📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীদের মুখমণ্ডল পোড়ানো হবে

📄 জাহান্নামীদের মুখমণ্ডল পোড়ানো হবে


মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, 'যে কেহ অসৎ কর্ম নিয়ে আসবে, তাকে অর্ধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে অগ্নিতে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।' (সূরা নামল: ৯০)
আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন- 'কাফিরদেরকে হাশরের মাঠে মুখের মাধ্যমে হাঁটিয়ে উপস্থিত করা হবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ রাসূল! মুখের ভরে কাফিরদেরকে কিভাবে হাশরের ময়দানে উঠানো হবে? তিনি বললেন, দুনিয়াতে যে সত্তা দু'পায়ের উপর হাঁটান, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের ভরে হাঁটাতে পারবেন না? তখন ক্বাতাদাহ (রা.) বললেন, আমাদের প্রতিপালকের ইজ্জতের কসম! অবশ্যই পারবেন। (বুখারী, 'হাশরের অবস্থা কেমন হবে' অধ্যায়, হা/৬৫২৩)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীদের কুৎসিত ছুরত

📄 জাহান্নামীদের কুৎসিত ছুরত


জাহান্নামীদের ছুরত কেমন কুৎসিত ও কদাকার হবে, এ সম্পর্কে কোরআন মজিদে স্পষ্ট বর্ণনা আছে। আল্লাহ বলেন- “আর যারা পাপকার্য সমূহে লিপ্ত হয়েছে, তাদের অপরাধের শাস্তি অপরাধ পরিমাণ হতে থাকবে এবং তাদেরকে এভাবে বেইজ্জত ও অপদস্ত করা হবে যে, আল্লাহর আযাব হতে তাদেরকে রক্ষাকারী আর কেহ থাকবে না। তারা এত বদছুরত হবে যেন অন্ধকার রাত্রির তীব্র অন্ধকার তাদের চেহারা মুখমন্ডলকে ছাইয়া ফেলেছে।”
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- “সেদিন কতক চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং কতক চেহারা কালো হবে, যাদের মুখ কালো হবে তাদেরকে বলা হবে, ঈমান আনয়নের পর কি তোমরা সত্য প্রত্যাখান করেছিলে, সুতরাং তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা সত্য প্রত্যাখান করতে।" (সূরা আল-ইমরান: ১০৬)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেছেন, যদি জাহান্নামীদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তিকে দুনিয়াতে পাঠাইয়া দেয়া হয়, তাহলে তার ভয়ংকর ছুরত ও দুর্গন্ধে দুনিয়ার সকল জীব জন্তু মরে যাবে। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ অনেকক্ষণ কাঁদতে থাকেন。
এ সম্পর্কে কোরআন মাজিদেও ব্যাখ্যা দেয়া আছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- 'অগ্নি তাদের মুখমন্ডলকে এমনিভাবে জ্বালাইয়া দিবে যে উহা সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যাবে。
নবী কারীম (সা.) অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, জাহান্নামীদের আগুন এমনিতর জ্বালাইয়া বিকৃত করবে যে, তাদের উপরের ঠোঁট বিকৃত হয়ে মাথা পর্যন্ত উঠে যাবে।
এমনকি জাহান্নামীদের জিহ্বা এত বড় হবে যে, উহা টানিয়া বাহির করা হবে, যার উপর দিয়া লোক হেটে যেতে সমর্থ হবে। ইহার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাসূলে কারীম (সা.) বলেছেন, 'কাফেরগণ নিজ নিজ জিহ্বাকে এক ক্রোশ পর্যন্ত টেনে বের করে ফেলবে, যার উপর দিয়ে মানুষ হেটে যাবে।” (মরণের আগে ও পরে, ইমাম গাজ্জালী)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীদের খোদার দরগাহে শেষ নিবেদন

📄 জাহান্নামীদের খোদার দরগাহে শেষ নিবেদন


জাহান্নামীরা কারো কাছে কোন সাহায্য বা সুপারিশের অনুরোধ করে কোন ফল না পেয়ে অবশেষে তারা মহান দয়াময় আল্লাহ পাকের দরগাহে শেষ নিবেদন করার জন্য প্রস্তুত হবে। এ উদ্দেশ্যে তারা পরস্পর পরামর্শ করে সরাসরি আল্লাহর দরগাহে ফরিয়াদ করবে। ইমাম বাইহাকী (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনে কা'আব আল কুরযীর কথা নকল করেছেন, ইবনে কা'আব বলেন,
জাহান্নামীরা খোদার দরগাহে পাঁচটি নিবেদন করবে, আল্লাহ তা'আলা তাদের চারটির উত্তর দিবেন, পঞ্চমটির উত্তর দিবেন না। তারপর তারা আর কোন নিবেদন করতে পারবে না। তাদের ফরিয়াদগুলো কোরআনের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
رَبَّنَا آمَتَنَا اثْنَتَيْنِ وَ أَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِّنْ سَبِيلٍ .
“হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু'বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু'বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখনও নিষ্কৃতির কোন উপায় আছে কি?” (সূরা মু'মিন-১১)
আল্লাহ তা'আলা উত্তরে বলবেন, ذُلِكُمْ بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِنْ يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ .
“তোমাদের এ বিপদ এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা কাফের হয়ে যেতে, আর যখন তাঁর সাথে শরীককে ডাকা হত, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন আদেশ তাই, যা আল্লাহ করবেন, যিনি সর্বোচ্চ, মহান”। (সূরা মমিন-১২) জাহান্নামীরা অতঃপর এই ফরিয়াদ করবে- رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ .
“হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। (সূরা সিজদাহ-১২) আল্লাহ তা'আলার তরফ হতে উত্তর আসবে- فَذُوقُوا بِمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا إِنَّا نَسِينُكُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ .
"অতঃপর এ দিবসকে ভুলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আযাব ভোগ কর। (সূরা সিজদাহ-১৪) কাফিররা অতঃপর ফরিয়াদ করবে- رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ “হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (সূরা ফাতির-৩৭) প্রতি উত্তরে আল্লাহ বলবেন- أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ .
"আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা ফাতির-৩৭)
জাহান্নামীরা সর্বশেষ এই ফরিয়াদ করবে- رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِينَ .
“তারা বলবে : হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি”। (সূরা আল-মু'মিনূন-১০৬)
তখন আল্লাহ তা'আলার তরফ হতে উত্তর আসবে- اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ .
“আল্লাহ বলবেন : তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না'। (সূরা আল মু'মিনূন-১০৮)
ইমাম কুরতুবী (র.) বলেন, তার পর থেকে জাহান্নামীরা আল্লাহ তা'আলার সাথে আর কোন কথা বলতে পারবে না।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীদের শাস্তি

📄 জাহান্নামীদের শাস্তি


সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- "জাহান্নামীদের মধ্যে কোন কোন লোক এমন হবে, জাহান্নামের আগুন তার পায়ের টাখনু পর্যন্ত পৌঁছবে। তাদের মধ্যে কারো হাঁটু পর্যন্ত আগুন পৌঁছবে, কারো কারো কোমর পর্যন্ত এবং কারো কারো গর্দান পর্যন্ত পৌঁছবে।” (মুসলিম, হাদীস নং-৭৩৪৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00