📄 জাহান্নামীদের দেহের আকৃতি
অধিক আযাব ভোগ করার জন্য দেহ বিরাট আকৃতি বিশিষ্ট হওয়া যুক্তিসংগত। কারণ আযাব হাড়ে হাড়ে পৌঁছানোর জন্য বিশাল দেহ হওয়া প্রয়োজন। তাই জাহান্নামীদের দেহাকৃতি হবে বিশাল। দেখলে যে কেহই অভক্তি হবে, ভীত হবে দেখলে তাদের বিরাটকায় আকৃতি।
এ বিষয়ে হাদীসে বলা হয়েছে-
হযরত নবী কারীম (সা.) বলেছেন: জাহান্নামী কাফেরদের এক বাহু হতে অপর বাহুর দূরত্ব হবে তিন দিনের পথ, যদিও তার উপর দিয়ে কোন দ্রুতগামী ঘোড়া চলে যায়। কাফেরদের এক একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান, চামড়া হবে তিন দিনের পথ সমতুল্য পুরু বা মোটা। (বুখারী, 'জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ' হা:/৬৫৫১)।
📄 জাহান্নামীদের শরীরের চামড়া পোড়ানো হবে
আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামীদের তিন দিনের পথ সমপরিমাণ পুরু বা মোটা চামড়াকে অন্য একটি রেওয়ায়েতে জাহান্নামীদের শরীরের চামড়া ৪২ গজ মোটা হবে। এই চামড়াকে দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ঊনসত্তর গুণ বেশি তাপ সম্পন্ন জাহান্নামের আগুন দ্বারা ভাজা-পোড়া করবেন। চামড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেলে পুনরায় নতুন চামড়া তৈরি করে পোড়াবেন। এইভাবে অনবরত পোড়াতে থাকবেন।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, “যারা আমার আয়াতকে প্রত্যাখান করে তাদেরকে আগুনে পোড়াই, যখনই তাদের চামড়া পুড়ে যাবে, তখনই তার স্থলে নতুন চামড়া সৃষ্টি করব, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা নিসা: ৫৬)
📄 জাহান্নামীদের মুখমণ্ডল পোড়ানো হবে
মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, 'যে কেহ অসৎ কর্ম নিয়ে আসবে, তাকে অর্ধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে অগ্নিতে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।' (সূরা নামল: ৯০)
আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন- 'কাফিরদেরকে হাশরের মাঠে মুখের মাধ্যমে হাঁটিয়ে উপস্থিত করা হবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ রাসূল! মুখের ভরে কাফিরদেরকে কিভাবে হাশরের ময়দানে উঠানো হবে? তিনি বললেন, দুনিয়াতে যে সত্তা দু'পায়ের উপর হাঁটান, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের ভরে হাঁটাতে পারবেন না? তখন ক্বাতাদাহ (রা.) বললেন, আমাদের প্রতিপালকের ইজ্জতের কসম! অবশ্যই পারবেন। (বুখারী, 'হাশরের অবস্থা কেমন হবে' অধ্যায়, হা/৬৫২৩)
📄 জাহান্নামীদের কুৎসিত ছুরত
জাহান্নামীদের ছুরত কেমন কুৎসিত ও কদাকার হবে, এ সম্পর্কে কোরআন মজিদে স্পষ্ট বর্ণনা আছে। আল্লাহ বলেন- “আর যারা পাপকার্য সমূহে লিপ্ত হয়েছে, তাদের অপরাধের শাস্তি অপরাধ পরিমাণ হতে থাকবে এবং তাদেরকে এভাবে বেইজ্জত ও অপদস্ত করা হবে যে, আল্লাহর আযাব হতে তাদেরকে রক্ষাকারী আর কেহ থাকবে না। তারা এত বদছুরত হবে যেন অন্ধকার রাত্রির তীব্র অন্ধকার তাদের চেহারা মুখমন্ডলকে ছাইয়া ফেলেছে।”
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- “সেদিন কতক চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং কতক চেহারা কালো হবে, যাদের মুখ কালো হবে তাদেরকে বলা হবে, ঈমান আনয়নের পর কি তোমরা সত্য প্রত্যাখান করেছিলে, সুতরাং তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা সত্য প্রত্যাখান করতে।" (সূরা আল-ইমরান: ১০৬)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেছেন, যদি জাহান্নামীদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তিকে দুনিয়াতে পাঠাইয়া দেয়া হয়, তাহলে তার ভয়ংকর ছুরত ও দুর্গন্ধে দুনিয়ার সকল জীব জন্তু মরে যাবে। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ অনেকক্ষণ কাঁদতে থাকেন。
এ সম্পর্কে কোরআন মাজিদেও ব্যাখ্যা দেয়া আছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- 'অগ্নি তাদের মুখমন্ডলকে এমনিভাবে জ্বালাইয়া দিবে যে উহা সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যাবে。
নবী কারীম (সা.) অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, জাহান্নামীদের আগুন এমনিতর জ্বালাইয়া বিকৃত করবে যে, তাদের উপরের ঠোঁট বিকৃত হয়ে মাথা পর্যন্ত উঠে যাবে।
এমনকি জাহান্নামীদের জিহ্বা এত বড় হবে যে, উহা টানিয়া বাহির করা হবে, যার উপর দিয়া লোক হেটে যেতে সমর্থ হবে। ইহার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাসূলে কারীম (সা.) বলেছেন, 'কাফেরগণ নিজ নিজ জিহ্বাকে এক ক্রোশ পর্যন্ত টেনে বের করে ফেলবে, যার উপর দিয়ে মানুষ হেটে যাবে।” (মরণের আগে ও পরে, ইমাম গাজ্জালী)