📄 জ্ঞানের জাগরণ ও সভ্যতা নির্মাণ
আচমকা একদিন সেই জাতির মাঝে জ্ঞানের উন্মেষ। আদেশ হলো-
» ইকরা... পড়ুন, আপনার রবের নামে... যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের দ্বারা। [১]
» আফালা তা'ক্কিলুন... তোমরা কি বিচারবুদ্ধি খাটাবে না?[২]
» আফালা তুবছিরুন... তোমরা কি দেখো না?[৩]
» তারা বধির-মুক-অন্ধ, তারা ফিরবে না।[৪]
» বস্তুত অন্ধ তো চোখ নয়, অন্ধ হয় বুকের ভেতরের হৃদয়। [৫]
বলা হলো : এরা তো এদের বাপ-দাদার অনুসরণ করছে... এরা যা করছে সে ব্যাপারে এদের কোনো জ্ঞান নেই। বাপ-দাদার দেখাদেখি কুসংস্কার, সারহীন প্রথা থেকে বের করে এদের ঝেটিয়ে নেওয়া হলো যুক্তি, চিন্তাভাবনা, বিচারবুদ্ধির দিকে। খেয়ালখুশি থেকে বেরিয়ে বিচারবুদ্ধি খাটাও。
» বীজ থেকে চারা তোমরা উঠাও, না আমি? [৬]
» গর্ভের সন্তান তোমরা সৃষ্টি করো, না আমি? [৭]
» যাদের উপাসনা তোমরা করো, তারা তো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না।[৮]
>> আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের চক্ষু-কর্ণ-হৃদয়। [১] বলা হলো : চক্ষু-কর্ণ-হৃদয়ের সদ্ব্যবহার করো, খাটাও... ঘোরো... দেখো... ভাবো... মিলাও... আমাকে চিনে নাও।
বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো, কীভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুনর্বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। [২]
নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্যে। [৩]
অচিরেই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাব, বিশ্বজগতের প্রান্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, অবশ্যই এটা (কুরআন) সত্য। [৪]
বিনা প্রশ্নে বাপদাদার অনুসরণ ও হাওয়ার ওপর বিশ্বাস-কুসংস্কারের ইতি টেনে যৌক্তিক চিন্তার সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলে পৃথিবীর ইতিহাসে দ্রুততম সভ্যতার জন্ম দিলো ইসলাম। মূলনীতিবিহীন লাগামছাড়া চিন্তা কখনোই সমাধানে নিতে পারে না; বরং জন্ম দেয় সমস্যা, অসংলগ্ন পরস্পরবিরোধী বহু মতবাদ। একটা পরিপূর্ণ মূলনীতি প্রয়োজন। সেই মূলনীতিই ওহি। কীভাবে বুঝবে এই ওহিটাই যে আল্লাহর পক্ষ থেকে? অন্যগুলো যে আল্লাহর থেকে নয়? যুক্তি খাটাও... ভাবো।
আল্লাহর পক্ষ থেকে না হলে এতে থাকত পরস্পর বিরোধিতা ও অসংলগ্নতা।[১] দেখো কুরআনে কোনো অসংলগ্নতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই।
যদি উম্মি (আনপড়) [২] মুহাম্মাদ এটা বানিয়ে থাকে তবে শিক্ষিত তোমরা তো আরো ভালো বানাতে পারবে। নিয়ে এসো এমন একটা কিতাব, ডাকো তোমাদের দেবদেবীদের সাহায্যের জন্য। [৩] আচ্ছা, বাদ দাও, ১০টা সুরা [৪] ... রাখো, একটা সুরাই বানাও এমন [৫]। ঠিক আছে, একটা আয়াতই বানিয়ে আনো দেখি। [৬]
তোমাদের জন্য পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন নবি, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করেন [৭]। বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় [৮]।
(তাকে তোমরা খুব ভালো করেই চেনো। তোমরাই তাকে মেনে এসেছ এতকাল। তোমরাই তার নাম দিয়েছ ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত)। তোমরা তার মুখে কুরআন শুনলে, তাও তো আরবি ভাষায়ই ছিল, তোমাদেরই ভাষায়। শুনেটুনে বুঝলেও যে, এটা তার পক্ষে বানানো অসম্ভব, যেকোনো মানুষের পক্ষেই অসম্ভব। এত এত ডেটাকে তোমরা তুচ্ছ দুনিয়ার লোভে এখন অস্বীকার করছ?)
ঈমানের অধিকাংশ টপিক গায়েব (অদৃশ্য) সংক্রান্ত হলেও, অধিকাংশটাই বিশ্বাসভিত্তিক হলেও, ঈমানের শুরুটা কিন্তু যুক্তিতে। মানবযুক্তির যেখানে শেষ, বস্তুগত সকল ব্যাখ্যা-অভিজ্ঞতা যেখানে পরাস্ত, সেখানে ঈমানের শুরু। সাহাবিদের যুক্তি, অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান পরাস্ত হয়েছে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্যতা এবং কুরআনের অলৌকিকত্বের কাছে। সাহাবিদের কেউই না জেনে, না বুঝে, অন্ধবিশ্বাসে ঈমান আনেননি। ‘আল্লাহর কুদরত’ ছাড়া অন্যকিছু দিয়ে হিসেব মেলাতে না পেরে ঈমান এনেছেন। কুরআনে আল্লাহ এটাই চেয়েছেন। চোখ-কান-অন্তর খাটিয়ে হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হয়ে, পরাস্ত হয়ে আমরা যেন ঈমান আনি।
৬৩৩ সালে শরিয়ত পূর্ণ হলো (নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত)। আর আরবে-আরবে সর্বশেষ যুদ্ধ হলো ৬৩৪-৩৫ সালে। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের ১ম বছরে, ইয়ামামার যুদ্ধ। শত বছরের হানাহানিরত আরব গোত্র ঐক্যবদ্ধ হতে সময় লেগেছে মাত্র ১১-১২ বছর, হিজরত থেকে নিয়ে। আর পরের ১০ বছরের মাঝে পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্য পুরোটা এবং আরেক পরাশক্তি বাইজান্টাইন (পূর্ব রোমান) অর্ধেকটা জয় করা শেষ (৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ)। পরের ১০০ বছরে স্পেন থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত। অর্থাৎ একটা সমৃদ্ধ সভ্যতা গড়তে ইসলাম সময় নিয়েছে ১০০ বছরেরও কম। এর মাঝে বিস্তৃত লিখিত আইনশাস্ত্র, জ্ঞানপীঠ, সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনী, আইনের শাসন, অন্য সভ্যতা থেকে নিয়ে সমৃদ্ধ হওয়া, ইনসাফের সমাজব্যবস্থা, ব্যক্তিমালিকানার সাথে সাথে দ্বিমুখী সম্পদপ্রবাহের অর্থনীতি, জমিদারব্যবস্থার বিপরীতে কৃষকদের মাঝে ভূমিবন্টন, যৌক্তিক সীমিত করব্যবস্থা, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্তনীতি (কিয়াস), সনদভিত্তিক তথ্য যাচাই ব্যবস্থা (উলুমুল হাদিস), নারী পণ্ডিত তৈরি ইত্যাদি সমাপ্ত।
১০০ বছর পর থেকে শুরু হলো বিজ্ঞানের যুগ, উদ্ভাবনের যুগ।
■ ইসলামি শরিয়তের উত্তরাধিকার বণ্টনের সমাধান করতে গিয়ে আল-খাওয়ারিজমির হাতে জন্ম নিল বিজ্ঞানের ভাষা-বীজগণিত।
■ যেহেতু সে সময় নতুন নতুন এলাকা ইসলামি সভ্যতার অধীনে আসছিল; পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে কিবলা ঠিক করা, যেকোনো স্থানে সালাতের সময় নির্ধারণ এবং ইসলামি ক্যালেন্ডার উদ্ভাবনের জন্য ব্যাপকহারে জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল, গোলীয় জ্যামিতি ও গোলীয় ত্রিকোণমিতি চর্চা হতে থাকল। (Gingerich, 1936)
■ কেবল আসরের সালাতের সময় বের করতে গিয়ে মুসলিমরা নতুন নতুন প্যারামিটার আবিষ্কার করে-সৌর অয়নবৃত্তের বাঁক বা inclination of the ecliptic, অপভূর গতি, অয়নচলনের হার, সূর্যের কেন্দ্রীয় দূরত্ব, নতুন সৌর সমীকরণ ইত্যাদি ইত্যাদি। [১]
■ 'আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার চিকিৎসা সৃষ্টি করেননি'—এই হাদিস থেকে মুসলিম চিকিৎসকরা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন গবেষণায়, বিভিন্ন সভ্যতার চিকিৎসাবিদ্যা অনুবাদ ও বিশ্লেষণে।
■ ইমাম ফখরুদ্দিন রাযি রাহিমাহুল্লাহ তার মাতালিব কিতাবে ইসলামের কসমোলজি (মহাকাশবিজ্ঞান) আলোচনা করেন। এরিস্টটলের পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের সমালোচনা করেন।
