📄 ভূমিকা
بسم الله والصلوة والسلام على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى آله واصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد....
মানবজাতির জীবনবিধান হিসেবে ইসলাম পূর্ণতার সুউচ্চ শিখরে উত্তীর্ণ এবং সৃজনশীলতা ও অভিনবত্বের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত। এ শাশ্বত ধর্মের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্রিকতার ব্যাপারে মহান আল্লাহর ঐ ঘোষণাই যথেষ্ট যা তিনি কুরআন অবতরণের সমাপ্তি লগ্নে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا) [المائدة: ٣]
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নি'আমত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩]
অর্থাৎ দীন পূর্ণাঙ্গ, নি'আমতও পরিপূর্ণ। এতে কোনোরূপ অপূর্ণতার অবকাশ নেই। মানব জীবনের সকল বিভাগের প্রতিটি ক্ষেত্রের যাবতীয় নীতিমালা ও বিধি-বিধান এখানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছ। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ ﴾ [الانعام: ٣٨]
"আমি কিতাবে কোনো ত্রুটি করি নি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৩৮]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ . لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا . لَا يَزِيعُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ
“আমি তোমাদের সুস্পষ্ট-দীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাত, তার দিনের মতোই। আমার পরে যে ব্যাক্তি এর থেকে বিমুখ হবে, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।”¹
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন হলো ইসলামী শরী'আতের প্রতিটি বিধি-বিধানের বাস্তব অনুশীলনের প্রদর্শনক্ষেত্র। জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, শান্তি-অশান্তি, সফর-হযর, সুস্থতা-অসুস্থতা, সচ্ছলতা-দরিদ্রতা ও ভীতি-নিরাপত্তার সকল অবস্থায় কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানবগোষ্ঠীর প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রকে সম্ভাব্য যতগুলো ঘটনাপ্রবাহের মুখোমুখি হতে হবে সকল কিছুর শর’ঈ সমাধানের বাস্তব ও সুস্পষ্ট নমুনা নবী চরিত্রের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় জীবনে ঐ শ্রেণির মানুষের সাথে আচার-আচরণ এবং লেন-দেনের মডেলও উপস্থাপন করেছেন যে শ্রেণির মানুষের সাথে কিয়ামত পর্যন্ত আগত মুসলিমদের কারো না কারো আচার-আচরণ এবং লেনদেন করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
নববী চরিত্রে মানবজাতির জীবন বিধানের যে রূপরেখা পেশ করা হয়েছে তা মূলতঃ মহান আল্লাহ তা’আলারই প্রণিত, প্রদত্ত ও প্রেরিত জীবনবিধান, যা তিনি নবী জীবনের ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনানুসারে উপস্থাপন করেছেন। এজন্যই আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا ﴾ [ الاحزاب: ٢١]
"অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে সংঘটিত প্রতিটি ছোট থেকে ছোট ঘটনার মাঝে রয়েছে তার পাক-পবিত্র ও স্বতন্ত্র আচরণ-বিধি, যা আমাদের মাঝে পেশ করেছে মু'আমালাত-মু'আশারাত ও সামাজিক রীতিনীতির এক আদর্শ মহাভাণ্ডার এবং আমাদেরকে দিয়েছে তার উৎকৃষ্ট চারিত্রিক গুণাবলির বিস্তারিত বিবরণ। ফলে তার প্রতিমুহুর্তের প্রতিটি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর আচরণ আমাদের জন্য হয়ে উঠেছে মহৎ চরিত্রের অনুপম দৃষ্টান্ত। এ দিকে ইঙ্গিত করেই রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ
"নিশ্চয় আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম গুণাবলীর পূর্ণতা বিধানের জন্যে।”²
নবী জীবনের কোনো কথা, কাজ, অবস্থা, ঘটনা কিংবা কারো আচরণের প্রতিউত্তর কিছুই তার প্রসংশনীয় চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ব্যতীত সংঘটিত হয় নি। এমনকি ঐসব স্থানেও তিনি তার মহৎ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, যেখানে উত্তম ব্যবহার দেখানো সাধারণত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যেমন যুদ্ধ ও রাজনীতির ব্যাপারে, অত্যাচারী ও পাপাচারীদের এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সদা তৎপর ব্যক্তিবর্গের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে রাজনীতি নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের অনেকের নিকটই রাজনীতির ক্ষেত্রে নিজেদের আচার-আচরণ ও মু'আমালা-মুয়াশারাতকে চারিত্রিক পরিধি ও মানবিক গুণাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ ব্যাপার বলে মনে হয়; কিন্তু সীরাতে নববীর পাঠক ও গবেষক মাত্রই নবী জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে এমনকি রাজনীতির ময়দানেও চারিত্রিক পরিস্থিতি ও মানবিক গুণাবলীর স্পষ্ট বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করবেন।
এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ অনন্য চরিত্রকে আল্লাহ তা'আলা আযীম তথা 'মহৎ' বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ ﴾ [القلم: ٤]
"আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।” [সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৪]
নবী চরিত্রের এ মাহাত্ম্যের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। তার চরিত্র যেমন চিন্তাগত দিক থেকে মহৎ ঠিক তেমনি বাস্তবায়নের দিক থেকেও মহৎ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় জীবনে এ সত্যকে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন যে, আল-কুরআনে বর্ণিত যাবতীয় বিধিবিধানই মানব জীবনে বাস্তবায়নযোগ্য এবং গোটা মানবগোষ্ঠীকে সুশৃঙ্খলিত করার জন্য ও সৎপথ প্রত্যাশীদের জন্য একমাত্র সঠিক কার্যকরী দিক-নির্দেশনা। তাঁর জীবন ছিল আল-কুরআনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা। তার চরিত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা' কতইনা সুন্দর কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন, «كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ» "রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রেরই পূর্ণ ব্যাখ্যা হলো আল- কুরআন।"*
টিকাঃ
১. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৩; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৭১৮২; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৩৩১।
২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৪২২১; বায়হাকী, হাদীস নং ২০৫৭১; সিলসিলাতু আহাদীসিস সহীহাহ লিল আলবানী, হাদীস নং ৪৩।
بسم الله والصلوة والسلام على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى آله واصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد....
