📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 অভিযোগকারী মহিলা

📄 অভিযোগকারী মহিলা


নিম্নের হাদীস দ্বারা এই প্রকার মহিলাই উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “হে নারী সমাজ! তোমরা ছাদকাহ করতে থাক। যদিও তোমাদের অলঙ্কারাদী দ্বারা হউক না কেন, কেননা তোমরাই অধিক জাহান্নামবাসী, অবশ্যই তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। (মুসতাদরাক)
প্রতীয়মান হলো যে, ঐ শেকায়েতকারী মহিলা যে তার স্বামীর বেশি বেশি শেকায়েত করে, সে জাহান্নামবাসী নারীর একটি নমুনা। ইতিহাস এবং সীরাতের কিতাবে নবীদের জীবনীতে অভিযোগকারী এক নারীর নমুনা পাওয়া যায়। আর তা হলো হযরত ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহীম (আ.) এর স্ত্রীর উদাহরণ, ঐতিহাসিক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, হযরত ইসমাঈল (আ.) যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হন এবং জারহাম গোত্র থেকে সাহিত্য আরবি ভাষা শিখেন, তখন তিনি ঐ গোত্রের একজন মহিলা আম্মারা বিনতে সা'আদ ইবনে উসামা ইবনে আকীল আমালিকীকে বিবাহ করেন, তিনার মাতা হযরত হাজেরা (রা.) এর মৃত্যু হয়েছিল। কোন একদিনে হযরত ইব্রাহীম (আ.) আপন সন্তানের সাক্ষাতে এলে ঘরে সন্তানের সাক্ষাত মিলল না, তবে পুত্রবধূর সাক্ষাত পেল, যে হযরত ইব্রাহীম (আ.) কে চিনত না, হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের অবস্থা কী? ঐ মহিলা সে তো জানতো না যে, প্রশ্নকারী তারই শ্বশুর। ফলে উত্তর দিলো যে, আমাদের অবস্থা ভাল না, আমরা বড় দারিদ্রতা এবং মন্দ অবস্থায় আছি। মূলত হযরত ইসমাঈল (আ.) এর স্ত্রী হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর কাছে দারিদ্র অবস্থা এবং মন্দ অবস্থার অভিযোগ করেন, আর নিজেদের চলমান অবস্থার উপর আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করেন নাই, এজন্য সম্মানিত পিতা তাকে বললেন যে, যখন তোমার স্বামী ফিরবে তখন প্রথমে আমার সালাম বলবে, অতঃপর দরজার চৌকাট পরিবর্তনের কথা বলবে, অভিযোগকারী মহিলা মনে করলো, আলাপকারী ব্যক্তি কোন একজন মুরব্বী মানুষ, সম্ভবত একথা বলতে চাচ্ছে যে, এখন আমার যিন্দেগীর অবস্থা পরিবর্তনশীল, ভাল অবস্থা আগত।
সুতরাং যখন তার স্বামী আগমন করল, স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল “তোমার নিকট কোন লোক আসছিল কী? বিবি উত্তর দিল, হ্যাঁ একজন অতি বৃদ্ধ লোক এসেছিল, সে আপনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমি তাকে বলে দিয়েছি এবং সে আমাকে আমাদের জীবন যাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি তাকে অত্যন্ত খারাপ অবস্থা বলে দিয়েছি। স্বামী জিজ্ঞেস করল, উনি তোমাকে কোন বিষয়ের অছিয়ত বা নছিহত করে ছিল কি? মহিলা উত্তর দিল হ্যাঁ, তিনি আমাকে আদেশ করেছিলেন, আমি যাতে আপনাকে সালাম পৌঁছাই এবং তিনি আপনাকে একথা বলার জন্য বলেছেন যে, আপনার দরজার চৌকাট পরিবর্তন করেন।"
আল্লাহর নবী হযরত ইসমাঈল (আ.) বললেন, তিনি আমার পিতা ছিলেন, তিনি আমাকে তোমার থেকে পৃথকতার আদেশ করেছেন, সুতরাং তুমি বাপের বাড়ি চলে যাও। আল্লাহর নবী তাকে তালাক দিলেন এবং অন্য মহিলাকে বিবাহ করে নিলেন, হযরত ইসমাঈল (আ.) জারহাম গোত্রের সায়্যিদা বিনতে মাযায ইবনে আমর জারহামীকে বিবাহ করলেন। এই বিবি বড় শোকর গুযার এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসাকারীনি ছিলেন।
