📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আযাবের দৃষ্টান্ত

📄 আযাবের দৃষ্টান্ত


জাহান্নামের আযাবের দৃষ্টান্ত বুঝাতে গিয়ে রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন-
কিয়ামতের দিবস একজন জাহান্নামের উপযোগী ব্যক্তিকে যে দুনিয়ার সবচাইতে আরাম-বিলাসীতা ও সুখ-শান্তির জীবন অতিবাহিত করেছিল, এমন একজনকে একবার মাত্র জাহান্নামের অগ্নিতে ডুবাইয়া আনা হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনও সুখ ও শান্তি বলতে কিছু দেখেছ? উত্তরে সে বলবে: হে প্রভু! আমি কসম করে বলতেছি, সুখ বলতে আমি কোন জিনিস জীবনে কখনও দেখতে পাইনি বা অনুভব করিনি।
অনুরূপ, একজন জান্নাতের উপযোগী ব্যক্তিকে যিনি দুনিয়ার বুকে সবচেয়ে বেশি দুঃখী ব্যক্তি ছিল, তাকে বেহেশতের বাগিচা একবার মাত্র দেখাবার পর আনা হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি কখনও দুঃখ বা মসীবত দেখেছ? তদুত্তরে সে ব্যক্তি বলবে : হে প্রভু! তোমার কসম খেয়ে বলতেছি, আমি দুঃখ বা মুসিবত বলতে কোন জিনিস জীবনে দেখি নাই। (মেশকাত-৫০২)
এ সম্পর্কে রাসূলে কারীম (সা.) অন্যত্র ইরশাদ করেছেন- 'হে মানুষ সকল! তোমরা আপন গুনাহকে স্মরণ করে কাঁদ! যদি তোমাদের কান্না না আসে তাহলে কাঁদার ভান করে কাঁদতে থাক। কেননা জাহান্নামীগণ জাহান্নামের মধ্যে এত অধিক পরিমাণে কাঁদবে, কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিতে বুক ভেসে ঝরণার মত প্রবাহিত হতে থাকবে। এমন কি, তাদের চোখের পানি যখন শেষ হয়ে যাবে তখন তারা রক্তের কান্না কাঁদতে থাকবে- চোখে ঘা হয়ে যাবে। এমনকি চোখে রক্তের স্রোত এমনি প্রবাহিত হবে যে, উহাতে কিস্তি বা নৌকা ভাসাইয়া দিলে ও ভেসে বেড়াবে।'
জাহান্নামী মানুষ আল্লাহ পাকের অভিশপ্ত মানুষ। তাদের আযাব যেমনি জঘন্য, আকৃতিও তাদের হবে তেমনি কুৎসিত। এ বিষয়ে নবী করীম (সা.) দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন : যদি জাহান্নামীদের ঘায়ের পুঁজ বা রক্ত একফোঁটা পরিমাণ দুনিয়াতে দেয়া হত, তবে তার দুর্গন্ধে সমস্ত জিনিস নষ্ট হয়ে যেত। (মেশকাত, জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের বর্ননা-৫০৩)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 পাপীদের জাহান্নামের আহ্বান

