📄 সমকালীন পৃথিবীর প্রতি সীরাতে মুহাম্মদীর পয়গাম
আমাদের সামনে যখন অন্ধকার যুগের নাম আসে, অনায়াসেই তখন চোখের সামনে প্রতিমূর্ত হয়ে ওঠে খৃস্টীয় ষষ্ঠ শতকের সেই তমসাচ্ছন্ন যুগ যাতে বিশ্বনবী (সা.) আবির্ভূত হয়েছিলেন। এটি তাঁর হিদায়েত ও প্রশিক্ষণের সর্বপ্রথম ও উল্লেখযোগ্য মু'জিযা। জাহিলিয়াত শব্দটি শুনতেই স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে আরব সম্প্রদায়, তাদের বর্বরোচিত বৈশিষ্ট্য, চরিত্র ও বেপরোয়া চলাফেরার দৃশ্য ঐতিহাসিকগণ যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। তবে জাহিলিয়াত বা অন্ধকার যুগ শুধু সে কালের সাথে বিশেষিত নয়, ইসলামের পরিভাষায় ঐ যুগ ওহী ও নববী দিক নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত এবং আম্বিয়ায়ে কেরামের আলোক রশ্মি যেখানে হয়ত পৌঁছেছে, কিন্তু লোকেরা তা থেকে বিমুখ থেকেছে, চাই সেটা খৃস্টীয় ষষ্ঠ শতকের দিগন্তবিস্তৃত বর্বরতা হোক, সাধারণ অন্ধকার যুগ হিসেবে যাকে স্মরণ করা হয় অথবা বিংশ শতাব্দীর দীপ্তিময় আলোকোজ্জ্বল, সভ্য ও অগ্রগতির যুগ হোক, আমরা যা অতিক্রম করছি।
কুরআনে কারীমের ভাষায় ভূমণ্ডলে আলোকরশ্মি একটাই এবং এর উৎসও একটাই। ইরশাদ হচ্ছে "আল্লাহ্ তা'আলা সপ্তাকাশ ও জমিনের আলোকরশ্মি।” তবে আঁধার অসংখ্য অগণিত। যদি আল্লাহ্ তা'আলার আলোকরশ্মির (যা শুধু আম্বিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে বিচ্ছুরিত হয়) দীপ্তি না থাকত, তাহলে থাকত না পৃথিবীতে আঁধারের কোন সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, বরং পরিলক্ষিত হতো জীবনের বাঁকে বাঁকে, পরতে পরতে আঁধার আর আঁধার। ইরশাদ হচ্ছে, "অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের ওপর তরঙ্গ, যার ওপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের ওপর এক অন্ধকার যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহতা'আলা যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই।"
একথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট, পাশ্চাত্য জগতে যেখানে সূর্য উদিত হয় না, অস্ত যায়, নববী আলোর বিম্বের ছোঁয়া লেগেছে খুব কম। এখানে আসমানী আলোক রশ্মি চিত্রায়ণের প্রচেষ্টা করা হয়েছে প্রতিনিয়ত মানব মস্তিষ্কপ্রসূত আলোকরশ্মি দিয়ে। মানবিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গ্রীস ও রোমানদের সোনালী যুগ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের এক দীপ্ত অধ্যায়; কিন্তু নববী প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার তুলনায় তা যেন নিষ্প্রভ, তিমিরাবগুণ্ঠিত বর্বর যুগ! আল্লাহ্ তা'আলার যাত, ছিফাতের ব্যাপারে এখানে কোন আলোকরশ্মি ও দিকনির্দেশক ছাড়াই শুধু যুক্তির ঘোড় দৌড়ানো হয়েছে। “এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই, তারা শুধু আন্দাজের অনুসরণ করে।" বিজ্ঞান ও দর্শনের যে ম্যাজিক তারা বিস্তৃত করেছে, তা কল্পনাপ্রসূত ও বিস্ময়কর।