একদিন হযরত ইসমাঈল (আ.) এর সম্মানিত পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) ছেলের সাক্ষাতে আসল, কিন্তু ছেলেকে ঘরে পেলেন না, তার বিবির কাছে স্বামীর সম্পর্কে যানতে চাইলে স্ত্রী বলল, তিনি তো রিযিকের অন্বেষণে বাহিরে গেছেন, হযরত ইব্রাহীম (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেমন আছ? শোকর গুযার মহিলা উত্তরে বললেন “আলহামদুলিল্লাহ” আমরা অনেক ভাল আছি এবং আনন্দে আছি, আল্লাহ তা'আলার অনেক দয়া এবং তাঁরই মেহেরবাণীতে। পিতা জিজ্ঞাসা করলেন তোমাদের খাদ্য কি? শোকর গুযার মহিলা উত্তরে বললেন, গোস্ত। পিতা জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা পান কর কি? সে উত্তর দিল পানি। সুতরাং হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাকে বললেন : আল্লাহ তা'আলা তোমাদের গোস্ত এবং পানির মধ্যে বরকত দান করুক। যখন তোমার স্বামী আসবে তাকে আমার সালাম বলবে এবং তাকে আদেশ করবে সে যাতে তার দরজার চৌকাটকে অটল রাখে।
শোকর গুযার মহিলার স্বামী হযরত ইসমাঈল (আ.) ঘরে ফিরলেন এবং স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন কোন লোক এসেছিল কি? বিবি বললেন হ্যাঁ একজন সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট বৃদ্ধ লোক এসেছিল, আপনাকে তালাশ করেছিল এবং তিনি আমাদের জীবন-যাপন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি তার প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম “আলহামদুলিল্লাহ” আমরা ভালো আছি। স্বামী জানতে চাইলেন, তোমাকে কি তিনি কোন বিষয়ের অছিয়ত করেছিলেন? বিবি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আপনাকে সালাম বলেছেন এবং আপনাকে আদেশ করেছেন, আপনি যাতে আপনার দরজার চৌকাট অটল রাখেন।
হযরত ইসমাঈল (আ.) বললেন, তিনি মূলত আমার পিতা ছিলেন, আর তুমি হলে ঐ দরজার চৌকাট, তিনি আমাকে এ আদেশ করেছেন, আমি যাতে তোমাকে আমার কাছে রাখি। অতঃপর হযরত ইসমাঈল (আ.)কে আল্লাহ তা'আলা ঐ শোকরগুযার বিবি থেকে বারোটা বুযুর্গ সন্তান দান করেছেন। (কাছাছুল আম্বিয়া)
এরূপ নিন্দুক মহিলা সব যুগে থাকে, যারা তাদের পালনকর্তার শোকর আদায় করে না, সদা তাদের জিহ্বায় অভিযোগ থাকে, অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাকে, স্বামীর সাথে বেশি বেশি ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, তাদের জীবন জাহান্নামে পরিণত করে দেয়, আপন ঘরকে বিরান করে ছাড়ে। এরূপ মহিলাকে তালাক দেওয়াই অতি উত্তম, যেমন আপনারা জানতে পেরেছেন পিতা ছেলেকে এ বিষয়ের অছিয়ত করেছিলেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারী

📄 পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারী


যে মহিলা উলকি আঁকে, যে ভ্রমর চুল উপড়ায় এবং আল্লাহর সুন্দর সৃষ্টিকে বিকৃত করে।
বর্তমান সমাজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা তথা বৈষয়িক সর্বদিক থেকে উন্নত, অথচ এ সমাজের মানুষের কাজ-কর্ম ও আচরণের দিকে দৃষ্টি ফেরালে দেখা যায় তারা যেন আদিকালের বর্বর ও অসভ্য সমাজের দিকে ক্রমশ ফিরে যেতে চলেছে, তখনকার মানুষ উলঙ্গ থাকত, এর কারণ হলো তারা কাপড় তৈরির কৌশল জানত না, কিন্তু বর্তমানে পরিধেয় বস্ত্র ও কাপড়ের কোন অভাব নেই, বিভিন্ন বস্ত্রকালে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে, তবুও কেন অধুনা সমাজের এ উলঙ্গপনা?
নারীদের পোশাক দেখলে মনে হয় না যে, তারা একজন সম্মানিতা নারী, তাদের পোশাক যেন পর্যায়ক্রমে পুরুষের পোশাক অপেক্ষা খোলা হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে দেখা যায়, নারীরা প্যান্ট, শার্ট, পাতলা কাপড়, শর্ট পোশাক প্রভৃতি পরিধান করছে, মাথার চুলগুলো পুরুষের চাইতে ছোট করে রাখছে, চুলে বিচিত্র কালার করছে, অপরদিকে পুরুষেরা নারী জাতির মত পোশাক পরে চুল রেখে নারী হতে চলছে। এ যেন খোদায়ী বিধানের বিরুদ্ধে অঘোষিত এক যুদ্ধের পদধ্বনি।
নবী কারীম (সা.) আল্লাহ তায়ালার অভিশম্পাত সে সকল পুরুষের উপর, যারা মহিলাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং সমভাবে সে সব মহিলাদের উপরও আল্লাহর অভিসম্পাত প্রযোজ্য, যারা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করে। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।
লানত বা অভিসম্পাত অর্থ হলো, আল্লাহর উন্মুক্ত রহমত এবং জান্নাত হতে বঞ্চিত হওয়া। আজ ভাবতে অবাক লাগে যে, কত দ্রুত বাংলাদেশের নারীরা পর্দাপ্রথা বিসর্জন দিয়ে প্রগতিশীলা হয়ে উঠেছে, ওড়না এখন প্রায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবার পথে, আর যদিও বা ওড়না পরিধান করা হয়, তবে তার ব্যবহার পদ্ধতি সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে গেছে, কারণ এখন ওড়নাটাকে কেবল গলায় ঝুলিয়ে তার পা'দুটি পিঠের ওপর ছড়িয়ে দিয়ে বক্ষটা একেবারে উন্মুক্ত করে রাখে, এটাই যেন আধুনিক ফ্যাশন ও এক অভিনব স্টাইল। এদের বেহায়াপনার মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য হলো- পাতলা কাপড়ের আটসাট সালোয়ার-কামিজ, টাইট জিন্সের 'প্যান্ট, হাতাকাটা গেঞ্জি, অতি পাতলা কাপড়ের ব্লাউজ, বুকের ওপর ভি-কাট, ইউ-কাট সম্বলিত ব্লাউজ, পিঠের কাছে ছড়ানো ইউ-কার্ট সম্বলিত ব্লাউজ, ব্লাউজের দৈর্ঘ্য ছোট করে উদর প্রদর্শন, পেটিকোটের সম্মুখ ভাগ নাভীর নীচে নামিয়ে আনা ইত্যাদি।
যেসব নারী অভিসম্পাতের উপযুক্ত তাদের মধ্যে ঐ নারীও গণ্য হবে যাকে তাদের স্বামী সহবাসের জন্য ডাকে কিন্তু সে অস্বীকার করে এবং বলে আমি ঋতুবর্তী অবস্থায় আছি। (যয়ীফুল জামে)
এমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা অভিসম্পাত করেন ঐ সমস্ত মহিলাদেরকে, যারা উলকি আঁকে, সে নিজের আঁকোক বা অন্যের দ্বারা আঁকাক। উলকি বলা হয় সৌন্দর্যের জন্য শরীরের ভিতর রং ঢালা, বিভিন্ন জিনিস আঁকা। অনুরূপ ঐ সমস্ত মহিলাদের উপর অভিসম্পাত যারা ফ্যাশনের জন্য ভ্রমর চুল উপড়ায়।
