📄 মাথায় গরম পানি ঢেলে শাস্তি প্রদান
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, ط فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّنْ نَارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ - يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ.
‘যারা কুফরী করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের, পোশাক, আর তাদের মাথার উপর ঢালা হবে ফুটন্ত পানি, যা দ্বারা তাদের পেটে যা আছে তা এবং তাদের চর্ম বিগলিত করা হবে।" (সূরা হজ্জ : ১৯-২০)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামীদের মাথায় গরম পানি ঢালা হবে, এমনকি তা পেটের মধ্যে প্রবেশ করবে। ফলে পেটের ভিতরে যা কিছু আছে সবকিছু গলে পায়ের দিকে গড়িয়ে পড়বে।” (তিরমিযী, হাদীস নং-২৫২০)
📄 জাহান্নামীদের দেহের আকৃতি
অধিক আযাব ভোগ করার জন্য দেহ বিরাট আকৃতি বিশিষ্ট হওয়া যুক্তিসংগত। কারণ আযাব হাড়ে হাড়ে পৌঁছানোর জন্য বিশাল দেহ হওয়া প্রয়োজন। তাই জাহান্নামীদের দেহাকৃতি হবে বিশাল। দেখলে যে কেহই অভক্তি হবে, ভীত হবে দেখলে তাদের বিরাটকায় আকৃতি।
এ বিষয়ে হাদীসে বলা হয়েছে-
হযরত নবী কারীম (সা.) বলেছেন: জাহান্নামী কাফেরদের এক বাহু হতে অপর বাহুর দূরত্ব হবে তিন দিনের পথ, যদিও তার উপর দিয়ে কোন দ্রুতগামী ঘোড়া চলে যায়। কাফেরদের এক একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান, চামড়া হবে তিন দিনের পথ সমতুল্য পুরু বা মোটা। (বুখারী, 'জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ' হা:/৬৫৫১)।
📄 জাহান্নামীদের শরীরের চামড়া পোড়ানো হবে
আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামীদের তিন দিনের পথ সমপরিমাণ পুরু বা মোটা চামড়াকে অন্য একটি রেওয়ায়েতে জাহান্নামীদের শরীরের চামড়া ৪২ গজ মোটা হবে। এই চামড়াকে দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ঊনসত্তর গুণ বেশি তাপ সম্পন্ন জাহান্নামের আগুন দ্বারা ভাজা-পোড়া করবেন। চামড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেলে পুনরায় নতুন চামড়া তৈরি করে পোড়াবেন। এইভাবে অনবরত পোড়াতে থাকবেন।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, “যারা আমার আয়াতকে প্রত্যাখান করে তাদেরকে আগুনে পোড়াই, যখনই তাদের চামড়া পুড়ে যাবে, তখনই তার স্থলে নতুন চামড়া সৃষ্টি করব, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা নিসা: ৫৬)
📄 জাহান্নামীদের মুখমণ্ডল পোড়ানো হবে
মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, 'যে কেহ অসৎ কর্ম নিয়ে আসবে, তাকে অর্ধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে অগ্নিতে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।' (সূরা নামল: ৯০)
আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন- 'কাফিরদেরকে হাশরের মাঠে মুখের মাধ্যমে হাঁটিয়ে উপস্থিত করা হবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ রাসূল! মুখের ভরে কাফিরদেরকে কিভাবে হাশরের ময়দানে উঠানো হবে? তিনি বললেন, দুনিয়াতে যে সত্তা দু'পায়ের উপর হাঁটান, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের ভরে হাঁটাতে পারবেন না? তখন ক্বাতাদাহ (রা.) বললেন, আমাদের প্রতিপালকের ইজ্জতের কসম! অবশ্যই পারবেন। (বুখারী, 'হাশরের অবস্থা কেমন হবে' অধ্যায়, হা/৬৫২৩)