📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 স্বামীর খেদমতে নিয়োজিত আনুগত্যশীল মহিলাদের ফজিলত

📄 স্বামীর খেদমতে নিয়োজিত আনুগত্যশীল মহিলাদের ফজিলত


হযরত আসমা বিনতে ইয়াযীদ আনসারিয়‍্যাহ (রা.) হতে বর্ণিত: নবীজি (সা.) সাহাবীগণের মাঝে ছিলেন এমতাবস্থায় তিনি হুযুরের খেদমতে উপস্থিত হলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা-বাবা আপনার উপর উৎসর্গ হোক। আমি মুসলিম মহিলাদের প্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাছে এসেছি। আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয়ই আপনাকে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই নবী হিসেবে প্রেরণ করেছে। তাই আমরা নারী জাতি আপনার উপর এবং আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। কিন্তু আমরা নারীরা গৃহে আবদ্ধ থাকি। পর্দার সাথে গৃহে অবস্থান করি স্বামীর গৃহে বসবাস করি। সব প্রয়োজন পূরণ করি। আপনাদের সন্তান পেটে ধারণ করি। তা সত্ত্বেও আপনারা পুরুষরা আমাদের চেয়ে সওয়াবের কাজে অনেক অগ্রগামী। যেমন, আপনারা জুমার নামাজে শরীক হন, ফরজ নামাযের জামাতে অংশগ্রহণ করেন, অসুস্থ ব্যক্তিদের খোঁজ-খবর নেন, জানাযার নামায আদায় করেন, একের পর এক হজ্ব করতে থাকেন। উল্লেখিত সকল আমল থেকে আরো উত্তম জিহাদ (তাতে ও আপনারা শরীক হন) যখন আপনারা পুরুষরা হজ্ব অথবা উমরা আদায় করেন কিংবা জিহাদে অংশগ্রহণ করেন, তখন আমরা আপনাদের ধন-সম্পত্তির হিফাযত করি, আপনাদের জন্য পোশাক তৈরি করি, আপনাদের সন্তান লালন-পালন করি। ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা আপনাদের এ কাজগুলো করে দেয়ার পর আমরা কি আপনাদের সে নেক কাজের সাওয়াবে অংশীদার হব না? রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বক্তব্য শুনে উপস্থিত সাহাবীগণের দিকে মুখ ফিরিয়ে ইরশাদ করলেন, তোমরা কি এ মহিলার তুলনায় ধর্মের ব্যাপারে উত্তম প্রশ্নকারিনী কোন মহিলার কথা শুনেছ? সমস্বরে সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)! আমাদের কল্পনাও ছিল না যে, কোন মহিলার এমন প্রশ্নের বুঝ আসবে। এরপর নবী কারীম (সা.) হযরত আসমা (রাযি.)-এর প্রতি লক্ষ্য করে ইরশাদ করলেন, তুমি যাও হে রমণী! এবং যেসব মহিলারা তোমাকে প্রতিনিধিস্বরূপ প্রেরণ করেছে, তাদের জানিয়ে দাও যে, নারীরা স্বামীর সাথে সদ্ব্যবহার করা, স্বামীর সন্তুষ্টিঅন্বেষণ করা এবং তার কথার উপর আমল করা ইত্যাদি দ্বারা পুরুষদের সকল নেক ও ভাল কাজের সমপরিমাণ সাওয়াবের অধিকারী হবে। হযরত আসমা (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর এ অমর বাণী শ্রবণ করে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহর তাকবীর-তাহলীল পড়তে পড়তে প্রত্যাবর্তন করলেন。
(দুররে মানসূর-২/১৫২, কানযুল উম্মাল-১৬/৪১১)
হাদীস : হযরত আনাস (রাযি.) বলেন, কতিপয় মহিলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষরা তো জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহর মাধ্যমে নারীদের থেকে অগ্রগামী হয়ে গেল। আমাদের জন্য কি কোন আমল এমন রয়েছে, যার দ্বারা আমরা সাওয়াবের দিক দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের সমান হতে পারি? নবী কারীম (সা.) উত্তর দিলেন, তোমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন ঘরে কাজকর্ম করা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীদের আমলের সমান মর্যাদা রাখে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/৫৫১)
হাদীস : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওযাহী (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সমীপে এক সাহাবী উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যখন ঘরে ফিরি তখন আমার স্ত্রী বলে, শুভেচ্ছা স্বাগতম, আমার গৃহকর্তার আগমন। আর যখন আমাকে বিষণ্ণ দেখে তখন বলে, দুনিয়ার চিন্তা কিছুইনা। আখেরাত তো আপনার জন্য আছেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তুমি তাকে সুসংবাদ দাও যে, সে আল্লাহর পথে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত এবং সে মুজাহিদদের অর্ধেক সাওয়াবের অধিকারিনী। (কানযুল উম্মাল-১৬/৪১০)
হাদীস : হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বর্ণনা করেন, হুযুর (সা.) ইরশাদ করেন, সে মহিলার উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হোক, যে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে এবং নিজের স্বামীকেও (তাহাজ্জুদের জন্যে) উঠায়। যদি স্বামী না বলে অর্থাৎ না উঠতে চায় তাহলে চেহারায় পানি ছিটায়। (মুসনাদে আহমদ, কানযুল উম্মাল-১৬/৪০৯)।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 নারীরা জাহান্নাম থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারে

📄 নারীরা জাহান্নাম থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারে


এখানে প্রশ্ন হতে পারে, জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় কি? উত্তর হল এই যে, জনাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) ফরমাইয়াছেন: يَامَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ . হে নারী সমাজ : তোমরা ছাদকাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। (বুখারী)
নবী কারীম (সা.) যখন মে'রাজে তাশরিফ নিয়েছিলেন তখন জান্নাত-জাহান্নাম দেখেছিলেন, তিনি জাহান্নামে অধিকাংশ নারীকে দেখেছিলেন, এই জন্যই নারী সমাজকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য সদকা দেওয়ার আদেশ করেছিলেন। কেননা সদকা গুনাহ থেকে পবিত্র এবং আল্লাহর আযাব থেকে মুক্ত থাকার কারণ হয়।
আল্লাহ তা'আলার ইরশাদ :
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا .
আপনি তাদের মালামাল থেকে সদকা গ্রহণ করুন যাতে আপনি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পারেন এর মাধ্যমে। (সূরা তাওবা-১০৩)
সদকা আল্লাহ তা'আলার আযাবকে বাধাদান করে। নারী যদি নিজের দারিদ্রতার কারণে সদকা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির এবং এস্তেগফার করবে।
নারীর জন্য উত্তম হল, সে শয়তানের সহযোগি হবে না। আল্লাহর আনুগত্যকে আবশ্যকীয় করে নিবে এবং খায়েশ (প্রবৃত্তি) থেকে বেঁচে থাকবে। বর্ণিত আছে যে, কিয়ামতের পূর্বে এমন কিছু কাজ প্রকাশ পাবে, যেগুলো কিয়ামতের নিদর্শনের মধ্যে। সেগুলো হলো এই যে, ইলম উঠে যাওয়া, মূর্খতা প্রকাশ পাওয়া, যিনা ব্যাপক হয়ে যাওয়া, মদপান বেড়ে যাওয়া, মহিলাদের আধিক্যতা এবং পুরুষের স্বল্পতা।
প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, আমি আপনাদেরকে একটি হাদীস শুনাব, যা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছি, আমার মৃত্যুর পর আর কেউ এ হাদীসে আপনাদের শুনাবে না।
নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, ইলম উঠে যাওয়া, যিনা ব্যাপক হওয়া, প্রকাশ্যে মদ পান করা, নারী জাতির আধিক্য এবং পুরুষ জাতির এই পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া যে, পঞ্চাশজন নারীর জন্য একজন পুরুষ জিম্মাদার হওয়া কিয়ামতের নিদর্শন। (তিরমিযী-হাদীস-২১৩১)
সুতরাং হযরত আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলেন, নেক লোক আমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকাসত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হব? উত্তরে নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, نعم اذكثر الخبث “জ্বী-যখন যিনা বৃদ্ধি পাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00