📄 একের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না
অমুসলিমদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায়পরায়ণতার একটি দিক এটাও ছিল যে, তিনি এক জনের অপরাধের কারণে সামষ্টিকভাবে সকলকে শাস্তি দিতেন না। প্রত্যেক গোত্রেই ভালো-মন্দ উভয় শ্রেণির লোকই রয়েছে। প্রত্যেক দলেই বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসঘাতক উভয় প্রকৃতির লোক থাকে। অপরাধ যত বড়ই হোক কখনোই তিনি একজনের অপরাধের কারণে অন্যকে অভিযুক্ত করতেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ ﴾ [المدثر: ٣٨]
"প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী।” [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮]
তিনি আরো বলেন, وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى [الانعام: ١٦٤]
"একের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৬৪]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে এ বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে বীরে মা'ঊনার ¹⁴⁴ যুদ্ধের পরে সাহাবী আমর ইবন উমাইয়া আদ-দ্বমরী ¹⁴⁵ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সংশ্লীষ্ট ঘটনাটি। পুরো ঘটনাটি আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ رِعْلٌ وَذَكْوَانُ وَعُصَيَّةٌ وَبَنُو لَحْيَانَ فَزَعَمُوا أَنَّهُمْ قَدْ أَسْلَمُوا وَاسْتَمَدُّوهُ عَلَى قَوْمِهِمْ فَأَمَدَّهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعِينَ مِنْ الْأَنْصَارِ قَالَ أَنَسٌ كُنَّا نُسَمِّيهِمُ الْقُرَّاءَ يَحْطِبُونَ بِالنَّهَارِ وَيُصَلُّونَ بِاللَّيْلِ فَانْطَلَقُوا بِهِمْ حَتَّى بَلَغُوا بِثْرَ مَعُونَةً غَدَرُوا بِهِمْ وَقَتَلُوهُمْ فَقَنَتَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَبَنِي لَحْيَانَ »
"রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রি'ল, যাকওয়ান, 'উসাইয়া ও বানু লাহইয়ান গোত্রের কিছু লোক এসে বলল, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং তারা তাঁর নিকট তাদের সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় সাহায্য প্রার্থনা করলো।
তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্তর জন আনসার পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, আমরা তাদের ক্বারী নামে আখ্যায়িত করতাম। তারা দিনের বেলায় লাকড়ী সংগ্রহ করতেন, আর রাত্রিকালে সালাতে মগ্ন থাকতেন। তারা তাঁদের নিয়ে রওয়ারা হয়ে গেল। যখন তাঁরা বীরে মা'উনা নামক স্থানে পৌঁছালো, তখন তারা বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং তাঁদের হত্যাকরে ফেলল। এ সংবাদ শোনার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রি'ল, যাকওয়ান ও বানু লাহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে দো'আ করে একমাস যাবত কুনূতে নাযিলা পাঠ করেন।"¹⁴⁶
এটি মুসলিমদের জন্য অনেক বড় দূর্ঘটনা। গাদ্দারীর ফলস্বরূপ সত্তর জন সাহাবীকে জীবন দিতে হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে এ পরিমাণ ব্যথা পেলেন যে, তিনি একমাস যাবৎ সেসব বিশ্বাসঘাতকদের জন্য বদ-দো'আ করেছেন। এ ধরণের ঘটনা তাঁর জীবনে এ একটিই। ভাবুন তো! কী পরিমাণ ব্যথা পেলে তিনি শত্রুপক্ষকে অভিশাপ দিতে পারেন..!!
এ হত্যাযজ্ঞ থেকে একজন সাহাবী শুধু মুক্তি পেলেন। তিনি হলেন আমর ইবন উমাইয়া আদ-দ্বামরী রাদিয়াল্লাহু আনহু। আমের ইবন তোফায়েল¹⁴⁷ তার মায়ের ওপর একটি গোলাম মুক্ত করার যিম্মা ছিল বলে আমর ইবন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মুক্তি দিয়ে দিল। আমর ইবন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু 'আনহু মদীনায় ফিরে আসলেন। ফেরার পথে তিনি সত্তর জন সাহাবী হত্যায় জড়িত থাকা বানু সুলাইমের একটি শাখা গোত্র বানু আমেরের দুই মুশরিককে পেয়ে গেলেন। তিনি মনে করলেন যে, এদের হত্যা করতে পারলে কিছুটা হলেও সাথীদেরকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তাই এ দু'জনকে হত্যা করে ফেললেন। পরক্ষণেই তার মনে পড়লো যে, এরা তো চুক্তিবদ্ধ। এদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাপত্তা দিয়েছেন। তাই তিনি দ্রুত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে পুরো ঘটনা জানালেন।
প্রিয় পাঠক! চলুন দেখি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিক্রিয়া কী ছিল..?
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহুর্তের মধ্যেই সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গেলেন। আবেগ, অনুভূতি ও প্রবৃত্তিকে ঝেড়ে ফেলে বিবেক ও ধর্মীয় বিধান কার্যকরী করতে ব্রতী হয়ে ওঠলেন। তিনি আমর ইবন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, তুমি যে দু'জনকে হত্যা করে ফেলেছ আমি তাদের রক্তপণ আদায় করে দেব। ১৪৮
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত দু'জনের পরিবারকে রক্তপণ আদায় করতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন..!!
