📄 সর্বাপেক্ষা পবিত্র দায়িত্ব
এই আল্লাহর মা'রিফাতের গুরুত্ব অত্যধিক। আমার বক্তব্যে উল্লিখিত উদাহরণটি শহরের নিছক একজন প্রশাসক কিংবা নিয়ন্ত্রকের ব্যাপার নয়, বরং তিনি শহরের সৃষ্টিকর্তাও। তিনিই তার অস্তিত্ব দান করলেন। এতে জীবন সঞ্চারও করলেন। জীবন যাপনের সর্ববিধ উপাদান সহজ সুলভে যুগিয়ে দিলেন। তিনি রুযীদাতা। তিনি বিনয়ী, দয়ালু, ক্ষমতাবান। সন্তানের প্রতি মাতার স্নেহ যতটুকু, সৃষ্টির সাথে তাঁর সম্পর্ক এর চেয়েও ঘনিষ্ঠতর। পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতগুলো দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে আল্লাহর সম্পর্ক তাঁর সৃষ্টিকুলের সাথে যে কতটুকু সুপরিসর, গভীর ও প্রগাঢ়। এর সাথে সাথে আল্লাহ্ পাকের কয়েকটি সুন্দর নামের পরিচিতি পাওয়া যাবে, যার মহিমায় ধারার প্রতিটি অণু-পরমাণু প্রদীপ্ত।
"তিনিই আল্লাহ্, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই; তিনি অদৃশ্য দৃশ্যের পরিজ্ঞাত; তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু। তিনিই আল্লাহ্, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনিই অধিপতি, তিনিই পবিত্র, তিনিই শান্তি, তিনিই নিরাপত্তা বিধায়ক, তিনিই রক্ষক, তিনিই পরাক্রমশালী, তিনিই প্রবল, তিনিই অতীব মহিমান্বিত; তারা যাকে শরীক স্থির করে, আল্লাহ্ তা হতে পবিত্র, মহান। তিনিই আল্লাহ্ সৃজনকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, রূপদাতা, সকল উত্তম নাম তাঁরই। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [সূরা হাশর: ২২-২৪]
সুতরাং মানুষ তার প্রদত্ত বুদ্ধির সার্বিক প্রয়াসের সদ্ব্যবহার করে আল্লাহর মা'রিফাত ও পরিচিতি লাভ করে তা রাখতে হবে অন্তরের অন্তস্তলে। সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে প্রমাণ দেখাতে হবে তার প্রতি ঐকান্তিকতার। তাঁর তাবেদারী, সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও কৃপা দৃষ্টি অর্জনে অক্লান্ত সংযম সাধনা করাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম কাজ ও পরম দায়িত্ব। মানবতা ও ভদ্রতার দাবিও এটি। সুবুদ্ধি ও নিষ্ঠা-প্রকৃতিরও এটাই চাহিদা।
মানুষের স্তর বিভিন্ন। তাদের সক্রিয়তা, তৎপরতা ও দাওয়াতের পাশে রয়েছে আম্বিয়া-ই-কিরামের তৎপরতা। উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এই পবিত্র দলটির প্রয়োজন পরাপরদের জন্য কতটুকু? শরীরের জন্য আত্মার, কর্মের ক্ষেত্রে বুদ্ধির এবং মানব জাতির জন্য দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন চোখ দু'টির প্রয়োজন যতটুকু।
তাদের উপস্থিতি ছাড়া জগত (যদিও এতে সমস্ত জ্ঞান, সাহিত্য-ভাণ্ডার, সভ্যতা, সংস্কৃতি, শিল্প ও পেশা থাকুক না কেন) অন্ধকার আর অন্ধকার। যেন ঘোর তিমিরাচ্ছন্ন এক সাগর!