এতদসত্ত্বেও এ বাস্তবতাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে পাশ্চাত্যে আল্লাহ্ তা'আলায় বিশ্বাস পরকালের চিন্তা-চেতনা খৃস্টবাদেরই অনিবার্য ফল আসমানী ধর্ম যতই রূপান্তরিত হোক, আল্লাহ্ পরকালের কল্পনা শিরায় শিরায় থাকে প্রবাহিত। খৃস্টীয় পনের ও ষোড়শ শতকে ইউরোপে যৌক্তিকতা তথা বস্তুবাদ ও ইন্দ্রিয় পূজার যে বিপ্লব সৃষ্টি হলো, পাশ্চাত্য জগতকে তা দিবালোকে লাগিয়ে দিল জড়পূজায়। ধীরে ধীরে ইউরোপ হয়ে উঠল জড়পূজারী। তাদের জীবনধারা এমন ছাঁচে ঢালা, যাতে না আছে আল্লাহ্, না পরকাল। আজ একথা বলা বিলকুল যথার্থ, ইউরোপের ধর্ম খৃস্টবাদ নয়, বরং বস্তুবাদ।
আল্লাহ্ বিস্মৃতির দ্বিতীয় পরিণাম হলো আত্মবিস্মৃতি। কোরআন কারীম এ বাস্তব সত্যটির বিবরণ দিয়েছে, "আল্লাহ্ বিস্মৃতির শাস্তি আত্মবিস্মৃতি"- ইরশাদ হচ্ছেঃ “তাদের মত হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে যায়। অন্যথায় আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে আত্মবিস্তৃত বানিয়ে দেবেন।” বিংশ শতাব্দীর মানুষ আত্মবিস্মৃতির পরিপূর্ণ মডেল। সে বেমালুম ভুলে গেছে তার মূল সত্তা, ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য, জীবনের ও জন্মলাভের মূল উদ্দেশ্য। অবলম্বন করেছে সে পশুসুলভ জড়বাদী জীবন যাপন। রূপান্তরিত হয়েছে সে টাকা তৈরির মেশিনে। এক পশ্চিমা লেখক এর বাস্তবতাকে সুস্পষ্টরূপে স্বীকার করে বলেছেন: আমাদের বিস্ময়কর শৈল্পিক বিজয় ও লজ্জাকর ছেলেমানুষী চরিত্রে যে ব্যবধান, এর কারণে আমাদের জীবনের বাঁকে বাঁকে জন্ম নিচ্ছে প্রচুর সমস্যা। চড়ুই পাখির মত তোমরা আকাশে উড়তে জান, মৎস্যরাজির মত পানিতে সাঁতরাতে জান, কিন্তু এখনও মানুষের মত পৃথিবীতে চলতে জান না।
পরকাল অস্বীকৃতি কিংবা পরকাল বিস্মৃতির পর আমোদ-প্রমোদ ও উপভোগের এ আবেগ, আমরা মুসলমান যাকে ছেলেমী মনে করি, পরকাল অস্বীকৃতি হিসেবে হুবহু ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গি। যারা এ জীবনের পর আরেকটি জীবন আছে তা ভাবতে পারে না তারা কেন ত্রুটি করবে- এ জীবনের স্বাদ উপভোগে, আত্মার দাহ নেভাতে। এ যেন জীবনের এক তীব্র তৃণা, যা নির্বাপিত হবার নয়! এক প্রচণ্ড ক্ষুধা, যা নিবারণ হবার নয়। দিন দিন বাড়তে লাগল জীবনের প্রয়োজন। ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মুকাবেলা এতে মদদ যুগিয়েছে।
পরকাল অস্বীকৃতির দ্বিতীয় স্বাভাবিক পরিণাম হলো, দুনিয়ার উপকরণ ও তার কর্ম অত্যধিক সুসজ্জিত, বিবেকসম্মত ও যুক্তিযুক্ত মনে হয়। জন্ম নেয় বস্তুবাদী মানসিকতা ও স্থূল দৃষ্টি, বাস্তবতা পর্যন্ত যা পৌঁছাতে পারে না। ইরশাদ হচ্ছে, "যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকাণ্ডকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতএব তারা উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।”
পরকাল অস্বীকৃতির এক বিশেষ গুণ হলো, অহংকার আখেরাত অস্বীকারকারীর দাম্ভিক হওয়ার অন্তরায় হয় না। কোন কিছু যে তার চেয়ে বড় কোন শক্তিধর, এ জীবনের পর অন্য কোন জীবন ও প্রতিদান দেবার প্রতি বিশ্বাস রাখে না, তাকে এক লাগামহীন উদ্ধত মানুষ হওয়া থেকে রুখতে পারে কিসে? এরূপ পরজীবন অস্বীকারকারী, বস্তুবাদী সম্প্রদায়ের হিংস্র থাবা, তাদের অত্যাচারী পাকড়াও এবং তাদের বিজয় যেন এক ভয়াবহ ভূমিকম্প, যা শহরের পর শহর, দেশের পর দেশকে উলট-পালট করে দেয়।