তিনি তো এটাও বলতে পারতেন যে, তাদের গোত্রের লোকেরা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমাদের সত্তর জনকে হত্যা করেছে, বিনিময়ে আমরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের দু'জনকে তো মারতেই পারি। কিন্তু না। তিনি একের অপরাধের জন্য অন্যকে শাস্তি দেন নি। কারণ, 'আমেরী দু'ব্যক্তি তো এমন কোনো আপরাধ করে নি যেজন্য তাদেরকে হত্যা করা যেতে পারে। আবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ। তাই তাদেরকে হত্যা করা কোনোভাবেই বৈধ হয় নি।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সত্তর জন খ্যাতনামা সাহাবীকে হারানোর বেদনা ও রাজনৈতিক সংকটই একমাত্র সংকট ছিল না; বরং এর পরিপ্রেক্ষিতে দু'জন মুশরিক হত্যার জন্য রক্তপণ আদায় করার যে বাধ্য-বাধকতা তৈরি হলো এতে আরেকটি অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হলো। কারণ, এ ঘটনা ছিল উহুদ যুদ্ধ পরবর্তী কয়েক মাসের ভেতরে। তখন মদীনায় চরম দারিদ্র্যাবস্থা চলছিল। আবার রক্তপণের এ মোটা অংক জোগাড় করতে তিনি চুক্তিবদ্ধতার দাবি নিয়ে বনু নাদ্বীরের ইয়াহুদীদের সাথে সাক্ষাৎ করে সাহায্য চাইলেন। এতে ইয়াহুদীদের সাথে আরেকটি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এবং এ সাক্ষাতের ঘটনাই পরবর্তীতে বানু নাদ্বীরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ¹⁴⁹
অতীত কিংবা বর্তমানে এ স্তরের ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার নযীর কি অন্য কোথাও কেউ দেখাতে পারবে..?! এতকিছুর পরও কি কেউ এ দাবী করতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুসলিমদেরকে সামাজিক স্বীকৃতি দিতেন না, সম্মান প্রদর্শন করতেন না বা তাদের প্রতি ইনসাফ করতেন না...?! আমাদের এসব আলোচনাকে অনেকেই অলিক কল্পনা বা পূর্বকালের রূপকথার বানানো গল্প মনে করতে পারেন, কিন্তু না। ইসলাম এসব কিছুকে এমনভাবে বাস্তবে রূপদান করে দেখিয়েছে যা অন্য কারো দ্বারা স্বপ্নেও কল্পনা করা সম্ভব নয়।
বানু আমের গোত্রের দু'জন মুশরিকের নিহত হওয়া এবং এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদক্ষেপের এ ঘটনাকে বিশাল সমুদ্রের মাঝে এক ফোটা পানির ন্যায়ই মনে হবে। তাঁর ঐ আচরণের সাথে তুলনা করলে যে আচরণ তিনি মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে মদীনা পানে হিজরত করার সময় মক্কাবাসীর আমানতের মালের ব্যাপারে করেছেন।
ঘটনা সবারই জানা। কিন্তু প্রয়োজন গভীর চিন্তা ও অনুধাবনের...।
মক্কাবাসীদের রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো প্রতিই পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ছিল না। ফলে সকলেই নিজেদের অর্থকড়ি ও বিভিন্ন জিনিষপত্র তাঁর কাছেই আমানত রাখতো। কোনো অতিরঞ্জন নয় বাস্তবেই তিনি ছিলেন মহা বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী। এমনকি কুরাইশ কর্তৃক নানাভাবে কঠিন নির্যাতন করা এবং তাঁকে জাদুকর, মিথ্যুক, গণক, কবি ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করার পরও তারা নিয়মিত তাদের ধন-সম্পদের আমানত তাঁর কাছেই রাখতো। আর তিনিও তাদের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড বিরোধিতা ও শত্রুতা চলাকালীন সময়েও তাদের সম্পদ হিফাযতের গুরুদায়িত্ব পালন করে গেছেন।
অতঃপর এসে গেলো মদীনায় পাড়ি জমানোর পালা।
কাজ-কর্ম, ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পদ সব ত্যাগ করার পালা।
কুরাইশের পক্ষ থেকে যুলুম-নির্যাতন চুড়ান্ত পর্বে এসে দেশত্যাগে বাধ্য করার পালা।
অসভ্যতা ও অমানবিকতার সর্বসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পালা।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহা যন্ত্রনাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন। তাঁর নিজ মাতৃভূমি, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড 'মক্কা' ত্যাগের বিরহ যন্ত্রণা। যেমন, বিদায়কালে মক্কানগরীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেছেন: "আমি জানি তুমি আল্লাহর সৃষ্ট সবচেয়ে উত্তম ভূমি এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। তোমার অধিবাসীরা যদি বের করে না দিত তাহলে আমি তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।"¹⁵⁰
