📘 নতুন পৃথিবীর জন্ম দিবস > 📄 ইসলামী রাষ্ট্রগুলোতে মহাবিপর্যয়ের আশংকা

📄 ইসলামী রাষ্ট্রগুলোতে মহাবিপর্যয়ের আশংকা


ইসলামী রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে 'আরব' রাষ্ট্রসমূহের অবস্থান আরেক বিস্ময়কর দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এ মহামূল্যবান প্রাণ সঞ্চারক 'ইল্ম' থেকে এদিন-ওদিক ছিটকে পড়েছে। এই 'ইল্মে নববী' দ্বারা উপকৃত না হয়ে তারা বহিঃপথে ছোটাছুটি করছে। গ্রহণ করছে এর স্থলে পাশ্চাত্য সভ্যতা, জড়বস্তুর ক্ষমতা ও বর্বরতার জীবনসম্বলিত দর্শন। এই অবাঞ্ছিত বিরোগের প্রতিক্রিয়ায় জর্জরিত হয়ে চলেছে তারা চরম দুর্গতির দিকে, যার আদৌ প্রতিকার নেই। এই 'ইল্মে নববী'র প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের দরুন আজ দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে শত মতান্তর ও মতভেদ। বর্তমান দ্বন্দ্ব ও অনাগত দিনের বিপ্লব-কলহ তাদেরকে অবর্ণনীয় ধ্বংসের কবলে আক্রান্ত করতে চলেছে। পারস্পরিক বৈরী ভাব ও বিদ্বেষের মত জঘন্য সংক্রামক ব্যাধি আসন লাভ করে চলছে তাদের জাতীয় জীবনের শিরা-উপশিরায় যদ্দরুন পারস্পরিক সৌহার্দ্যে লেগেছে কুঠারাঘাত। তারা তাই পরস্পরের হাতে লাঞ্ছনা ও পদদলনের শিকার।

📘 নতুন পৃথিবীর জন্ম দিবস > 📄 জ্ঞানী, তত্ত্ববিদ ও আম্বিয়া-ই-কিরামের স্বরূপ নিরূপণে একটা উদাহরণ

📄 জ্ঞানী, তত্ত্ববিদ ও আম্বিয়া-ই-কিরামের স্বরূপ নিরূপণে একটা উদাহরণ


আম্বিয়া-ই-কিরাম (আ.)-এর তুলনায় অন্যান্য বিজ্ঞানী, তত্ত্ববিদ, গুণী ও সুধীদের স্বরূপ উন্মোচিত হবে নিম্নোক্ত উদাহরণ থেকে:

যেমন একটা সুবৃহৎ উন্নত পরিপাটি নগরী। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষিত ও জ্ঞানীবর্গের গমনাগমন এই নগরীতে। এল একটি দল সেই নগরীতে। তাদের মনের আকর্ষণ ইতিহাস বিষয়টির সাথে। এই নগরী সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা: এই প্রাচীন নগরীটির সংস্কারক কে? প্রতিষ্ঠাতা কে? কখন থেকে নগরীটির উন্নতি সাধিত হতে থাকে? উন্নতির পথে এর বাধাগুলো কি কি ছিল? কোন্ সরকার কখন অতীত হয়েছে এখানে?

অপর একটি দলের আগমন ঘটে সেই শহরে। তাদের অন্বেষণ হচ্ছে প্রত্নতত্ত্বের অনুসন্ধান। প্রাচীন স্মৃতিচিহ্নের কি আছে কোথায় কোথায়, তারা সেই খোঁজে নিবেদিত। শহরের ঐতিহ্যবাহী এলাকাকে খনন করে উদ্‌ঘাটিত বস্তু ও লেখাগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে তারা চায় এগুলোর সময়কাল নির্ধারণ করতে। তা থেকে তারা অতীতের সভ্যতা ও প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হতে প্রয়াসী হবে।

সেই শহরে কতিপয় এমন মানুষের আবির্ভাব, যাদের গবেষণা ও অধ্যবসায় ভূগোলকেন্দ্রিক। তারা নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখে শুধু ভূগোল চর্চায়। তারা চিন্তা করবে-এই শহরটির চতুঃসীমা কি? এর পরিধি ও আয়তন কতটুকু? শহরটির ভৌগোলিক বা চৌহদ্দিগত অবস্থান কেমন? এর চতুষ্পার্শ্বের অবস্থানরত পর্বতমালা ও ছায়াদাতা শৃঙ্গরাজির অবস্থানটা-ই বা কি? শহরের অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট পয়ঃপ্রণালীগুলো কি কি? আবার সেগুলোর উৎস কোথায়?

