📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) জাহান্নামে কী দেখেছেন?
হাদীস শরীফের নয়টি কিতাবে জাহান্নাম সম্পর্কে আনুমানিক ঊনিশশত চল্লিশ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
কতক হাদীসে জাহান্নামের ভয়াবহ অবস্থা উল্লিখিত হয়েছে, কতকে 'জাহান্নামবাসীদের বর্ণনা, এবং কতক হাদীসে জাহান্নামে প্রবেশের কারণসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে, এ ব্যাপারে এতো অধিক পরিমাণ হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং সমস্ত হাদীসগুলো এমন যে, যেগুলো পাঠ করে বা শুনে ঈমানদারের লোম দাঁড়িয়ে যায় এবং অন্তর কেঁপে উঠে।
যখন নবী কারীম (সা.) জাহান্নাম দেখলেন, তাতে অধিকাংশই নারী পাইলেন, তখন মহিলাদের লক্ষ্য করে নছিহত করলেন। হে নারী সমাজ! তোমরা বেশি বেশি দান-খয়রাত কর। যদিও তা তোমাদের অলংকার দ্বারা হউক, কেননা আমি মহিলাদের অধিক সংখ্যায় জাহান্নামে দেখেছি। ইহার কারণ, মহিলারা অধিক পরিমাণে অভিশাপ (বদদোয়া) করে এবং স্বামীর নাশুকরী করে। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকাসত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধিহরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শি আর কাউকে দেখা যায়নি। অর্থাৎ তারা পুরুষের তুলনায় বুদ্ধির ত্রুটি এবং দীনের ত্রুটিতে পারদর্শী।
বুদ্ধির ত্রুটি হলো এই যে, দুইজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের বরাবর! এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর তাদের দীনের ত্রুটি হলো, হায়েয অবস্থায় নামায ও রোযা থেকে বিরত থাকা। (মুস্তাদরাক)
বুখারী শরীফে আরো একটি হাদীস রয়েছে, যা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। সুতরাং তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ হলে তিনি নামায পড়া শুরু করলেন, নবী কারীম (সা.) লম্বা কিয়াম করলেন, তিনার কিয়াম সূরা বাক্বারার বরাবর ছিল। অতঃপর তিনি লম্বা রুকু করলেন, অতঃপর রুকু থেকে মাথা মুবারক উঠালেন এবং লম্বা কিয়াম করলেন তবে প্রথম কিয়াম থেকে কিছুটা ছোট ছিল। অতঃপর নবী কারীম (সা.) সেজদা করলেন, অতঃপর লম্বা কিয়াম করলেন তবে প্রথমটার চেয়ে ছোট ছিল, অতঃপর তিনি লম্বা রুকু করলেন যা প্রথম রুকু থেকে কম লম্বা ছিল। অতঃপর নবী কারীম (সা.) সেজদা করেন, অবশেষে তিনি নামায থেকে অবসর হন আর সূর্যও পুরাপুরি প্রকাশ পায়।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনের মধ্যে দুটো নিদর্শন, এ দুটার গ্রহণ লাগা না কারো হায়াতের কারণে এবং না কারো মৃত্যুর কারণে। যখন তোমরা এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে।”
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে দেখেছি যে, আপনি নামাযে কিয়াম অবস্থায় কোন জিনিস হাতে ধরেছিলেন, অতঃপর আমরা আপনাকে দেখলাম যে, আপনি পিছনে সরেছেন?
নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, “আমি জান্নাত দেখেছি, জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছিল। এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর যদি তা এনে দিতাম, তাহলে তোমরা দুনিয়া বাকী থাকা পর্যন্ত তা থেকে খেতে পারতে। আর আমি জাহান্নামও স্বচক্ষে দর্শন করেছি। তবে জাহান্নাম থেকে ভয়াবহ দৃশ্য আমি কক্ষনো দেখিনি। জাহান্নামের মধ্যে অধিক পরিমাণে মহিলাদেরকে দেখলাম।” সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করলে হুযুর (সা.) ইরশাদ করলেন, তারা কুফুর করে, তাঁরা আবার জিজ্ঞেস করলেন, কী তারা আল্লাহর সাথে কুফুর করে? তিনি বললেন, “তারা অন্যের অনুগ্রহকে ভুলে যায়, স্বামীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। তুমি যদি সারাজীবন তাদের কারো উপর অনুগ্রহ করতে থাক, অতঃপর সামান্য কোন কারণে বলে ফেলবে যে, তোমার নিকট হতে আমি কখনও কোন ভালো ব্যবহার পাই নাই। (মিশকাত: বুখারী ও মুসলিম)
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই উক্তিও মহিলাদের সাধারণ অভ্যাস সম্পর্কে করা হইছে। তাদের সহিত যত উত্তম আচরণই করা হউক না কেন, যদি কখনও কোন কাজ তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়ে যায়, তবে স্বামীর সারাজীবনের অনুগ্রহ শেষ হয়ে যায়। এবং তাদের মুখে এই বিশেষ বাক্য উচ্চারিত হয় যে, এই সংসারে আমি কখনও শান্তি পাই নাই। এই সমস্ত বর্ণনায় মহিলাদের অধিক পরিমাণে জাহান্নামে প্রবেশ করার কারণ অবগত হওয়া ছাড়া ইহাও জানা গেল যে, উহা হতে হেফাজত ও রক্ষার উপায় হল, অধিক পরিমাণে সদকা ও দান-খয়রাত করা। যেমন, উপরে বর্ণিত এই সতর্কবাণী সম্বলিত হাদীসে আছে যে, হুযুর (সা.) যখন এই ইরশাদ করতেছিলেন, তখন হযরত বেলাল (রা.) হুযুর (সা.) এর সঙ্গে ছিলেন এবং মহিলা সাহাবিয়াগণ হুযুর (সা.)-এর ইরশাদ শুনার পর তাঁরা নিজেদের কানের ও গলার অলংকার খুলে খুলে হযরত বেলাল (রা.) এর ঐ কাপড়ে রাখতেছিলেন যাহার মধ্যে তিনি চাঁদা জমা করতেছিলেন।
বর্তমান যুগে এ ধরনের কঠিন হাদীসসমূহ শুনে প্রথমে তো মহিলাদের দান-খয়রাতের খেয়ালও হয় না। যদি কারো খেয়াল হয়ও, তবে উহার চাপ স্বামীর উপরেই গিয়া পড়ে যে, স্বামী তাহাদের যাকাত আদায় করবে, তাদের পক্ষ হতে সদকা বা দান-খয়রাত করবে, আর যদি তারা নিজেরাও দান-খয়রাত করে, তবে উহাও স্বামীর নিকট হতে উসুল করবে। তাদের অলংকারাদির উপর কোন আঁচ আসবে ইহার কোন অবকাশই নাই?
এমনিতে সবকিছু চুরি হয়ে যাইতে পারে, হারাইয়া যাইতে পারে, কিংবা বিবাহ-শাদী ও অহেতুক উৎসব অনুষ্ঠানের জন্য বন্ধক রাখিয়া হাতছাড়া হতে পারে, কিন্তু নিজ খুশিতে আল্লাহর নিকট জমা করার বিষয়টি কখনও আলোচনায়ও আসে না।
আর স্বচক্ষে জাহান্নাম দর্শনের ব্যাপারে যা কিছু উল্লেখ করা হলো তা হুযুর (সা.) স্বপ্নে দেখেননি, বরং জাগ্রত অবস্থায় তিনার চক্ষু মোবারক দ্বারা জাহান্নামে মহিলাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু যেহেতু হুযুর (সা.) উম্মতের কান্ডারী ও দয়ার পরশ ছিলেন, আল্লাহ যে সমস্ত গুনে তিনাকে প্রশংসিত করেছেন, স্বয়ং নবী কারীম (সা.) জাহান্নামবাসীদের অধিকাংশ নারী দেখায় অত্যন্ত পেরেশান হন এবং তার চিকিৎসা এভাবে করেন যে, হুযুর (সা.) মহিলাদের অধিক পরিমাণে দান-খয়রাতের আদেশ করেন, যাতে আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টি এবং নারাযিগী দূরীভূত হয়ে যায়, কেননা সদকা আল্লাহ তা'আলার ক্রোধকে নির্বাপিত করে।
বুঝা গেলো নবী কারীম (সা.) এ ব্যাপারে লোভী এবং আকাঙ্খিত ছিলেন যে, কোন না কোন ভাবে এ সমস্ত মহিলারা নাজাত পেয়ে যাক, কেননা দান-খয়রাত দলিল, নাজাতের উপায় এবং মানবকুল থেকে আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টিকেও দূর করে দেয়, সুতরাং যেহেতু মহিলাদের জাহান্নামে অধিক পাওয়া গেলো সেহেতু তাদের জন্য অধিক উত্তম হলো, বেশি বেশি দান-খয়রাত করা। আর এটা সর্বযুগের, সর্বস্থানের, সকল মহিলাদের জন্য ব্যাপক দাওয়াত।