এতসব ব্যথা-বেদনার পরেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্ভাব্য সর্বোত্তম পন্থায় ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গেলেন। তিনি সকল গচ্ছিত সম্পদ আলী ইবন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট রেখে তাকে এ আদেশ দিয়ে গেলেন যে, সবগুলো সম্পদ পাওনাদারদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তিন দিন মক্কায় অবস্থান করে সকল আমানত মালিকদের নিকট পৌঁছে দিয়ে গেলেন।¹⁵¹
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো দ্বারা এ ধরণের উত্তম চরিত্র ও পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে-এটা আমি বিশ্বাস করি না।
এমন পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থানে অন্য যে কেউ হলে আমানতের এ মালগুলো আত্মসাৎ করে ফেলার জন্য কোনো না কোনো একটি অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ফেলত এবং সেগুলো যথাযথ মালিকদের নিকট আদৌ পৌঁছে দিত না।
কেউ কেউ এ ব্যাখ্যা দিত যে, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘর-বাড়ি ধন-সম্পদ সব দখল করে নিয়েছে। বিনিময়ে তাদের আমানতের মালগুলো ফেরত না দেওয়া তো অন্যায় হওয়ার কথা না...।
আবার কেউ বলত যে, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বদেশ ত্যাগে বাধ্য করেছিল...।
কেউ বলত, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাণ নাশের ষড়যন্ত্র করেছিল। এমনকি ষড়যন্ত্র প্রায় বাস্তবায়নও হতে চলেছিল। যদি না তিনি শেষ মুহুর্তে মু'জিযার মাধ্যমে তাদের ফাঁদ ভেদ করে বেরিয়ে না যেতেন...।
কেউ বলত যে, এ সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ইসলামের প্রচার প্রসারে ব্যয় করা হবে। বিশেষ করে মদীনার প্রাথমিক দিনগুলোতে এর বেশ প্রয়োজনও ছিল...।
হ্যাঁ, আপনি যা ইচ্ছা ব্যাখ্যা করতে পারেন; কিন্তু আপনি যখন ব্যক্তিগত চিন্তা ও নিজস্ব প্রবৃত্তির চাহিদা বাদ দিয়ে নিরপেক্ষভাবে বাস্তবতার প্রতি লক্ষ্য করবেন তখন বুঝতে পারবেন যে, এসব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। আমানতের সম্পদগুলো নির্দিষ্ট কিছু লোকের ব্যক্তি-স্বার্থের সাথে সম্পৃক্ত। যারা পূর্ণ হিফাযতে রাখার শর্তে/চুক্তিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমানত রেখেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নিজের সম্পদের চেয়েও যত্ন ও নিরাপত্তার সাথে সেগুলো সংরক্ষণ করতেন। তাই পরিস্থিতি যাই হোক এবং তাদের পক্ষ থেকে নির্যাতনের মাত্রা যে পর্যায়েই পৌঁছুক তিনি তাদের সম্পদগুলো আত্মসাৎ করে ফেলতে বা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন না। তাঁর প্রাণনাশের তদবীরকারীদের অপরাধের কারণে যারা তাঁকে বিশ্বাস করে আমানত রেখেছিল তাদেরকে শাস্তি না দেওয়াই হলো ন্যায়পরায়ণতার দাবী।
তারা মগ্ন হয়ে আছে তাঁর প্রাণ নাশের তদবীরে...।
আর তিনি ব্যস্ত হয়ে গেলেন তাদের আমানত রক্ষায়...।
তারা রয়েছে বিশ্বাসঘাতকতার চুড়ান্ত পর্যায়ে...।
আর তিনি আছেন বিশ্বস্ততার উচ্চ শিখায়...।
তারা হলো মুশরিক...।
আর তিনি হলেন জগৎসমূহের রবের প্রেরিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...।
তাঁর মাঝে ও তাদের মাঝে আসমান-জমিনের ফারাক...।
আরো সৌন্দর্যের ব্যাপারটি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব আচরণ কৃত্রিমতা বা অনুগ্রহ প্রকাশের জন্য করতেন না...।
তিনি সদাচরণ ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা এজন্য করতেন না যে, চারিদিকে তার সুনাম সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ুক। সকলেই তাকে বাহবা দিক...।
তাঁর কবি ও সাহিত্যিক শিষ্যদেরকে তিনি তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করে সাহিত্য কিংবা কবিতা রচনা করতেও বলেন নি...।
আল্লাহ তাঁকে মহৎ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে আদেশ করেছেন। এ আদেশই তাঁকে উপরোক্ত সব চিন্তা ভুলিয়ে দিয়েছে। তিনি শুধু আল্লাহর আদেশ পালনার্থে তাঁরই জন্য একান্ত ও একনিষ্ঠভাবে এসব আচরণ করতেন। এজন্য আল্লাহর বান্দাদের নিকট তিনি কোনোরূপ প্রতিদান, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও সুনাম-সুখ্যাতি কিছুরই আশা করতেন না।
﴿ قُلْ مَا أَسْلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ ﴾ [ ص: ٨٦]
“বলুন, ‘এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না আর আমি ভানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৮৬]
فصل اللهم عليك وسلم يا إمام العادلين، وسيد النبيين والمرسلين.
