📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামের জ্বালানী

📄 জাহান্নামের জ্বালানী


মহান আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জ্বালানী হিসেবে পাথর এবং পাপিষ্ট কাফিরদেরকে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফিরিশতাগণ, যারা অমান্য করে না তা, যা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেন। আর তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে। (সূরা আত-তাহরীম : ৬)
অত্র আয়াতে মানুষ বলতে কাফির-মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। আর পাথর বলতে কোন প্রকারের পাথর যা আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবেন তা আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। তবে বলা হয়ে থাকে, ইহা ঐ সমস্ত মূর্তি, কাফির-মুশরিকরা যাদের ইবাদত করে।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, 'তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর সেগুলি তো জাহান্নামের ইন্ধন; তোমরা সকলে তার মধ্যে প্রবেশ করবে। (সূরা আম্বিয়া : ৯৮)
আল্লামা আলুসী (র.) তাঁর তাফসীরে রুহুল মা'আনীতে এবং আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপত্তি (র.) তাঁর তাফসীরে আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় একথাও লিখেছেন যে আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের প্রিয় নবী (সা.)-এর নিকট এ প্রশ্ন করেছিল যে, আলোচ্য আয়াতের সতর্কবাণী শুধু কি আমাদের উপাস্যদের উদ্দেশ্যই উচ্চারিত হয়েছে? তখন প্রিয়নবী (সা.) জবাব দিয়েছিলেন:
لِكُلِّ مَنْ عُبِدَ مِنْ دُونِ اللَّهِ .
'শুধু তোমাদের দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে এই সতর্কবাণী নয়, বরং আল্লাহ পাক ব্যতীত যা কিছুর বন্দেগী করা হয় তার সম্পর্কেই এই সতর্ক বাণী”। (তাফসীরে নূরুল কোরআন ১৭/১৫১)।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-
এটা গন্ধক পাথর যা আগুনকে প্রজ্জ্বলিত করে, যা আল্লাহ তা'আলা আসমান-যমীন সৃষ্টির সময় সৃষ্টি করে কাফিরদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
ইবনে রজব রহ. বলেন- অধিকাংশ মুফাসসিরগণ পাথর বলতে গন্ধক পাথরকে বুঝিয়েছেন যা আগুনকে প্রজ্জ্বলিত করে এবং বলা হয়ে থাকে এই আগুনে পাঁচ প্রকার শাস্তি বিদ্যমান।
১. দ্রুত আগুন প্রজ্জ্বলিতকরণ।
২. অতি দুর্গন্ধময়।
৩. অতিরিক্ত ধোঁয়া নিসৃতকরণ
৪. কঠিনভাবে শরীরের সাথে আগুনের সংযুক্তকরণ।
৫. তাপের প্রখরতা। (জাহান্নামের আগুন-০৯ মুফতী সালাহুদ্দীন মাসউদ) মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে যে সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে মা'বুদ হিসেবে গ্রহণ করেছে, জাহান্নামের জ্বালানী হিসাবে মানুষ ও পাথরকে ঐ সকল মা'বুদদের সাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- 'তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর সেগুলিতো জাহান্নামের ইন্ধন, তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে। যদি তারা ইলাহ হতো তবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করত না, তাদের সকলেই তাতে (জাহান্নামে) স্থায়ী হবে'। (সূরা আম্বিয়া-৯৮-৯৯)
আল্লাহ তা'আলা আমাদের জাহান্নামের ইন্ধন হওয়া থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 স্বচক্ষে জাহান্নাম দর্শন

📄 স্বচক্ষে জাহান্নাম দর্শন


আসমা বিনতে আবু বকর রা. হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. একবার সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করলেন। নামায শেষ করে ফিরে বললেন, জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছিল। এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, হে আল্লাহ আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রীলোককে দেখতে পেলাম।
আবূ হুরায়রা (রা.) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে (মহিলাটিকে) খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ স্ত্রীলোকটির এমন অবস্থা কেন? ফেরেশতাগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রীলোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৭৪৫, ২৩৬৪)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 স্বপ্নযোগে ইবনে উমর (রা.) জাহান্নাম দেখলেন

