📄 অসিয়ত
একটু চিন্তা করুন। আজ আমরা তো তাও উম্মাহর বিজয়ের পরশ পাই এদিক-ওদিক থেকে। উপনিবেশ আমলে যেসব দাঈ, আলিম, আম-মুসলিম মারা গিয়েছেন, তারা কী পরিমাণ অতৃপ্তি আর কষ্ট নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে গেছেন! আমাদের তো মার খেতে খেতে সয়ে গেছে; ১৯২৪ সালে খিলাফত ধ্বংসের ঠিক পরপর যেসব চিন্তক-আলিম-দ্বীনসচেতন মুসলিম একবুক কষ্ট আর হতাশা নিয়ে দুনিয়ার জীবন শেষ করেছেন। এখন ফিলিস্তিনে যারা আছে তাদের কথা ভাবুন। শরণার্থী শিবিরে জন্ম, সেখানেই বৃদ্ধ হয়ে মৃত্যু। আমরা তো তাও নানান জায়গায় আশা খুঁজে ফিরি, এমন সময়ও উম্মাহর ওপর দিয়ে গেছে, যখন এক চিলতে আশাও নেই, পরাজয় আর লাঞ্ছনার ঘুটঘুটে অন্ধকার।
এবার এক প্রজন্মের জীবন থেকে চোখ বুজুন, তিন প্রজন্মের জীবনের দিকে একসাথে তাকান, ১০০ বছর। খিলাফত ধ্বংস... মুসলিমদের ওপর কমিউনিস্টদের সীমাহীন নিপীড়ন... কমিউনিজম ধ্বংস... মুসলিমদের ওপর পুঁজিবাদী ১ম বিশ্বের নিপীড়ন-গণহত্যা... পতনের ডাক। এরকম সময় আগেও এসেছে। মোঙ্গল আগ্রাসনের সময় মনে হচ্ছিল, সব শেষ বুঝি। আল্লাহ মোঙ্গলদেরকে দিয়েই মোঙ্গলদের হারিয়ে দিয়েছেন। চেঙ্গিস খানের ৪-৫ প্রজন্মে গিয়ে সবাই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছে। আমরা এক জীবন দিয়ে দেখি। আল্লাহর পরিকল্পনা কয়েক প্রজন্ম নিয়ে। আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন : ইজ্জত ও বিজয় আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের। [১]
সেটা আমি দেখেই যাব, এমন কোনো ওয়াদা তো নেই। এজন্য হতাশার কিচ্ছু নেই। জরুরি হলো, আমি উম্মাহর বিজয়ের জন্য কাজ করছি কি না, কিছু করে গেলাম কি না। নাকি চতুষ্পদ জন্তুর মতো খেয়ে-পরে-বাচ্চা জন্ম দিয়ে জীবন কাটিয়ে গেলাম।
বড় হওয়া, জীবিকা খোঁজা, বিয়ে করা, সন্তান পয়দা করা, সেগুলা পেলে বড় করা। এগুলা তো ছাগল-গরু-কুকুরও করে। যা প্রয়োজন, সেটাকে পূরণ করে। আমাদের জীবনের একটা মিশন থাকা উচিত। মিশন কী? দেশসেরা প্রফেসর হব, গুগলে চাকরি পেয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করব, গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির মালিক হব, নোবেল প্রাইজ পাব—এগুলো মিশন? এ ধরনের আত্ম-স্বীকৃতির (self-appreciation) চাহিদাও চতুষ্পদ প্রাণীর থাকে। চূড়ায় ওঠা, শ্রেষ্ঠ হওয়া, বেস্ট হওয়া এগুলো আদিম চাহিদা, বেসিক নিড মিটে গেলে এরপর ‘আলফা মেল’ হবার জন্য লড়ে। কুকুর-বিড়াল প্রস্রাব করে করে সীমানা দেয় : হুঁশিয়ার, এটুকু আমার এলাকা। নারীর জন্য লড়ে। আমরা মানুষ এবং মুসলিম। টেস্টোস্টেরোন থেকে উৎসারিত আত্মপ্রসাদ ও প্রতিপত্তির চাহিদা আমাদের মিশন নয়। ওটা তো