📄 জাহান্নামীদের খোদার দরগাহে শেষ নিবেদন
জাহান্নামীরা কারো কাছে কোন সাহায্য বা সুপারিশের অনুরোধ করে কোন ফল না পেয়ে অবশেষে তারা মহান দয়াময় আল্লাহ পাকের দরগাহে শেষ নিবেদন করার জন্য প্রস্তুত হবে। এ উদ্দেশ্যে তারা পরস্পর পরামর্শ করে সরাসরি আল্লাহর দরগাহে ফরিয়াদ করবে। ইমাম বাইহাকী (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনে কা'আব আল কুরযীর কথা নকল করেছেন, ইবনে কা'আব বলেন,
জাহান্নামীরা খোদার দরগাহে পাঁচটি নিবেদন করবে, আল্লাহ তা'আলা তাদের চারটির উত্তর দিবেন, পঞ্চমটির উত্তর দিবেন না। তারপর তারা আর কোন নিবেদন করতে পারবে না। তাদের ফরিয়াদগুলো কোরআনের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
رَبَّنَا آمَتَنَا اثْنَتَيْنِ وَ أَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِّنْ سَبِيلٍ .
“হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু'বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু'বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখনও নিষ্কৃতির কোন উপায় আছে কি?” (সূরা মু'মিন-১১)
আল্লাহ তা'আলা উত্তরে বলবেন, ذُلِكُمْ بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِنْ يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ .
“তোমাদের এ বিপদ এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা কাফের হয়ে যেতে, আর যখন তাঁর সাথে শরীককে ডাকা হত, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন আদেশ তাই, যা আল্লাহ করবেন, যিনি সর্বোচ্চ, মহান”। (সূরা মমিন-১২) জাহান্নামীরা অতঃপর এই ফরিয়াদ করবে- رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ .
“হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। (সূরা সিজদাহ-১২) আল্লাহ তা'আলার তরফ হতে উত্তর আসবে- فَذُوقُوا بِمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا إِنَّا نَسِينُكُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ .
"অতঃপর এ দিবসকে ভুলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আযাব ভোগ কর। (সূরা সিজদাহ-১৪) কাফিররা অতঃপর ফরিয়াদ করবে- رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ “হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (সূরা ফাতির-৩৭) প্রতি উত্তরে আল্লাহ বলবেন- أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ .
"আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা ফাতির-৩৭)
জাহান্নামীরা সর্বশেষ এই ফরিয়াদ করবে- رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِينَ .
“তারা বলবে : হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি”। (সূরা আল-মু'মিনূন-১০৬)
তখন আল্লাহ তা'আলার তরফ হতে উত্তর আসবে- اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ .
“আল্লাহ বলবেন : তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না'। (সূরা আল মু'মিনূন-১০৮)
ইমাম কুরতুবী (র.) বলেন, তার পর থেকে জাহান্নামীরা আল্লাহ তা'আলার সাথে আর কোন কথা বলতে পারবে না।
📄 জাহান্নামীদের শাস্তি
সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- "জাহান্নামীদের মধ্যে কোন কোন লোক এমন হবে, জাহান্নামের আগুন তার পায়ের টাখনু পর্যন্ত পৌঁছবে। তাদের মধ্যে কারো হাঁটু পর্যন্ত আগুন পৌঁছবে, কারো কারো কোমর পর্যন্ত এবং কারো কারো গর্দান পর্যন্ত পৌঁছবে।” (মুসলিম, হাদীস নং-৭৩৪৯)
📄 জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে কম শাস্তি প্রাপ্ত জাহান্নামী
হাদীস শরীফে এসেছে, নু'মান ইবনে বাশীর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, 'কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা লঘু আযাব হবে, যার দু'পায়ের তলায় দু'টি প্রজ্জ্বলিত আঙ্গার রাখা হবে। (বা আগুনের জুতা পরিধান করানো হবে) এতে তার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। যেমন- ডেক বা কলসী ফুটতে থাকে।' (বুখারী, 'জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ' অধ্যায় হা/৬৫৬২)
📄 জাহান্নামীদের মুক্তিলাভের ব্যর্থ চেষ্টা
আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামীদের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর বিভিন্ন প্রকার অত্যন্ত ভয়ংকর শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, যা থেকে জাহান্নামীরা জীবনের সবকিছুর বিনিময়ে মুক্তিলাভের চেষ্টা করবে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হবে না, তারা কোনদিন মুক্তি পাবে না।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- "যারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাদের মৃত্যু ঘটে তাদের কারো নিকট হতে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়-স্বরূপ প্রদান করলেও তা কখনও কবুল করা হবে না। এরাই তারা, যাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে, এদের কোন সাহায্যকারী নেই”। (সূরা আল-ইমরান: ৯১)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে- আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- "কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে হতে দুনিয়ার সর্বাধিক মালদার সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ঢুকিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নেয়ামতের সুখ অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম, হে পরওয়ার দেগার! আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৭২৬৬)