📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 পর্দাহীনতার পরিণতি

📄 পর্দাহীনতার পরিণতি


অবশ্য পাশ্চাত্যের জাতিসমূহের বল্লাহীন জীবন ধারাকেই যদি কেউ ‘প্রগতি’ বলে মনে করেন তাহলে তার সে প্রগতির পথে পর্দা নিঃসন্দেহে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। কেননা পর্দার বিধান মেনে চললে পাশ্চাত্য কায়দার প্রগতি অর্জন করা আদৌ সম্ভব নয়। কিন্তু আপনারা জেনে রাখুন, এ তথাকথিত প্রগতির ফলেই পাশ্চাত্যবাসীদের নৈতিক ও পারিবারিক জীবন আজ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সেখানে নারীকে তার নিজস্ব কর্মক্ষেত্র থেকে টেনে এনে পুরুষের কর্ম ক্ষেত্রে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে নারীও তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্যকে বিসর্জন দিয়ে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। এর ফলে অফিস আদালত ও কল-কারখানর কাজে কিছুটা উন্নতি সাধিত হয়েছে বটে। কিন্তু সেই সঙ্গে সেখানকার পারিবারিক জীবন থেকেও শান্তি শৃংখলা বিদায় নিয়েছে। তার কারণ, যে সকল নারীকে অর্থোপার্জনের জন্যে বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াতে হয় তারা কখনো পারিবারিক শৃংখলা বিধানের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেনা, আর তা সম্ভবও নয়।
এজন্যই আজ পাশ্চাত্যে অধিবাসীরা পারিবারিক জীবনের চাইতে হোটেল, রেস্তোরাও ক্লাবের জীবনেই বেশী অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে বহু মানব সন্তান ক্লাব রেস্তোরাতেই জন্মগ্রহণ করে, আর ক্লাব-রেস্তোরাতেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। মাতা-পিতার স্নেহ মমতা তারা কোনদিনও উপভোগ করতে পারে না। অপরদিকে দাম্পত্য অশান্তি, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং যৌন অনাচার সেখানে এরূপ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে যে, আজ সেখানকার মনীষীরাই তাদের অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আঁতকে উঠছেন।
মোদ্দাকথা, পশ্চিমা সভ্যতা বাহ্যিক চাকচিক্যের পশ্চাতে মানুষের জীবন ধারাকে এমনি এক পর্যায়ে নিয়ে পৌঁছিয়েছে, যেখানে মানবতার ভবিষ্যত সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। এরূপ বল্লাহীন ও উচ্ছৃখল জীবন ধারাকে যদি কেউ প্রজাতির পরিচায়ক বলে মনে করেন, তবে তিনি তা স্বাচ্ছন্দেই গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু ইসলাম এরূপ অভিশপ্ত জীবনকে আদৌ সমর্থন করে না।
প্রিয় বোনেরা!
আপনারা যে প্রচলিত ফ্যাশনের পথে পা রেখেছেন, এটা কিন্তু একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম নারীদের পথ হতে পারে না। বিজাতীয় নারীদের ফ্যাশনের স্রোতে নিজেদের গা এগিয়ে দেওয়া ও তাদের তালে মত্ত হওয়া কোন মুসলিম মহিলাদের আদর্শ হতে পারে না। মুসলিম মা-বোনদের চাল-চলন, আচার-আচরণ ও সাজ-সজ্জা হতে হবে ইসলামী বিধানের অনুকূলে, আল্লাহ পাক ও প্রিয় রাসূল (সা.) এর নির্দেশিত বিধানের ভিতরে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00