স্বাভাবিক জান্তব প্রক্রিয়া। মিশন হলো এমন কিছু, যা আমার দৈনন্দিন প্রয়োজনের বাইরে। আমার নিজ দেহজ চাহিদা ছাড়া মানসিক তাড়না থেকে যা আমরা করি, সেটা আমার মিশন। মুসলিম হিসেবে ‘আমি মরার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবো’ এমন কিছুও আমার নিঃস্বার্থ অতিরিক্ত এই পার্থিব শ্রমের বিষয় হতে পারে না। হয়তো আমার কথা ধরতে পেরেছেন। প্রতিটি মুসলিমের চিরস্থায়ী মিশন থাকা উচিত, যার ফল শেষ হবে না, যেহেতু আমরাও শেষ হব না। এমন কিছু মিশন হওয়া উচিত, যার সুফল মৃত্যুর পরেও আমাকে উপকার পৌঁছাতে থাকবে। আর সেটা হলো, ইসলামের বিজয়ের জন্য কিছু না কিছু করা।
সেটা যেকোনো কিছু হতে পারে। যে ইমাম সাহেব জুমুআর মুসল্লিদের ওয়াক্তিয়া মুসল্লি বানানোর চেষ্টা করছেন, তিনি উম্মাহর বিজয়ের জন্য কাজ করছেন। যে তাবলিগওয়ালা গ্রামেগঞ্জে দাওয়াহ করছেন, ওয়ায়েজগণ ওয়াজ করছেন, আলিমগণ দারসে আরো আলিম তৈরি করছেন, খানকাহে মাশায়িখগণ মুসলিমকে উত্তম মুসলিম বানানোর চেষ্টা করছেন, ইসলামি রাজনীতিবিদগণ সাংগঠনিক মেহনত করছেন। কৌশল ভুল না ঠিক, সেটা পাশে রেখে এটুকু দেখুন: আমরা সবাই উম্মাহর বিজয়ের জন্য কাজ করছি। মোটাদাগে প্রশস্ত অর্থে আমরা ‘জিহাদ’ করছি (প্রচেষ্টা চালানো)। যদিও জিহাদের মূল অর্থ কাফিরদের সাথে যুদ্ধ; যেমন সালাত অর্থ দুআ হলেও আমরা বিশেষ একটা কাজই বুঝি। তো সবার আগে নিজের মিশন ঠিক করুন। আমি এতটুকু করে যেতে চাই উম্মাহর বিজয়ের জন্য।
ইসলাম একটা দ্বীন, পূর্ণাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থাপনা। ইসলাম একটা worldview দাবি করে। ইসলাম দাবি করে যে, আপনি দুনিয়াকে ইসলামের চশমায় দেখবেন। ইসলাম একটা স্বতন্ত্র weltanschauung. বস্তুবাদকে সামনে নিয়ে আপনি সারা দুনিয়া সম্পর্কে চিন্তাভাবনা ঢেলে সাজাতে পারবেন। পুঁজিবাদ সামনে নিয়ে আপনি ব্যক্তি-সমাজ-জ্ঞান-অর্থ-রাষ্ট্র সবকিছু ঢেলে সংজ্ঞা দিতে পারবেন (এখন যা হচ্ছে আরকি)। ইসলাম সেরকম স্বয়ংসম্পূর্ণ টোটালি কমপ্লিট আলাদা এক worldview. যা নির্ভর করে আধ্যাত্মিকতা ও পারলৌকিক সাফল্যের ওপর। ইসলাম সবকিছুর আলাদা সংজ্ঞা দেয়। এই বিশ্বচরাচরের প্রতিটা জিনিসের, প্রতিটা চিন্তার। স্বাধীনতা-সমতা-সহাবস্থান-উদারতা-জ্ঞান-প্রজ্ঞা-শিক্ষা-উন্নতি-প্রগতি-শিল্প-সংস্কৃতি-পুঁজি-অর্থ-সমাজ-রাষ্ট্র-ব্যক্তি-পরিবার-নৈতিকতা। আলাদা কনসেপ্ট দেয়, আলাদা উদ্দেশ্য দেয়। আলাদা চরিত্র দেয়। আলাদা পিকচার দেয়।