মানবজাতির জীবনবিধান হিসেবে ইসলাম পূর্ণতার সুউচ্চ শিখরে উত্তীর্ণ এবং সৃজনশীলতা ও অভিনবত্বের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত। এ শাশ্বত ধর্মের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্রিকতার ব্যাপারে মহান আল্লাহর ঐ ঘোষণাই যথেষ্ট যা তিনি কুরআন অবতরণের সমাপ্তি লগ্নে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا) [المائدة: ٣]
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নি'আমত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩]
অর্থাৎ দীন পূর্ণাঙ্গ, নি'আমতও পরিপূর্ণ। এতে কোনোরূপ অপূর্ণতার অবকাশ নেই। মানব জীবনের সকল বিভাগের প্রতিটি ক্ষেত্রের যাবতীয় নীতিমালা ও বিধি-বিধান এখানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছ। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ ﴾ [الانعام: ٣٨]
"আমি কিতাবে কোনো ত্রুটি করি নি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৩৮]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ . لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا . لَا يَزِيعُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ
“আমি তোমাদের সুস্পষ্ট-দীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাত, তার দিনের মতোই। আমার পরে যে ব্যাক্তি এর থেকে বিমুখ হবে, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।”¹
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন হলো ইসলামী শরী'আতের প্রতিটি বিধি-বিধানের বাস্তব অনুশীলনের প্রদর্শনক্ষেত্র। জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, শান্তি-অশান্তি, সফর-হযর, সুস্থতা-অসুস্থতা, সচ্ছলতা-দরিদ্রতা ও ভীতি-নিরাপত্তার সকল অবস্থায় কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানবগোষ্ঠীর প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রকে সম্ভাব্য যতগুলো ঘটনাপ্রবাহের মুখোমুখি হতে হবে সকল কিছুর শর’ঈ সমাধানের বাস্তব ও সুস্পষ্ট নমুনা নবী চরিত্রের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় জীবনে ঐ শ্রেণির মানুষের সাথে আচার-আচরণ এবং লেন-দেনের মডেলও উপস্থাপন করেছেন যে শ্রেণির মানুষের সাথে কিয়ামত পর্যন্ত আগত মুসলিমদের কারো না কারো আচার-আচরণ এবং লেনদেন করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
নববী চরিত্রে মানবজাতির জীবন বিধানের যে রূপরেখা পেশ করা হয়েছে তা মূলতঃ মহান আল্লাহ তা’আলারই প্রণিত, প্রদত্ত ও প্রেরিত জীবনবিধান, যা তিনি নবী জীবনের ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনানুসারে উপস্থাপন করেছেন। এজন্যই আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا ﴾ [ الاحزاب: ٢١]
"অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে সংঘটিত প্রতিটি ছোট থেকে ছোট ঘটনার মাঝে রয়েছে তার পাক-পবিত্র ও স্বতন্ত্র আচরণ-বিধি, যা আমাদের মাঝে পেশ করেছে মু'আমালাত-মু'আশারাত ও সামাজিক রীতিনীতির এক আদর্শ মহাভাণ্ডার এবং আমাদেরকে দিয়েছে তার উৎকৃষ্ট চারিত্রিক গুণাবলির বিস্তারিত বিবরণ। ফলে তার প্রতিমুহুর্তের প্রতিটি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর আচরণ আমাদের জন্য হয়ে উঠেছে মহৎ চরিত্রের অনুপম দৃষ্টান্ত। এ দিকে ইঙ্গিত করেই রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ
"নিশ্চয় আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম গুণাবলীর পূর্ণতা বিধানের জন্যে।”²
নবী জীবনের কোনো কথা, কাজ, অবস্থা, ঘটনা কিংবা কারো আচরণের প্রতিউত্তর কিছুই তার প্রসংশনীয় চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ব্যতীত সংঘটিত হয় নি। এমনকি ঐসব স্থানেও তিনি তার মহৎ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, যেখানে উত্তম ব্যবহার দেখানো সাধারণত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যেমন যুদ্ধ ও রাজনীতির ব্যাপারে, অত্যাচারী ও পাপাচারীদের এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সদা তৎপর ব্যক্তিবর্গের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে রাজনীতি নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের অনেকের নিকটই রাজনীতির ক্ষেত্রে নিজেদের আচার-আচরণ ও মু'আমালা-মুয়াশারাতকে চারিত্রিক পরিধি ও মানবিক গুণাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ ব্যাপার বলে মনে হয়; কিন্তু সীরাতে নববীর পাঠক ও গবেষক মাত্রই নবী জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে এমনকি রাজনীতির ময়দানেও চারিত্রিক পরিস্থিতি ও মানবিক গুণাবলীর স্পষ্ট বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করবেন।
এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ অনন্য চরিত্রকে আল্লাহ তা'আলা আযীম তথা 'মহৎ' বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ ﴾ [القلم: ٤]
"আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।” [সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৪]
নবী চরিত্রের এ মাহাত্ম্যের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। তার চরিত্র যেমন চিন্তাগত দিক থেকে মহৎ ঠিক তেমনি বাস্তবায়নের দিক থেকেও মহৎ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় জীবনে এ সত্যকে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন যে, আল-কুরআনে বর্ণিত যাবতীয় বিধিবিধানই মানব জীবনে বাস্তবায়নযোগ্য এবং গোটা মানবগোষ্ঠীকে সুশৃঙ্খলিত করার জন্য ও সৎপথ প্রত্যাশীদের জন্য একমাত্র সঠিক কার্যকরী দিক-নির্দেশনা। তাঁর জীবন ছিল আল-কুরআনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা। তার চরিত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা' কতইনা সুন্দর কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন, «كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ» "রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রেরই পূর্ণ ব্যাখ্যা হলো আল- কুরআন।"*
টিকাঃ
১. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৩; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৭১৮২; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৩৩১।
২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৪২২১; বায়হাকী, হাদীস নং ২০৫৭১; সিলসিলাতু আহাদীসিস সহীহাহ লিল আলবানী, হাদীস নং ৪৩।
📄 এ মহা সত্যের কেন এতো বিরোধিতা?
ইসলামের বিধি-বিধান ও নবী চরিত্র এত মহান ও গৌরবময়, সু-সভ্য, পাক- পবিত্র ও মহৎ হওয়া সত্ত্বেও পৃথীবির অনেক মানুষ আছে যারা এ মহান দীন ও মহা নবীকে অস্বীকার করে, তার ওপর মিথ্যারোপ করে। শুধু তাই নয় অস্বীকার ও মিথ্যারোপের সীমা ছাড়িয়ে অনেকে নিন্দা, অপবাদ, গালাগালি, কটুক্তি এবং আরো নানাভাবে আঘাত করতেও ছাড়ে না। দীন ইসলামের এসব বিরুদ্ধাচরণ দেখে এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহা-মানবের ব্যাপারে এ সকল ধৃষ্টতামূলক ব্যবহার দেখে হয়রান হয়ে যেতে হয়। বিবেক স্তব্ধ হয়ে যায়। এটা কীভাবে সম্ভব? এরা কি অন্ধ? এদের চক্ষু কি প্রকাশ্য দিবালোককে দেখতে পায় না? এদের বিবেকের দুয়ার কি তালাবদ্ধ? এরা কি সুস্পষ্ট সত্যকে অনুধাবন করতে পারে না?