টিকাঃ
¹⁴⁴. বীরে মা'ঊনা। বানু আমের ও বানু সুলাইমের প্রস্তরময় ভুমির মাঝামাঝি একটি স্থান। বানু সুলাইমের অধিক নিকটবর্তী এবং তাদের মালিকানাধীন। কেউ কেউ বলেছেন, এটি মক্কা থেকে মদীনার দিকে ওঠার পথে। সেখানেই রাজী'-এর ঘটনা সংঘটিত হয়। দেখুন: ইয়াকৃত আল-হামাওয়ী: মু'জামুল বুলদান (১/৩০২)।
¹⁴⁵. আমর ইবন উমাইয়া আয-যামরী রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন কাজে তাকে নিজ প্রতিনিধি বানাতেন। তিনি ছিলেন বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য আরবের খ্যাতিমান ব্যক্তি। বীরে মা'ঊনা হলো তার প্রথম অভিযান। তাকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ হিজরীতে নাজ্জাশীর নিকট ইসলামের দাওয়াত পত্র নিয়ে তাকে পাঠানো হয় এবং সে পত্রটি তিনি নিজ হাতে লিখেন। এ প্রেক্ষিতে নাজ্জাশী ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। অধিকতর জানতে: ইবনুল আসীর: উসদুল গাবাহ (৩/৬৮৯), ইবন হাজর: আল-ইসাবাহ (৫৭৬৫)।
¹⁴⁶. সহীহ বুখারী: (كتاب الجهاد والسير، باب العون والمدد) হাদীস নং ২৮৯৯; আহমদ, হাদীস নং ১৩৭০৭; বায়হাকী, হাদীস নং ২৯১৫।
¹⁴⁷. আমের ইবন তোফায়েল। বানু আমের গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। ইসলামের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল। বীরে মা'ঊনায় সত্তর জন সাহাবী হত্যায় জড়িত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বদ-দো'আ করেছেন এবং সে কারণেই সে মারা যায়।
¹⁴⁸. যাইলা'ঈ: নাসবুর রায়াহ (৪/৩৯৬), ইবন কাসীর: আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ (৪/৮৫)।
¹⁴⁹. সহীহ বুখারী: كتاب المغازي، باب حديث بني النضير ومخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إليهم في ( دية الرجلين وما أرادوا من الغدر برسول الله صلى الله عليه وسلم( অধিকতর জানতে: তাবারী: তারীখুল উমামি ওয়ালমুলুক (২/৮৩), ইবন কাসীর: আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ (৪/৮৪)।
¹⁵⁰. তিরমিযী: আব্দুল্লাহ ইবন আদী আয-যুহরী থেকে, হাদীস নং ৩৯২৫। আবু ঈসা বলেছেন, হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। আহমদ, হাদীস নং ১৮৭৩৭। আদ-দারমী, হাদীস নং ২৫১০। মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৫২২০। আন-নাসায়ী: আস-সুনানুল কুবরা, হাদীস নং ৪২৫২। মিশকাত, হাদীস নং ২৭২৫। আলবানী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। দেখুন: সাহীহুল জামে' (৭০৮৯)।
¹⁵¹. ইবন কাসীর: আস-সীরাতুন নাববিয়্যাহ (২/২৭০), ইবন হিশাম: আস-সীরাতুন নাববিয়্যাহ (২/২১), মোবারকপুরী: আর-রাহীকুল মাখতুম (১২১)।
📄 অত্যন্ত বিরাজভাজনদের সাথেও ন্যায়পরায়ণতা
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনন্য ন্যায়পরায়ণতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, অপরাধ যত মারাত্মকই হোক না কেন তিনি কাউকে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রেও ইনসাফের সীমা অতিক্রম করতেন না। তাঁর ও মুসলিমদের অধিকার হরণের ব্যাপারে কেউ যত বড় সীমালঙ্ঘনই করুক না কেন।
উবাই ইবন কা'আব বর্ণনা করেন, "উহুদ যুদ্ধে আনসারদের ৬৪ জন এবং মুহাজিরদের ছয়জন শাহাদাত বরণ করেন। যাদের মধ্যে হামযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। সবকটি লাশেরই অঙ্গ-প্রতঙ্গের বিকৃতি সাধন করে ফেলা হয়। আনসাররা বললেন, 'যদি কোনো দিন আমাদের হাতে এমন সুযোগ আসে তাহলে আমরাও দেখিয়ে ছাড়বো'।"
যখন মক্কা বিজয় হয়ে গেল আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করলেন,
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّبِرِينَ [النحل:
[১২৬
"আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঐ পরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়। যদি সবর কর, তবে তা সবরকারীদের জন্যে উত্তম।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৬]
এক ব্যক্তি বলে উঠলেন, 'আজকের পরে কোনো কুরাইশ থাকবে না'। উবাই ইবন কা 'আব থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
«كفوا عن القوم إلا أربعة»
"(কুরাইশের) চারজন ব্যতীত আর কাউকে হত্যা করবে না।"¹⁵²
উহুদ যুদ্ধের এ কঠিন মুসীবত এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে এত মারাত্মক আঘাত প্রাপ্তির পরেও তিনি শুধু আল্লাহর বিধানই বাস্তবায়ন করলেন। কোনো প্রকার বাড়াবাড়ির অনুমতি দিলেন না। ন্যূনতম সীমালঙ্ঘনকেও মেনে নিলেন না।
আর এ আয়াতের অবতরণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কথিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের দিন আপন চাচা হামযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিকৃত লাশ দেখে বলেছিলেন, 'আমরা অবশ্যই তাদের সত্তরটি লাশের বিকৃতি সাধন করে ছাড়বো'। ¹⁵³ ফতহুল বারীতে আল্লামা ইবন হাজার এটিকে দুর্বল বলেছেন। ¹⁵⁴ এবং পূর্বের যে হাদীসে এ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে যে, আয়াতটি নাযিল হয়েছে উহুদ যুদ্ধের সময় নয়, মক্কা বিজয়ের দিন; সে হাদীসটিও এ মতের সাথে সাংঘর্ষিক। আর যেমনটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বভাবও এমন ছিল না যে, তিনি আবেগতাড়িত হয়ে এ ধরণের মন্তব্য করতে পারেন। আবার এ মতের হাদীসটিকে যদি সহীহও ধরে নেওয়া হয় তাহলেও বলবো যে, সত্তরটি লাশের বিকৃতি সাধন করার মন্তব্যটি ছিল তাঁর সাময়িক চিন্তা থেকে যা কুরআনের আয়াত নাযিলের পর স্থায়িত্ব পায় নি। কারণ, তিনি ছিলেন পবিত্র কুরআনেরই বাস্তব অনুশীলন ক্ষেত্র। আর তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর যদি তার বিপরীতে এর চেয়ে ভালো কিছু দেখতেন তাহলে প্রথম সিদ্ধান্ত ত্যাগ করতেন এবং যা অধিক সঠিক ও সুন্দর তাই করতেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ، فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ "যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে কসম খায়, পরে তার বিপরীতটিকে তা থেকে উত্তম মনে করে, সে যেন তা করে ফেলে এবং নিজের কসমের কাফফারা দেয়।"¹⁵⁵
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিস্ময়কর ন্যায়পরায়ণতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, তিনি যাদেরকে অত্যাধিক অপছন্দ করতেন তাদের প্রতিও কোনো প্রকার আবিচার করা থেকে বিরত থাকতেন। এ ব্যাপারে তিনি কুরআনের এ মৌলিক আয়াতকে লক্ষ্য রাখতেন,
وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَانُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا [المائدة: ٨] "কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে কোনো ভাবে প্ররোচিত না করে যে, তোমরা ইনসাফ করেব না।" [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৮]
এ আয়াতেরই বাস্তব প্রতিফলন আমরা মুসায়লামা কাযযাবের দূতদ্বয়ের সাথে আলাপকালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দেখতে পেয়েছি।
দূতদ্বয় স্পষ্ট বলেছে যে, তারা মুসায়লামা কাযযাবকে নবী হিসাবে স্বীকার করে এবং তার মতাদর্শ মেনে চলে। এক কথায় স্বঘোষিত মুরতাদ। যাদের হত্যা করে ফেলার বিধান রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لا يحل دم امرئ مسلم يشهد أن لا إلاه إلا الله و أني رسول الله إلا بإحدى ثلاث: الثيب الزاني والنفس بالنفس، والتارك لدينه المفارق للجماعة»
"যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল তাকে তিন কারণ ব্যতীত হত্যা করা বৈধ নয়।
এক. বিবাহিত যিনাকারী।
দুই. প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ।
তিন, ধর্মত্যাগী দল পরিহারকারী।"¹⁵⁶
এ হলো ধর্মত্যাগী দল পরিহারকারীর শর'ঈ বিধান। এ দূতদ্বয় শুধু স্বধর্ম ত্যাগ ও দল পরিহারই করে নি; বরং মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং মুসায়লামার মতাদর্শের প্রতি অন্যদেরকে দাওয়াতও দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, আরো একধাপ এগিয়ে তারা এসেছে নবুওয়াতকে ভাগাভাগি কিংবা রদবদল করে নেওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দর কষাকষি করতে।