মাওলানা আব্দুর রহিম রাহিমাহুল্লাহ তার পাশ্চাত্য সভ্যতার দার্শনিক ভিত্তি বইয়ে একটা কথা লিখেছেন : অধিকাংশ মানুষের কোনো দর্শন নাই। এইটাই সেক্যুলারিজম। কোনো দর্শন না থাকা।' পাশ্চাত্য শিক্ষা মুসলিমদেরকে দর্শনহীন উদ্দেশ্যহীন মিশন-হীন করে দিয়েছে। ৯০% মুসলিমকে আপনি দেখবেন বেসিক নিডের জন্য ২৪ ঘণ্টা কাটাচ্ছে। যাদের বেসিক নিড পুরা হয়ে গেছে, তারা আত্ম-প্রসাদকে উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছে। আয়-ভোগ-আরো ভোগ... এটাই তাদের worldview. শাইখ আবুল হাসান আলি নদভি রাহিমাহুল্লাহ এজন্যই পাশ্চাত্য সভ্যতাকে বলেছেন 'নয়া ইরতিদাদ' (নব্য দ্বীনত্যাগ)। কারণ তা ইসলামের ব্যবস্থার বিপরীত ব্যবস্থা দেয়, বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। জেনারেল শিক্ষিতদের এখন একটাই কাজ। প্রত্যেক মুসলিমের ঘরে-দোকানে-দোপে-মেসে-ক্যাম্পাসে গিয়ে বোঝানো যে, তার একটা দর্শন আছে। তার একটা চশমা থাকার কথা, যার ভেতর দিয়ে তার দুনিয়া দেখার কথা। বর্তমানে সে যেভাবে চলছে, এভাবে চললে তার দুনিয়া সংকীর্ণ হয়ে আসবে। আর তার সংকীর্ণ দুনিয়া শেষে ভয়াবহ পরকাল। দুপাড়ই শেষ। পাশ্চাত্য সভ্যতা তার জালিম দর্শন দিয়ে চুষে-ছিবড়ে-নিঙড়ে শেষ করে নেয় একেকজন মানুষকে। দুনিয়াও, আখিরাতও।
বন্ধু ইমরান বলেছিল : দোস্ত, প্রতিটা মানুষের দিকে তাকা। দেখ প্রতিটা মানুষ ভেতরে ভেতরে জ্বলছে... বুকের মাঝে জ্বালা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঠিক তাই।
এই বিশ্বব্যবস্থা মানুষের 'মানবত্ব' কেড়ে নিয়েছে। মানুষ তার কাছে কেবলই কিছু সংখ্যা, কিছু পার্সেন্টিজ আর ভোক্তা-বাজার। সব জিনিসের দাম বেড়েছে, শুধু কমছে মানুষের দাম। যুদ্ধে-অনাহারে লাখ লাখ মানুষ স্রেফ ৬ ডিজিটের কয়েকটা সংখ্যা। এত লাখ মানুষ আফগান যুদ্ধে মারা গেছে, ব্যস শেষ। মনে কোনো দোলা দেয় না, ক্রোধে-ক্ষোভে চোয়াল শক্ত করে না। মানুষের চেয়ে মুনাফা বেশি কাঁদায়-ভাবায়। মানুষের কী হলো, তার চেয়ে আমার পকেটে কত এলো সেটা ইম্পর্টেন্ট এই পাশ্চাত্য সভ্যতার চশমায়। ফলে হতাশা, অস্থিরতা, নিত্যনতুন অসুখ, আরোগ্যহীন অসুখ, আত্মহত্যা, ড্রাগ, অপরাধ বৃদ্ধি, ডিভোর্স-এগুলো এই সভ্যতার অনিবার্য পরিণতি।
মানবতার সবচেয়ে বড় সেবা এখন তাকে ইসলামের চশমার খোঁজ দেওয়া। ভাই, তোমার এই অসহনীয় জীবন থেকে বাঁচাতে পারে কেবল ইসলাম। ইসলামের ওয়ার্ল্ডভিউ দিয়ে দুনিয়া দেখো, দেখো কত সুন্দর জীবন! পালকের মতো হালকা, নদীর বাতাসের মতো ঝিরঝিরে, মেনথলের মতো সতেজ। আপনার দুনিয়াপরস্ত আত্মীয়, সেক্যুলার বন্ধু, ঘরপোড়া হিন্দু, আত্মহত্যা-সেতুর রেলিংয়ে দাঁড়ানো জাপানি, নিজের গায়ে আগুন দেওয়া ভারতীয়-মেক্সিকান কৃষক কিংবা তিউনিসিয়ার সবজি-বিক্রেতা, আমেরিকার ঝলমলে ক্যাসিনোয় বিক্রি হয়ে যাওয়া ল্যাটিনো কিশোরী, ধুঁকতে থাকা মাদকাসক্ত ছেলেটা কিংবা এইডস-আক্রান্ত বতসোয়ানার প্রসূতিটা। ইসলামের অভাবে এই প্রতিটা