📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীদের খাদ্য-পানীয়

📄 জাহান্নামীদের খাদ্য-পানীয়


জাহান্নাম যাতনা ও পাপীদের আযাবের ঘৃণিত স্থান। এখানে যা কিছু করা হবে সবই যাতনা, দুঃখ আযাবের। তাদের পানাহারের বস্তু হবে সেখানে আযাব। মর্মান্তিক যাতনা হবে খাদ্য-পানীয়।
জাহান্নামীদের খাদ্য হবে যাক্কুম এবং কাঁটাযুক্ত এক প্রকার গাছ। আর পানীয় হবে রক্ত-পুঁজ মিশ্রিত গরম দুর্গন্ধময় পানি। জাহান্নামীদের খাদ্য “যাক্কুম” সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُوْمِ طَعَامُ الْأَثِيمِ كَالْمُهْلِ يَغْلِي فِي الْبُطُونِ كَغَلْي الْحَمِيمِ .
'নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হবে পাপীদের খাদ্য, গলিত তামার মত, তাদের উদরে ফুটতে থাকবে ফুটন্ত পানির মত'। (সূরা দুখান: ৪৩-৪৬)
আর যাক্কুম-এর আকৃতি উল্লেখ করে আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'আপ্যায়নের জন্য কি ইহাই শ্রেয় না যাক্কুম বৃক্ষ? যালিমদের জন্য আমি ইহা সৃষ্টি করেছি পরীক্ষাস্বরূপ, এই বৃক্ষ উদগত হয় জাহান্নামের তলদেশ হতে, ইহার মোচা যেন শয়তানের মাথা, তারা ইহা হতে ভক্ষণ করবে এবং উদরপূর্ণ করবে ইহা দ্বারা। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। আর তাদের গন্তব্য হবে অবশ্যই প্রজ্জ্বলিত অগ্নির দিকে'। (সূরা ছাফফাত-৬২-৬৮)
উল্লেখিত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, যাক্কুম বৃক্ষ যা আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামীদের খাদ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তা অতীব নিকৃষ্ট, যা উদগত হয় জাহান্নামের তলদেশ হতে। আর উহার ফল দেখতে কুৎসিত যা আল্লাহ তা'আলা শয়তানের মাথা সাদৃশ বলে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামীদেরকে প্রচন্ড ক্ষুধা প্রদান করবেন, আর এই ক্ষুধার্ত জাহান্নামীদের খাদ্য হিসেবে কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ যাক্কুম প্রদান করবেন। প্রচন্ড ক্ষুধার যন্ত্রণায় যখন তারা এই যাক্কুম বৃক্ষ খাওয়ার চেষ্টা করবে তখন তাদের গলায় এমনভাবে আটকিয়ে যাবে যা নিচেও নামবে না বের হয়েও আসবে না।
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন- لَيْسَ لَهُمْ طَعَامُ إِلَّا مِنْ ضَرِيحٍ لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُمْعٍ.
'তাদের জন্য খাদ্য থাকবে না কাঁটাযুক্ত ফল ব্যতীত, যা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তি করবে না। (সূরা গাশিয়া-৬-৭)
আয়াতে বর্ণিত (যরি') হচ্ছে এক প্রকার কাঁটাযুক্ত গাছ, যার নমুনা আরব উপদ্বীপগুলোতে কোথাও কোথাও দেখা যায়।
উল্লেখিত খাদ্য যা জাহান্নামীগণ ভক্ষণ করবে। কিন্তু এতে তারা কোন স্বাদ অনুভব করবে না এবং শারীরিক কোন উপকারে আসবে না। অতএব, এই খাদ্য তাদেরকে শাস্তি স্বরূপ প্রদান করা হবে।
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেন- إِنَّ لَدَيْنَا أَنْكَالًا وَجَحِيمًا-وَطَعَامًا ذَا غُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيمًا.
"আমার নিকট আছে শৃংখল ও প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, আর আছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকিয়ে যায় এবং মর্মান্তিক শাস্তি।” (সূরা মুযযাম্মিল: ১২-১৩)
এমতাবস্থায় জাহান্নামীরা আল্লাহর নিকটে পানি পানের আবেদন করবে। পান করার জন্য আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এমন গরম পানি দান করবেন, যা জাহান্নামীরা পিপাসিত উটের ন্যায় পান করবে। অতঃপর তাদের নাড়িভুঁড়ি এমনভাবে ফুটতে থাকবে যেমনভাবে গরম তেল ফুটতে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ .
“এবং তাদের (জাহান্নামী) পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিবে।” (সূরা মুহাম্মাদ-১৫)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীদের পানীয়