টিকাঃ
৩. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক ইহ ও পরকালে রাসূলের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী, অনেক বড় আলেমা সাহাবীয়া, ইন্তেকাল ৮৫ হিজরীতে। * সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৫৩৪১।
ইসলামের বিধি-বিধান ও নবী চরিত্র এত মহান ও গৌরবময়, সু-সভ্য, পাক- পবিত্র ও মহৎ হওয়া সত্ত্বেও পৃথীবির অনেক মানুষ আছে যারা এ মহান দীন ও মহা নবীকে অস্বীকার করে, তার ওপর মিথ্যারোপ করে। শুধু তাই নয় অস্বীকার ও মিথ্যারোপের সীমা ছাড়িয়ে অনেকে নিন্দা, অপবাদ, গালাগালি, কটুক্তি এবং আরো নানাভাবে আঘাত করতেও ছাড়ে না। দীন ইসলামের এসব বিরুদ্ধাচরণ দেখে এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহা-মানবের ব্যাপারে এ সকল ধৃষ্টতামূলক ব্যবহার দেখে হয়রান হয়ে যেতে হয়। বিবেক স্তব্ধ হয়ে যায়। এটা কীভাবে সম্ভব? এরা কি অন্ধ? এদের চক্ষু কি প্রকাশ্য দিবালোককে দেখতে পায় না? এদের বিবেকের দুয়ার কি তালাবদ্ধ? এরা কি সুস্পষ্ট সত্যকে অনুধাবন করতে পারে না?
টিকাঃ
৩. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক ইহ ও পরকালে রাসূলের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী, অনেক বড় আলেমা সাহাবীয়া, ইন্তেকাল ৮৫ হিজরীতে। * সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৫৩৪১।
📄 ইসলাম বিরোধীদের শেকড় সন্ধানে
হ্যাঁ, প্রিয় পাঠক! এসব মিথ্যাবাদী অস্বীকারকারীদের বাস্তবিক জীবনাবস্থার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবো। খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, গোটা দুনিয়ার ইসলামবিদ্বেষী মানুষগুলো দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। এক, হিংসুক। দুই, মূর্খ। হয়তো এদের কারো মধ্যে হিংসা ও মূর্খতা উভয়ই পাওয়া যাবে আর না হয় দুয়ের একটা অবশ্যই পাওয়া যাবে。
**প্রথম শ্রেণি: হিংসুক**
যারা হিংসুক তাদের দ্বারা ইসলামের বিরোধিতা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, বুদ্ধি-বিবেচনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান কোনো কিছুই হিংসুকের হিংসাকে প্রশমিত করতে পারে না। হিংসুকরা দুনিয়ালোভী, স্বার্থবাদী হয়ে থাকে। এরা স্বভাবতই প্রতিপক্ষের সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্যের কারণে মনের মধ্যে একধরণের ব্যাথা ও কষ্ট অনুভব করতে থাকে। এরা মানবতার এক বিকৃত শ্রেণি। কোনো দলিল-প্রমাণই এদের বিরোধিতার মাত্রাকে হ্রাস করতে পারে না। এদের ব্যাপারেই আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوا فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ ) [النمل: ١٤]
"আর তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল অথচ তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখ, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।” [সূরা আন-নামল, আয়াত: ১৪]
এ হিংসুক শ্রেণিতে রয়েছে বড় বড় অপরাধী, ফিৎনা ও গুমরাহীর মূল হোতা এবং অভিশপ্ত ইবলিসের চেলা-চামুন্ডারা। এরা সব যুগেই ছিল। কোনো নবী, ওলী বা সিদ্দিীক; কারো জীবনকালই এ শ্রেণি থেকে মুক্ত ছিল না। সব ক্ষেত্রেই এরা সত্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলার শত্রু। সব সময়ই এরা অসত্য, অসুন্দর ও উশৃঙ্খলার বাহক। এদের আধ্যাত্মিক ও মূল চালিকাশক্তি ইবলিস হলেও এরা মানুষের মধ্য হতে এমন কিছু দূর্ভাগাকে নিজেদের নেতা বানিয়ে নেয় যাদের ভালো-মন্দের অনুভূতি শক্তির মৃত্যু ঘটেছে, যাদের স্বভাবে ধরেছে পঁচন, অন্তর হয়ে গেছে কালিমাযুক্ত এবং অন্তর্দৃষ্টি হয়ে গেছে অন্ধ। ফলে তারা নিজেদের ও অধিনস্থদের জন্য একমাত্র গোমরাহী এবং ভ্রষ্টতার পথ বেচে নেয়। সত্য ও কল্যাণের প্রতি আহ্বানকারী সকল কিছু থেকেই পূর্ণ বিমুখতা প্রদর্শন করে এবং সত্য ও কল্যাণের ধারক-বাহক ব্যক্তি বা আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করে।
এ শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত ছিল ফির'আউন, হামান ও কারুন। আবু জাহল, উবাই ইবন খালফ ও আবু লাহাব এ দলেরই অংশ। এ ক্যাটাগরীতেই ছিল কিসরা ও কাইসার। হুয়াই ইবন আখতাব এবং কা'আব ইবন আশরাফও এদের বাইরে নয়।
এদের মধ্যে কেউ রাজা-বাদশাহর পোষাকে আত্মপ্রকাশ করে আবার কেউ ধরে সাধু-সন্ন্যাসিদের বেশ। কেউ তরবারী তুলে নেয় এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালায় আবার কেউ কলম হাতে নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটুক্তিতে লেগে যায়। এদের মধ্যে রয়েছে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, মুশরিক ও অগ্নিপূজক। রয়েছে নাস্তিক। রয়েছে মুসলিম নামধারী মুনাফিকরাও। যেমন আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল-এর ঘটনা কারো কাছেই অজানা নয়।
এরা বড় ভয়ংকর প্রজাতি। মুসলিমদের সব সময় এদের মুখোস উন্মোচন, এদের ষড়যন্ত্র ও নীল নকশার স্বরূপ উদঘাটনের এবং বিশ্ববাসীকে এদের অনিষ্ট ও অপকর্ম থেকে সতর্ককরণের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। এত ভয়ংকর হওয়া সত্যেও খুশির বিষয় হলো এরা সংখ্যায় অতি স্বল্প। সারা দুনিয়ার ইসলামবিরোধী জনগোষ্টির তুলনায় এরা সমুদ্রের মাঝে কয়েক ফোটা পানির ন্যায়। যেমন, সমগ্র মিসরবাসীর তুলনায় ফির'আউন, হামান ও কারুন কী? গোটা মক্কাবাসীর সামনে আবু জাহল, উবাই ইবন খালফ ও আবু লাহাব কয় জন? ফারস্য, ইরাক ও এতদুভয়ের আশ-পাশের গণমানুষের তুলনায় কিসরার অবস্থান কোথায়? শাম, এশিয়া মাইনর ও ইউরোপের খ্রিস্টানদের মধ্যে হিরাক্লিয়াসই বা কয় জন?
