল্য তিক্ত পানির মধ্যে নিয়ে যাবে এবং পুনরায় সেই প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করবে। (সূরা মু'মিনূন)
বিভিন্ন হাদীসের তথ্য জানা যায়- জাহান্নামীগণ কোন একদিকে ঘোর কালো বর্ণ মেঘের আনা-গোনা দেখতে পাবে, ফেরেশতাগণ জিজ্ঞাসা করবে, তোমাদের কি অভিপ্রায় আছে তা প্রকাশ কর। তখন তারা দুনিয়ার উপর কেয়াস করে বলতে থাকবে, আমাদের ইচ্ছা হল এই মেঘমালা আমাদের উপর বর্ষিত হক। সঙ্গে সঙ্গে সেই মেঘ-রাশি গর্জন সহকারে তাদের উপর বর্ষণ আরম্ভ করবে। আর তথা হতে বেড়ি, শৃঙ্খল এবং অগ্নি স্ফুলিঙ্গসমূহ নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে, যদ্বারা তারা জ্বলিয়া ছারখার হয়ে যাবে এবং তাদের দুঃখ মুসীবত আরও অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে আরো জানা যায়, ভীষণ গরম পানিতে যখন জাহান্নামীদের গর্দান ধরে ডুবিয়ে উঠানো হবে, তখন তাদের শরীরের সমস্ত মাংস খসে পড়বে এবং সারা অঙ্গ কঙ্কাল ও দুটো চক্ষু ব্যতীত আর কিছুই থাকবে না। অবশ্য পরে আবার মাংস ফিরে পাবে।
যেমন কোরআন মাজিদে আছে, আল্লাহ বলেন- : জাহান্নামীদের চামড়া জ্বলে খসে পড়া মাত্র নতুন চামড়ার আবর্তন হবে। কারণ এতে নতুন নতুন আযাবের স্বাদ অনুভব হবে। (সূরা নিসা: ৫৬)
📄 জাহান্নামের উপত্যকা
مُوْبِقًا মূবিষ্ণু সম্পর্কে ইমাম মুজাহিদ (রহ.) বলেন, এটা জাহান্নামের একটি উপত্যকার নাম।
ইকরামা (রহ.) موبق মূবিষ্ণু জাহান্নামের আগুনের একটি নদীর নাম। যার কিনারায় খচ্চরের মত কালো কালো সাপ রয়েছে, যখন এই সাপগুলো জাহান্নামীদের উপর হামলা করবে, তখন জাহান্নামীরা নিজেদেরকে আত্মরক্ষার জন্য জাহান্নামের আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়ে বাঁচানোর চেষ্টা করবে।
হযরত আনাস (রা.) বলেন, موبق মূবিষ্ণু রক্ত-পূঁজে বড়া একটি উপত্যকার নাম।
হুযুর (সা.) ইরশাদ করেন জাহান্নামের মধ্যে একটি উপত্যকা রয়েছে, যাকে ليلم "লামলাম” বলা হয়। জাহান্নামের অন্যান্য উপত্যকা পর্যন্ত তার উত্তপ্ততা থেকে আশ্রয় চায়। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী (রহ.) লিখেন, ইবনে মুবারক (রহ.) বলেন, আল্লাহ তা'আলা এই উপত্যকায় প্রত্যেক স্বৈরাচার, জেদীকে স্থান দিবেন। (কুরতুবী)