📄 জাহান্নামের আযাবের প্রহরীর সংখ্যা
দোযখীদের আযাবের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে ঊনিশজন ফেরেশতা। তারা ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর পাপীদের বিভিন্ন প্রকার আযাবের দায়িত্বে নিয়োজিত। অন্যথায়, দোযখীদের আযাবের জন্য একজন মাত্র ফেরেশতাই যথেষ্ট। কারণ তারা প্রত্যেকেই এতবড় মজবুত ও শক্তিশালী যে, মানব-দানবের শক্তি তাদের কাছে কিছুই নয়।
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেনঃ 'আমি তাদেরকে নিক্ষেপ করব সাকার-এ। তুমি কি জান সাকার কী? উহা তাদেরকে জীবিত অবস্থায় রাখবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দিবে না। ইহা শরীরের চামড়া পুড়ে ফেলবে। সাকার-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে ঊনিশজন প্রহরী'। (সূরা মুদ্দাছছির: ২৬-৩০)
আয়াতে উল্লেখিত সংখ্যা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা কাফিরদেরকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। কারণ, তারা ধারণা করে যে, এই অল্প সংখ্যক ফেরেশতার শক্তির সাথে বিপুল পরিমাণ জাহান্নামীদের বিজয় লাভ সম্ভব। কিন্তু তারা জানেনা যে, একজন ফেরেশতার শক্তি দুনিয়ার সকল মানুষের চেয়েও বেশি।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- 'আমি ফেরেশতাগণকে জাহান্নামের প্রহরী নিযুক্ত করেছি, কাফিরদের পরীক্ষা স্বরূপই আমি তাদের এই সংখ্যা-উল্লেখ করেছি যাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে আর বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বৃদ্ধি হয় এবং বিশ্বাসীরা ও কিতাবীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। (সূরা মুদ্দাছছির-৩১)
📄 জাহান্নামের প্রশস্ততা ও গভীরতা
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর অবাধ্য বান্দাদের শাস্তি দেয়ার জন্য জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন। যার প্রশস্ততা বিশাল এবং গভীরতা অনেক, এর প্রমাণ নিম্নরূপঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনি জাহান্নামের গভীরতা সম্বন্ধে বলেছেন, যদি একটি পাথর পুলসিরাত হতে জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়, তাহলে উক্ত পাথর জাহান্নামের তলদেশে পৌঁছতে ৭০ বৎসর সময় লাগবে。
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, আমরা একদিন হুযুর (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় আমরা কোন একটি জিনিস পতিত হবার বিকট শব্দ শুনতে পাইলাম। তখন হুযুর (সা.) আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা জান কি? ইহা কিসের শব্দ? আমরা উত্তর করলাম, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। তখন হুযুর (সা.) উত্তর করলেন, আল্লাহ তা'আলা একটি পাথর জাহান্নামের মুখ হতে নিচের দিকে ছুঁড়ে দিলেন, অতঃপর উহা ক্রমাগত ৭০ বৎসর যাবৎ নীচের দিকে ধাবিত হওয়ার পর জাহান্নামের তলদেশে পৌঁছে। ইহা জাহান্নামের তলদেশে ধাক্কা খাওয়া সেই পাথরের শব্দ। (আততারগীব-৪/৮৬০)
📄 জাহান্নামের আগুন
জাহান্নামীদের আযাবের অন্যতম উপকরণ আগুন। দুনিয়ার আগুনের সাথে এর কোন তুলনা হয় না। যদিও দুনিয়ার বা সাধারণ আগুনের দাহ্য বা পোড়ানো ক্ষমতা যথেষ্ট আছে এবং তা সম্পূর্ণ দাহ্য ক্ষমতা সম্পন্ন, তবুও জাহান্নামের আগুনের তুলনায় তা সামান্যই। কারণ মহান আল্লাহ তা'আলা উহার তীব্রতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে রেখেছেন। আর তা এজন্যই যে, দোযখীদের পোড়ানোর ব্যাপারে তা যেন সফলতার সাথে কাজ করতে পারে।
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন- জাহান্নামের অগ্নিকে হাজার বৎসর উত্তপ্ত করার পর উহা লোহিত বর্ণ ধারণ করে দেখতে উহা কটা লাল বর্ণের হয়। অতঃপর উক্ত অগ্নিকে আরও তীব্রতর অধিক দাহিক ক্ষমতা সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে উক্ত আগুনকে আরও এক হাজার বৎসর কাল উত্তপ্ত করা হয়। ফলে তা অধিক তীব্রতর হয়ে শ্বেত-বর্ণ ধারণ করে। অতঃপর এই তীব্র দাহিকা সম্পন্ন আগুনকে সর্বাধিক তীব্র করার উদ্দেশ্যে পুনঃ এক হাজার বৎসর কাল তেজ করা হয়, ফলে উহা ঘোর কৃষ্ণ বর্ণ ধারণ করে এবং সর্বাধিক তেজোপূর্ণ দাহিকা স্বভাব সম্পন্ন হয়। বর্তমানে জাহান্নামের আগুনের রং ঘোর কৃষ্ণ বর্ণের এবং জাহান্নামও ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন কূপের ন্যায় রয়েছে। (আততারগীব ওয়াততারহীব ৪/৮৫৮)
'রাসূলে কারীম (সা.) অন্যত্র ইরশাদ করেন- সাহাবাগণ! তোমাদের এ দুনিয়ার আগুন হতে জাহান্নামের আগুন সত্তর গুণ অধিক দাহিকা ক্ষমতা সম্পন্ন। সাহাবাগণ হুজুরের পবিত্র জবানে ইহা শুনে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের এ দুনিয়ার আগুনই তো পোড়ানোর জন্য যথেষ্ট- এই দাহিকা সম্পন্ন আগুনইতো পোড়াইয়া ছারখার করে দিতে পারে'। উত্তরে হযরত রাসূলে কারীম (সা.) বললেন: বটে। তবুও জাহান্নামীদের চরম আযাব দেয়ার উদ্দেশ্যে উহাকে দুনিয়ার আগুন হতে ঊনসত্তর গুণ অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। (বুখারী শরীফ)
📄 জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আমি তাকে নিক্ষেপ করব সাকার-এ, তুমি কি জান সাকার কি? উহা তাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দেবে না, ইহা তো শরীরের চামড়া পুড়ে ফেলবে।" (সূরা মুদ্দাছছির: ২৬-২৯)
অতএব, জেনে রাখ! জাহান্নামের আগুন জাহান্নামীদের সবকিছু খেয়ে ধ্বংস করে ফেলবে। তারা সেখানে না পারবে মরতে আর না পারবে বাঁচতে। জাহান্নামীদের চামড়া-মাংস পুড়িয়ে হাড্ডি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং পেটের ভেতরের সবকিছু বের করে ফেলবে।
জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, 'তোমাদের আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র'। (বুখারী শরীফ হাদীস নং-৩২৫৫)
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আর জাহান্নামের আগুনের তাপ কখনো প্রশমিত হবে না। অতঃপর তোমরা আস্বাদ গ্রহণ কর, আমি তো তোমাদের শাস্তিই শুধু বৃদ্ধি করব।” (সূরা নাবা : ৩০)
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে- “যখনই উহা (জাহান্নামের আগুন) স্তিমিত হবে আমি তখনই তাদের জন্য আগুনের তাপ বৃদ্ধি করে দেব যার কারণে জাহান্নামীরা কখনো সামান্যটুকু বিশ্রামের অবকাশ পাবে না এবং তাদের থেকে শাস্তির কিছুই কমানো হবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল: ৯৭)