কেউ যদি প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে জীবন যাপন করে এবং ন্যায়পরায়ণতা ও শরী'আতের বিধানের প্রতি লক্ষ্য না রেখে শুধু নিজ স্বার্থ চিন্তা করে তাহলে এহেন পরিস্থিতিতে এ দূতদ্বয়কে হত্যা করে ফেলা তার জন্য আবশ্যকীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরণের অসাধারণ পরিস্থিতিতেও দূতদ্বয়ের প্রাণ রক্ষা করলেন। কারণ, তারা ছিল দূত বা প্রতিনিধি। সে সময় বিশ্বের কোথাও দূত হত্যার প্রচলন ছিল না। ইসলামী শরী'আতও পৃথিবীর এ প্রথাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বহাল রেখেছে। দূতদ্বয়কে সম্বোধন করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
أما والله لو لا أن الرسل لا تقتل لضربت أعناقكما»
"জেনে রেখো, আল্লাহর শপথ! যদি দূত হত্যা না করার প্রচলন না থাকতো তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের দু'জনের গর্দান উড়িয়ে দিতাম। "¹⁵⁷
দেখুন, এ দূত-দয়ের স্ব-ধর্ম ত্যাগ করে কাফির হয়ে যাওয়া এবং তাদের এ ধরণের অসভ্য আচরণ কোনো কিছুই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের ওপর অবিচার কিংবা বাড়াবাড়ি করার দিকে নিয়ে যেতে পারে নি; বরং তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দিলেন। তাদের সাথে উন্নত নৈতিকতা প্রদর্শন করলেন। অনেক শত্রু কাফিররা না মানলেও তিনি দূত হত্যা না করার প্রাচীন রীতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা দেখিয়ে সে রীতির ওপর অটল রইলেন। স্বয়ং মুসায়লামা কায্যাব নিজে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক দূত হাবীব ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বাগে পেল তখন তাকে মেরে তার লাশ কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলেছিল।
বাস্তবতা আর কতো অধিক থেকে অধিকতর স্পষ্ট হওয়ার বাকি আছে...?। ইসলামী বিধি-বিধান ও অন্যান্য রীতি-নীতির বিরাট পার্থক্য সকলেই বুঝুক...! আসমানী আইন ও মানব-রচিত মতাদর্শের মধ্যকার ব্যতিক্রমধর্মী দূরত্ব সবাই অনুধাবন করুক...!!
উপসংহারে আমরা এ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তথা অমুসলিমদের সাথে ন্যায়পরায়ণতা বিধানে তাঁর কর্মপন্থা সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাটির অবতারণা করতে চাই। তা হচ্ছে খায়বার বিজয়ের পর ইয়াহুদী সম্প্রদায় কর্তৃক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষ প্রয়োগে হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"لَمَّا فُتِحَتْ خَيْبَرُ أُهْدِيَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاةٌ فِيْهَا سَمُّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِجْمَعُوْا إِلَيَّ مَنْ كَانَ هُنَا مِنْ يَهُوْدِ فَجُمِعُوْا لَهُ فَقَالَ إِنِّيْ سَائِلُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَهَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَنْهُ فَقَالُوْا نَعَمْ قَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَبُوْكُمْ قَالُوْا فُلَانٌ فَقَالَ كَذَبْتُمْ بَلْ أَبُوْكُمْ فُلَانٌ فَقَالُوْا صَدَقْتَ"
شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُ عَنْهُ فَقَالُوا نَعَمْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ وَإِنْ كَذَبْنَا عَرَفْتَ كَذِبَنَا كَمَا عَرَفْتَهُ فِي أَبِينَا فَقَالَ لَهُمْ مَنْ أَهْلُ النَّارِ قَالُوا تَكُونُ فِيهَا يَسِيرًا ثُمَّ تَخْلُفُونَا فِيهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْسَنُوا فِيهَا وَاللَّهِ لَا نَخْلُقُكُمْ فَأَبَدًا ثُمَّ قَالَ هَلْ أَنْتُمْ صَادِقِ عَنْ شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُكُمْ عَنْهُ فَقَالُوا نَعَمْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ قَالَ هَلْ جَعَلْتُمْ فِي هَذِهِ الشَّاةِ سُمَّا قَالُوا نَعَمْ قَالَ مَا حَمَلَكُمْ عَلَى ذَلِكَ قَالُوا أَرَدْنَا إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا نَسْتَرِيحُ وَإِنْ كُنْتَ نَبِيًّا لَمْ يَضُرَّكَ.»