জ্ঞানীমহলে এ কথা অবিসংবাদিত যে, মুসলিম সভ্যতায় বিজ্ঞানচর্চার কারণ ছিল একমাত্র ইসলাম[১]। লাগামছাড়া মুক্তচিন্তা কোনো লক্ষ্যে নিতে পারে না, ওহির দেখানো পথে মুক্তচিন্তা গড়ে তুলেছিল দ্রুততম পরিপূর্ণ সভ্যতা। ইহুদি প্রাচ্যবিদ Hartwig Hirschfeld-এর একটি উক্তিই এ ব্যাপারে যথেষ্ট—
আল-কুরআনকে যে জ্ঞানধারার উৎসমুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এটা দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আকাশ-পৃথিবী থেকে শুরু করে মানবজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতির সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয় এখানে স্থান পেয়েছে। ফলে এই পবিত্র গ্রন্থের বিভিন্ন অংশের ব্যাখ্যা হিসেবে রচিত হয়েছে বিষয়ভিত্তিক অগণিত প্রবন্ধ-রচনা। এভাবে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ব্যাপক আলোচনা এবং পরোক্ষভাবে মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের নানা শাখার বিস্ময়কর অগ্রগতির নেপথ্যে ভূমিকা আল-কুরআনেরই। ... একইভাবে কুরআন চিকিৎসাবিদ্যার জন্যও একটা উদ্দীপনা জুগিয়েছিল, সামগ্রিকভাবে উৎসাহ দিয়েছিল প্রকৃতির নিবিড় পর্যবেক্ষণকে[২]।
ইসলাম আসার আগে ৭ম শতকের দুনিয়ায় জ্ঞান বলতে ছিল ইহুদি আইন, খ্রিষ্টীয় মরমিবাদ আর গ্রিক যুক্তিচর্চা। ইসলাম এনে দিলো নতুন জ্ঞানতত্ত্ব (epistemology) : ‘ইন্দ্রিয় দ্বারা নিবিড় পর্যবেক্ষণ’। আল-খাওয়ারিজমির আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা রচনার পর থেকে (৮২০ সাল) গাণিতিকভাবে নির্ণীত জ্ঞানকে বলা হতো ‘ইলমুত তাজরিবিয়াহ’ (علم التجربيه) বা পরীক্ষালব্ধ জ্ঞান। বিশ্বাসভিত্তিক জ্ঞান (ধর্ম) ও যুক্তিভিত্তিক জ্ঞান (দর্শন) থেকে পৃথক করতে এই 'সম্পূর্ণ বস্তুগত তথ্যভিত্তিক' জ্ঞানের নাম দেওয়া হয় তাজরিবিয়াহ। এই তথ্য-উপাত্ত-গবেষণা-পরিসংখ্যান দিয়ে বিশেষ জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতিকে (science) বা এই ঝোঁককে একটা সময় বলা হতো arabicorum studiorum sensa (study view of arabs), আরবদের জ্ঞান-দর্শন[৩]।
এই 'তাজরিবা' বা নিবিড় পূর্বাপর পর্যবেক্ষণের ফলে এবং পর্যবেক্ষণ-যুক্তিকে জ্ঞানতত্ত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দরুন ইসলামি বিশ্বে-
১. গ্রিকদর্শন আরবিতে অনূদিত হয়
২. ভারতীয় বিজ্ঞান অনূদিত হয়
৩. তাজরিবার ভিত্তিতে সেগুলো সংশোধন এবং একই সাথে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জোয়ার বয়ে যায়।
পাঠক কি বুঝতে পারছেন? যে মুক্তি ইউরোপকে পেতে হয়েছে ধর্মকে বিদায় করে দিয়ে, সেই মুক্তি আমাদের দিয়েছে ইসলাম এসে। যে আলোকায়নের দাবি তারা ১৭শ শতকে এসে করেছে, তার চেয়ে পরিপূর্ণ আলো আমরা পেয়েছিলাম হেরা গুহায়। আমাদের আলোকপ্রাপ্তি (আক্ষরিক অর্থে) হয়ে গেছে সেই ৭ম শতাব্দীতেই। জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে আমরা পথ (হিদায়াত) পেয়েছি ওহির আলোয়। আমাদের সর্বোচ্চ উন্নতির জন্য আমাদের ফিরতে হবে সেই হিদায়াতের আলোয়।
টিকাঃ
[১] পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাট-বাঁধা রক্তপিণ্ড) থেকে। পড়ুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। [সুরা আলাক, আয়াত :১-৫]
[২] তোমরা কি বুঝবে না? [সুরা আলি ইমরান, আয়াত :৬৫]
[৩] তবু কি তোমরা চক্ষুমান হবে না? [সুরা যারিয়াত, আয়াত: ২১]
[৪] তারা (মুনাফিকরা) বধির, মূক, অন্ধ; কাজেই তারা (হিদায়াতের দিকে) ফিরে আসবে না। [সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮]
[৫] তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চোখ তো অন্ধ নয়; বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।[সুরা হজ, আয়াত: ৪৬]
[৬] তোমরা যে বীজ বপন করো সে সম্পর্কে চিন্তা করেছ কি? তোমরা তা অঙ্কুরিত করো, না আমি অঙ্কুরিত করি? [সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৬৩-৬৪]
[৭] তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে? তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, না আমিই তার স্রষ্টা? [সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৫৮-৫৯]
[৮] হে মানবজাতি, একটি উপমা দেওয়া হচ্ছে, মনোযোগের সাথে তা শ্রবণ করো-তোমরা আল্লাহর
[১] আর আল্লাহ তোমাদেরকে নির্গত করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এ অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয়; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। [সুরা নাহল, আয়াত: ৭৮]
[২] সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২০
[৩] সুরা আলি ইমরান, আয়াত: ১৯০
[৪] সুরা ফুসসিলাت (হা-মীম সাজদাহ), আয়াত: ৫৩
[১] তবে কি তারা কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে আসত, তাহলে নিশ্চয় তারা তাতে পরস্পর-বিরোধী অনেক কথা পেত। [সুরা নিসা, আয়াত: ৮২]
[২] নিরক্ষর
[৩] বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কুরআন রচনা করার জন্য সমগ্র মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবু তারা এর অনুরূপ কুরআন রচনা করতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। [সুরা ইসরা, আয়াত: ৮৮]
[৪] নাকি তারা বলে, তিনি (নবি) এটি রচনা করেছেন? বলুন, 'তাহলে তোমরা এর অনুরূপ দশটি সুরা (বানিয়ে) নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার (তোমাদের সাহায্যের জন্য) ডেকে নিয়ে আস, যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের ক্ষেত্রে) সত্যবাদী হয়ে থাক। [সুরা হুদ, আয়াত: ১৩]
[৫] নাকি তারা বলে, তিনি (নবি) এটি রচনা করেছেন? বলুন, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সুরা (বানিয়ে) নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (তোমাদের সাহায্যের জন্য) ডাকো, যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের ক্ষেত্রে) সত্যবাদী হয়ে থাকো। [সুরা ইউনুস, আয়াত: ৩৭-৩৮]
[৬] নাকি তারা বলে, তিনি (নবি) এটা বানিয়ে বলছেন? বরং আসলে তারা ঈমানই আনবে না। অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে তার অনুরূপ একটি বাণী (রচনা করে) নিয়ে আসুক। [সুরা তুর, আয়াত: ৩৩-৩৪]
[৭] যেমন (তোমরা আমার একটি অনুগ্রহ লাভ করেছ যে,) আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে রাসুল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন। আর তা শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫১)
[৮] এই কুরআন তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে। আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি-প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
[১] George Saliba in Sabreen Syed, How the Muslim Prayer Led to Modern Astronomy online video, kn-ow.com.