📄 জাহান্নামীদের পানীয়


জাহান্নামীদের শরীর হতে গড়িয়ে পড়া রক্ত পুঁজ মিশ্রিত গরম ও তরল পদার্থ জাহান্নামীদেরকে পানীয় হিসেবে দেয়া হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَهُنَا حَمِيمٌ . وَلَا طَعَامُ إِلَّا مِنْ غِسْلِيْنٍ لَّا يَأْكُلُهُ إِلَّا الْخَاطِئُونَ.
"অতএব এই দিন সেথায় তার কোন সুহৃদ থাকবে না এবং কোন খাদ্য থাকবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ব্যতীত, যা অপরাধী ব্যতীত কেউ খাবে না।” (সূরা হাক্কু-ক্বাহ : ৩৫-৩৭) তিনি আরো বলেন-
هُذَا فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌ وَ غَسَّاقٌ وَاخَرُ مِنْ شَكْلِه أَزْوَاجٌ .
“ইহা সীমালংঘনকারীদের জন্য সুতরাং তারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ। আরও আছে এইরূপ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি।” (সূরা ছাদ: ৫৭-৫৮)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 গরম পানীয় ও দ্বারী খাদ্য

📄 গরম পানীয় ও দ্বারী খাদ্য


জাহান্নামীরা যখন ক্ষুৎপিপাসার জ্বালায় অস্থির হবে, তখন তাদের জন্য উত্তপ্ত পানি ও কণ্টকময় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হবে। কোরআনের ভাষায় এই কণ্টকময় খাদ্যকে 'দ্বারী' বলা হয়েছে। দ্বারী নামক এই খাদ্য খেলে ক্ষুধা নিবৃত্ত দূরের কথা কাঁটার যাতনায় ভক্ষণকারী হবে দ্বিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য।'
আল্লাহ পাক বলেন- لَيْسَ لَهُمْ طَعَامُ إِلَّا مِنْ ضَرِيعٍ لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ . “পান করানো হবে জাহান্নামীদের উত্তপ্ত নহরের পানি, খাওয়ানো হবে 'দ্বারী' জাতীয় অগ্নি কণ্টক খাদ্য। এতে না আছে কোন প্রকার প্রাণ শক্তি, না হবে ক্ষুৎ-পিপাসা নিবারণ। (সূরা গাশিয়া-৬-৭)
হেজাজে 'দ্বারী' নামীয় এক প্রকার কন্টকময় বৃক্ষ আছে, সেই বৃক্ষ এত কণ্টকাকীর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত যে, চতুস্পদ জন্তু জানোয়ার উহার ধারে কাছেও যায় না। কারণ সেই গাছ ভক্ষণ করলে জানোয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।
এই আয়াত শরীফে 'দ্বারীঊন' শব্দ দ্বারা আগুনের কন্টককে বুঝানো হয়েছে যা উক্ত বক্ষ হতেও তিক্ত বিষাক্ত এবং মৃত পশু হতে অধিক দুর্গন্ধ যুক্ত আর আগুন হতে উত্তপ্ত, যা অধিক পরিমাণ ভক্ষণ করলেও না পাবে তাতে কোন প্রাণ-শক্তি, না বিবৃত হবে ক্ষুধা।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 মায়ে হামীম বা গরম পানি