"খায়বার যখন বিজয় হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাদীয়াস্বরূপ একটি (ভুনা) বকরী প্রেরিত হয়। এর মধ্যে ছিল বিষ।
তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এখানে যত ইয়াহুদী আছে আমার কাছে তাদের জমায়েত কর। তার কাছে সবাইকে জমায়েত করা হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্বোধন করে বললেন, আমি তোমাদের নিকট একটি বিষয়ে জানতে চাই, তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বলল: হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পিতা কে? তারা বলল, আমাদের পিতা অমুক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা মিথ্যা বলেছ; বরং তোমাদের পিতা অমুক। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন ও সঠিক বলেছেন। এরপর তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদের নিকট আর একটি প্রশ্ন করি, তা হলে কি তোমরা সে ব্যাপারে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম! যদি আমরা মিথ্যা বলি তবে তো আপনি আমাদের মিথ্যা জেনে ফেলবেন, যেমনিভাবে জেনেছেন আমাদের পিতার ব্যাপারে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, জাহান্নামী কারা? তারা বলল, আমরা সেখানে অল্প দিনের জন্যে থাকবো। তারপর আপনারা আমাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাই সেখানে লাঞ্ছিত হয়ে থাকো। আল্লাহর কসম! আমরা কখনও সেখানে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হবো না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেন, আমি যদি তোমাদের কাছে আর একটি বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে কি তোমরা সে ব্যাপারে আমার কাছে সত্য কথা বলবে? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তোমরা কি এ বকরীর মধ্যে বিষ মিশ্রিত করেছ? তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন, কিসে তোমাদের এ উদ্বুদ্ধ করেছে? তারা বলল: আমরা চেয়েছি, যদি আপনি (নবুওয়াতের দাবীতে) মিথ্যাবাদী হন, তবে আমরা আপনার থেকে মুক্তি পেয়ে যাব। আর যদি আপনি সত্য নবী হন, তবে এ বিষ আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"¹⁵⁹
এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনোরূপ প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ না করে অত্যন্ত ধীরতার সাথে তাঁর প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা ইয়াহূদীদের নিকট থেকে আগে ঘটনাটি যাচাই করলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রমান সাব্যস্ত করলেন। এমনকি তারা নিজেরাই স্বীকার করল যে, হত্যা প্রচেষ্টায় তারা জড়িত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাও খুজে বের করলেন যে, এসব ইহুদীরা এক ইয়াহুদী মহিলাকে আদেশ করেছে যে, সে যেন একটি ভুনা করা বকরীর মধ্যে বিষ মিশিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে যায়। পুরুষরা হলো হুকুমের আসামী। আর যে বাস্তবায়ন করেছে সে হলো একজন নারী।
প্রিয় পাঠক! এ ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিক্রিয়া জানার আগে এক মূহুর্ত একটু ভাবুন তো এ ধরণের ঘটনা যদি পৃথিবীর অন্য কোনো রাজা-বাদশাহ, নেতা-নেত্রী ও আমীর-উমারাদের বেলায় ঘটতো তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া কী দাড়াত...?! এ ধরণের পরিস্থিতিতে ঘটনার উদ্দোক্তা, পরামর্শদাতা, আদেশদাতা, বাস্তবায়নকারী, অবগত ব্যক্তিসহ এহেন ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত সকলকেই হত্যার আদেশ দেওয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই কেউ ভাবতে পারতো না। কখনো কখনো এ ধরণের অপরাধে অপরাধী ব্যক্তির গোটা এলাকা জুড়ে গণ-গ্রেফতার চালিয়ে দেওয়া হয়। কোনো অতিরঞ্জন নয়; এটাই বাস্তবতা!! এবার চলুন, দেখি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কী করেছিলেন?! সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মহিলাটিকে হত্যা করছেন না কেন?! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বারণ করলেন। বললেন, 'এটা তো হত্যা প্রচেষ্টা মাত্র। বাস্তব হত্যা নয়। এর কারণে মহিলাকে হত্যা করা যাবে না'। তিনি মহিলাকে কোনো শাস্তিও দিলেন না। মহিলাকে আদেশ দানকারী ইয়াহুদীদের কাউকেও না। কারণ, তিনি তাদের ব্যাখ্যা মেনে নিয়েছেন। বিষ প্রয়োগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তারা বলেছিল যে, আমরা চেয়েছি, যদি আপনি (নবুওয়াতের দাবীতে) মিথ্যাবাদী হন তাহলে আমরা মুক্তি পেলাম। আর যদি সত্য নবী হন তাহলে বিষ আপনার কিছুই করতে পারবে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাখ্যা মেনে নিলেন। অথচ তাদের কেউই তখন মুসলিম ছিল না এবং পরবর্তীতেও ইসলাম গ্রহণ করে নি। এতে বুঝা যায় যে, তারা তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী নবুওয়াতের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নয়; বরং হিংসা বশতঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার জন্যই তা করেছে।
এতকিছুর পরও তাদের কাউকেই কোনো শাস্তি দেওয়া হয় নি...।
তবে হ্যাঁ, বিশর ইবনুল বারা ইবন মা'রূর ¹⁶⁰ নামীয় এক সাহাবীও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উক্ত বিষাক্ত বকরীর গোশত খেয়েছেন। পরবর্তীতে সে বিষের প্রভাবেই তিনি মারা যান। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসস্বরূপ ঐ মহিলাকে হত্যা করার আদেশ দেন। মহিলা ব্যতীত অন্য কাউকেই হত্যা করা হয় নি। আল্লামা কাজী 'ইয়ায ¹⁶¹ বলেন, "রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষ প্রয়োগের কথা জানতে পেরে সাথে সাথেই মহিলাকে হত্যা করেন নি। তাঁকে হত্যা করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, না। পরবর্তীতে বিশর ইবনুল বারা যখন সে বিষের ক্রিয়ায়ই মারা গেলেন তখন কিসাস স্বরূপ মহিলাকে হত্যা করা হয়েছে।"¹⁶²
একটু ভেবে দেখুন তো, পৃথিবীর অতীত কিংবা বর্তমানের কোনো নেতা- নেত্রীদের হত্যা প্রচেষ্টায় তদবীরকারীদের সাথে তাদের আচরণ কীরূপ হয়?! তাদের নিকটতম কোনো সহচরের মৃত্যুতেই বা তাদের প্রতিক্রিয়া কী হয়?!! গবেষণা দ্বারাই অস্পষ্টতা দূরিভূত হয়..!
