📘 নতুন পৃথিবীর জন্ম দিবস 📄 বিশুদ্ধ হাদীসের দৃষ্টিতে খতমে নবুওয়ত

📄 বিশুদ্ধ হাদীসের দৃষ্টিতে খতমে নবুওয়ত


এতে সন্দেহ নেই, একজন আরবী ভাষী, আরবী ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে সম্যক, ওয়াফেকহাল ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের সাবলীল বলিষ্ঠ বর্ণনা থেকে সহজেই বুঝতে পারে, নবীজীর পর আর কোন নবীর আগমন ঘটবে না, বরং এ বিষয়ে তাকে কোন সন্দেহ-সংশয় স্পর্শ করতে পারবে না। কারণ বিষয়টি দিবালোকের মত স্পষ্ট। কোথাও কোন জটিলতা নেই, রহস্যময়তা নেই। তারপরও বিষয়টির গভীর গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য করে রাসূল (সা.) আরও কিছু সুস্পষ্ট প্রতিভাত ব্যাখ্যা পেশ করেছেন এ মর্মে। তিনি বিভিন্ন উপমা-উৎপ্রেক্ষার আলোকে তুলে ধরেছেন এই মহান সত্য। এ সম্পর্কিত হাদীসের সংখ্যা প্রচুর। আমরা এখানে কয়েকটি হাদীস তুলে ধরছি মাত্র। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

১. "বনী ইসরাঈলের নবী তাদের শাসকও হতেন। তাদের এক নবীর ওফাতের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন দ্বিতীয় নবী। কিন্তু আমার পর আর কোন নবীর আবির্ভাব হবে না, বরং আমার খলীফা হবে।" [বুখারী শরীফ]

২. রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "আমার ও পূর্ববর্তী নবীদের উপমা হলো সেই ব্যক্তির মত- যে ব্যক্তি একটি সুন্দর অট্টালিকা তৈরি করেছে। কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের জায়গা খালি ছিল। দর্শনার্থীরা এসে ঘুরে-ফিরে অট্টালিকা দেখে আর তাজ্জব হয়ে বলে, এখানে এই ইটটি খালি কেন? সেই ইটটিই আমি। আমি সর্বশেষ নবী।" [বুখারী শরীফ]

৩. নবীজী (সা.) বলেছেন: আমাকে ছয়টি কারণে অন্য সকল নবীর ওপর প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে: ১. আমাকে সারগর্ভ বক্তব্যের অধিকারী করা হয়েছে। ২. প্রভাব ও ভীতি দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। ৪. আমার জন্যে সমগ্র মৃত্তিকাকে মসজিদে ও পবিত্রকারী বানানো হয়েছে। আমাকে সমগ্র সৃষ্টির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। ৬. নবুওয়তের পরিসমাপ্তিও সাধিত হয়েছে আমার-ই মাধ্যমে। [মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ]

৪. রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, "নবুওয়ত ও রিসালাত সমাপ্ত হয়ে গেছে। আমার পর আর কোন নবী-রাসূলের আগমন হবে না।"

৫। সাহাবী হযরত জুবায়র ইবনে মুতইম (রা.) বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেনঃ আমি মুহাম্মদ, আমিই আহমদ। আমিই মূলোৎপাটনকারী। আমার মাধ্যমে আল্লাহ্তায়ালা কুফুরকে মূলোৎপাটিত করবেন। আমি 'হাশির'। আমার মাধ্যমে হাশরের মাঠে সমগ্র জাতিকে পুনরুত্থিত করবেন আল্লাহতাআলা। আমি সকলের শেষে আগত। আমার পর আর কোন নবী আসবে না। [বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ]

আমরা এখানে নমুনাস্বরূপ কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করলাম। অন্যথায় এ সম্পর্কে হাদীসের সংখ্যা প্রচুর। সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা আনোয়ার শাহ্ কাশ্মীরী (র.) তদীয় গ্রন্থ আকীদাতুল ইসলামে বলেছেন, খতমে নবুওয়তকে প্রমাণ করে এমন হাদীসের সংখ্যা দু'শ'টি। মুফতীয় শফী (র.) এ বিষয়ে প্রণীত তদীয় অমর রচনা "খতমে নবুওয়ত"- এর দুই শ' দশটি হাদীস সংকলন করেছেন।

উম্মতে মুহাম্মদীর বিশাল বিস্তীর্ণ কাল, বিশ্বময় ব্যাপ্তি, মূর্খতার আধিক্য আর বিশ্বাসের বিরোধ ও পতনের তুলনায় এ সংখ্যাও খুব বেশি নয়। মূলত মুসলমানদের সুদৃঢ় বিশ্বাস, অবিচল আকীদা, রক্ত-মাংসে নিহিত অনির্বাণ চেতনা, অধিকন্তু কোরআন-হাদীসের স্পষ্ট ভাষ্যেরই ফলশ্রুতি এটা। সন্দেহ নেই, অনন্তকাল প্রতিষ্ঠিত থাকবে বিশ্বমুসলিম তাদের এই গৌরবময় অভিধায়। এটাই তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অহংকার-সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি- তাদের নবী সর্বশ্রেষ্ঠ-সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল আর তারা হলো সর্বশেষ উম্মত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية