📄 মাওলানা রাবে হাসানী নদভীর অভিমত
ইউরোপের অত্যন্ত উচ্চ মানের ও সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ডে কয়েক বছর থেকে একটি ইসলামী সেন্টার কায়েম হয়েছে। এর প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে হিন্দুস্থানের বিশিষ্ট তিন ব্যক্তি প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. খালিক আহমাদ নিজামী সাবেক ভি. সি. আলিগড় ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান ড. ফারহান নিজামী ও মুহতারাম মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ সেন্টারের প্রতিষ্ঠা এত জটিল ছিল না, যত না জটিল ছিল এর জ্ঞান, গবেষণা ও ব্যবস্থাপনার মান অক্সফোর্ডের মানের সাথে সংগতি ও সামঞ্জস্য বিধান করা এবং ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে এর অবস্থান ও মর্যাদার স্বীকৃতি আদায় করা। প্রাচ্যের জ্ঞান, গবেষণা ও ইসলামী কাজের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতাকে মানিয়ে নেয়া ছিল এ অঞ্চলে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য যা এ কুফর ভূমিতে ইসলামের পরিচয় করানো এবং তার বিশাল ইতিহাস ও মহান শিক্ষার সাথে তাদেরকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলার নামান্তর।
এ সেন্টারের সভাপতিত্ব হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীকে অর্পণ করা হয়। এর এন্তেজামী দায়-দায়িত্ব প্রফেসর খালিক আহমাদ নিজামীর সাহসী ও যোগ্য সাহেবজাদা ড. ফারহান নিজামীকে দেয়া হয়। এ দায়িত্ব তিনি এত সুচারুরূপে আঞ্জাম দেন যদ্দ্বারা এর ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার মানকে পৃথিবীর বিজ্ঞ ও জ্ঞানী সমাজ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বরণ করছে।
এ সেন্টারের সম্মতি ট্রাস্টি কুয়েতের পণ্ডিত শায়খ আব্দুল আজিজ আল আলী আল মুতায়ে-এর নামে একটি লেকচারের ধারা শুরু করে, যা ছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, স্কলারদের সামনে ইসলামের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকের পরিচয় পেশ করার একটা সুযোগ। এ ধারার প্রথম প্রবন্ধ পাঠ করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর ওপর।
হযরত মাওলানা “ইসলাম জ্ঞানের মর্যাদা, জ্ঞান প্রচার, প্রসার ও বিস্তারে তার অবদান” শিরোনামে একটি অত্যন্ত অর্থবহ, জ্ঞানগর্ভ ও চিন্তাপুষ্ট প্রবন্ধ প্রস্তুত করেন যা সেন্টারের পক্ষ থেকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হলে একটি অত্যন্ত বিজ্ঞ ও পণ্ডিতদের সমাবেশে উপস্থাপন করা হয়। বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ও হযরত মাওলানার শক্তিশালী ও প্রাঞ্জল বর্ণনা ভঙ্গি প্রবন্ধের গুণগত মান আরও বাড়িয়ে দেয়। এ প্রবন্ধ আরবী ও উর্দুর কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এখন ব্যাপক ফায়দার প্রতি লক্ষ্য রেখে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে যাতে তার উপকার আরও ব্যাপক হয়।