[২] আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, 'আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি, যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি।' [সহিহ বুখারি: ৫৬৭৮]
[১] D.E. Smith and L.C. Karpinski, The Hindu-Arabic Numerals (Ginn and Company Publishers, 1911)
[২] Hartwig Hirschfeld (1902), New researches into the composition and exegesis of the Qoran, Royal Asiatic Society, page : 9
[৩] Metlitzki, D. 1977. The matter of araby in medieval england. Yale university press সূত্রে Islam in Europe, Jack Goody. Page : 61
📄 ইনসাফ ও সমতাভিত্তিক সমাজ
সাহাবি, তাবিয়ি, তাবে-তাবিয়ি-এই ৩ প্রজন্ম হলো শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। রেফারেন্স জেনারেশন। এই প্রজন্মের অর্জনগুলো দেখুন আর ইউরোপের দুই অধ্যায়ের সাথে মেলান-
আইনের সাম্য ও সুশাসন
৭ম শতকে ইসলাম এমন এক আইনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা নিশ্চিত করেছে প্রত্যেকের জন্য ন্যায়বিচার। সে সংখ্যালঘুই হোক বা দাস। আইনের চোখে এমন সমতা তৈরি করেছে, যা প্র্যাকটিক্যালি আজও সম্ভব হয়নি।
» যেখানে সম্রাটের (পড়ুন খলিফা) নিযুক্ত বিচারক রায় দিয়েছে সম্রাটেরই বিরুদ্ধে[১]
» খলিফার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে ইহুদির পক্ষে। যদিও খলিফা নিজেই সর্বোচ্চ বিচারক। এবং খলিফা সে বিচার মেনেও নিয়েছেন, ক্ষমতাপ্রয়োগে বিচারবিভাগকে প্রভাবিত করেননি।
» আইনভঙ্গের জন্য সম্রাট নিজের হাতে জনসমক্ষে নিজ সন্তানকে দিয়েছেন ৮০ বার চাবুকের আঘাত।[১] বলা হয়েছে: আজ যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তাহলে চুরির শাস্তি হিসেবে তার হাতও কেটে ফেলা হতো।[২] খলিফাপুত্রকেও ব্লাডমানি পরিশোধ করতে হয়েছে।[৩]
আইন খলিফার জন্যও যা, গ্রাম্য লোকের জন্যও তা।
যুবতী নারী ১৩০০ কিলোমিটার একা সফর করলেও, (অবশ্য এভাবে স্বামী কিংবা মাহরাম পুরুষ ছাড়া নারীদের একাকী সফর করা শরিয়াসম্মত নয়।) কেউ তার দিকে চোখ তুলে তাকাত না, যেখানে আগে খুন-রাহাজানি-ডাকাতি ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা।
জবাবদিহিতামূলক নিয়মতান্ত্রিক সরকার
আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতির ওপর খলিফার আনুগত্য। শরিয়া লঙ্ঘন হলে উমার রা.-কে এক আম-পাবলিকের জবাব: 'এমনভাবে আপনাকে সোজা করে দেবো, যেভাবে বাঁকা তির সোজা করা হয়।'
বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র যেন না হয়, এজন্য সর্বদিক দিয়ে যোগ্য নিজ সন্তানকে খলিফা না বানানোর আদেশ দিয়ে গেছেন উমার রা.।
খলিফার পোশাক নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন: 'সরকারি বরাদ্দে আমাদের তো পুরো পোশাক হয়নি, আপনার কীভাবে হলো'?
স্বেচ্ছাচারিতার বদলে পরামর্শসভার (শুরা) অধীন খলিফা।
অর্থনৈতিক সুষম
জমিদারি প্রথার বদলে কৃষকের মাঝে ভূমি বণ্টন করেন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু।
বাজারে মূল্য নির্ধারণ না করে প্রাকৃতিক শক্তির (চাহিদা-যোগান সম্পর্কের) ওপর ছেড়ে দেওয়া।
ব্যক্তি মালিকানার নিশ্চয়তা। আবার যাকাতের দ্বারা সম্পদের দ্বিমুখী প্রবাহ।
স্বাভাবিক ব্যবসাকে অনুমোদন। কিন্তু একচেটিয়া ব্যবসাকে (সুদ, মজুতদারি, সিন্ডিকেট, ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবসা) নিষিদ্ধকরণ।
যেখানে দারিদ্র্যসীমার অবস্থা এমন যে, যাকাত নেওয়ার জন্য খুজেও লোক পাওয়া যায়নি।[১]
নারীকে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক মর্যাদা
পারিবারিকভাবে মা-কন্যা-বোন-স্ত্রী হিসেবে আত্মমর্যাদা ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল। কন্যা-মা-স্ত্রী-বোন হিসেবে নারীর আন্তঃব্যক্তি সম্পর্কগুলো উলটে গেল। মাটির তলা থেকে পুরুষের মাথার ওপরে চলে এলো তার অধিকার-মর্যাদা।
বলা হলো, মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত। [২]
বলা হলো, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো পবিত্রা স্ত্রী।[৩] কৃষকের কাছে যেমন জমিটুকু, [৪] দেহের জন্য যেমন পোশাকখানি।[৫] তেমনি স্ত্রীরা তোমাদের ইজ্জত-মর্যাদা-আশ্রয়-প্রশান্তি-ভরসার জায়গা। উত্তম মুমিন সে, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।[৬]
বলা হলো, কন্যা হচ্ছে আদরের মূল্যবান সম্পদ।[৭] যে ব্যক্তি ছেলেকে মেয়ের চেয়ে বেশি প্রাধান্য না দেবে, তার জন্য জান্নাত [১]
উত্তরাধিকার ও নিজ সম্পত্তির ওপর পূর্ণ এখতিয়ার পেল নারী। কুরআন বলে দিলো, পোষ্য উত্তরাধিকারী নয়; বরং মেয়ে সন্তান মিরাসের সম্পদ পাবে, পোষ্য ছেলে পাবে না। নির্দিষ্ট করে দিলো, যাতে কেউ ভায়োলেট করতে না পারে।[২] বান্দার হক নষ্ট করাকে অমার্জনীয় ঘোষণা করে দেওয়া হলো।
স্ত্রীর সম্পদ স্ত্রীর নিজের।[৩] স্বামী উলটো তাকে মোহরানা দিতে বাধ্য, তাকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। [৪] স্ত্রীর সম্পদ স্ত্রী পরিবারে খরচ করতে বাধ্য নয়।
জ্ঞানদান ও জ্ঞানলাভের অধিকার পেল। জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সুযোগ পেল।
আবুদ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু দামেশকের মসজিদে লেকচার দিতেন। আর সে লেকচারে এসে বসতেন তৎকালীন খলিফা আব্দুল মালিক নিজে।[৫]
এজলাসে ঢুকে মদিনার চিফ জাস্টিসকে কুরআনের দলিল দিয়ে চ্যালেঞ্জ করে মামলা ঘুরিয়ে দিলেন আমরাহ বিনত আব্দির রহমান রাহিমাহাল্লাহ। মামলা চলে গেল অমুসলিম আসামির পক্ষে। [১]
খলিফা উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুকে গণজমায়েতের মধ্যে কুরআনের দলিল দিয়ে চ্যালেঞ্জ করে মত পরিবর্তনে বাধ্য করলেন খাওলা বিনতু সালাবা রাযিয়াল্লাহু আনহা। [২]
রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও যোগ্য নারীদের মতামত স্বীকৃত হলো।
উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু খলিফা থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিদূষী নারীদের মতামত নিতেন।[৩]
এ ছাড়া শিফা বিনতু আব্দিল্লাহর যুক্তি-পরামর্শ খুব প্রাধান্য দিতেন, তার চৌকস বিদ্যাবুদ্ধির কারণে।[৪]
তৃতীয় খলিফা নির্বাচনে বিশেষ কিছু নারীর কাছ থেকে রায় নিয়েছেন সমন্বয়ক আব্দুর রহমান ইবনু আওফ রাযিয়াল্লাহু আনহু।[৫]
দাসশ্রেণির নতুন সামাজিক পরিচয়
৬৫ হাজার বছর ধরে চলে আসা অমানবিক দাসপ্রথাকে ইসলাম মানবিকীকরণ করে প্রায়-স্বাধীন অবস্থায় উন্নীত করেছে। খ্রিষ্টান পর্যটক ও ঐতিহাসিকেরা যেকোনো প্রকার দাসপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তাদের মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট ধারণা মেলে ইসলামের দাসপ্রথার। পর্যটক Eldon Rutter কথাটি নেগেটিভলি বললেও, তা খুব বোঝার দাবি রাখে—
“[এতে] কোনো সন্দেহ নেই, দাসপ্রথার 'মুহাম্মাদীয় সহজ ধরন' তৈরি করে তোলে 'সন্তুষ্ট দাস'। এবং ঠিক এ কারণেই আমি একে দাসপ্রথার আর সব ধরন থেকে বেশি খারাপ মনে করি, যা দাসদেরকেও নিজেদের অধীনতার ব্যাপারে সন্তুষ্ট করে তোলে। আর মালিকদেরকেও এমন করে ফেলে, যেন মানুষ কেনাবেচা কিছুই না [১]
ইতিহাসবিদ Gustave le Bon তার Arab Civilization বইয়ে বলেন—
“আমি আন্তরিকভাবে মনে করি যে, অপরাপর যেকোনো জাতির দাসপ্রথার চেয়ে ভালো ছিল মুসলিমদের দাসপ্রথা। পূর্বের দাসরা পশ্চিমের দাসদের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় ছিল। পূর্বের দাসেরা ছিল পরিবারের অংশ। যারা মুক্ত হতে চাইত, তারা মুক্তির ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারত, কিন্তু সেটা তারা চাইতোও না।
ক্যাপ্টেন রিচার্ড বার্টন ছদ্মবেশে মক্কা-মদিনা ভ্রমণ করে মন্তব্য করেন—
মুহাম্মাদীয় আইন তার অনুসারীদের আদেশ করে দাসদের সাথে সর্বোচ্চ মৃদু ব্যবহার করতে। আর মুসলিমরা সাধারণত তাদের নবির কথা যথাযথ পালন করে। দাসদেরকে পরিবারের সদস্যই মনে করা হয়। যেসব বাসাবাড়িতে মুক্ত কাজের লোকও থাকে, সেখানে দাসরা পাইপে জল ভরা, কফি পরিবেশন, বাইরে বের হবার সময় মালিকের সাথে থাকা, দুপুরে ঘুমের সময় পা টেপা, মাছি তাড়ানো-এসব ছাড়া অন্যান্য কাজ কমই করে। কোনো দাস সন্তুষ্ট না থাকলে, আইনত মালিককে বাধ্য করতে পারে তাকে বিক্রি করতে অন্য কোথাও। থাকা-খাওয়া-পরা নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই। তাদের কোনো ট্যাক্স নেই। সেনাবাহিনীতে যেতে হয় না, খাজনাপাতি দিতে হয় না। দাসত্ব সত্ত্বেও তারা মিশরের সবচেয়ে মুক্ত লোকের চেয়েও মুক্ত। আমি মনে করি, এই কথাগুলো সত্য। কিন্তু তবু দাসপ্রথা ব্যাপারটা প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যায়।
টিকাঃ
[১] কাজি শুরাইহ নামে তিনি প্রসিদ্ধ। খলিফা উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে প্রথম ফয়সালা দেন কেনা ঘোড়া ফেরত দেবার ব্যাপারে এক বেদুঈনের দায়ের করা মামলায়। বিমুগ্ধ খলিফা বড় বড় সাহাবি বর্তমান
[১] হিজরি ১৪ সনে খলিফা উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু নিজ পুত্র উবাইদুল্লাহকে মদ্যপানের অপরাধে বেত্রাঘাত করেন (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়া, ই.ফা., খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৯৪) আরেক সন্তান আব্দুর রহমান ওরফে আবু শাহমাকে মদ্যপানের অপরাধে বেত্রাঘাত করেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১ মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। (মুসান্নাফু ইবনি আব্দির রাযযাক: ১৭০৪৭)
[২] আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, মাখযুম গোত্রের এক নারী চুরি করলে তার (ওপর চুরির হদ হিসেবে হাতকাটার শাস্তি প্রয়োগের) ব্যাপারে কুরাইশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুলল। এ অবস্থায় তারা বলাবলি করতে লাগল, এ (শাস্তি মওকুফ করার) ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কে আলাপ করতে পারে? তারা বলল, एकमात्र রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয়তম উসামা বিন যায়িদ রাযিয়াল্লাহু আনহুই এ ব্যাপারে আলোচনা করার সাহস করতে পারেন। এরপর উসামা রাযিয়াল্লাহু আনহু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে (নারীর শাস্তি মওকুফের বিষয়ে) কথা বললেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রাগান্বিত হয়ে) বললেন, তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদের (শাস্তি মওকুফ করার) ব্যাপারে সুপারিশ করছ? এরপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে ভাষণে বললেন, তোমাদের পূর্বের জাতিসমূহকে এ কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো অভিজাত লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অন্যদিকে যখন কোনো অসহায় গরিব সাধারণ লোক চুরি করত, তখন তার ওপর হদ (আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি) জারি করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত তাহলে (চুরির শাস্তিস্বরূপ) আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম। (সহিহ বুখারি: ৩৪৭৫; সহিহ মুসলিম: ১৬৮৮)
[৩] উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার অভিযোগে তার ছেলে উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু রাগের মাথায় হত্যা করে ফেলেন নওমুসলিম পারসি হরমুযান ও খ্রিষ্টান জাফিনাকে। নতুন খলিফা উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু তাদের ব্লাডমানি (দিয়াত) হিসেবে উবাইদুল্লাহর পক্ষ থেকে ১০০ উট প্রদান করেন।
[১] আদি ইবনু হাতিম থেকে তিরমিযির বর্ণনা, নবিজি বললেন, যার অধিকারে আমার জীবন তার কসম, আল্লাহ অবশ্যই এ দ্বীনকে এমন পূর্ণতা দেবেন একাকিনী নারী হাওদার ওপর চড়ে সুদূর হিরা শহর থেকে এসে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে। কোনো লোকের আশ্রয় দানের প্রয়োজন তার হবে না। ... আদি ইবনু হাতিম রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এই তো আমি দেখছি হাওদানশিন নারী কারো নিরাপত্তা সঙ্গ ছাড়াই হিরা থেকে এসে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে যাচ্ছে। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়া ই.ফা., খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১২৯-১৩০
[১] ফিকহুয যাকাত, শাইখ ড. ইউসুফ আল-কারযাভি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৬, ১৪৬। A number of scholars claimed that during the period of Umar bin Al-Khattab (13-22H) and Umar bin Abdul Aziz (99-101H) poverty is completely eliminated (Ahmed, 2004; Hidayati &Tohirin, 2010; Md. Isa, 2011; Qaradawi, 1999)
[২] সুনানুন নাসায়ি: ৩১০৪, সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৭৮১; মুসতাদরাকুল হাকিম: ২৫০২, ৭২৪৮; মুসনাদু আহমাদ: ১৫৫৩৮; শুআবুল ঈমান: ৭৪৪৮, ৭৪৪৯। হাদিসটির সনদ হাসান
[৩] সহিহ মুসলিম: ১৪৬৭; সুনানুন নাসায়ি: ৩২৩২; সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৮৫৫; সহিহু ইবনি হিব্বান : ৪০৩১; মুসনাদু আহমাদ: ৬৫৬৭
[৪] তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র [সুরা বাকারা, আয়াত: ২২৩]
[৫] 'তারা তোমাদের পোশাক, তোমরাও তাদের পোশাক।' [সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭]
[৬] জামি তিরমিযি ১১৬২ ও ৩৮৯৫ (ihadis) সহিহ ইবনি হিব্বান ৪১৭৬; আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৪৪২০; শুআবুল ঈমান: ২৭, ৭৬১২। হাদিসটির সনদ হাসান।
[৭] لا تكرهوا البنات, فإنهن المؤنسات الغاليات [٩] তোমরা কন্যাসন্তানদের অপছন্দ কোরো না। কারণ তারা অন্তরঙ্গ, মিশুক ও অমূল্য ধন। [মুসনাদ আহমাদ:
[১] ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তির ঘরে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে সে যদি তাকে জীবন্ত কবর না দেয়, তাকে অবজ্ঞা না করে এবং তার পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য না দেয় তাহলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (সুনানু আবি দাউদ: ৫১৪৬; মুসনাদু আহমাদ: ১৯৫৭; মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা: ২৫৪৩৫; শুআবুল ঈমান: ৮৩২৬। হাদিসটির সনদ যইফ।
[২] মাতা-পিতা এবং আত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে; আর মাতা-পিতা এবং আত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে, তা অল্পই হোক বা বেশি, এক নির্ধারিত অংশ। [সুরা নিসা, আয়াত: ০৭]
[৩] পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ।...[ সুরা নিসা, আয়াত: ৩২]
[৪] আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মাহর দিয়ে দাও খুশিমনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো। [সুরা নিসা, আয়াত : ০৪]
[৫] আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়া সূত্রে Al-Muhaddithat, Shaykh Akram Nadwi, page: 150 তবে একে আজকের ফ্রিমিক্সিং সেমিনার, কো অ্যাডুকেশন কিংবা সেক্যুলার ইন্সটিটিউটে নারীদের ব্যাপক
[১] আমরাহ বিনতু আব্দির রহমান রাহিমাহাল্লাহ ছিলেন তাবিয়িয়া ও মুহাদ্দিসা ফকিহা। মুয়াত্তা ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহর বরাতে প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ২৭৯। এই ঘটনাগুলো দ্বারা নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির যে বিরাট পরিবর্তন সেটা বোঝানো উদ্দেশ্য; তবে ব্যাপকহারে নারীরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা ও বিচারিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন এমন দৃষ্টান্ত সালাফের যুগে নেই। এখানে নারী মুহাদ্দিস একটি হাদিস জানতেন, যা তিনি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। কাজি দলিলটি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ জ্ঞানশাস্ত্রে নারীর গ্রহণযোগ্যতা ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছে। বহু যশস্বী মুহাদ্দিস নারী শিক্ষিকাদের থেকে হাদিস শিখেছেন। এর মানে এই নয় যে, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে নারীকে অংশ নিতে দিতে হবে, যেমনটি অনেক সংস্কারবাদী মুসলিম দাবি করেন।
[২] আল-ইস্তিয়াব, ইবনু আব্দিল বার রাহিমাহুল্লাহ সূত্রে প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ২৮৯
[৩] ইবনু সিরিন রাহিমাহুল্লাহর বর্ণনা। বাইহাকি রাহিমাহুল্লাহর আস-সুনানুল কুবরা, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১১৩ সূত্রে কুরআন হাদিসের আলোকে নারী, ড. মাহবুবা রহমান, ই.ফা. পৃষ্ঠা: ৯৬
[৪] আল্লামা ইবন আব্দিল বার রাহিমাহুল্লাহর বিবরণ। আল-ইস্তিয়াব, খন্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ১৮৬৮ সূত্রে প্রাগুক্ত
[৫] আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহু তাদের সম্পর্কে জনগণের সাথে পরামর্শ করেন। মুসলিমদের বিশিষ্ট নেতাকর্মীদের মতামতের নিরিখে সাধারণ মুসলিমদের সমষ্টিগত ও পৃথক পৃথকভাবে
[১] Eldon Rutter (1933) Slavery in Arabia, Journal of The Royal Central Asian Society, 20 : 3, 315-332
[২] Gustave le Bon, Arab Civilization, page : 459-460
[১] Captain Sir Richard F. Burton (1893), Personal Narrative Of A Pilgrimage To Al-Madinah And Meccah
📄 নাজাত ও আধ্যাত্মিকতার নতুন ধারণা
আদর্শগতভাবে অতিভাববাদী খ্রিষ্টধর্ম আর অতিবস্তুবাদী পশ্চিমা সভ্যতার ঠিক মাঝখানে অবস্থান ইসলামের। আল্লাহ খোদ মুসলিমদের সম্বোধন করেছেন 'মধ্যপন্থি' উম্মত হিসেবে। ইসলামে আধ্যাত্মিকতা জগৎ-মায়া-চাহিদাকে ত্যাগ করে নয়, এগুলোকে সাথে নিয়ে এগুলোর ভেতরেই আধ্যাত্মিকতা।
মায়া ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক উন্নতি হবে না। আল্লাহর বিধান মোতাবেক মায়ার যথার্থ লালনেই চূড়ান্ত মুক্তি।
মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। [২]
পিতা জান্নাতের দরজা।[৩]
সেই শ্রেষ্ঠ মুমিন যার ব্যবহার ভালো, তার ব্যবহারই ভালো যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।[১] কেবল গরিব-দুঃখী, ধর্মপ্রতিষ্ঠানে দিলেই সাদাকা, তা না। স্ত্রীর মুখে তুলে দেওয়া লোকমাও সাদাকা। স্ত্রীর জন্য খরচেরও উত্তম বদলা দেওয়া হবে আখিরাতে।[২]
কন্যা সন্তান লালনে জান্নাতের ওয়াদা।[৩]
উত্তম সন্তান সাদাকায়ে জারিয়া।[৪]
প্রতিবেশীর হক এত বেশি বলা হয়েছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশঙ্কা করেছেন, প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ না বানিয়ে দেওয়া হয়।[৫]
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।[৬]
■ নাজাতের ও আধ্যাত্মিক উন্নতির শ্রেষ্ঠ সব চর্চা এই লোক-সমাজের মাঝে থেকেই করতে হয়-
» ইলম চর্চা
» জামাআতে সালাত
» জুমআ ও ঈদের সালাতে বাধ্যবাধকতা
» দান-খয়রাত, মিসকিন খাওয়ানো
» জিহাদ
■ 'তোমরা নিজ হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ফেলো না' [১]-ইসলামের একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি। এমন কিছু করা যাবে না, যা ধ্বংসের মুখে, ক্ষতির মুখে, অহেতুক কষ্টের মুখে ফেলে দেয়। মানুষের স্বাভাবিক চাহিদাকে অবদমন করে।
» পেটে ক্ষুধা থাকাবস্থায় খাবার প্রস্তুত হয়ে গেলে, আগে খাবার খেয়ে নাও; যদিও ওদিকে সালাতের ইকা-মত শুরু হয়ে যায়।[২]
» সাহারি খাওয়াটাও সাওয়াবের কাজ। এতে অনেক বারাকাহ আছে।[৩] সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যতটা দেরি করে খাওয়া যায়।[৪]
» ইফতার যত দ্রুত সম্ভব, তত সাওয়াব, তত কল্যাণ। [৫]
» সিয়ামের রাতে স্ত্রী সহবাস অনুমোদিত। [৬]
■ খ্রিষ্টবাদে পাদরিদের বিয়ে যেখানে নিষেধ, তার বিপরীতে ইসলামে বিয়েই পূরণ করে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের অর্ধেক। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِذَا تَزَوَّجَ العَبدُ فَقَد استكملَ نِصْفَ الدِّينِ فَلْيَتَّقِ اللَّهَ في النصف الباقي
বান্দা যখন বিয়ে করে, তখন তার অর্ধেক দ্বীন (ঈমান) পূর্ণ করে হয়ে যায়। অতএব বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে চলে।[১]
তিনজন সাহাবি একবার আম্মাজানদের কাছে এসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৈনন্দিন আমল সম্পর্কে জানতে চান। জানার পর তারা নবিজির আমলকে কম মনে করলেন, তিনি তো নবি, তার জন্য ওটুকুই যথেষ্ট, কিন্তু আমাদের বাঁচতে হলে ওটুকুতে চলবে?
একজন শপথ করে ফেললেন, আমি লাগাতার সিয়াম রাখব, কখনো সিয়াম ভাঙব না। আরেকজন বললেন, আমি রোজ সারারাত ইবাদত করব, একদম ঘুমাব না। আরেক জন প্রতিজ্ঞা করলেন, আমি কোনোদিন নারীর কাছে যাব না, কোনোদিন বিয়ে করব না।
ঘটনাচক্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কানে কথাগুলো পৌঁছে গেল। তিনি তাদেরকে ডাকালেন।
- তোমরা কি এমন এমন বলেছ?
- জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
- তাহলে শুনে রাখো। তোমাদের মধ্যে আমিই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি। সেই আমি (কিছুদিন) সিয়াম রাখি, আবার (কিছুদিন) রাখিও না। রাতের কিছু অংশে (নফল ও তাহাজ্জুদ) সালাত আদায় করি, আবার কিছু অংশে ঘুমাই। নারীদেরকে আমি বিয়েশাদিও করি। কান খুলে শোনো, এগুলো আমার সুন্নাহ। যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, সে আমাদের কেউ না।
অর্থাৎ আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি। সেই আমিই শরীরের চাহিদাকে অস্বীকার করি না। ইবাদতও করি, আবার শরীরকেও কষ্ট দিই না।
'প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত বিষয় বিদআত, প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতাই (মানুষকে) জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। [১] নিজ থেকে নতুন কোনো পদ্ধতি তৈরি করে তাতে নাজাত তালাশ করা যাবে না। অতিরিক্ত কিছু করে আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। নিজেকে অহেতুক কষ্ট দিয়ে, শরীরকে অহেতুক বঞ্চিত করে নাজাত তো মিলবেই না, উলটো জাহান্নাম মিলবে।
ইসলামে প্রতিটি পার্থিব কাজই আধ্যাত্মিকতার সোপান। প্রতিটি দুনিয়াবি কাজও ধর্মীয় কাজ, আখিরাতের কাজ। খ্রিষ্টবাদের মতো 'ধর্মীয় কাজ আর পার্থিব কাজের মধ্যে পার্থক্য' ইসলাম স্বীকার করে না। একান্ত ব্যক্তিগত অভ্যাস, টয়লেট সারা, স্ত্রীসংসর্গ থেকে নিয়ে চুল কাটা, পোশাক-পরিচ্ছদ, সন্তান-লালন, ব্যবসা, আইন-বিচার, রাষ্ট্রব্যবস্থা, সরকার-গঠন, যুদ্ধ-প্রতিটি কাজ, যা একজন মানুষকে করতে হয়, সবই ধর্মীয় কাজ, দ্বীনের কাজ। এসব কাজ যদি কেউ আল্লাহ ও রাসুলের দেখানো নীতিমালা মেনে করে, আল্লাহকে খুশি করার জন্য করে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণে করে, তাহলে খাওয়াটাও ইবাদত হয়ে যায়, পোশাকটাও হয়ে যায় ইবাদত। এসবের জন্যও সাওয়াব হতে থাকে, আল্লাহর নৈকট্য পেতে থাকে এবং মৃত্যুর পর এগুলোর বিনিময়ে মহাপুরস্কারের আশা করতে পারে।
টিকাঃ
[২] সুনানু নাসায়ি: ৩১০৪; সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৭৮১; মুসতাদরাকুল হাকিম: ২৫০২, ৭২৪৮; মুসনাদু আহমাদ: ১৫৫৩৮; শুআবুল ঈমান: ৭৪৪৮, ৭৪৪৯। হাদিসটির সনদ হাসান।