হিংসা ও খলতার ফাঁদে বন্দী এ শ্রেণির লোকেরা স্বেচ্ছায়, সাগ্রহে, জেনে-বুঝে ইসলামের মাহাত্ম্য ও নবী চরিত্রের পবিত্রতার ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকেফহাল হয়েই কেবল হিংসার বশবর্তী হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করে এবং সত্যনিষ্ঠ মহামানবের চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। তবে ইসলামের নিন্দাবাদে লিপ্ত, বিরুদ্ধাচারী ও লোকদেরকে ইসলাম থেকে বাধা প্রদানকারী মোট জনগোষ্ঠির তুলনায় এ হিংসুক শ্রেণি হাতে গণা কয়েকজন মাত্র。
**দ্বিতীয় শ্রেণী: মূর্খ**
প্রিয় পাঠক! তাহলে ইসলাম বিদ্ধেষীদের অবশিষ্ট বৃহদাংশ কোন শ্রেণির? হ্যাঁ তারা এ প্রথম শ্রেণির হিংসুকদের অন্ধ অনুসারী মূর্খ শ্রেণির লোক। যারা অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অপ-প্রচার ও তথ্য সন্ত্রাসের শিকার। যারা ইসলাম সম্পর্কে সঠিক উৎস থেকে ধারণা লাভ করতে পারে নি। যাদের নিকট ইসলামের বিকৃত রূপ তুলে ধরা হয়েছে। যাদেরকে এ ধারণ দেওয়া হয়েছে যে, ইসলাম হলো নিছক কিছু অসংলগ্ন নব আবিস্কৃত বিষয়াবলি, কষ্টদায়ক অন্ধ অনুকরণ এবং কতিপয় বিকৃত চিন্তা-চেতনার নাম মাত্র। ফলে তারা ইবলিসদের পেছনে বকরীর পালের মতো ছুটে চলেছে এবং নিজেদের বাহনজন্তুকে তাদের পতনের পথে ছুটিয়ে দিয়েছে আর তারা ধারণা করছে যে, তারা ভালো কাজই করছে। এদের মধ্যে কেউ হয়ত একেবারেই মূর্খ; জ্ঞানের আলো যাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, আবার কেউ স্বল্প জ্ঞানী; বিস্তারিত ব্যাংখ্যা-বিশ্লেষণ যাদের সন্দেহ-সংশয় দূর করতে পারে কিংবা কেউ মোটামুটি জ্ঞানের অধিকারী; দলীল প্রমাণের বর্ধিত জ্ঞান যাদেরকে সত্যের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারে।
মোটকথা এ দ্বিতীয় শ্রেণির লোকদের শুধু জ্ঞান প্রদীপের অভাব। এরা জ্ঞান-দরিদ্র জনসাধারণ। এরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আগ্রহী হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না এবং মন থেকে ইসলামের বিরোধিতাও করে না। এরা জেনে-বুঝে স্বেচ্ছায় সাগ্রহে এবং সংকল্পের সাথে ইসলামের বিরোধিতা ও নবী চরিত্রে কলঙ্ক লেপনে লিপ্ত হয় না। ইতিহাসের পৃষ্ঠা ওল্টালে আমরা কী দেখতে পাই? ফারস্যের জনসাধারণ কি ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল? নাকি ইসলাম বিরোধী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল শুধুমাত্র কিসরা তার সুবিধাভোগী উজির-উমারা এবং তার বশিভূত কিছু সৈনিকদের দ্বারা? ফারস্যের জনসাধারণ বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ এ বিশ্বাস লালন করে এসেছে যে, আগুন তাদের প্রভু, বংশ পরম্পরায় কিসরা তাদের নেতা এবং মযদক ও তার অনুসারীদের ধর্মই তাদের সঠিক ধর্ম। এভাবেই দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। হঠাৎ তাদের মাঝে ইসলামের স্বচ্ছ-সুন্দর বাণী উপস্থাপিত হলো। তাদের চোখের পর্দা সরিয়ে ফেলা হলো। তাদের নেতা ও সর্দাররা তাদের কানে সত্য ও সুন্দরের প্রতিবন্ধক এবং ভ্রষ্টতার যে সরঞ্জামাদী স্থাপন করে রেখেছিল তা বিদূরিত করা হলো। ফলে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে তারা তাদের বিপদগামিতার স্বরূপ উদঘাটন করে ফেলল, ইসলামের মাহাত্ম্য ও সৌন্দর্য স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করল এবং অতি নিকট থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উন্নত স্বভাব ও বিজ্ঞান সম্মত কথা-বার্তা, চাল-চলন অবলোকন করল। অতঃপর কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি ছাড়াই পূর্ণ আগ্রহ ও আন্তরিকতার সাথে ইসলামকে গ্রহণ করে নিল। আল্লাহর শপথ! কাউকে ইসলামে দীক্ষিত করতে আমাদের কোনো বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং কারো চেতনা-বিশ্বাসে চাপ সৃষ্টির চেষ্টাও করি না। উপরন্তু আমরা জোর-জবরদস্তী ও চাপ সৃষ্টি না করতে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ﴾ [البقرة: ٢٥٦]
"দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৬]
ফারস্য জাতির সামনে ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত বা সৎপথ স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা সত্যকে পেয়ে গেছে এবং স্পষ্টভাবে হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য বুঝে ফেলেছে। ফলে ফারস্যের বৃহৎ জনগোষ্ঠি তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির পথ অবলম্বন করেছে। যে স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বীজ আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিটি বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন।
﴿فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ﴾ [الروم: ٣٠]
"আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতির ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।" [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩০]
অধিকাংশ ফারস্যবাসীই ইসলাম গ্রহণ করেছে। মিথ্যা, অস্বীকার ও বিরোধিতার ওপর অবিচল থাকে নি। তবে নেতৃস্থানীয় কাফিরদের কথা ভিন্ন; যারা জেনে-বুঝে হিংসা ও অংকারবশত স্বধর্ম ত্যাগ করে নি।
হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল শাম, মিসর, উত্তর আফ্রিকার জনগণ এবং স্পেন, এশিয়া মাইনর ও পশ্চিম ইউরোপের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ব্যাপারেও। এমনকি পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং হিন্দুস্থান প্রভৃতির জনসাধারণের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।
অস্ত্র ও তরবারীর জোরে নয়; বরং দলীল প্রমাণ ও আপন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইসলাম চিরবিজয়ী দীন। ইসলামের সঠিক দাওয়াত ও নবীচরিত্রের বাস্তবিক বিবরণ তুলে ধরতে পারলেই মানুষের হিদায়াতের জন্যে আর কিছুর প্রয়োজন নেই। দলে দলে লোক ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গহণের জন্য শুধুমাত্র ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট। এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴾ [النحل: ٣٥]
"আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া নয় কি?” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৫]
﴿وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴾ [النور: ٥٤]
"আর রাসূলের দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৪]
﴿فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴾ [المائدة: ٩٢]
"তার পর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখ যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব শুধু সুস্পষ্ট প্রচার।" [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৯২]