মানবসত্তা ভুগছে, আর হয়ে যাচ্ছে স্রেফ কয়েকটা সংখ্যা (এত জন, অত জন, ব্যস)। যারা যারা এই বই পড়ছেন, সকলের প্রতি আমার অসিয়ত : দাওয়াহকে মিশন হিসেবে নেন। এর চেয়ে বড় কোনো উপকার নেই মানবতার জন্য। মানুষকে পণ্যের মর্যাদা থেকে, স্রেফ ভোক্তা-বাজারের মর্যাদা থেকে, কয়েকটা সংখ্যার মর্যাদা থেকে মানুষের মানবীয় সম্মানের খোঁজ দেওয়ার চেয়ে বড় আর কোনো সেবা নেই।
জেনারেল শিক্ষিত ভাইদের জন্য অসিয়ত হলো : প্রথমে নিজে আলিমদের তত্ত্বাবধানে স্ট্রাকচারাল ইলম অর্জন করুন। এখন অনলাইনে অনেক স্বপ্নদ্রষ্টা আলিম এক-দেড়-তিন বছর মেয়াদি কোর্স পরিচালনা করছেন। সেগুলোয় ভর্তি হয়ে ভার্সিটি লাইফের মাঝেই ন্যূনতম ইলমটুকু শিখে ফেলুন। এরপর প্রতিদিন কিছু সময় দাওয়াহ মুড অন রাখুন। আর দ্বিতীয়ত, ইসলামকে একটা সভ্যতা হিসেবে, একটা বিশ্বব্যবস্থা হিসেবে পাঠ করুন। সভ্যতার সংঘাত শুরু হয়ে গেছে, যা নব্বইয়ের দশক থেকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছিলেন। পশ্চিমা সভ্যতা আর ইসলামের মাঝে সভ্যতার সংঘাত। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৪০০ বছর আগে জানিয়েছিলেন: শেষ যুগে ঈমান ও কুফরের তাঁবু একেবারে আলাদা হয়ে যাবে। মানুষ দুই তাঁবুতে আশ্রয় নেবে। যারা ঈমানের তাঁবুতে যাবে, তাদের মাঝে কোনো নিফাক-কুফর থাকবে না, অনুরূপ যারা নিফাক-কুফরের তাঁবুতে যাবে, তাদের মাঝে ঈমানের লেশমাত্র থাকবে না। [১] খেয়াল করলে দেখবেন, একদিকে প্র্যাকটিসিং মুসলিমের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, আবার নাস্তিক-মুরতাদ-নারীবাদীর সংখ্যাও বাড়ছে। মানে হলো মাঝখানের এই ৯০% উদাসীন মানুষের মাঝে চিন্তার মেরুকরণ ঘটছে। উদাসীনতা থেকে বেরিয়ে দুই তাঁবুতে ভাগ হচ্ছে মানুষ। আমাদের লক্ষ্য হলো সভ্যতার এই সংঘাতে যত বেশিসংখ্যক মানুষকে আপনি ঈমানের তাঁবুতে আনতে পারেন, ইসলামের চশমা পরিয়ে দিতে পারেন— সেই চেষ্টা করা। নাস্তিকদের পেছনে সময় না দিয়ে এই বিশাল মধ্যবর্তী অংশের পেছনে সময় দেন।
আর আলিম ও তালিবুল ইলমদের প্রতি একটা অসিয়ত আছে। সেটা হলো, আপনাদের সাথে এই ৯০% লোকের ভাষাগত দূরত্ব আছে। ভাষা মানে বাংলা ভাষা নয়, আপনারা যে অ্যাঙ্গেলে কথা বলেন সেটা। আপনারা কথা বলেন ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’র ভাষায়। আমরা বলি লর্ড মেকলের ভাষায়। সুতরাং,, আপনার ভাষা আমি বুঝব না। ওসব তো হুজুররা বলেই, হুজুরদের কথামতো চললে দুনিয়া চলবে? আমার ভেতরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না এলে আমি ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বুঝব না, পাত্তা দেবো না, গুরুত্ব দেবো না। আমাদের ভেতরে থাকা