[৩] জামি তিরমিযি: ১৯০০; সুনানু ইবনি মাজাহ: ২০৮৯, ৩৬৬৩; মুসতাদরাকুল হাকিম: ২৭৯৯, ৭২৫১, ৭২৫২; সহিহ ইবনি হিব্বان: ৪২৫; মুসনাদু আহমাদ: ২১৭১৭, ২১৭২৬, ২৭৫১১, ২৭৫২৮, ২৭৫৫২; মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা: ২৫৪০০। হাদিসটি সহিহ।
[১] সর্বাধিক পরিপূর্ণ মুমিন সে, যার ব্যবহার-চরিত্র ভালো, আর (ব্যবহার-চরিত্রে) যে নিজের স্ত্রীর কাছে উত্তম সেই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। জামি তিরমিযি: ১১৬২ ও ৩৮৯৫; সহিহু ইবনি হিব্বান: ৪১৭৬; আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৪৪২০; শুআবুল ঈমান: ২৭, ৭৬১২। হাদিসটির সনদ হাসান।
[২] 'সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে যা-ই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান নিশ্চিতরূপে প্রদান করা হবে; এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও।' (সহিহ বুখারি: ৫৬) 'আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি একটি দিনার আল্লাহর পথে ব্যয় করলে, একটি দিনার দাসমুক্তির জন্য ব্যয় করলে, একটি দিনার মিসকিনদের দান করলে এবং একটি দিনার তোমার স্ত্রী-পরিবারের জন্য ব্যয় করলে। এগুলোর মধ্যে সাওয়াবের দিক থেকে ওই দিনারটিই সর্বোত্তম, যা তুমি তোমার স্ত্রী-পরিবারের জন্য ব্যয় করেছ।' (সহিহ মুসলিম: ৯৯৫)
[৩] সহিহ মুসলিম: ১৬৩১; সুনানু আবি দাউদ: ২৮৮০; জামি তিরমিযি: ১৩৭৬; সুনানু নাসায়ি: ৩৬৫১; সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৪১, ২৪১; মুসনাদু আহমাদ: ৮৮৪৪
[৪] মুসতাদরাকুল হাকিম: ৭৩৪৬; মুসনাদু আহমাদ: ১৪২৪, ১৪২৪৭; মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা : ২৫৪৪০; শুআবুল ঈমান: ৮০১১; আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৬১৯৯। হাদিসটি হাসান
[৫] সহিহ বুখারি: ৬০১৪, ৬০১৫; সহিহ মুসলিম: ২৬২৫; সুনানু আবি দাউদ: ৫১৫২; জামি তিরমিযি : ১৯৪২, ১৯৪৩; সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৬৭৩, ৩৬৭৪
[৬] সহিহ বুখারি: ৫৯৮৪; সহিহ মুসলিম: ২৬৫৬; সুনানু আবি দাউদ: ১৬৯৬; জামি তিরমিযি : ১৯০৯; মুসনাদু আহমাদ: ১৬৭৩২, ১৬৭৩৩, ১৬৭৬৩, ১৬৭৭২
[১] সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫
[২] সহিহ বুখারি : ৬৭১, ৬৭২, ৬৭৩, ৫৪৬৩, ৫৪৬৫; সহিহ মুসলিম: ৫৫৭, ৫৫৯, ৫৬০; সুনানু আবি দাউদ : ৮৯; জামি তিরমিযি : ৩৫৩; সুনানু নাসায়ি : ৮৫৩; সুনানু ইবনি মাজাহ : ৯৩৩
[৩] সহিহ বুখারি: ১৯২৩; সহিহ মুসলিম: ১০৯৫; সুনানু আবি দাউদ: ২৩৪৪, ২৩৪৫; জামি তিরমিযি: ৭০৮; সুনানু নাসায়ি: ২১৪৪, ২১৪৬, ২১৪৭, ২১৪৮, ২১৪৯, ২১৫০, ২১৫১; সুনান ইবনি মাজাহ: ১৬৯২; মুসনাদু আহমাদ: ৮৮৯৮, ১০১৮৫, ১১২৮১, ১১৯৫০, ১৩২৪৫, ১৩৩৯০, ১৩৫৫১, ১৩৭০৪, ১৩৯৯৩
[৪] সহিহ বুখারি: ১৯২১; সহিহ মুসলিম: ১০৯৭; জামি তিরমিযি ৭০৩; সুনানু নাসায়ি: ২১৫৫, ২১৫৬; সুনানু ইবনি মাজাহ ১৬৯৪; সহিহ ইবনি খুজাইমা ১৯৪১; সুনানুদ দারিমি: ১৭৩৭
[৫] সহিহ বুখারি: ১৯৫৭; সহিহ মুসলিম: ১০৯৮; জামি তিরমিযি ৬৯৯; সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৬৯৮; মুসনাদু আহমাদ: ২২৮০৪, ২২৮২৮, ২২৮৪৬, ২২৮৫৯, ২২৮৭০
[৬] সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭
[১] শুআবুল ঈমান, বাইহাকি: ৫১০০, আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৭৬৪৭, ৮৭৯৪; মুজামুশ শুয়ুখ, ইবনু জুমা'ই আস-সাইদাবি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২২২; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৯
[২] সহিহ বুখারি: ৫০৬৩; সহিহ মুসলিম: ১৪০১; সুনানু নাসায়ি: ৩২১৭; মুসনাদু আহমাদ : ১৩৫৩৪, ১৪০৪৫; সহিহু ইবনি হিব্বান: ৩১৭
[১] সহিহ মুসলিম: ৮৬৭; সুনানু নাসায়ি ১৫৭৮; সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪৫; মুসনাদু আহমাদ: ১৪৩৩৪; ১৪৯৮৪; সহিহু ইবনি খুযাইমা: ১৭৮৫
📄 খ্রিষ্টীয় পোপতন্ত্র vs ইসলামি খিলাফত
অনেকে খ্রিষ্টীয় পোপতন্ত্র ও ইসলামি শাসনকে Theocracy শিরোনামের অধীনে একই রকম মনে করেন। এই মৌলিক পার্থক্যগুলো না বুঝলে ইতিহাস পড়ার কোনো মানে নেই।
দুনিয়া-রাজ্য ও ধর্মরাজ্য পৃথক জিনিস। একসাথে মেলানো যাবে না—যীশুর ভাষায়: 'Render unto GOD that is GOD's. And render unto Caeser that is Caeser's [২] পরবর্তী সময়ে স্কলাস্টিক খ্রিষ্টবাদীদের মতেও City of God আর City of Man আলাদা। ধর্মরাজ্য শাসনের জন্য পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের মতো প্যারালাল আরেকটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা এই চার্চ বা যাজকতন্ত্র। পোপ এখানে ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তিনি দেশে দেশে নিয়োগ দেন আর্চবিশপ। আর্চবিশপেরা নিয়োগ দেন স্থানীয় গির্জাপ্রধান ও মঠাধ্যক্ষদের। এরা ধর্মভীরু সাধারণ মানুষের ওপর সীমাহীন প্রভাব রাখত। সমান্তরাল ব্যবস্থার দরুন এদেরকে সন্তুষ্ট রাখা জরুরি ছিল রাজা-জমিদারদের জন্য। বিপরীতে এরাও রাজাকে ‘ঐশ্বরিক প্রতিনিধি’ হিসেবে মেনে নিতে জনগণকে উৎসাহিত করত। এভাবে এক মিথোজীবী প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করেছিল পোপতন্ত্র।
বিপরীতে ইসলামি খিলাফত ব্যবস্থা কোনো প্যারালাল ব্যবস্থা নয়। ইসলামে দুনিয়ারাজ্য ও ধর্মরাজ্য একই জিনিস। দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র বা পরীক্ষাগার। পার্থিব প্রতিটি বিষয়ই ধর্মের আলোচ্য বিষয়। কেবল বিশ্বাস ও প্রথা-অনুষ্ঠান নয়, পরিবার-রাষ্ট্র-সমাজ-বাজার-যুদ্ধ-বিচার সবকিছুই ধর্ম। সুতরাং, এখানে খলিফা একইসাথে ধর্মীয় প্রধান এবং রাষ্ট্রপ্রধান। খলিফার বৈধ সিদ্ধান্ত অনুসরণ জনগণের ধর্মীয় দায়িত্ব। তবে খলিফার এই সিদ্ধান্ত একচ্ছত্র ও স্বেচ্ছাচারী নয়। খলিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয়-