আবার এমন একটা দল আগমন করল সেই নগরীতে, কাব্য ও সাহিত্যই যাদের সার্বক্ষণিক গবেষণার বিষয়বস্তু। নয়নাভিরাম সুশৃঙ্খল নগরীর মনোহর চাকচিক্য, তার হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যাবলী, সকাল-সাঁঝে মন মাতানো মৃদু বাতাস ও রকমারি ফুলে প্রস্ফুটিত পুষ্পোদ্যানের শ্যামল মায়ার আকর্ষণে তারা সব সময় বিমোহিত। তাদের লালিত মানস-মুকুল তখন বিকশিত হয়ে ওঠে। তাদের প্রতিভা ও হৃদয়াপ্লুত প্রয়াস তখন রচনা করে দেয় ভাবের জোয়ারে প্রাণবন্ত, অথচ সাহিত্য সুষমামণ্ডিত চরণমালার এক সুবিশাল কাব্য গ্রন্থ।

এদিকে সেই নগরীটি এমন একটি জামাতের গমনকেন্দ্রও হলো, যাদের অভিরুচি ভাষা ও ভাষা দর্শন। নগরীতে অবস্থানরত বাসিন্দাদের ভাষা-ই তাদের আলোচ্য বিষয়। তারা পর্যবেক্ষণ চালায় ভাষার উৎস, ক্রমবিকাশ, ক্রমোন্নতির স্তরসমূহ এবং অপরাপর সব ভাষার সাথে এ নগরীর ভাষার সম্বন্ধ সম্পর্কে। এভাবে তারা ভাষাটির মূল ইতিহাস উন্মোচিত করতে চায়। সাথে সাথে কালের প্রবাহে অবলুপ্ত ক্রমবিবর্তনের ধারাসমূহও সংগ্রহ করে নেয় তারা। একত্র করে শব্দকোষ। গুছিয়ে নেয় সুবিন্যাসের সাথে ভাষার সাথে সম্পৃক্ত ব্যাকরণও। লিখন পদ্ধতি ও বর্ণমালার বিশেষ রীতিনীতিগুলো আবিষ্কার করে সে সম্পর্কে উদ্‌ঘাটিত সব তত্ত্ব বাস্তবে উপস্থাপন করে তারা।

জ্ঞানী ও গুণী সম্প্রদায়ের এসব দলের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। তারা শ্রদ্ধারও দাবিদার। এদেরকে কটাক্ষ কিংবা তাচ্ছিল্য করা যায় না। বস্তুত প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব প্রেরণা, চেতনা ও সাধনার বিষয় থাকে। তদনুযায়ী তার প্রক্রিয়াসমূহ কাজ করে চলে।

কিন্তু এসব জামাত স্বীয় মর্যাদা, মূল্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করার পর ততক্ষণ শংকামুক্ত হবে না, যতক্ষণ এ নগরী সম্পর্কে কিছু অত্যাবশ্যকীয় ও অনিবার্য বিষয় সম্পর্কে অবগত না হবে। যেমন এ নগরীটির শাসনকর্তা কে? নগরীটির প্রশাসনিক কাঠামো কি? সেসব সাধারণ আইনগুলোই বা কি, যা সকলকেই (নেশা ও পেশায় বিভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও) বাধ্যতামূলকভাবে মেনে নিতে হয়? এ নগর কিংবা দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের বিহিত কি? এখানকার বাসিন্দাদের করের হার কত? বসতি স্থাপনের নির্ধারিত নীতিমালা-ই বা কি? এখানকার আইনে কি কি জিনিস বৈধ আর কি কি জিনিস অবৈধ? কিসেই বা লিপ্ত হলে আইনত দণ্ডনীয় হতে হয়? এতদ্ভিন্ন তাকে জেনে নিতে হবে এমন এমন কিছু বিষয়ও, যা এই সুসভ্য ও উন্নত শহরে সসম্মান ও নিরাপদে জীবন যাপনের লক্ষ্যে একান্ত অপরিহার্য হয়।

