📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামের আগুন

📄 জাহান্নামের আগুন


জাহান্নামীদের আযাবের অন্যতম উপকরণ আগুন। দুনিয়ার আগুনের সাথে এর কোন তুলনা হয় না। যদিও দুনিয়ার বা সাধারণ আগুনের দাহ্য বা পোড়ানো ক্ষমতা যথেষ্ট আছে এবং তা সম্পূর্ণ দাহ্য ক্ষমতা সম্পন্ন, তবুও জাহান্নামের আগুনের তুলনায় তা সামান্যই। কারণ মহান আল্লাহ তা'আলা উহার তীব্রতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে রেখেছেন। আর তা এজন্যই যে, দোযখীদের পোড়ানোর ব্যাপারে তা যেন সফলতার সাথে কাজ করতে পারে।
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন- জাহান্নামের অগ্নিকে হাজার বৎসর উত্তপ্ত করার পর উহা লোহিত বর্ণ ধারণ করে দেখতে উহা কটা লাল বর্ণের হয়। অতঃপর উক্ত অগ্নিকে আরও তীব্রতর অধিক দাহিক ক্ষমতা সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে উক্ত আগুনকে আরও এক হাজার বৎসর কাল উত্তপ্ত করা হয়। ফলে তা অধিক তীব্রতর হয়ে শ্বেত-বর্ণ ধারণ করে। অতঃপর এই তীব্র দাহিকা সম্পন্ন আগুনকে সর্বাধিক তীব্র করার উদ্দেশ্যে পুনঃ এক হাজার বৎসর কাল তেজ করা হয়, ফলে উহা ঘোর কৃষ্ণ বর্ণ ধারণ করে এবং সর্বাধিক তেজোপূর্ণ দাহিকা স্বভাব সম্পন্ন হয়। বর্তমানে জাহান্নামের আগুনের রং ঘোর কৃষ্ণ বর্ণের এবং জাহান্নামও ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন কূপের ন্যায় রয়েছে। (আততারগীব ওয়াততারহীব ৪/৮৫৮)
'রাসূলে কারীম (সা.) অন্যত্র ইরশাদ করেন- সাহাবাগণ! তোমাদের এ দুনিয়ার আগুন হতে জাহান্নামের আগুন সত্তর গুণ অধিক দাহিকা ক্ষমতা সম্পন্ন। সাহাবাগণ হুজুরের পবিত্র জবানে ইহা শুনে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের এ দুনিয়ার আগুনই তো পোড়ানোর জন্য যথেষ্ট- এই দাহিকা সম্পন্ন আগুনইতো পোড়াইয়া ছারখার করে দিতে পারে'। উত্তরে হযরত রাসূলে কারীম (সা.) বললেন: বটে। তবুও জাহান্নামীদের চরম আযাব দেয়ার উদ্দেশ্যে উহাকে দুনিয়ার আগুন হতে ঊনসত্তর গুণ অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। (বুখারী শরীফ)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা

📄 জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আমি তাকে নিক্ষেপ করব সাকার-এ, তুমি কি জান সাকার কি? উহা তাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দেবে না, ইহা তো শরীরের চামড়া পুড়ে ফেলবে।" (সূরা মুদ্দাছছির: ২৬-২৯)
অতএব, জেনে রাখ! জাহান্নামের আগুন জাহান্নামীদের সবকিছু খেয়ে ধ্বংস করে ফেলবে। তারা সেখানে না পারবে মরতে আর না পারবে বাঁচতে। জাহান্নামীদের চামড়া-মাংস পুড়িয়ে হাড্ডি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং পেটের ভেতরের সবকিছু বের করে ফেলবে।
জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, 'তোমাদের আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র'। (বুখারী শরীফ হাদীস নং-৩২৫৫)
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আর জাহান্নামের আগুনের তাপ কখনো প্রশমিত হবে না। অতঃপর তোমরা আস্বাদ গ্রহণ কর, আমি তো তোমাদের শাস্তিই শুধু বৃদ্ধি করব।” (সূরা নাবা : ৩০)
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে- “যখনই উহা (জাহান্নামের আগুন) স্তিমিত হবে আমি তখনই তাদের জন্য আগুনের তাপ বৃদ্ধি করে দেব যার কারণে জাহান্নামীরা কখনো সামান্যটুকু বিশ্রামের অবকাশ পাবে না এবং তাদের থেকে শাস্তির কিছুই কমানো হবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল: ৯৭)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা এবং ধোঁয়ার আধিক্য