“পুঞ্জীভূত অন্ধকার, স্তরের ওপর স্তর, এমন কি সে হাত বের করলে তা আদৌ দেখতে পাবে না। আল্লাহ্ যাকে জ্যোতি দান করেন না, তার জন্য কোন জ্যোতিই নেই।” [সূরা নূর : ৪০]
📄 মানবতার কল্যাণ, বরকত ও সভ্যতার অগ্রগতির আসল উপাদান
আম্বিয়া-ই-কিরাম (আ.) শুধু আল্লাহর বিশুদ্ধ মা'রিফাত ও নিশ্চিত ইলমের প্রাণকেন্দ্র ও উৎস নয়, বরং এর সাথে সাথে তাঁরা মানব সমাজকে দান করেন আরো এক অমূল্য সম্পদ। মানবতার কল্যাণ ও বরকত আনয়ন এবং সভ্যতা ও উন্নতির প্রতিষ্ঠা সাধন এই সম্পদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। সে মহামূল্যবান উপাদান হচ্ছে ভালোর প্রতি অনুরাগ ও মন্দের প্রতি বিরাগমনা হওয়ার পবিত্র প্রেরণা সৃষ্টি করা, শিরকের শক্তি ও ঘাঁটিগুলো ধূলিসাৎ করা, মঙ্গলের পথ উন্মুক্ত করা এবং উন্নতি লাভের নিমিত্ত নিজকে উৎসর্গ করার দৃঢ় মনোবৃত্তি। মানুষের সর্বপ্রকার উন্নতি, অগ্রগতিও অটুট কৃতিত্বের মৌলিক ও আসল কারণই হচ্ছে এই পবিত্র চেতনা ও সুদৃঢ়তা।
কারণ সমস্ত উপায়-উপকরণ, সাজ-সরঞ্জাম আর অভিজ্ঞতা ও অনুসন্ধানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একমাত্র মানুষেরই দৃঢ়তা ও সংকল্পেরই অধীন। সমস্ত কৃতিত্বের মূল ভিত্ হচ্ছে মানুষের ইচ্ছাবৃত্তি। উপরিউক্ত কল্যাণমণ্ডিত বিষয়টির আসল চয়নক্ষেত্র ও উৎস আম্বিয়া-ই-কিরামের তা'লীমে আবহমানকাল ধরে বিদ্যমান রয়েছে। তাঁরা নবী হিসেবে আবির্ভূত হয়েই নিজেদের কওম ও উম্মত তথা সমস্ত সমাজে ভালো কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার মানসিকতা সৃষ্টির দিকটি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। ন্যায়ের সাহায্য করা ও অন্যায়ের সাথে বিরোধিতা করার আদর্শকে সমাজের মানুষের মন-মস্তিস্কে প্রবেশ করিয়ে দেয়ার জন্য তাঁরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। মানবেতিহাসের এ সুদীর্ঘকালব্যাপী যখনি এ মনোবৃত্তিটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, মানুষের প্রকৃতিতে ও চালচলনে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, প্রকাশ পেয়েছে তাদের মধ্যে তখন হিংস্রতা ও পাশবিক কার্যকলাপ, যেমন আমরা কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন জাতির মর্মান্তিক অবস্থা অবলোকন করেছি, আম্বিয়া-ই-কিরাম (আ.) তখনই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। নিষ্ঠুরতা ও পশুত্বকে তাঁরা করুণা, বদান্যতা, ভদ্রতা ও মানবতা দ্বারা পাল্টিয়ে দেন। তারা তাদের উচ্চ তা'লীমের প্রচলন ঘটান। তাঁদের উপর্যুপরি চেষ্টা ও সাধনা বলবৎ রাখেন। তাঁরা আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসের দিকে মোটেই লক্ষ্য করেন নি। নিজের ইয্যত-সম্মানের খেয়াল করার সুযোগ তাঁদের কোথায়? এমন কি স্বীয় জীবন ও দেহের কথাটুকুও ভাবতে সুযোগ পান নি তাঁরা। সে অব্যাহত ও জীবনপণ প্রচেষ্টা ও মেহনতের বদৌলতে মানবতাবিবর্জিত হিংস্র জন্তুদের মাঝে জন্ম নিল এমন