📘 নতুন পৃথিবীর জন্ম দিবস > 📄 শহরে নবীগণের দায়িত্ব কি হবে

📄 শহরে নবীগণের দায়িত্ব কি হবে


উন্নত শহরে অনুরূপ আর একটি এমন দলের আগমন হয়, যারা অতুলনীয় যোগ্যতার অধিকারী সঠিক, অথচ লাভজনক প্রয়াসের ধারক। তারা ধীশক্তির অধিকারী, তীক্ষ্ণ ও পূত অভিরুচিসম্পন্ন। মানবিক গুণে তারা সঠিকভাবে গুণী। কিন্তু তাদের কর্ম প্রক্রিয়া ও তৎপরতা একেবারেই ভিন্ন। তাদের দাওয়াত, কর্মধারা অন্যদের কর্মপদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তারা সে সুসংহত শহরে প্রবেশ করে এর প্রাণকেন্দ্র ও জীবন-শৃংখলার মূল চাবিকাঠি যেখানে, সেখানে পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছে যায়, বরং শহরের আসল মালিক (আল্লাহ্) সে দলটির হাত ধরে উৎসমূলের দিকে নিয়ে যান। মনীষীদের এই দলটি সরাসরি সেই কেন্দ্র থেকে প্রকৃত আইন ও ফরমানসমূহ অর্জন করেন। অতঃপর ওসব আইন ও ফরমান সমস্ত মানুষের কাছে প্রচার করেন। পরিশেষে তারাই সে শহরের গঠনমূলক শক্তি কিংবা গঠনমূলক প্রতিষ্ঠান ও শহরবাসীর পারস্পরিক সম্পর্কের মূল শৃংখলে পরিণত হন।

এতে দ্বিধার লেশমাত্র অবকাশ নেই, শহরের সমস্ত মানুষ, জ্ঞানী ও সুধী সম্প্রদায় নিজের জীবনের প্রতিটি স্তরে নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে জ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় নিমগ্ন থাকার জন্য এমন একটা নিষ্কলুষ দলের অবশ্যিই মুখাপেক্ষী। কেননা সেসব জ্ঞান-বিজ্ঞান সেই ইল্মে নববীর স্নিগ্ধ পরশেই লালিত হয়ে ক্রমবিকাশ ও ক্রমোন্নতির সিঁড়িগুলো অতিক্রম করছে। এই দলটি দ্বারা-ই সাধারণ জনগণ পাচ্ছে সে শিক্ষা। আর এ দলটি সেই জ্ঞান ও শিক্ষার প্রচারের দায়িত্বে সর্বমুহূর্তেই নিবেদিত থাকেন। এ 'ইল্ম' যদি না-ই থাকল, আর যদি না-ই রইল ঐ দলটি, তখন সমস্ত দল মূর্খতা ও অজ্ঞতার শিকার হবে কোন সন্দেহ নেই। হ্যাঁ, তাদের থেকে প্রচলিত আইনবহির্ভূত কাজ সংঘটিত হতে পারে। তাদেরকে আটক করে বন্দীশালায়ও প্রেরণ করা হয়। তবে কথিত ক্ষমতাধরদের যত সব জ্ঞান-বিজ্ঞান, যাবতীয় মেহনত, অনুসন্ধান ও অভিযান বিন্দুমাত্রও কাজে আসবে না। পক্ষান্তরে ওসব জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নিয়ম-শৃংখলার (বিদ্যমান সমন্বিত ক্ষমতা) ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহর মারিফাত লাভ। কারণ এ সুবিশাল ও সুপরিসর নগরীর শৃংখলা রক্ষা তাঁরই কুদরতে আন্‌ন্জাম পাচ্ছে। পরিচিতি লাভ করতে হবে সে প্রাণকেন্দ্রেরও, যার চতুর্দিকে এই শহর প্রদক্ষিণ করছে। এটি-ই সে মা'রিফাত, যার জন্য আম্বিয়া-ই-কিরামকে নিয়োজিত করা হয়েছে।

"এভাবে ইবরাহীমকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বিস্ময়কর ব্যবস্থাগুলো দেখাই আর যাতে সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।” [সূরা আন'আম : ৭৫]

