📄 জাহান্নামীদের শাস্তি
সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- "জাহান্নামীদের মধ্যে কোন কোন লোক এমন হবে, জাহান্নামের আগুন তার পায়ের টাখনু পর্যন্ত পৌঁছবে। তাদের মধ্যে কারো হাঁটু পর্যন্ত আগুন পৌঁছবে, কারো কারো কোমর পর্যন্ত এবং কারো কারো গর্দান পর্যন্ত পৌঁছবে।” (মুসলিম, হাদীস নং-৭৩৪৯)
📄 জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে কম শাস্তি প্রাপ্ত জাহান্নামী
হাদীস শরীফে এসেছে, নু'মান ইবনে বাশীর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, 'কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা লঘু আযাব হবে, যার দু'পায়ের তলায় দু'টি প্রজ্জ্বলিত আঙ্গার রাখা হবে। (বা আগুনের জুতা পরিধান করানো হবে) এতে তার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। যেমন- ডেক বা কলসী ফুটতে থাকে।' (বুখারী, 'জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ' অধ্যায় হা/৬৫৬২)
📄 জাহান্নামীদের মুক্তিলাভের ব্যর্থ চেষ্টা
আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামীদের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর বিভিন্ন প্রকার অত্যন্ত ভয়ংকর শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, যা থেকে জাহান্নামীরা জীবনের সবকিছুর বিনিময়ে মুক্তিলাভের চেষ্টা করবে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হবে না, তারা কোনদিন মুক্তি পাবে না।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- "যারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাদের মৃত্যু ঘটে তাদের কারো নিকট হতে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়-স্বরূপ প্রদান করলেও তা কখনও কবুল করা হবে না। এরাই তারা, যাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে, এদের কোন সাহায্যকারী নেই”। (সূরা আল-ইমরান: ৯১)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে- আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- "কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে হতে দুনিয়ার সর্বাধিক মালদার সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ঢুকিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নেয়ামতের সুখ অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম, হে পরওয়ার দেগার! আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৭২৬৬)
📄 আযাবের দৃষ্টান্ত
জাহান্নামের আযাবের দৃষ্টান্ত বুঝাতে গিয়ে রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন-
কিয়ামতের দিবস একজন জাহান্নামের উপযোগী ব্যক্তিকে যে দুনিয়ার সবচাইতে আরাম-বিলাসীতা ও সুখ-শান্তির জীবন অতিবাহিত করেছিল, এমন একজনকে একবার মাত্র জাহান্নামের অগ্নিতে ডুবাইয়া আনা হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনও সুখ ও শান্তি বলতে কিছু দেখেছ? উত্তরে সে বলবে: হে প্রভু! আমি কসম করে বলতেছি, সুখ বলতে আমি কোন জিনিস জীবনে কখনও দেখতে পাইনি বা অনুভব করিনি।
অনুরূপ, একজন জান্নাতের উপযোগী ব্যক্তিকে যিনি দুনিয়ার বুকে সবচেয়ে বেশি দুঃখী ব্যক্তি ছিল, তাকে বেহেশতের বাগিচা একবার মাত্র দেখাবার পর আনা হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি কখনও দুঃখ বা মসীবত দেখেছ? তদুত্তরে সে ব্যক্তি বলবে : হে প্রভু! তোমার কসম খেয়ে বলতেছি, আমি দুঃখ বা মুসিবত বলতে কোন জিনিস জীবনে দেখি নাই। (মেশকাত-৫০২)
এ সম্পর্কে রাসূলে কারীম (সা.) অন্যত্র ইরশাদ করেছেন- 'হে মানুষ সকল! তোমরা আপন গুনাহকে স্মরণ করে কাঁদ! যদি তোমাদের কান্না না আসে তাহলে কাঁদার ভান করে কাঁদতে থাক। কেননা জাহান্নামীগণ জাহান্নামের মধ্যে এত অধিক পরিমাণে কাঁদবে, কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিতে বুক ভেসে ঝরণার মত প্রবাহিত হতে থাকবে। এমন কি, তাদের চোখের পানি যখন শেষ হয়ে যাবে তখন তারা রক্তের কান্না কাঁদতে থাকবে- চোখে ঘা হয়ে যাবে। এমনকি চোখে রক্তের স্রোত এমনি প্রবাহিত হবে যে, উহাতে কিস্তি বা নৌকা ভাসাইয়া দিলে ও ভেসে বেড়াবে।'
জাহান্নামী মানুষ আল্লাহ পাকের অভিশপ্ত মানুষ। তাদের আযাব যেমনি জঘন্য, আকৃতিও তাদের হবে তেমনি কুৎসিত। এ বিষয়ে নবী করীম (সা.) দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন : যদি জাহান্নামীদের ঘায়ের পুঁজ বা রক্ত একফোঁটা পরিমাণ দুনিয়াতে দেয়া হত, তবে তার দুর্গন্ধে সমস্ত জিনিস নষ্ট হয়ে যেত। (মেশকাত, জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের বর্ননা-৫০৩)