সব পবিত্রাত্মা, যাদের সুঘ্রাণে সারাটি দুনিয়া বিমোহিত হয়ে উঠল, যাদের জ্যোতি ও শোভা মানবতার ইতিহাসে বয়ে এনেছে এক অপূর্ব আকর্ষণ ও স্নিগ্ধতা এবং সম্মান ও মর্যাদায় যাঁরা ফেরেশতা হতে অগ্রগামী হয়ে গেলেন। আর এসব অনুপম আদর্শের অধিকারী অনুসরণীয় পথিকৃতদের বরকতে ধ্বংসপ্রাপ্ত নিমজ্জিত মানবতার ভাগ্যে ফিরে এল নতুন জীবন। এল ন্যায় ও নিষ্ঠার শাসনকাল। সবলদের থেকে দুর্বল নিজেদের দাবি আদায়ের সুযোগ পেল। ছাগলের রক্ষক হয়ে চলল চিরশত্রু চিতাবাঘ। মরুতে প্রবাহিত হলো দয়া-দাক্ষিণ্যের শীতল হাওয়া। ছড়িয়ে পড়ল মায়া-মমতায় হৃদয়গ্রাহী সুগন্ধ। সৌভাগ্যের বিতান জমজমাট হয়ে উঠল। জান্নাতীর সরঞ্জামে দুনিয়ার বাজারের দোকান সুসজ্জিত হতে থাকে, প্রবাহিত হয় ঈমান ও ইয়াকীনের মন-মাতানো বায়ু। মানবাত্মাগুলোও লোভ-লালসার বেড়াজাল থেকে আযাদ হয়ে কল্যাণের দিকে এভাবে আকৃষ্ট হতে থাকে, লৌহখণ্ড যেভাবে হয়ে থাকে চুম্বকের দিকে।
মানব সভ্যতা, সংস্কৃতি, উন্নতি ও অগ্রগতির পথে সে মহান সম্প্রদায়টির যতটুকু অবদান রয়েছে, অন্য কারো দ্বারা তা আদৌ হয়নি। করুণা ও কৃপার সুমধুর হাওয়া, মানুষের সম্মান, ভদ্রতা, সাম্য, সামঞ্জস্য ইত্যাদি তো তাঁদেরই থেকে পেয়েছে সারা মানবকুল, যা তাঁদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।
আম্বিয়া-ই-কিরাম (আ.)-এর সে দয়া ও বদান্যতায় মানব জীবনের স্থায়িত্ব সম্ভব হয়েছে। আম্বিয়া-ই-কিরাম (আ.)-এর আবির্ভাবই যদি না হতো, ইন্সানিয়াতের নৌকা তার ইল্ম, দর্শন, প্রজ্ঞা ও কৃষ্টি-কালচার নিয়ে তুফানের শিকার হয়ে সাগরের অতল তলে তলিয়ে যেত। মানুষের স্থলে এ বসুন্ধরায় তখন বন্য পশু ও হিংস্র প্রাণীদেরকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাত-পা সঞ্চালন করতে দেখা যেত। তারা নিজের স্রষ্টা ও প্রতিপালককে তখন চিনত না, সম্পর্ক রাখত না ধর্ম ও চরিত্রের সাথে। বিনয়, ভালবাসা কি, তা তো বুঝতই না। সারকথা, তখন নামধারী এই মানব জাতি পানাহার কিংবা কিছু শাক-পাতা ছাড়া আর কিছুই চিনত না।
আজকের বিশ্বে যা কিছু সুউচ্চ মানবিক নেতৃত্ব, তীক্ষ্ণ অনুভূতি, উত্তম মানের চরিত্র প্রশিক্ষণ, বিশুদ্ধ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যত সোচ্চার ধ্বনি শ্রুত হচ্ছে, এসবের ঐতিহাসিক সূত্র অর্থাৎ জড়িত রয়েছে আসমানী ওহীর পদতলে অর্থাৎ নবীকুলের তা'লিম, তাঁদের দাওয়াত, তাঁদের তাবলীগের কাছে। এসব একমাত্র নবীগণের বিরামহীন সাধনা ও তাঁদের সহচরবৃন্দের একনিষ্ঠতারই ফসল বৈ নয় এবং দুনিয়া (আদি থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত) তাঁদেরই দস্তরখানের নিক্ষিপ্ত উচ্ছিষ্ট কুড়াতে বাধ্য। তাঁদেরই ছড়ানো জ্যোতিতে আজ দুনিয়াবাসী সামনের দিকে এগুতে প্রয়াস পাচ্ছে। মাথাটুকু গুঁজে থাকে এদেরই প্রতিষ্ঠিত মজবুত অট্টালিকার ছায়াতলে। এভাবেই তা জীবন কাটাচ্ছে, আরো কাটাবে। সেসব ধন্য ও বরেণ্য মহামনীষীর ওপর বর্ষিত হোক লাখো সালাম!