📘 নতুন পৃথিবীর জন্ম দিবস > 📄 সর্বাপেক্ষা পবিত্র দায়িত্ব

📄 সর্বাপেক্ষা পবিত্র দায়িত্ব


এই আল্লাহর মা'রিফাতের গুরুত্ব অত্যধিক। আমার বক্তব্যে উল্লিখিত উদাহরণটি শহরের নিছক একজন প্রশাসক কিংবা নিয়ন্ত্রকের ব্যাপার নয়, বরং তিনি শহরের সৃষ্টিকর্তাও। তিনিই তার অস্তিত্ব দান করলেন। এতে জীবন সঞ্চারও করলেন। জীবন যাপনের সর্ববিধ উপাদান সহজ সুলভে যুগিয়ে দিলেন। তিনি রুযীদাতা। তিনি বিনয়ী, দয়ালু, ক্ষমতাবান। সন্তানের প্রতি মাতার স্নেহ যতটুকু, সৃষ্টির সাথে তাঁর সম্পর্ক এর চেয়েও ঘনিষ্ঠতর। পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতগুলো দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে আল্লাহর সম্পর্ক তাঁর সৃষ্টিকুলের সাথে যে কতটুকু সুপরিসর, গভীর ও প্রগাঢ়। এর সাথে সাথে আল্লাহ্ পাকের কয়েকটি সুন্দর নামের পরিচিতি পাওয়া যাবে, যার মহিমায় ধারার প্রতিটি অণু-পরমাণু প্রদীপ্ত।

"তিনিই আল্লাহ্, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই; তিনি অদৃশ্য দৃশ্যের পরিজ্ঞাত; তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু। তিনিই আল্লাহ্, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনিই অধিপতি, তিনিই পবিত্র, তিনিই শান্তি, তিনিই নিরাপত্তা বিধায়ক, তিনিই রক্ষক, তিনিই পরাক্রমশালী, তিনিই প্রবল, তিনিই অতীব মহিমান্বিত; তারা যাকে শরীক স্থির করে, আল্লাহ্ তা হতে পবিত্র, মহান। তিনিই আল্লাহ্ সৃজনকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, রূপদাতা, সকল উত্তম নাম তাঁরই। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [সূরা হাশর: ২২-২৪]

সুতরাং মানুষ তার প্রদত্ত বুদ্ধির সার্বিক প্রয়াসের সদ্ব্যবহার করে আল্লাহর মা'রিফাত ও পরিচিতি লাভ করে তা রাখতে হবে অন্তরের অন্তস্তলে। সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে প্রমাণ দেখাতে হবে তার প্রতি ঐকান্তিকতার। তাঁর তাবেদারী, সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও কৃপা দৃষ্টি অর্জনে অক্লান্ত সংযম সাধনা করাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম কাজ ও পরম দায়িত্ব। মানবতা ও ভদ্রতার দাবিও এটি। সুবুদ্ধি ও নিষ্ঠা-প্রকৃতিরও এটাই চাহিদা।

মানুষের স্তর বিভিন্ন। তাদের সক্রিয়তা, তৎপরতা ও দাওয়াতের পাশে রয়েছে আম্বিয়া-ই-কিরামের তৎপরতা। উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এই পবিত্র দলটির প্রয়োজন পরাপরদের জন্য কতটুকু? শরীরের জন্য আত্মার, কর্মের ক্ষেত্রে বুদ্ধির এবং মানব জাতির জন্য দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন চোখ দু'টির প্রয়োজন যতটুকু।

তাদের উপস্থিতি ছাড়া জগত (যদিও এতে সমস্ত জ্ঞান, সাহিত্য-ভাণ্ডার, সভ্যতা, সংস্কৃতি, শিল্প ও পেশা থাকুক না কেন) অন্ধকার আর অন্ধকার। যেন ঘোর তিমিরাচ্ছন্ন এক সাগর!

“পুঞ্জীভূত অন্ধকার, স্তরের ওপর স্তর, এমন কি সে হাত বের করলে তা আদৌ দেখতে পাবে না। আল্লাহ্ যাকে জ্যোতি দান করেন না, তার জন্য কোন জ্যোতিই নেই।” [সূরা নূর : ৪০]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00