পবিত্র কুরআনে এ ধরণের অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার সবগুলো উল্লেখ করা দুরূহ ব্যাপার।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে মুসলিমরা যদি তাদের ধর্মের পয়গাম ও যথাযথ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সকলের কাছে পৌঁছে দিতে এবং নবীচরিত্রের সৌন্দর্যগুলো অন্যের নিকট তুলে ধরতে অক্ষম হয় তাহলে এর ফলাফল কী দাঁড়াবে? এ ব্যাপারে মুসলিমদের অক্ষমতা বিকৃত মতাদর্শের ধ্বজাধারীদের এবং ভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর ধারক-বাহকদের জন্য এ পথ উন্মুক্ত করে দেয় যে, তারা নিজেদের মতো করে জনসাধারণের সামনে ইসলামের একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করায় এবং এর ফাঁকে নিজেদের রচিত মতাদর্শের দাওয়াত গলাধকরণ করায়। আর মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধভাবে কারো নেতৃত্ব মেনে চলা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তাই ইসলামের ধারক-বাহকগণ যখন ইসলামের দাওয়াত, ইসলামী দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বদানে উদাসিনতা এবং অক্ষমতা প্রদর্শন করে তখন এর ফলাফল কী দাঁড়ায়? আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنْ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُبِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা মানুষের অন্তর থেকে ইলম কেড়ে নেবেন না। তবে তিনি 'আলেম শ্রেণিকে কবয করে ইলম তুলে নেবেন। যখন কোনো আলেম থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খ লোকদের নেতা বানিয়ে নেবে। তাদের কাছে ফাতওয়া চাওয়া হবে এবং তারা না জেনে ফাতওয়া দিবে। এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং লোকদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"
পৃথিবীতে মুসলিমদের ভূমিকা ও দায়িত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত প্রখ্যাত সাহাবী রব'ঈ ইবন 'আমের রাদিয়াল্লাহু 'আনহু' এর একটি চমৎকার প্রজ্ঞাময় উক্তি রয়েছে। তিনি বলেন,
الله ابتعثنا لنخرج من شاء من عبادة العباد إلى عبادة الله، ومن ضيق الدنيا إلى سعتها، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام
"আল্লাহ আমাদেরকে (মুসলিমদেরকে) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্তি দিয়ে আল্লাহর গোলামীর দিকে, সংকীর্ণতা থেকে প্রসস্ততার দিকে এবং অন্যান্য মতাদর্শগুলোর অবিচার থেকে মুক্ত করে ইসলামের সাম্য ও সম্প্রীতির দিকে বের করে আনার লক্ষ্যে।"
এ দায়িত্ব ও ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মহান। মুসলিমদের সর্বদা এ দায়িত্বের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা একান্ত জরুরী। কারণ যারা আমাদের বিরোধিতা করছে তাদের অধিকাংশ আমাদের পরিচয় পায় নি। আমাদেরকে যারা ঘৃণার চোখে দেখছে, তাদের অনেকেই আমাদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বে-খবর। আমাদের উচিৎ আমাদের দীন ও নবীচরিত্রের পূর্ণতা ও মাহাত্ম্যের ক্ষেত্রগুলোকে খুলে খুলে বিশ্লেষণ করা। প্রয়োজন আমাদের কথা আমাদেরই মুখে বলা। আমাদের আখলাক-চরিত্রের বিষয়গুলো আমাদেরই কলমে লেখা। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনেতিহাস আমাদেরই ভাষায় রচিত হওয়া। আমি ইংরেজি ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে লেখা বই খোঁজার জন্য ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় লাইব্রেরীগুলোতে প্রবেশ করেছি, সেখানে আমি ইসলাম ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে লেখা হাজারো বই দেখতে পেলাম; কিন্তু আফসোসের সাথে বলতে হয় যে, সেগুলোর অধিকাংশই রচিত হয়েছে অমুসলিমদের হাতে। ফল যা হবার তাই হয়েছে, খুব কম লেখকই ইসলামের সঠিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন। অবশিষ্ট অনেকেই নিজেদের রুচি মতো বিকৃতি সাধন, মিথ্যারোপ, অপব্যাখ্যা ও অবিচার করতে ছাড়েন নি。
টিকাঃ
৫. মযদক, প্রখ্যাত ফারস্য দার্শনিক, আনুশারওয়া এর পিতা কবায কিসরা এর যুগে যার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। কবায কিসরা তার মাযহাবের অনুসরণ শুরু করে, ছেলে আনুশারওয়া তা জানতে পেরে তাকে হত্যা করে ফেলে।
৬. সহীহ বুখারী (كتاب العلم: باب كيف يقبض العلم) হাদীস নং ১০০। সহীহ মুসলিম ( كتاب العلم: باب رفع العلم و قبضه ) হাদীস নং ২৬৭০।
৭. ফারস্য অভিযানে অংশগ্রহণকারী বিখ্যাত এক সাহাবী। সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস যাকে রুস্তমের নিকট দূত হিসেবে পাঠিয়েছেন। খুরাসান বিজয়ের পর আহনাফ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাকে তাখারিস্তানের গভর্ণর বানিয়ে পাঠিয়েছেন। ৪ আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৭ম খণ্ড ৪৩ পৃষ্ঠা।
হ্যাঁ, প্রিয় পাঠক! এসব মিথ্যাবাদী অস্বীকারকারীদের বাস্তবিক জীবনাবস্থার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবো। খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, গোটা দুনিয়ার ইসলামবিদ্বেষী মানুষগুলো দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। এক, হিংসুক। দুই, মূর্খ। হয়তো এদের কারো মধ্যে হিংসা ও মূর্খতা উভয়ই পাওয়া যাবে আর না হয় দুয়ের একটা অবশ্যই পাওয়া যাবে。
**প্রথম শ্রেণি: হিংসুক**
যারা হিংসুক তাদের দ্বারা ইসলামের বিরোধিতা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, বুদ্ধি-বিবেচনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান কোনো কিছুই হিংসুকের হিংসাকে প্রশমিত করতে পারে না। হিংসুকরা দুনিয়ালোভী, স্বার্থবাদী হয়ে থাকে। এরা স্বভাবতই প্রতিপক্ষের সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্যের কারণে মনের মধ্যে একধরণের ব্যাথা ও কষ্ট অনুভব করতে থাকে। এরা মানবতার এক বিকৃত শ্রেণি। কোনো দলিল-প্রমাণই এদের বিরোধিতার মাত্রাকে হ্রাস করতে পারে না। এদের ব্যাপারেই আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوا فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ ) [النمل: ١٤]
"আর তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল অথচ তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখ, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।” [সূরা আন-নামল, আয়াত: ১৪]
এ হিংসুক শ্রেণিতে রয়েছে বড় বড় অপরাধী, ফিৎনা ও গুমরাহীর মূল হোতা এবং অভিশপ্ত ইবলিসের চেলা-চামুন্ডারা। এরা সব যুগেই ছিল। কোনো নবী, ওলী বা সিদ্দিীক; কারো জীবনকালই এ শ্রেণি থেকে মুক্ত ছিল না। সব ক্ষেত্রেই এরা সত্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলার শত্রু। সব সময়ই এরা অসত্য, অসুন্দর ও উশৃঙ্খলার বাহক। এদের আধ্যাত্মিক ও মূল চালিকাশক্তি ইবলিস হলেও এরা মানুষের মধ্য হতে এমন কিছু দূর্ভাগাকে নিজেদের নেতা বানিয়ে নেয় যাদের ভালো-মন্দের অনুভূতি শক্তির মৃত্যু ঘটেছে, যাদের স্বভাবে ধরেছে পঁচন, অন্তর হয়ে গেছে কালিমাযুক্ত এবং অন্তর্দৃষ্টি হয়ে গেছে অন্ধ। ফলে তারা নিজেদের ও অধিনস্থদের জন্য একমাত্র গোমরাহী এবং ভ্রষ্টতার পথ বেচে নেয়। সত্য ও কল্যাণের প্রতি আহ্বানকারী সকল কিছু থেকেই পূর্ণ বিমুখতা প্রদর্শন করে এবং সত্য ও কল্যাণের ধারক-বাহক ব্যক্তি বা আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করে।