বাহার আপ জো দুনিয়া মে আই হুয়ি হ্যায় - ইয়ে সব পউদে উনহি কি উগাই হুয়ি হ্যায়।
এখন যে ঋতুরাজ বসন্ত এল বসুন্ধরায়, উদীয়মান চারা গাছগুলো, এসেছে এরই কৃপায়।
📄 মাওলানা রাবে হাসানী নদভীর অভিমত
ইউরোপের অত্যন্ত উচ্চ মানের ও সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ডে কয়েক বছর থেকে একটি ইসলামী সেন্টার কায়েম হয়েছে। এর প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে হিন্দুস্থানের বিশিষ্ট তিন ব্যক্তি প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. খালিক আহমাদ নিজামী সাবেক ভি. সি. আলিগড় ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান ড. ফারহান নিজামী ও মুহতারাম মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ সেন্টারের প্রতিষ্ঠা এত জটিল ছিল না, যত না জটিল ছিল এর জ্ঞান, গবেষণা ও ব্যবস্থাপনার মান অক্সফোর্ডের মানের সাথে সংগতি ও সামঞ্জস্য বিধান করা এবং ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে এর অবস্থান ও মর্যাদার স্বীকৃতি আদায় করা। প্রাচ্যের জ্ঞান, গবেষণা ও ইসলামী কাজের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতাকে মানিয়ে নেয়া ছিল এ অঞ্চলে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য যা এ কুফর ভূমিতে ইসলামের পরিচয় করানো এবং তার বিশাল ইতিহাস ও মহান শিক্ষার সাথে তাদেরকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলার নামান্তর।
এ সেন্টারের সভাপতিত্ব হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীকে অর্পণ করা হয়। এর এন্তেজামী দায়-দায়িত্ব প্রফেসর খালিক আহমাদ নিজামীর সাহসী ও যোগ্য সাহেবজাদা ড. ফারহান নিজামীকে দেয়া হয়। এ দায়িত্ব তিনি এত সুচারুরূপে আঞ্জাম দেন যদ্দ্বারা এর ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার মানকে পৃথিবীর বিজ্ঞ ও জ্ঞানী সমাজ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বরণ করছে।
এ সেন্টারের সম্মতি ট্রাস্টি কুয়েতের পণ্ডিত শায়খ আব্দুল আজিজ আল আলী আল মুতায়ে-এর নামে একটি লেকচারের ধারা শুরু করে, যা ছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, স্কলারদের সামনে ইসলামের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকের পরিচয় পেশ করার একটা সুযোগ। এ ধারার প্রথম প্রবন্ধ পাঠ করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর ওপর।
হযরত মাওলানা “ইসলাম জ্ঞানের মর্যাদা, জ্ঞান প্রচার, প্রসার ও বিস্তারে তার অবদান” শিরোনামে একটি অত্যন্ত অর্থবহ, জ্ঞানগর্ভ ও চিন্তাপুষ্ট প্রবন্ধ প্রস্তুত করেন যা সেন্টারের পক্ষ থেকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হলে একটি অত্যন্ত বিজ্ঞ ও পণ্ডিতদের সমাবেশে উপস্থাপন করা হয়। বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ও হযরত মাওলানার শক্তিশালী ও প্রাঞ্জল বর্ণনা ভঙ্গি প্রবন্ধের গুণগত মান আরও বাড়িয়ে দেয়। এ প্রবন্ধ আরবী ও উর্দুর কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এখন ব্যাপক ফায়দার প্রতি লক্ষ্য রেখে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে যাতে তার উপকার আরও ব্যাপক হয়।