📄 মায়ে হামীম বা গরম পানি


হাদীসের উক্তি হতে জানা যায়, জাহান্নামে 'মায়ে হামীম' বা উষ্ণ একটি নহর আছে। উক্ত নহরের পানি এতই গরম যে, জাহান্নামীরা পানির পিপাসায় অস্থির হয়ে আল্লাহর কাছে পানি পানি করে আবেদন নিবেদন করলে তিনি উষ্ণনহর হতে পানি পান করতে আদেশ করবেন। জাহান্নামীরা উক্ত পানি পান করলে উষ্ণতার তীব্রতা হেতু তাদের উপরের ওষ্ঠ কর্ণ ও নাক পর্যন্ত উঠে যাবে এবং নিম্নের ওষ্ঠ পেট ও নাভী পর্যন্ত ঝুলে পড়বে। শুধু কি তাই, এতে জাহান্নামীদের নাড়ি-ভুঁড়ি বিগলিত হয়ে গুহ্যদ্বার দিয়ে বের হতে থাকবে। ওদিকে আওয়াজ আসবে, 'নিস্তার নাই, নাই নিস্তার।' (ইমাম গাজ্জালীর মরণের আগে ও পরে-২৩৮)
আল্লাহ পাক বলেন- . وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ “এবং তাদেরকে (জাহান্নামী) পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়ি-ভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিবে”। (সূরা মুহাম্মাদ-১৫) তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءِ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا .
“তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে, ইহা নিকৃষ্ট পানীয় ও অগ্নি। উহা কত নিকৃষ্ট আশ্রয়'। (সূরা কাহফঃ-২৯) তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন,
مِنْ وَرَآبِهِ جَهَنَّمُ وَيُسْقَى مِنْ مَّاءٍ صَدِيدٍ - يَتَجَرَّعُهُ وَلَا يَكَادُ يُسِيغُهُ وَ يَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَمَا هُوَ بِمَيِّتِ وَ مِنْ وَرَ آبِهِ عَذَابٌ غَلِيظٌ .
“তাদের প্রত্যেকের জন্য পরিণামে জাহান্নাম রয়েছে এবং প্রত্যেককে পান করানো হবে গলিত পুঁজ, যা সে অতি কষ্টে গলাধঃকরণ করবে এবং উহা গলাধঃকরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সর্বধিক হতে তার নিকট আসবে মৃত্যু যন্ত্রণা কিন্ত তার মৃত্যু ঘটবে না এবং সে কঠোর শাস্তি ভোগ করতেই থাকবে।” (সূরা ইবরাহীম, ১৬-১৭)
অতএব, উল্লেখিত আয়াতসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জাহান্নামীদের পানীয় হিসেবে আল্লাহ তা'আলা চার প্রকারের বস্তু নির্ধারণ করেছেন। যেমনঃ
১। গরম পানি। যার উত্তপ্ততা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার পরে অধিক গরম করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ ان .
'তারা জাহান্নামের অগিড়ব ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটাছুটি করবে'। (সূরা আর-রাহমান: ৪৪) তিনি আরো বলেন, -انِيَةٍ تُسْقَى مِنْ عَيْنِ انِيَةٍ .
'তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে”। (সূরা গাশিয়াহ : ৫) আয়াতে তাপের শেষ পর্যায়কে বুঝানো হয়েছে যার পরে অধিক গরম করা সম্ভব নয়।
২। জাহান্নামীদের শরীর হতে গড়িয়ে পড়া রক্ত পুঁজ মিশ্রিত গরম তরল পদার্থ অথবা বলা হয়ে থাকে যেনাকারী মহিলাদের লজ্জাস্থান হতে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ যা বের হয় তা।
৩। জাহান্নামীদের গোশত এবং চামড়া নিঃসৃত দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ।
৪। গলিত তামা। (জাহান্নামের আগুন, মুফতী সালাউদ্দীন মাসউদ-৯৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00