এ শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত ছিল ফির'আউন, হামান ও কারুন। আবু জাহল, উবাই ইবন খালফ ও আবু লাহাব এ দলেরই অংশ। এ ক্যাটাগরীতেই ছিল কিসরা ও কাইসার। হুয়াই ইবন আখতাব এবং কা'আব ইবন আশরাফও এদের বাইরে নয়।
এদের মধ্যে কেউ রাজা-বাদশাহর পোষাকে আত্মপ্রকাশ করে আবার কেউ ধরে সাধু-সন্ন্যাসিদের বেশ। কেউ তরবারী তুলে নেয় এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালায় আবার কেউ কলম হাতে নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটুক্তিতে লেগে যায়। এদের মধ্যে রয়েছে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, মুশরিক ও অগ্নিপূজক। রয়েছে নাস্তিক। রয়েছে মুসলিম নামধারী মুনাফিকরাও। যেমন আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল-এর ঘটনা কারো কাছেই অজানা নয়।
এরা বড় ভয়ংকর প্রজাতি। মুসলিমদের সব সময় এদের মুখোস উন্মোচন, এদের ষড়যন্ত্র ও নীল নকশার স্বরূপ উদঘাটনের এবং বিশ্ববাসীকে এদের অনিষ্ট ও অপকর্ম থেকে সতর্ককরণের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। এত ভয়ংকর হওয়া সত্যেও খুশির বিষয় হলো এরা সংখ্যায় অতি স্বল্প। সারা দুনিয়ার ইসলামবিরোধী জনগোষ্টির তুলনায় এরা সমুদ্রের মাঝে কয়েক ফোটা পানির ন্যায়। যেমন, সমগ্র মিসরবাসীর তুলনায় ফির'আউন, হামান ও কারুন কী? গোটা মক্কাবাসীর সামনে আবু জাহল, উবাই ইবন খালফ ও আবু লাহাব কয় জন? ফারস্য, ইরাক ও এতদুভয়ের আশ-পাশের গণমানুষের তুলনায় কিসরার অবস্থান কোথায়? শাম, এশিয়া মাইনর ও ইউরোপের খ্রিস্টানদের মধ্যে হিরাক্লিয়াসই বা কয় জন?
হিংসা ও খলতার ফাঁদে বন্দী এ শ্রেণির লোকেরা স্বেচ্ছায়, সাগ্রহে, জেনে-বুঝে ইসলামের মাহাত্ম্য ও নবী চরিত্রের পবিত্রতার ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকেফহাল হয়েই কেবল হিংসার বশবর্তী হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করে এবং সত্যনিষ্ঠ মহামানবের চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। তবে ইসলামের নিন্দাবাদে লিপ্ত, বিরুদ্ধাচারী ও লোকদেরকে ইসলাম থেকে বাধা প্রদানকারী মোট জনগোষ্ঠির তুলনায় এ হিংসুক শ্রেণি হাতে গণা কয়েকজন মাত্র。
**দ্বিতীয় শ্রেণী: মূর্খ**
প্রিয় পাঠক! তাহলে ইসলাম বিদ্ধেষীদের অবশিষ্ট বৃহদাংশ কোন শ্রেণির? হ্যাঁ তারা এ প্রথম শ্রেণির হিংসুকদের অন্ধ অনুসারী মূর্খ শ্রেণির লোক। যারা অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অপ-প্রচার ও তথ্য সন্ত্রাসের শিকার। যারা ইসলাম সম্পর্কে সঠিক উৎস থেকে ধারণা লাভ করতে পারে নি। যাদের নিকট ইসলামের বিকৃত রূপ তুলে ধরা হয়েছে। যাদেরকে এ ধারণ দেওয়া হয়েছে যে, ইসলাম হলো নিছক কিছু অসংলগ্ন নব আবিস্কৃত বিষয়াবলি, কষ্টদায়ক অন্ধ অনুকরণ এবং কতিপয় বিকৃত চিন্তা-চেতনার নাম মাত্র। ফলে তারা ইবলিসদের পেছনে বকরীর পালের মতো ছুটে চলেছে এবং নিজেদের বাহনজন্তুকে তাদের পতনের পথে ছুটিয়ে দিয়েছে আর তারা ধারণা করছে যে, তারা ভালো কাজই করছে। এদের মধ্যে কেউ হয়ত একেবারেই মূর্খ; জ্ঞানের আলো যাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, আবার কেউ স্বল্প জ্ঞানী; বিস্তারিত ব্যাংখ্যা-বিশ্লেষণ যাদের সন্দেহ-সংশয় দূর করতে পারে কিংবা কেউ মোটামুটি জ্ঞানের অধিকারী; দলীল প্রমাণের বর্ধিত জ্ঞান যাদেরকে সত্যের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারে।
মোটকথা এ দ্বিতীয় শ্রেণির লোকদের শুধু জ্ঞান প্রদীপের অভাব। এরা জ্ঞান-দরিদ্র জনসাধারণ। এরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আগ্রহী হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না এবং মন থেকে ইসলামের বিরোধিতাও করে না। এরা জেনে-বুঝে স্বেচ্ছায় সাগ্রহে এবং সংকল্পের সাথে ইসলামের বিরোধিতা ও নবী চরিত্রে কলঙ্ক লেপনে লিপ্ত হয় না। ইতিহাসের পৃষ্ঠা ওল্টালে আমরা কী দেখতে পাই? ফারস্যের জনসাধারণ কি ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল? নাকি ইসলাম বিরোধী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল শুধুমাত্র কিসরা তার সুবিধাভোগী উজির-উমারা এবং তার বশিভূত কিছু সৈনিকদের দ্বারা? ফারস্যের জনসাধারণ বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ এ বিশ্বাস লালন করে এসেছে যে, আগুন তাদের প্রভু, বংশ পরম্পরায় কিসরা তাদের নেতা এবং মযদক ও তার অনুসারীদের ধর্মই তাদের সঠিক ধর্ম। এভাবেই দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। হঠাৎ তাদের মাঝে ইসলামের স্বচ্ছ-সুন্দর বাণী উপস্থাপিত হলো। তাদের চোখের পর্দা সরিয়ে ফেলা হলো। তাদের নেতা ও সর্দাররা তাদের কানে সত্য ও সুন্দরের প্রতিবন্ধক এবং ভ্রষ্টতার যে সরঞ্জামাদী স্থাপন করে রেখেছিল তা বিদূরিত করা হলো। ফলে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে তারা তাদের বিপদগামিতার স্বরূপ উদঘাটন করে ফেলল, ইসলামের মাহাত্ম্য ও সৌন্দর্য স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করল এবং অতি নিকট থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উন্নত স্বভাব ও বিজ্ঞান সম্মত কথা-বার্তা, চাল-চলন অবলোকন করল। অতঃপর কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি ছাড়াই পূর্ণ আগ্রহ ও আন্তরিকতার সাথে ইসলামকে গ্রহণ করে নিল। আল্লাহর শপথ! কাউকে ইসলামে দীক্ষিত করতে আমাদের কোনো বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং কারো চেতনা-বিশ্বাসে চাপ সৃষ্টির চেষ্টাও করি না। উপরন্তু আমরা জোর-জবরদস্তী ও চাপ সৃষ্টি না করতে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ﴾ [البقرة: ٢٥٦]
"দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৬]
ফারস্য জাতির সামনে ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত বা সৎপথ স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা সত্যকে পেয়ে গেছে এবং স্পষ্টভাবে হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য বুঝে ফেলেছে। ফলে ফারস্যের বৃহৎ জনগোষ্ঠি তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির পথ অবলম্বন করেছে। যে স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বীজ আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিটি বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন।
﴿فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ﴾ [الروم: ٣٠]
"আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতির ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।" [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩০]
অধিকাংশ ফারস্যবাসীই ইসলাম গ্রহণ করেছে। মিথ্যা, অস্বীকার ও বিরোধিতার ওপর অবিচল থাকে নি। তবে নেতৃস্থানীয় কাফিরদের কথা ভিন্ন; যারা জেনে-বুঝে হিংসা ও অংকারবশত স্বধর্ম ত্যাগ করে নি।
হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল শাম, মিসর, উত্তর আফ্রিকার জনগণ এবং স্পেন, এশিয়া মাইনর ও পশ্চিম ইউরোপের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ব্যাপারেও। এমনকি পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং হিন্দুস্থান প্রভৃতির জনসাধারণের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।
অস্ত্র ও তরবারীর জোরে নয়; বরং দলীল প্রমাণ ও আপন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইসলাম চিরবিজয়ী দীন। ইসলামের সঠিক দাওয়াত ও নবীচরিত্রের বাস্তবিক বিবরণ তুলে ধরতে পারলেই মানুষের হিদায়াতের জন্যে আর কিছুর প্রয়োজন নেই। দলে দলে লোক ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গহণের জন্য শুধুমাত্র ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট। এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴾ [النحل: ٣٥]
"আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া নয় কি?” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৫]
﴿وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴾ [النور: ٥٤]
"আর রাসূলের দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৪]
﴿فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴾ [المائدة: ٩٢]
"তার পর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখ যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব শুধু সুস্পষ্ট প্রচার।" [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৯২]
পবিত্র কুরআনে এ ধরণের অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার সবগুলো উল্লেখ করা দুরূহ ব্যাপার।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে মুসলিমরা যদি তাদের ধর্মের পয়গাম ও যথাযথ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সকলের কাছে পৌঁছে দিতে এবং নবীচরিত্রের সৌন্দর্যগুলো অন্যের নিকট তুলে ধরতে অক্ষম হয় তাহলে এর ফলাফল কী দাঁড়াবে? এ ব্যাপারে মুসলিমদের অক্ষমতা বিকৃত মতাদর্শের ধ্বজাধারীদের এবং ভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর ধারক-বাহকদের জন্য এ পথ উন্মুক্ত করে দেয় যে, তারা নিজেদের মতো করে জনসাধারণের সামনে ইসলামের একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করায় এবং এর ফাঁকে নিজেদের রচিত মতাদর্শের দাওয়াত গলাধকরণ করায়। আর মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধভাবে কারো নেতৃত্ব মেনে চলা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তাই ইসলামের ধারক-বাহকগণ যখন ইসলামের দাওয়াত, ইসলামী দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বদানে উদাসিনতা এবং অক্ষমতা প্রদর্শন করে তখন এর ফলাফল কী দাঁড়ায়? আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنْ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُبِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা মানুষের অন্তর থেকে ইলম কেড়ে নেবেন না। তবে তিনি 'আলেম শ্রেণিকে কবয করে ইলম তুলে নেবেন। যখন কোনো আলেম থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খ লোকদের নেতা বানিয়ে নেবে। তাদের কাছে ফাতওয়া চাওয়া হবে এবং তারা না জেনে ফাতওয়া দিবে। এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং লোকদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"
পৃথিবীতে মুসলিমদের ভূমিকা ও দায়িত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত প্রখ্যাত সাহাবী রব'ঈ ইবন 'আমের রাদিয়াল্লাহু 'আনহু' এর একটি চমৎকার প্রজ্ঞাময় উক্তি রয়েছে। তিনি বলেন,
الله ابتعثنا لنخرج من شاء من عبادة العباد إلى عبادة الله، ومن ضيق الدنيا إلى سعتها، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام
"আল্লাহ আমাদেরকে (মুসলিমদেরকে) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্তি দিয়ে আল্লাহর গোলামীর দিকে, সংকীর্ণতা থেকে প্রসস্ততার দিকে এবং অন্যান্য মতাদর্শগুলোর অবিচার থেকে মুক্ত করে ইসলামের সাম্য ও সম্প্রীতির দিকে বের করে আনার লক্ষ্যে।"
এ দায়িত্ব ও ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মহান। মুসলিমদের সর্বদা এ দায়িত্বের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা একান্ত জরুরী। কারণ যারা আমাদের বিরোধিতা করছে তাদের অধিকাংশ আমাদের পরিচয় পায় নি। আমাদেরকে যারা ঘৃণার চোখে দেখছে, তাদের অনেকেই আমাদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বে-খবর। আমাদের উচিৎ আমাদের দীন ও নবীচরিত্রের পূর্ণতা ও মাহাত্ম্যের ক্ষেত্রগুলোকে খুলে খুলে বিশ্লেষণ করা। প্রয়োজন আমাদের কথা আমাদেরই মুখে বলা। আমাদের আখলাক-চরিত্রের বিষয়গুলো আমাদেরই কলমে লেখা। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনেতিহাস আমাদেরই ভাষায় রচিত হওয়া। আমি ইংরেজি ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে লেখা বই খোঁজার জন্য ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় লাইব্রেরীগুলোতে প্রবেশ করেছি, সেখানে আমি ইসলাম ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে লেখা হাজারো বই দেখতে পেলাম; কিন্তু আফসোসের সাথে বলতে হয় যে, সেগুলোর অধিকাংশই রচিত হয়েছে অমুসলিমদের হাতে। ফল যা হবার তাই হয়েছে, খুব কম লেখকই ইসলামের সঠিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন। অবশিষ্ট অনেকেই নিজেদের রুচি মতো বিকৃতি সাধন, মিথ্যারোপ, অপব্যাখ্যা ও অবিচার করতে ছাড়েন নি。
টিকাঃ
৫. মযদক, প্রখ্যাত ফারস্য দার্শনিক, আনুশারওয়া এর পিতা কবায কিসরা এর যুগে যার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। কবায কিসরা তার মাযহাবের অনুসরণ শুরু করে, ছেলে আনুশারওয়া তা জানতে পেরে তাকে হত্যা করে ফেলে।
৬. সহীহ বুখারী (كتاب العلم: باب كيف يقبض العلم) হাদীস নং ১০০। সহীহ মুসলিম ( كتاب العلم: باب رفع العلم و قبضه ) হাদীস নং ২৬৭০।
৭. ফারস্য অভিযানে অংশগ্রহণকারী বিখ্যাত এক সাহাবী। সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস যাকে রুস্তমের নিকট দূত হিসেবে পাঠিয়েছেন। খুরাসান বিজয়ের পর আহনাফ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাকে তাখারিস্তানের গভর্ণর বানিয়ে পাঠিয়েছেন। ৪ আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৭ম খণ্ড ৪৩ পৃষ্ঠা।
📄 মুসলিমগণ কোথায়?
আল্লাহর সৃষ্ট সমগ্র মানবকুলের সামনে ইসলাম ও নবীচরিত্রের সৌন্দর্য, মাহাত্ম্য ও পরিপূর্ণতা তুলে ধরে দাওয়াতের লক্ষ্যে লেখা-লেখি করা কি জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ'র অন্তর্ভুক্ত নয়? ইসলাম বিদ্ধেষীদের মনে তাদের মূর্খতাহেতু সৃষ্ট সকল সন্দেহ-সংশয় রোধকল্পে পদক্ষেপ গ্রহণ করা কি আমাদের কর্তব্যের আওতায় পড়ে না? যারা অজ্ঞতার নিম্নসীমায় বাসকারী, অন্ধকারাচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী এবং ইসলামের বড়ত্ব, মাহাত্ম্য ও নবীচরিত্রের সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ বে-খবর -এ সকল মানবগোষ্ঠির দ্বারে দ্বারে ধর্ম-জ্ঞানের আলোকবর্তিকা নিয়ে ছুটে যাওয়ার কি প্রয়োজন নেই? আল্লাহর দীনকে তাঁর স্বকীয় অবস্থানে নিয়ে যেতে ইসলামের সব সৌন্দর্য পৃথিবীর সকল মানবগোষ্ঠির সামনে তাদের নিজস্ব ভাষায় উপস্থাপিত হওয়ার কি কোনো প্রয়োজন নেই? আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ ﴾ [ ابراهيم: ٤]
"আর আমরা প্রত্যেক রাসূলকে তার কাওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাদের কাছে বর্ণনা দেন।" [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ০৪]
ব্যাপক হারে মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে পূর্ণ উদাসীন হয়ে শুধুমাত্র খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিয়ে মগ্ন থাকতে দেখে কি আমাদের অন্তরে কোনো কষ্ট অনুভূত হয় না? ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম বিদ্বেষীদের নিকট থেকে ইসলামের বিকৃত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ব্যাখ্যা পাওয়ার কারণে লক্ষ-কোটি মানুষ যে আজ ইসলাম বিমুখ, সে জন্য কি আমাদেরকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে না?
দায়িত্ব অনেক মহৎ, অবহেলার পরিণতিও অত্যন্ত ভয়াবহ। গোটা পৃথিবী আমাদের দীনের পূর্ণাঙ্গতার পানে তাকিয়ে রয়েছে, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো নেতৃত্বের অভাব অনূভব করছে। পৃথিবীবাসীর সামনে এর সঠিক রূপরেখা তুলে ধরার কাজ এতো সহজ নয়। শত্রুরা ওঁত পেতে আছে। শয়তানও বসে নেই। চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়ে গেছে। তবে আমাদের সামনে রয়েছে আল্লাহর ঘোষণা, তিনিই আমাদের অন্তরকে মজবুত করবেন এবং আমাদের কদমকে দৃঢ় করে দেবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَاللَّهُ غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴾ [يوسف: ٢١]
"আল্লাহ নিজ কর্ম সম্পাদনে প্রবল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ২১]
আল্লাহর সৃষ্ট সমগ্র মানবকুলের সামনে ইসলাম ও নবীচরিত্রের সৌন্দর্য, মাহাত্ম্য ও পরিপূর্ণতা তুলে ধরে দাওয়াতের লক্ষ্যে লেখা-লেখি করা কি জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ'র অন্তর্ভুক্ত নয়? ইসলাম বিদ্ধেষীদের মনে তাদের মূর্খতাহেতু সৃষ্ট সকল সন্দেহ-সংশয় রোধকল্পে পদক্ষেপ গ্রহণ করা কি আমাদের কর্তব্যের আওতায় পড়ে না? যারা অজ্ঞতার নিম্নসীমায় বাসকারী, অন্ধকারাচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী এবং ইসলামের বড়ত্ব, মাহাত্ম্য ও নবীচরিত্রের সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ বে-খবর -এ সকল মানবগোষ্ঠির দ্বারে দ্বারে ধর্ম-জ্ঞানের আলোকবর্তিকা নিয়ে ছুটে যাওয়ার কি প্রয়োজন নেই? আল্লাহর দীনকে তাঁর স্বকীয় অবস্থানে নিয়ে যেতে ইসলামের সব সৌন্দর্য পৃথিবীর সকল মানবগোষ্ঠির সামনে তাদের নিজস্ব ভাষায় উপস্থাপিত হওয়ার কি কোনো প্রয়োজন নেই? আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ ﴾ [ ابراهيم: ٤]
"আর আমরা প্রত্যেক রাসূলকে তার কাওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাদের কাছে বর্ণনা দেন।" [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ০৪]
ব্যাপক হারে মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে পূর্ণ উদাসীন হয়ে শুধুমাত্র খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিয়ে মগ্ন থাকতে দেখে কি আমাদের অন্তরে কোনো কষ্ট অনুভূত হয় না? ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম বিদ্বেষীদের নিকট থেকে ইসলামের বিকৃত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ব্যাখ্যা পাওয়ার কারণে লক্ষ-কোটি মানুষ যে আজ ইসলাম বিমুখ, সে জন্য কি আমাদেরকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে না?
দায়িত্ব অনেক মহৎ, অবহেলার পরিণতিও অত্যন্ত ভয়াবহ। গোটা পৃথিবী আমাদের দীনের পূর্ণাঙ্গতার পানে তাকিয়ে রয়েছে, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো নেতৃত্বের অভাব অনূভব করছে। পৃথিবীবাসীর সামনে এর সঠিক রূপরেখা তুলে ধরার কাজ এতো সহজ নয়। শত্রুরা ওঁত পেতে আছে। শয়তানও বসে নেই। চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়ে গেছে। তবে আমাদের সামনে রয়েছে আল্লাহর ঘোষণা, তিনিই আমাদের অন্তরকে মজবুত করবেন এবং আমাদের কদমকে দৃঢ় করে দেবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَاللَّهُ غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴾ [يوسف: ٢١]
"আল্লাহ নিজ কর্ম সম্পাদনে প্রবল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ২১]