📄 মুসলমানদের উদ্দেশ সীরাতের পয়গাম
সকলেই জানেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) যখন আবির্ভূত হন তখন দুনিয়াটা এমন কোন বিরান ও অনাবাদী জায়গায় পরিণত হয় নি কিংবা কোন কবরস্থানেও তা পরিণত হয়ে যায়নি। জীবনের চাকা এখন যেভাবে চলছে, অল্প-বিস্তর পার্থক্য থাকলেও তখনও তো সেভাবেই চলছিল। দুনিয়ার তামাম কায়কারবার আজকের মতই চলছিল। তখন ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন ছিল, তেমনি কৃষিকর্মও ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ছিল, ছিল প্রশাসন চালাবার লোক আর তার নিয়মনীতি। তখনকার লোকগুলো তাদের প্রচলিত জীবনধারায় পরম তুষ্ট ও তৃপ্ত ছিল। তাদের সেই জীবনধারায় কোনরূপ কাটছাঁট, সংস্কার-সংশোধন কিংবা পরিবর্তন-পরিবর্ধনের কোন প্রয়োজন তারা অনুভব করত না।
কিন্তু আল্লাহতা'আলার নিকট তাঁর যমীনের এই চিত্র ও পৃথিবীর এই অবস্থা আদৌ পছন্দনীয় ছিল না। এই যুগ সম্পর্কে হাদীস পাকে বলা হচ্ছেঃ "আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়াবাসীদের প্রতি দৃষ্টিক্ষেপণ করলেন। তিনি দুনিয়ার তামাম অধিবাসীকে, চাই কি সে আরব বা অনারব হোক, অপছন্দ করলেন এবং তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। কিতাবধারীদের কিছু লোক এর ব্যতিক্রম ছিল।”
এমনি এক অবস্থায় আল্লাহতা'আলা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর সঙ্গে একটি গোটা জাতিগোষ্ঠীর আবির্ভাবের ব্যবস্থা করলেন। আর এ তো সত্য, তাদেরকে এমন কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের জন্য আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছিলেন যা অন্য কোন জাতিগোষ্ঠীর দ্বারা সাধিত হচ্ছিল না। যে কাজ তারা সকলে পূর্ণ নিবিষ্ট চিত্তে ও আগ্রহ সহকারে আঞ্জাম দিচ্ছিল তার জন্য কোন নতুন উম্মাহ জন্ম দেবার দরকার ছিল না এবং মানব জীবনের এই প্রশান্ত সমুদ্রে এই নতুন তরঙ্গ তোলারও প্রয়োজন ছিল না যা মুসলমানদের জন্ম লাভের ভেতর দিয়ে আবির্ভাব ঘটল এবং যারা পৃথিবীতে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করল।
আল্লাহতা'আলা যখন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন তখন ফেরেশতারা আবেদন করলেন, তাসবীহ-তাহলীল ও পাক-পবিত্রতা বর্ণনার জন্য তো আমরাই যথেষ্ট ছিলেন, এর জন্য আবার এই মাটির পুতুল বানাবার কী দরকার পড়ল, বুঝতে পারলাম না। আল্লাহতা'আলা বললেন: আমি জানি যা তোমরা জান না। এ যেন ইঙ্গিত দিলেন এবং সামনে গিয়ে তা স্পষ্টও করে দিলেন, আদম (আ.) কেবল এই কাজের জন্যই পয়দা হন নি, যে কাজ ফেরেশতারা আঞ্জাম দিচ্ছিলেন। তার থেকে আল্লাহ্ অন্য কাজ নিতে চান।
আজ যদি কুরাইশ সর্দারদের কিছু বলার শক্তি থাকত তাহলে তারা মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে একথা বলতে পারত, আজ তোমরা এসব জিনিসের পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছ, যেসব বস্তুকে তোমরা তোমাদের জীবনের পরম লভ্য ও কাঙ্ক্ষিত ভাবছ, সেই সব জিনিসই তো আমরা গোনাহগাররা তোমাদের পয়গাম্বরের সামনে পেশ করেছিলাম আর সেগুলো তোমরা এক ফোঁটা খুন না ঝরিয়েও হাসিল করতে পারতে। তাহলে তোমাদের যাবতীয় দৌড়-ঝাপ ও চেষ্টা-সাধনার প্রাপ্তি এবং সেই সমস্ত কুরবানী ও ত্যাগের মূল্য কি সেই জীবন-পদ্ধতি ও জীবনধারা যা আজ তোমরা মেনে চলেছ এবং জীবন-যিন্দেগী ও নৈতিক চরিত্রের কি সেই সমতল রেখা যার ওপর আজ তোমরা পরম তুষ্ট? আজ যদি কুরাইশ নেতৃবর্গের ভেতর থেকে কেউ, যারা ছিল ইসলামের প্রতিপক্ষ-এই প্রশ্ন করবার সুযোগ পায় তাহলে আজ আমাদের শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতর ও যোগ্য থেকে যোগ্যতর উকীলও এর সন্তোষজনক ও থামিয়ে দেবার মত জওয়াব দিতে পারবেন না এবং এ ব্যাপারে উম্মাহর লজ্জিত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।