📄 জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা এবং ধোঁয়ার আধিক্য


আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল! তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে, আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছাঁয়ায়, যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়'। (সূরা ওয়াকি'আহ: ৪১-৪৪) এ আয়াতসমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিনের প্রচন্ড তাপ থেকে মানুষকে ঠান্ডা করবেন তিনটি বস্তু দ্বারা, তা হল ঃ ১। পানি। ২। বাতাস এবং ৩। ছায়া।
যার সামান্যটুকুও জাহান্নামীদেরকে দেয়া হবে না। অতএব, জাহান্নামের বাতাস যা তার অধিবাসীদেরকে দেয়া হবে, তা প্রচণ্ড গরম বাতাস। আর পানি যা পান করতে দেয়া হবে, তা প্রচন্ড গরম পানি। আর ছায়া যা তাদেরকে আচ্ছাদন করে রাখবে, তা জাহান্নামের আগুন নিঃসৃত ধোঁয়ার ছায়া। এগুলো জাহান্নামীদের কোন উপকারে আসবে না, বরং এগুলো তাদের অধিক শাস্তির কারণ হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
"চলো তিন শাখা বিশিষ্ট ছায়ার দিকে, যে ছায়া শীতল নহে এবং যা রক্ষা করে না অগ্নিশিখা হতে, উহা উৎক্ষেপ করবে বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ অট্টালিকাতুল্য উহা পীতবর্ণ উষ্ট্রশ্রেণী সদৃশ।” (সূরা মুরসালাত: ৩০-৩৩) অত্র আয়াতে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের আগুন নিসৃত ধোঁয়ার তিনটি প্রকার উল্লেখ করেছেন-
১। ছায়া সদৃশ ধোঁয়া যা শীতল করে না। ২। এই ধোঁয়া জ্বলন্ত অগ্নি শিখা থেকে রক্ষা করতে পারে না। ৩। এই ধোঁয়া মোটা কালো উটের মত।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 জাহান্নামের জ্বালানী

📄 জাহান্নামের জ্বালানী


মহান আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জ্বালানী হিসেবে পাথর এবং পাপিষ্ট কাফিরদেরকে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফিরিশতাগণ, যারা অমান্য করে না তা, যা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেন। আর তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে। (সূরা আত-তাহরীম : ৬)
অত্র আয়াতে মানুষ বলতে কাফির-মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। আর পাথর বলতে কোন প্রকারের পাথর যা আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবেন তা আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। তবে বলা হয়ে থাকে, ইহা ঐ সমস্ত মূর্তি, কাফির-মুশরিকরা যাদের ইবাদত করে।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, 'তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর সেগুলি তো জাহান্নামের ইন্ধন; তোমরা সকলে তার মধ্যে প্রবেশ করবে। (সূরা আম্বিয়া : ৯৮)
আল্লামা আলুসী (র.) তাঁর তাফসীরে রুহুল মা'আনীতে এবং আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপত্তি (র.) তাঁর তাফসীরে আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় একথাও লিখেছেন যে আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের প্রিয় নবী (সা.)-এর নিকট এ প্রশ্ন করেছিল যে, আলোচ্য আয়াতের সতর্কবাণী শুধু কি আমাদের উপাস্যদের উদ্দেশ্যই উচ্চারিত হয়েছে? তখন প্রিয়নবী (সা.) জবাব দিয়েছিলেন:
لِكُلِّ مَنْ عُبِدَ مِنْ دُونِ اللَّهِ .
'শুধু তোমাদের দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে এই সতর্কবাণী নয়, বরং আল্লাহ পাক ব্যতীত যা কিছুর বন্দেগী করা হয় তার সম্পর্কেই এই সতর্ক বাণী”। (তাফসীরে নূরুল কোরআন ১৭/১৫১)।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-
এটা গন্ধক পাথর যা আগুনকে প্রজ্জ্বলিত করে, যা আল্লাহ তা'আলা আসমান-যমীন সৃষ্টির সময় সৃষ্টি করে কাফিরদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
ইবনে রজব রহ. বলেন- অধিকাংশ মুফাসসিরগণ পাথর বলতে গন্ধক পাথরকে বুঝিয়েছেন যা আগুনকে প্রজ্জ্বলিত করে এবং বলা হয়ে থাকে এই আগুনে পাঁচ প্রকার শাস্তি বিদ্যমান।
১. দ্রুত আগুন প্রজ্জ্বলিতকরণ।
২. অতি দুর্গন্ধময়।
৩. অতিরিক্ত ধোঁয়া নিসৃতকরণ
৪. কঠিনভাবে শরীরের সাথে আগুনের সংযুক্তকরণ।
৫. তাপের প্রখরতা। (জাহান্নামের আগুন-০৯ মুফতী সালাহুদ্দীন মাসউদ) মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে যে সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে মা'বুদ হিসেবে গ্রহণ করেছে, জাহান্নামের জ্বালানী হিসাবে মানুষ ও পাথরকে ঐ সকল মা'বুদদের সাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- 'তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর সেগুলিতো জাহান্নামের ইন্ধন, তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে। যদি তারা ইলাহ হতো তবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করত না, তাদের সকলেই তাতে (জাহান্নামে) স্থায়ী হবে'। (সূরা আম্বিয়া-৯৮-৯৯)
আল্লাহ তা'আলা আমাদের জাহান্নামের ইন্ধন হওয়া থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00