আমাদের নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, যে মহিলা উলকি আঁকে ও উলকি আঁকায়, নিজের ভ্রমর চুল উপড়ায় বা অন্য নারীর ভ্রমর চুল উপড়ায়, সৌন্দর্যের জন্য দাঁতকে চিকন করে এবং আল্লাহর সুন্দর সৃষ্টিকে বিকৃত করে তাদের উপর আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। (বুখারী)
অনুরূপভাবে মহিলাদের মাথার চুল কাটা বা ফ্যাশনের জন্য চুলকে ছোট ছোট করা, ডানে বামে সামনে-পেছনে যে কোন দিক থেকে হোক না কেন, তা পুরুষের সঙ্গে সাদৃশ্য হওয়ার কারণে নাজায়েয ও গুনাহ। এ সম্পর্কে হাদীসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালার অভিসম্পাত সে সকল পুরুষের উপর, যারা মহিলাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং সমভাবে সে সব মহিলাদের উপরও আল্লাহর অভিসম্পাত প্রযোজ্য, যারা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করে।
মহিলাদের জন্য ববকাটিং চুল রাখা সম্পূর্ণ নাজায়েয। স্বল্প বেশী রমণী বা সমাজে কেশবতী কন্যা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার জন্য অনেক কৃত্রিম চুল সংযোজন করে, চুলে পাম্প করে, চুলে কৃত্রিম কালার ব্যবহার করে। নারীদের নিজের মাথায় বা অন্যের মাথায় কৃত্রিম চুল মিশ্রিত করার নিষিদ্ধতায় আবু দাঊদ শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে একটি হাদীসে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, সে নারীর উপর অভিশাপ যে অন্যের মাথায় কৃত্রিম চুল মিশ্রিত করে, অথবা নিজের মাথায় কৃত্রিম চুল লাগায় এবং অন্য নারীর ভ্রমর চুল উপড়ায় বা নিজের ভ্রমর চুল উপড়ায়।
(আবু দাউদ শরীফ)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 যে মহিলা পশু-পাখি মারে

📄 যে মহিলা পশু-পাখি মারে


নিম্নে একটি হাদীস মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে এমন একজন মহিলার আলোচনা করা হয়েছে, যে পশু-পাখি পালত, কিন্তু পালনে অলসতা করত, অর্থাৎ ঐ পশু-পাখিদের না ঠিকমত দানা-পানি দিত, না তাদের মুক্ত করে দিত, যাতে তারা আল্লাহর প্রশস্ত রিযিক থেকে কিছু খেয়ে নেয়।
হাদীস শরীফে এরূপ বর্ণিত আছে, হুযুর (সা.)-এর ফরমান, “একজন মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। ঐ মহিলা বিড়ালটিকে আটকে রেখেছিল, তাকে খাওয়ায়ও নাই এবং তাকে ছাড়েও নাই যে, সে নিজে রিযিক তালাশ করে খেয়ে নিবে। অবশেষে ঐ বিড়ালটি মারা গেল। (সহীহ বুখারী)
বুঝা গেল যদি ঘরে কোন জানোয়ার বা পশু-পাখি থাকে তাহলে তার লালন পালনের দায়িত্ব ঘরের মহিলাদের। ঘরের নির্দিষ্ট অংশে বন্দি রাখলে তাদের খানাপিনার ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় তাদের খানা-পিনার জন্য তাদেরকে আযাদ করে দিতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00