এই ইলাহ ‘ইউরোপ’-কে আগে হটাতে হবে। ইউরোপ শিখিয়েছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল ইনসান’ (হিউম্যানিজম) এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল মাল’ (পুঁজিবাদ-ভোগবাদ)। এজন্য ইউরোপের ইতিহাস ও দর্শন সবচেয়ে বেশি চর্চা হওয়া দরকার আলিমদের মাঝে। সভ্যতার এই সংঘাতে শত্রুর সাথে লড়ার আগে শত্রুকে জানা জরুরি। নারী নিয়ে ইসলামের বিধান জানানোর আগে নারীর ব্যাপারে ইউরোপীয় চিন্তার গলদগুলো তুলে ধরুন। এবার সামনে বসা ‘মেকলের সন্তানরা’ বুঝে ফেলবে। আগে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে এরপর ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলুন। আগে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর বিধান বললে ভেতরে থাকা ইলাহ ‘ইউরোপ’-এর বিধানের সাথে টক্কর খাবে যে।
এবার শারিয়াহর হুকুমগুলো পেশ করুন। এভাবে শিক্ষিত আওয়ামের চশমা ঠিক হবে। গায়রত-ওয়ালা আওয়ام তৈরির মেহনত করার অনুরোধ রইল আপনাদের প্রতি। এজন্য নব্য ইরতিদাদ 'ইউরোপীয় দর্শন'কে বোঝার কোনো বিকল্প নেই আলিম ও ভবিষ্যৎ আলিমদের।
আমার কথা শেষ। আমরা ইসলামি সভ্যতার সৈনিক, যে সভ্যতার শুরু হেরার আলোয়। এই সভ্যতার বিজয় দেখে যেতে পারব কি না, জানা নেই, কিন্তু এই সভ্যতার জন্য কাজ করাকে জীবনের মিশন হিসেবে নিতে হবে প্রতিটি মুসলিমকে। বিশ্বাস করুন আপনার কোনো কাজই ছোট নয়। আল্লাহ কারিম (অল্পতেই বহু দেনেওয়ালা) এর বদলা অসীম করে ফিরিয়ে দেবেন। আসলে আল্লাহর দ্বীন তো আল্লাহ নিজেই রক্ষা করবেন, ছড়িয়ে দেবেন। আমার অনুভূতিটুকুই তিনি দেখছেন।
দুই বাপ-ব্যাটা মিলে বাজার করে এনেছে। ৪ বছরের বাচ্চা ব্যাগের একপাশ ধরে বলছে: মা, বাজার করে নিয়ে এলাম। ব্যাগের ভার কার হাতে? বাবার হাতে। বাচ্চার এই আধো আধো কথা শুনে বাবা-মায়ের কলিজা ঠান্ডা হচ্ছে। তেমনি আল্লাহ আমাদের এই দ্বীনের জন্য দৌড়ঝাঁপ, দুআ, উম্মাহর জন্য পেরেশানি দেখে খুশি হন। আমাদের কাজ ব্যাগের কোনা ধরে রাখা, ব্যাগটা ওঠানোর চেষ্টা করা, আধো আধো কাজ করে যাওয়া, আর কাঁদা।
বাড়িয়ে দিন কাজের গতি। বিজয়ের ঘ্রাণ আসছে সিন্ধুর ওপার থেকে। এপারে আসতে কতদিন? এই তো আর ক'টা দিন। ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
১. যাবতীয় শক্তি-সম্মান তো কেবল আল্লাহরই, আর তাঁর রাসুলের ও মুমিনদের। [সুরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৮]
১. সুনানু আবি দাউদ: ৪২৪২; মুসনাদু আহমাদ: ৬১৬৮; মুসতাদরাকুল হাকিম: ৮৪৪১; শারহুস সুন্নাহ, বাগাবি: ৪২২৬; মুসনাদুশ শামিয়্যিন: ২৫৫১; আল-ফিতান, নুআইম ইবনু হাম্মাদ: ৯৩; হিলইয়াতুল আউলিয়া: খণ্ড : ৫; পৃষ্ঠা : ১৫৮ -হাদিসটির সনদ সহিহ