তুলনা করলেই পার্থক্য ফুটে ওঠে..!
পৃথিবীর অন্যান্য মানুষের চরিত্রের সাথে নবী চরিত্রের তুলনা করার দুঃসাহস কে দেখাবে..? সাধারণ মানুষের আখলাক এক জিনিষ আর নববী আখলাক তো সম্পূর্ণ অন্য জিনিষ...!!
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِأُولِي الْأَلْبَابِ) [الزمر: ٢١]
"এতে অবশ্যই উপদেশ রয়েছে বুদ্ধিমানদের জন্য।" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২১]
টিকাঃ
¹⁵². তিরমিযী, হাদীস নং ৩১২৯; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৪৮৭; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৩৩৬৮; বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান, হাদসি নং ৯৭০৪; নাসায়ী: আস-সুনানুল কুবরা, হাদীস নং ১১২৭৯। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি গারীব হাদীস। হাকিম বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ সনদের হাদীস। দু'জনের কেউই এর তাখরীজ করেন নি। ইমাম যাহবীও ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আলবানী বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ সনদের হাদীস।
¹⁵³. মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৪৮৯৪। ইমাম যাহাবী 'তালখীস' গ্রন্থে, আল্লামা হায়সামী 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে আল্লামা নাসীরুদ্দীন আলবানী 'আস-সিলসিলাতুয দ্ব'য়ীফাহ' গ্রন্থের ৫৫০ পৃষ্ঠায় এ হাদীসের বর্ণনাকারী সালেহ ইবন বশীরকে দুর্বল বলেছেন।
¹⁵⁴. ইবন হাজার: ফতহুল বারী (৭/৩৭২)।
¹⁵⁵. সহীহ মুসলিম: (كتاب الأيمان، باب من حلف يمينا، فرأى غيرها خيرا منها) হাদীস নং ১৬৫০। আবু দাউদ, হাদীস নং ৩২৭৪। তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৫০। নাসায়ী, হাদীস নং ৩৭৮১। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২১০৮। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৮৭১৯।
¹⁵⁶. সহীহ বুখারী: (كتاب الديات، باب قول الله تعالى "أن النفس بالنفس হাদীস নং ৬৪৮৪; সহীহ মুসলিম: (کتاب القسامة، باب ما يباح به دم المسلم( হাদীস নং ১৬৭৬ শব্দ মুসলিমের।
¹⁵⁷. সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ২৭৬১; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ২৬৩২; আহমদ, হাদীস নং ১৬০৩২। আল্লামা নাসীরুদ্দীন আলবানী বলেছেন, এটি হাসান হাদীস। দেখুন: সাহীহুল জামি' (১৩৩৯)।
¹⁵⁸. হাবীব ইবন যায়দ আল-আনসারী আন-নাজ্জারী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামামার মুসায়লামা কাযযাবের নিকট পাঠালেন। মুসায়লামা যখন তাকে প্রশ্ন করল, তুমি কি এটা বিশ্বাস কর যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর প্রশ্ন করল, তুমি কি এটা জান যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, আমি বধির, আমি তোমার কথা শুনি না। এ উত্তর শুনে তাকে শহীদ করে ফেলা হয়। অধিকতর জানতে- ইবন হাজার: আল-ইসাবাহ (১৮৯০), ইবন সা'দ: আত-তাবাকাতুল কুবরা (১/৩২৬), ইবনুল আসীর: উসদুল গাবাহ (১/৫০৪)।
¹⁵⁹. সহীহ বুখারী: (كتاب الطب، باب ما يذكر في سم النبي صلى الله عليه وسلم) হাদীস নং ২৯৯৮; সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৫০৮; আহমদ, হাদীস নং ৯৮২৬।
¹⁶⁰. বিশর ইবনুল বারা ইবন মা'রূর আল-আনসারী আল-খাযরাজী। আকাবার শপথ, বদর, উহুদ ও খনদকে অংশগ্রহণ করেছেন। সপ্তম হিজরীতে খায়বর বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাওয়া বিষের ক্রিয়ায় শাহাদাত বরণ করেন। অধিকতর জানতে- ইবন হাজর: আল-ইসাবাহ (৬৫৪), ইবনুল আসীর: উসদুল গাবাহ (১/১১৫,১১৬), ইবন আবদিল বার: আল-ইসতি'আব (১/১৫)।
¹⁶¹. কাজী 'ইয়ায। আবুল ফযল 'ইয়ায ইবন মূসা ইবন 'ইয়ায আল- হাইসাবী আস-সাবতী। (৪৭৬-৫৪৪ হি. মোতাবেক ১০৮৩-১১৪৯ ইং) তার সময়ে তিনি হাদীস, নাহু, ভাষা ও বিভিন্ন শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন। প্রথমে নিজ জন্মস্থান সাবতাহ শহরের ও পরে গারতানাহ শহরের বিচারক ছিলেন। মারাকাশে মারা যান। দেখুন- আয-যারাকলী: আল'লাম (৫/৯৯)।
¹⁶². আল্লামা নববী: শরহে সহীহ মুসলিম (১৪/১৭৯)।