📄 পাপীদের জাহান্নামের আহ্বান


জাহান্নামীদের তথায় নিক্ষিপ্ত হবার পূর্বেই জাহান্নামের বিকট হুঙ্কার শুনতে পাবে। মনে হবে, জাহান্নাম তাদের উপর ভীষণ ক্ষেপে আছে। আল্লাহ পাক এ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে বলেন- 'যারা আপন প্রভুকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য জাহান্নামের কঠিন শাস্তি রয়েছে এবং উহা খুবই নিকৃষ্ট হবে।'
যখন তারা উক্ত জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তারা উহার ভীষণ হুঙ্কার শুনতে পাবে এবং উহা এরকম টগবগ করতে থাকবে যেন শীঘ্রই ভীষণ রাগে ফেটে পড়বে।
তাফসীরে বয়ানুল কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হয়ত আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের ভিতর রাগান্বিত হওয়ার এক অনুভূতি পয়দা করে দিবেন, অথবা দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা হয়েছে যে, জাহান্নামের অবস্থা দৃষ্টে মনে হবে যেন উহা ভীষণ রাগান্বিত হয়েছে।
জাহান্নামের হুঙ্কার জাহান্নামীরা শুনতে পাবে দূর হতে। যেমন বাজারের নিকটে পৌঁছলে বাজারের শোরগোল শোনা যায়। কিন্তু জাহান্নামীরা বন্ধন অবস্থায় অদূরে থাকতেই জাহান্নামের আহ্বান শ্রুত হবে এবং তখন তারা মৃত্যুকে স্মরণ করা ব্যতীত আর কোন উপায় খুঁজে পাবে না।
এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- “যখন উক্ত দোযখ দূর হতে জাহান্নামীদিগকে দেখতে পাবে, তখন তারা উহার বিকট শব্দ ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। অতঃপর যখন তাহাদিগকে বন্ধনাবস্থায় জাহান্নামের কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা শুধু মৃত্যুকে আহ্বান করতে থাকবে।” (সূরা ফোরকান-১২-১৩)
দুনিয়ার বুকে মানুষ কোন বিপদগ্রস্ত হলে যেমন শুধু বলতে থাকে, হায় মরিয়া গেলাম! হায় মরিয়া গেলাম! তদ্রুপ জাহান্নামবাসীগণও বলতে থাকবে। কিন্তু তাদের চিৎকার ও আর্তনাদ কোন কাজেই আসবে না। কেহই তাতে সাড়া দিবে না বা কর্ণপাত করবে না। যদিও জাহান্নাম প্রশস্ত স্থান, তবুও শাস্তির জন্য পাপীদিগকে মাঝে মাঝে সংকীর্ণ স্থানেই রাখা হবে।
সূরায়ে মা'আরিজে আছে, আল্লাহ বলেন- “জাহান্নাম ঐ সমস্ত লোকদিগকে নিজের দিকে আহ্বান করবে যারা হক রাস্তা হতে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে এবং আল্লাহ তা'আলার গোলামী হতে মুখ ফিরিয়েছে এবং অবৈধভাবে ধন-সম্পদকে জমা করে সংরক্ষিত করেছে।' (১৭-১৮)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আযাবের বিভিন্ন দিক

📄 আযাবের বিভিন্ন দিক


জাহান্নাম কাফেরদের জন্য দুঃখ ও আযাবের স্থান, এ আযাব তাদের চলবে অনন্তকাল এতটুকু বিরাম হবে না এ হতে কোন জাহান্নামীর।
খাদ্য-খাদকের বেলায় যেমনি আযাব হবে, তেমনি আযাব হতে থাকবে বিভিন্ন আযাবের বস্তু দ্বারা।
যখন তারা তৃষ্ণায় অস্থির হয়ে ছটফট করতে ও পানির জন্য আর্তনাদ করতে থাকবে তখন তাদেরকে এরকম পানি দেওয়া হবে যা তৈলের গাদের মত বিশ্রী হবে ও মুখমন্ডলকে জ্বালাইয়া ভষ্ম করে দিবে। উহ! উহা কত নিকৃষ্ট পানীয়।
এখানে কি কি রূপে এবং কিসের দ্বারা কিভাবে আযাব দিবে তার মোটামুটি বর্ণনা দেওয়া হল।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আগুনের পাহাড়

📄 আগুনের পাহাড়


জাহান্নামীদের আযাবের উপকরণের মধ্যে আগুনের পাহাড় একটি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'অতি সত্বর আমি তাকে "সাউদ الصعود নামক পাহাড়ে উঠাব।'
এই আয়াতের “সাউদের" ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নবী কারীম (সা.) বলেন- অগ্নির একটি পাহাড়ের নাম 'সাউদ'। জাহান্নামীদের উহার উপর অনবরত ৭০ বৎসর যাবত উঠানো হবে। অতঃপর সেখান হতে তাকে ফেলে দেয়া হবে এবং পুনরায় ৭০ বৎসর যাবত নীচের দিকে পড়তেই থাকবে। এভাবে অনন্তকাল পর্যন্ত শাস্তি পাবে। (মরণের আগেও পরে, ইমাম গাজ্জালী)
কতক উলামাগণ বলেন, 'ইয়াহমূম' يحموم জাহান্নামের একটি পাহাড়, যার ছায়াতে জাহান্নামীরা বিশ্রামের চেষ্টা করবে। জাহান্নামের আগুনের ধোঁয়া কঠিন গরম। তার গুণ হলো لَا بَارِ دو لَا كَرِيمٍ না তা ঠাণ্ডা হবে এবং না তা দেখতে ভালো লাগবে।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00