📄 স্বপ্নযোগে ইবনে উমর (রা.) জাহান্নাম দেখলেন


ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বেশ কয়েকজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর যুগে স্বপ্ন দেখতেন। অতঃপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে তা বর্ণনা করতেন। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) এগুলোর ব্যাখ্যা দিতেন যা আল্লাহ ইচ্ছা করতেন。
আমি তখন অল্প বয়সের যুবক। বিয়ের পূর্বে মসজিদই ছিল আমার ঘর। আমি মনে মনে নিজেকে সম্বোধন করে বললাম, হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, আমার মধ্যে কোন কল্যাণ আছে তাহলে আমাকে কোন একটি স্বপ্ন দেখান। আমি ঐ অবস্থায়ই (ঘুমিয়ে) থাকলাম।
দেখলাম আমার কাছে দু'জন ভয়ঙ্কর ফেরেশতা এসেছেন। তাদের প্রত্যেকের হাতেই লোহার একটি করে হাতুড়ি। তারা আমাকে নিয়ে (জাহান্নামের দিকে) এগোচ্ছে। আমি তাঁদের দু'জনের মাঝে থেকে আল্লাহর কাছে দু'আ করছি, হে আল্লাহ। আমি জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর আমাকে দেখানো হল যে, একজন ফেরেশতা আমার কাছে এসেছেন। তাঁর হাতে লোহার একটি হাতুড়ি। সে আমাকে বলল, তোমার অবশ্যই কোন ভয় নেই। তুমি খুবই ভাল লোক। যদি অধিক করে নামায আদায় করতে! তাঁরা আমাকে নিয়ে চলল, অবশেষে তাঁরা আমাকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করালেন, (যা দেখতে) কূপের মত গোল আকৃতির। আর কূপের মত এরও রয়েছে অনেক শিং। আর দুইটি শিং-এর মাঝখানে একজন ফেরেশতা, যার হাতে লোহার একটি হাতুড়ি। আর আমি এতে (জাহান্নামে) কিছু লোককে শিকল পরিহিত দেখলাম। তাদের মাথা ছিল নিচের দিকে। কুরাইশের এক ব্যক্তিকে সেখানে আমি চিনে ফেললাম। অতঃপর তারা আমাকে ডান দিকে নিয়ে ফিরল।
এ ঘটনা (স্বপ্ন) আমি হাফছা (রা.) এর নিকট বর্ণনা করলাম। আর হাফছা (রা.) তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট বর্ণনা করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আব্দুল্লাহ তো নেককার লোক।
নাফে' (র.) বলেন, এরপর থেকে তিনি সর্বদা অধিক করে (নফল) নামায আদায় করতেন। (বুখারী, 'স্বপ্নে নিরাপদ মনে করা ও ভীতি দূর হতে দেখা' অধ্যায়, হা/৭০২৮, ৭০২৯)।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামীদের সুরত ও আকৃতি

📄 জাহান্নামীদের সুরত ও আকৃতি


অধিক শাস্তি ভোগ করার জন্য বিরাট আকৃতি বিশিষ্ট হওয়া যুক্তিসংগত। কারণ আযাব হাড়ে হাড়ে পৌঁছানোর জন্য বিশাল দেহ হওয়া প্রয়োজন। জাহান্নামীদের তাই দেহাকৃতি হবে যেমনি বিশাল সূরতও হবে তেমনি কুৎসিত। দেখলে যে কেহর অভক্তি হবে, ভীত হবে দেখলে তাদের বিরাট আকৃতি।
আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামীদেরকে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে বিশালাকৃতির দেহ দান করবেন। যেমন- তাদের এক কাঁধ থেকে অপর কাঁধের দূরত্ব হবে দ্রুতগামী ঘোড়ার তিন দিনের পথ, একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান, চামড়া হবে তিন দিনের পথ সমতুল্য পুরু বা মোটা।
এ সম্পর্কে হাদীছে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী করিম (সা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- কাফিরের দু'কাধের মাঝের দূরত্ব একজন দ্রুতগামী অশ্বারোহীর তিন দিনের ভ্রমণ পথের সমান হবে। (বুখারী, অধ্যায়, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ, হা:/৬৫৫১)
অন্য এক বর্ণনায় জাহান্নামীদের শরীরের চামড়া ৪২ গজ পুরু হবে উল্লেখ আছে। (আত-তারগীব-৪/৮৬৫)
জাহান্নামীদের সূরত কেমন কুৎসতি ও কদাকার হবে, এ সম্পর্কে কোরআনে স্পষ্ট বর্ণনা আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
“আর যারা পাপকার্য সমূহে লিপ্ত হয়েছে, তাদের অপরাধের শাস্তি অপরাধ পরিমাণ হতে থাকবে এবং তাহাদিগকে এভাবে বেইজ্জত ও অপদস্ত করা হবে যে, আল্লাহর আযাব হতে তাদেরকে রক্ষাকারী কেহ থাকবে না। তারা এত বদ আকৃতির হবে যেন অন্ধকার রাত্রির তীব্র অন্ধকার তাদের চেহারা মুখমন্ডলকে ছেয়ে ফেলেছে'।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেছেন, যদি জাহান্নামীদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তিকে দুনিয়াতে পাঠাইয়া দেওয়া হয়, তাহলে তার ভয়ঙ্কর সূরত ও দুর্গন্ধ দুনিয়ার সকল জীব জন্তু মরে যাবে। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর অনেকক্ষণ কাঁদলেন। (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ৪/৮৬৪)
এ সম্পর্কে কোরআন মাজিদেও ব্যাখ্যা আছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيهَا كَلِحُونَ .
অর্থাৎ : অগ্নি তাদের মুখমন্ডলকে ঝলসিয়ে দিবে, আর তারা থাকবে • সেখানে বীভৎস চেহারায়। (সূরা মু'মিনূন-১০৪)
হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী (সা.) কে আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি এরশাদ করেন, দোযখের অগ্নি তাদেরকে পুড়িয়ে এমন অবস্থা করবে যে, তাদের দেহের গোশ্ত তাদের পায়ে লুটে পড়বে। আর কোন কোন ব্যাখ্যাকার বলেছেন, তাদের জিহ্বা বের হয়ে মাটিতে লুটে পড়বে এবং অন্য দোজখীরা তা পায়ে মাড়াবে।
তিরমিযী শরীফে সংকলিত হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, প্রিয়নবী (সা.) এ বাক্যটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, জাহান্নামের অগ্নি কাফেরদের ভুনে ফেলবে, তার ওপরের ঠোঁট এত উপরে উঠবে যে মাথার অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছে যাবে আর নীচের ঠোঁট নিচের দিকে নেমে যাবে এবং নাভি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর (উর্দু), পারা-১৮/২৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00