১. কুরআন-সুন্নাহ তথা শারিয়া দ্বারা (শারিয়াবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মানতে জনগণ বাধ্য নয়)
২. পরামর্শ পরিষদ দ্বারা (আহলে শুরা)
৩. আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ দ্বারা (খলিফা নির্বাচক যারা)
৪. খলিফার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ ও হিসেব চাওয়ার অধিকার প্রতিটি মুসলিমের
উদাহরণ-
» খলিফা উমারকে গণজমায়েতের মধ্যে দলিল দিয়ে চ্যালেঞ্জ করে মত পরিবর্তনে বাধ্য করলেন খাওলা বিনতু সালাবা রাযিয়াল্লাহু আনহা। [১]
» উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর নতুন পোশাক নিয়ে হিসাব চাইলেন এক বেদুইন।
উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু জানতে চাইলেন, 'যদি আমি কুরআন-হাদিসের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিই, তোমরা কী করবে?' একজন জবাব দিলেন, 'বাঁকা তির যেভাবে সোজা করে, সেভাবে আপনাকে সোজা করে দেবো।'
পরে খিলাফতের পরিবর্তে রাজতন্ত্রের উদ্ভব হলো, তখনো 'শাইখুল ইসলাম'-এর মতামত ও অনুমোদনকে খলিফাগণ জরুরি মনে করতেন। আর বিচারিক কার্যাবলী পুরোটাই দেখভাল করতেন প্রধান কাজি, যিনি হতেন সামসময়িক শ্রেষ্ঠ ফকিহদের একজন, যে বিচারের আওতার বাইরে স্বয়ং খলিফাও ছিলেন না।
মিথোজীবিতা যে একদমই ছিল না, তা বলা সমীচীন নয়; তবে এমন প্রাতিষ্ঠানিক মিথোজীবিতা (চার্চ-রাষ্ট্র) ছিল না, যেহেতু চার্চের মতো পৃথক কোনো প্রতিষ্ঠানই ছিল না। আলিম-সমাজ কোনো প্যারালাল ব্যবস্থা ছিল না। সুলতানদের শারিয়া-বিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদ করাকে আলিমগণ ঈমানি দায়িত্ব মনে করতেন ও সুস্পষ্ট ভাষায় প্রতিবাদ করতেন। এর প্রমাণ হলো: ইসলামি সভ্যতায় আলিমদের ব্যাপক কারাবরণ। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল, ইমাম ইবনু তাইমিয়া, ইমাম মালিক, ইবনুল কাইয়িম, ইবনু কাসির, ইবনু হাজার আসকালানি, ইবনু হাযম, ইবনুল আসির-সহ অধিকাংশ বড় বড় আলিমকে শাসকের শারিয়াহ-বিরোধী কাজের বিরোধিতা করার জন্য কারাবরণ করতে হয়েছে। এছাড়া নিহত ও দেশান্তরিত আলিমদের সংখ্যাও প্রচুর।
সুতরাং, পোপতন্ত্র ও ইসলামি শাসনকে এক করে ফেলা নিতান্তই শিশুসুলভ ইতিহাস পাঠ। পোপতন্ত্রের স্বতন্ত্র আরো দুটি দিক হলো : বাইবেল থেকে সাধারণকে দূরে রাখা। মার্টিন লুথার জার্মানে অনুবাদ করার আগে শুধু ল্যাটিনেই বাইবেল পাঠ করা হতো, যাতে আম-পাবলিকের প্রবেশাধিকার ছিল না। আর দ্বিতীয়ত, নিজস্ব কিংবা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ হাসিলের অনুকূল ব্যাখ্যা দেওয়া, ধর্মের নামে। পোপতন্ত্র ও আলিম-সমাজ, দুটো যে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী, তার প্রমাণ হলো ইসলামি শাসনের অধীনে ইসলামি সভ্যতার অবস্থা পোপতন্ত্রের অধীনে ইউরোপের অবস্থার ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত।
ইউরোপ এনলাইটেনমেন্টে এসে যে লাগামছাড়া উন্নত আইডিয়াগুলোর কথা বলছে; ইসলাম সেই ৭ম শতকে বসে তার চেয়ে বহুগুণে উন্নত আইডিয়ার কথা বলছে।
এনলাইটেনমেন্ট সমতা ব্যক্তিস্বাধীনতা যুক্তির প্রভুত্ব মানবজ্ঞানভিত্তিক লাগামহীন প্রগতি সাংবিধানিক অধিকাংশের সরকার সমতাভিত্তিক সমাজ সংশয় থেকে শুরু সর্বোচ্চ ও সর্বাধিকের উপভোগ ব্যবসার বিধিনিষেধ বিলোপ
সুষমতা ইসলাম
সামষ্টিক স্বার্থ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যালেন্স মানবযুক্তির সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে যুক্তিপ্রয়োগ নৈতিকতা-নিয়ন্ত্রিত প্রগতি আইনের অধীনস্থ যোগ্যতাভিত্তিক সরকার ইনসাফভিত্তিক সমাজ যুক্তিগ্রাহ্য বিশ্বাস থেকে শুরু সংযমী ভোগ ব্যবসার অনুমোদন ও ধরন নিয়ন্ত্রণ
এনলাইটেনমেন্টের চিন্তাধারার মূল সমস্যাগুলোর সমাধান ইসলামে রয়েছে, যা নিছক তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তবায়নযোগ্য। কারণ ইসলাম স্রেফ কিছু দার্শনিকের চিন্তার সমষ্টি নয়, ইসলাম সুশৃঙ্খল এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার পাঠানো সুশৃঙ্খল জীবন-ব্যবস্থাপনার প্রেসক্রিপশন। ওষুধ খেলে সুস্থ থাকবে মানবজাতি, ওষুধ না খেলে রোগ বাড়বে।
ইউরোপের সাথে মুসলিম বিশ্বের অভিজ্ঞতার এই পার্থক্যটা মুসলিমদের বুঝতে হবে। ইউরোপ শিকল খুলে ফেলেছে আর আমরা খুলে ফেলেছি সোনার হার। রাষ্ট্র থেকে চার্চকে সরিয়ে ইউরোপ মাথা থেকে বোঝা নামিয়েছে আর সেই অনুকরণ করে আমরা মাথা থেকে নামিয়েছি মুকুট। ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট ইউরোপের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ফল, আমাদের অভিজ্ঞতা এমন নয়। তাহলে কেন ইউরোপের ফর্মুলা, তাদের লাগামছাড়া ‘উন্নত’ মূল্যবোধ, লাগামছাড়া প্রগতির সংজ্ঞা, ভালোমন্দের মাপকাঠি আমাকে মেনে নিতে হবে? কোন যুক্তিতে ইউরোপ তার একান্ত নিজস্ব অভিজ্ঞতা মেনে নিতে আমাদেরকে বাধ্য করছে? কেন ইউরোপীয় ধাঁচের রাষ্ট্রই আমাদের হতে হবে, কেন ইউরোপীয় ধাঁচের গণতন্ত্রই আমাদের লাগবে, কেন ইউরোপীয় বিজ্ঞান-দর্শন মেনে নিয়ে আমাকে বিজ্ঞান করতে হবে, কেন ইউরোপীয় স্কেলেই আমার উন্নতি মাপতে হবে, কেন ইউরোপের নারীদের মতোই স্বাধীন হতে হবে আমাদের নারীদের? কেন ইউরোপীয় স্টাইলের সমাজ-পরিবার-ব্যক্তিই হতে হবে আমাদের? কেন আমরা আমাদের মতো হতে পারব না?
দেখো না ইউরোপ কত উন্নত! ওদের মতন উন্নত-সভ্য হতে হলে আমাদেরকেও ওদের পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। তাই নাকি? ওরা কি এসব সমতা-স্বাধীনতা-ভ্রাতৃত্ব করেই উন্নত হয়েছে? আসলেই?
টিকাঃ
[২] Mark 12:17
[১] আল-ইস্তিয়াব, ইবনু আব্দিল বার রাহিমাহুল্লাহ সূত্রে প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ২৮৯; সাখিরাতুল উকবা শারহু সুনানিন নাসায়ি, খণ্ড: ২৯; পৃষ্ঠা: ৬৭-৬৮