📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 মুশরিকের ঠিকানা জাহান্নাম

📄 মুশরিকের ঠিকানা জাহান্নাম


মুশরিক কখনো জান্নাতে যাবে না। মুশরিকের ঠিকানা জাহান্নাম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْويهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ -
“কেউ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম। যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই। (সূরা মায়িদা: ৭২)
শিরক সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোর সাবধান বাণী উচ্চারণ করেছেন তিনি ইরশাদ করেনঃ
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتَ .
“যদি তোমাকে হত্যা করা হয় এবং জ্বালিয়েও দেয়া হয় তারপরও আল্লাহর সাথে তুমি কাউকে শরীক করবে না।” (মেশকাত ১৮)
শিরক এমন বড় গুনাহ যা শিরককারীকে সর্বদার জন্য জাহান্নামী বানিয়ে দেয়। এই জন্য আল্লাহ তা'আলার সিদ্ধান্ত হলো যে, তিনি শিরককে কখনো ক্ষমা করবেন না। সুতরাং নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় ইন্তেকাল করল যে, আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কোন জিনিসকে শরীক করত, তাহলে সে জাহান্নামে যাবে। (সহীহ বুখারী)
যখনই রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তখন তিনি চারটা বড় বড় গুনাহের কথা উল্লেখ করেছেন, তন্মধ্যে একটি হলো আল্লাহর সাথে কাহাকেও শরীক করা। কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, নাহক হত্যা করা, মিথ্যা সাক্ষ্যা দেওয়া। (বুখারী) সুতরাং যে নারী আল্লাহর সঙ্গে কাহাকেও শরীক করবে সে কখনো জান্নাতে যাবে না তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
নিফাক বা কপটতা ও আল্লাহর সাথে শিরক করার মত, মুনাফিক এবং মুশরিক দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। হুজুর (সা.) ইরশাদ করেছেন,
মুনাফিকের আলামত তিনটি। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে মনে মনে সেটা ভঙ্গ করার নিয়ত থাকে, আর তার কাছে আমানত রাখা হলে সে আমানতে খেয়ানত করে। (সহীহ মুসলিম)
এ হাদীসে বোঝানো হয়েছে মুনাফিক ওয়াদা করে, তখন মুখে তো ওয়াদা করে কিন্তু তার অন্তরে থাকে যে সেটা সে করবে না। যেমন একজনের সাথে সে কোন একটা বিষয়ে চুক্তি করল। এই চুক্তির অর্থ হল সে প্রকাশ করল যে, আমি এই চুক্তি অনুযায়ী চলব। কিন্তু তার মনে মনে থাকল যে, আমি এটা সাময়িক পরিস্থিতি ট্যাকেল দেয়ার জন্য করছি, আসলে আমি কি করব সেটা আমার মনে মনে আছে। এটা প্রতারণা, এটা মুনাফিকী। এমনিভাবে যখন তার কাছে আমানত রাখা হবে, তখন মু'মিন হিসাবে এটাইতো প্রকাশ্য ব্যাপার যে, সে খেয়ানত করবে না। আমানতের অর্থ ব্যাপক, চাই তা মালের ক্ষেত্রে হউক অথবা কাহারো কোনো কথা ইত্যাদি জিনিসের হউক। মাল নষ্ট করলে যেমন খেয়ানতকারী হবে তেমনিভাবে গোপন কথা প্রকাশকারীও খেয়ানতকারী সাব্যস্ত হবে।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 তাওহীদ-ই মুক্তির একমাত্র পথ

📄 তাওহীদ-ই মুক্তির একমাত্র পথ


কোন নারী যদি একত্ববাদে বিশ্বাসী না হন তাহলে তার সৌন্দর্য, গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য, সামাজিক প্রতিপত্তির পুরোটাই বৃথা। যে নারী আল্লাহে বিশ্বাসী, রাসূল (সা.)-এর একনিষ্ট অনুসারী প্রকৃত অর্থেই সেই সর্বজন আদরনীয়।
বিপরীতে যে নারী আল্লাহকে বিশ্বাস করে না, রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করে না, পথের ধূলোও তার চেয়ে মূল্যবান। এমন নারী যদি আকাশের নক্ষত্র খচিত হার পরে আসে, মাথায় বিরল মুক্তোশোভিত মুকুট ধারণ করে, তার কপালে যদি সূর্যের উজ্জ্বল আলো জ্বলজ্বল করে, তবুও সে মূল্যহীন। কেননা ইসলামকে অস্বীকার করার মাধ্যমে সে তার সবটুকু অর্জন ম্লান করে দিয়েছে। আভিজাত্যের ওপর সে জল ঢেলে দিয়েছে। কল্যাণের কোনো দুয়ার আজ তার জন্যে উন্মুক্ত নেই।
বাস্তবতা হলো, সত্যের ওপর থেকে যে ব্যক্তিই তার মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জীবনের কানা-কড়ি মূল্যও থাকবে না। কারণ, সে ঈমান ত্যাগ করতে পারে সে লজ্জাও ছেড়ে দিতে পারবে। লজ্জাহীন নারীর কীইবা মূল্য?!
নারীর সৌভাগ্যের প্রথম শর্ত হলো, তাকে মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে হবে। তার জীবনের আদর্শ হতে হবে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সে তাঁকে ভালো বাসবে। তাঁরই অনুসরণ করবে। তাঁর জীবনী পাঠ করবে। তাঁর আদেশগুলো মেনে চলবে। নিষেধগুলো বর্জন করবে। তাঁর সুন্নতের সঙ্গে জীবন রাঙিয়ে তুলবে। যদি নারী এই শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে যেনো তার দুর্ভাগ্যের জন্য অন্য কাউকে কাঠগড়ায় না তোলে। সাফল্যের রাজপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ সে নিজেই।
আল্লাহর অবিশ্বাসী নারী প্রতি মুহূর্তে পতনের দিকে ছুটছে। সে ধ্বংসের গহ্বরের তলদেশে নেমে যাচ্ছে। কারণ, সে মহা পরাক্রমশালী আল্লাহকে অস্বীকার করেছে। কাজেই সে বসত করছে দুর্ভাগ্য ও ব্যর্থতার সঙ্গে। হতে পারে, সে আজ সুরম্য অট্টালিকায় বসবাস করছে। রেশম কোমল বিছানা পাতা পালঙ্কে শরীর এলিয়ে সুখনিদ্রায় বিভোর। তার সর্বাঙ্গে জ্বলজ্বল করছে অঢেল অর্থের বিনিময়ে কেনা চোখধাঁধানো অলঙ্কার। কিন্তু তার অন্তর নূরশূন্য। সেখানে ঈমানের আলো নেই। প্রকৃত শান্তির পরশ, সে কোনোদিন দেখেওনি। চোখ মুদলেই সে অনুভব করে, কোনো অশুভ শক্তি তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করছে। মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে তার চোখ কোনো দিন স্বপ্ন দেখেনি।
তাকে প্রতিনিয়ত বসবাস করতে হচ্ছে অন্ধকার, হতাশা ও পেরেশানির সংসারে। অন্ধকার ঘরের হে নারী! যদি সৌভাগ্যের খোঁজ পেতে চান তাহলে আসুন একটি বাক্যের কাছে। বাক্যের গভীরে নেমে গ্রহণ করো, আপনার সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। পড়ুন- لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00