অনুরূপ পাশ্চাত্যবাসীরা রাসূল (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনয়নের দৌলত থেকে বঞ্চিত। যদিও তারা হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ্র পুত্র বলে মেনে নিয়েছে কিন্তু তারা তাঁকে জীবনাদর্শ ও অনুসরণীয় রাসূল হিসাবে কার্যত মেনে নেয়নি। খৃস্ট সম্প্রদায় তাদের বাস্তব জীবন মুক্ত করে নিল হযরত ঈসা (আ.)-এর নেতৃত্ব ও গির্জার তত্ত্বাবধান থেকে। জীবন যাপন করতে লাগল বাধাবন্ধনহীন যেন তারা কোন নবীর উম্মত নয়। তারা জাগতিক উপকরণ সঞ্চয় করেছে প্রচুর। কিন্তু কল্যাণপ্রবণতা তো অর্জিত হয় শুধু আম্বিয়ায়ে কেরামের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও সংশোধনেই।
বিগত যুদ্ধ সমাপ্তির পর মাস্টার লয়েড জর্জ বলেছিলেন, "যদি হযরত মাসীহ (আ.) এ ধরায় আগমন করেন তো বেশি দিন বাঁচবেন না।” লক্ষণীয় বিষয় হলো, দু' হাজার বছর পরও মানুষ ফেৎনা-ফাসাদ, রক্তপাত, হত্যা, লুণ্ঠনে নিয়মিত জড়িত, বরং ভয়াবহ এখন তো মানবতার প্রতিবিম্ব থেকে, ইতিহাসের সবচেয়ে মহাযুদ্ধের প্রভাব থেকে ঝরছে তপ্ত খুন লহরী। কী দেখবেন হযরত এসে? ভ্রাতৃত্ববোধে পরস্পর হাত মেলাতে? না তার বিপরীত সেই মহাযুদ্ধের চেয়ে বড় ধ্বংসাত্মক, বেদনাদায়ক যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে? মানুষের কুপ্রবৃত্তির অবস্থা বর্ণনায় ঘোষিত হয়েছে, "তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখাল, যে কাজ তারা করছিল।"
আজ থেকে সাড়ে তের শ' বছর পূর্বের সভ্য জগত রোম ও ইরান তথা প্রাচ্যের সম্রাটদের হাতে ছিল যার দিক নির্দেশনা, তা আজকের জগতের সাথে প্রায়ই মিলে যায়। মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়ে আত্মবিস্মৃতিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। জগত জুড়ে এক আল্লাহ্র পরিবর্তে বহু খোদার পূজা, উপাসনার মায়াজাল বিস্তৃত ছিল। শাসকগোষ্ঠী লিপ্ত ছিল নির্যাতন, নিপীড়ন, বলাৎকার, অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগ করে রাজত্ব পরিচালনা, মানুষকে কষ্ট দেয়া ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগতকরণে। ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিল আমীরগণ।
তৎকালে ঐ সভ্য জগতের (যাতে ঘুণে ধরেছে সম্পূর্ণরূপে) ভিন্ন কিন্তু একেবারেই নিকটবর্তী, প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী উভয় সম্রাটের ঠিক মাঝখানে উম্মীদের মাঝে আল্লাহ্ তা'আলা আবির্ভাব ঘটালেন এক উম্মী নবীর। তিনি যেন শতাব্দীভর নিপতিত শাস্তি থেকে উদ্ধার করেন জগতকে। সপ্তম হিজরী সনে নবীয়ে উম্মী (সা.) মদীনা থেকে রোম সম্রাট বরাবর একটি বার্তা পাঠালেন যাতে দাওয়াত ছিল এই, “হে আহলে কিতাবগণ! একটি কালেমা-বিষয়ের দিকে আস, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান যে, আমরা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না।"
হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.) ইরানের প্রতাপী সেনাপতি আমীর রুস্তমের আহ্বানে হযরত রাবয়ী ইবনে আমের (রা.)-কে দূত হিসেবে পাঠালেন। হযরত রাবয়ী (রা.) রাজদরবারে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, শরীরে মোটা মোটা পরিচ্ছদ, হাতে নাঙ্গা তালোয়ার, ঢাল। রুস্তম জিজ্ঞেস করলঃ এদেশে কি উদ্দেশে আপনার আগমন? তিনি জবাব দিলেন অত্যন্ত বলিষ্ঠ জবাব: আল্লাহ্ তা'আলা এক মহৎ কাজের জন্য আমাদেরকে নিয়োজিত করেছেন। তা হলো, আমরা তাঁর নির্দেশে তাঁর বান্দাদেরকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহ্র বন্দেগীতে, পার্থিব সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে প্রশস্ততায়, ধর্মের নামে রকমারি নির্যাতন নিপীড়ন থেকে উদ্ধার করে ইসলামের ন্যায়নীতির ছায়াতলে প্রবেশ করাতে তিনি আমাদেরকে স্বীয় ধর্মসহ মাখলুকের প্রতি পাঠিয়েছেন।
রুস্তম বলল: আপনি কি মুসলমানদের সরদার? হযরত রাবয়ী বললেন: না, সমস্ত মুসলমান এক শরীরসদৃশ। তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন জনেরও সর্বোচ্চ জনের মুকাবেলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার আছে।
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) এক রোমীয় রাজদরবারে দূত হিসেবে গেলেন। রাজদরবারে সোনালী কিংখাবের ফরশ বিছানো ছিল। হযরত মুয়াজ (রা.) জমিনে বসে গেলেন এবং বললেন: আমি এমন বিছানায় বসতে চাই না, যা গরীব অসহায়দের অধিকার হরণ করে তৈরি করা হয়েছে। খৃস্টানগণ বলল: আমরা তোমাকে সম্মানিত করতে চাচ্ছিলাম। হযরত মুয়াজ (রা.) বললেন: তোমরা যাকে সম্মান মনে করো, আমার তার পরোয়া নেই। যদি জমিনে বসা দাসদের অভ্যাস হয়ে থাকে, তাহলে আমার চেয়ে আল্লাহ্ বড় দাস আর কে?
এসব সংশোধন, অগ্রগতি, আল্লাহ্ তা'আলাকে একক উপাস্য মেনে নেয়া, নিজেকে তাঁর সমীপে অর্পণ করা এবং এক নিষ্পাপ নবীর তত্ত্বাবধান ও লালন-পালনে নিজেকে সোপর্দ করার অনিবার্য ফল। এ দ্বারা যেন তার জীবনধারা তার আসল ছাঁচে মিলে গেছে। এসে গেছে প্রত্যেকে তার স্ব স্ব স্থানে। যারা ছিল পশুর গুণে গুণান্বিত, তারা বিভূষিত হলো ফেরেস্তার ভূষণে। যারা ছিল লুণ্ঠনকারী ডাকাত, তারাই রক্ষাকারী হয়ে গেল অন্যের সম্পদ, সম্মান, জীবন সম্ভ্রমের। তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা, দ্বেষ, ক্রোধ ছিল তা দূর হয়ে গেল।
ষোল শতাব্দীতে যখন তাদের আঁখিযুগল খুলল, কল্পনায় ভেসে উঠল তখন তাদের সমস্ত বিপর্যয়ের চিকিৎসা হলো গির্জার গোলামী থেকে মুক্তি লাভ করা। কিন্তু 'লা-ইলাহা'-এর পুরো মনযিল তারা অতিক্রম করেনি তখন। বিংশ শতাব্দীর জগতের প্রতি, যার নেতৃত্ব আজ পাশ্চাত্যের হাতে—সীরাতে মুহাম্মদীর মৌলিক বার্তা হলো, "হে আল্লাহ্ থেকে পলায়নকারি! আল্লাহ্র দিকে ধাবিত হও। তাঁকে ছাড়া কাউকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করো না।"
অতএব, তোমরা আল্লাহুর দিকে ধাবিত হও। আমি তার তরফ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী। তোমরা আল্লাহ্র সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রেরিত হওয়ার পর ব্যক্তি, সম্প্রদায়, প্রাচ্য-পাশ্চাত্য, প্রাচীন-আধুনিক-সকলের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার ফয়সালা হলো, সৌভাগ্য ও সফলতা তাঁর আদর্শ অনুকরণেই নিহিত। দুর্ভাগ্য, ধ্বংস, বঞ্চনা আর অকৃতকার্যতা তাঁকে বর্জনেরই অনিবার্য পরিণাম।
সমাপ্ত