📄 কুরআন থেকে দ্বিতীয় দলিল
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
তিনি জানেন—চোখ যে খেয়ানত করে এবং অন্তর যা গোপন করে রাখে। [সুরা গফির, আয়াত : ১৯]
আল্লাহ তাআলা এ-আয়াতে কারিমায় জানিয়ে দিলেন যে, তিনি ছোট-বড়ো, দূরে-কাছে, ক্ষুদ্র-বৃহৎ, সূক্ষ্ম-ভারি, তুচ্ছ- দামি—সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত। এ-বিষয়টি খেয়াল করে যেন বান্দা আল্লাহর অবগতির ব্যাপারে সতর্ক থাকে; তাঁর প্রতি লজ্জাবনত থাকে; তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে এবং মনে রাখে—তিনি স্পষ্টভাবে তাকে দেখছেন। এ ছাড়াও তিনি চোখের খেয়ানত সম্পর্কে জানেন, যদিও কেউ আমানতদার সাজতে চায়। তিনি অন্তরে লুক্কায়িত বিষয়াবলি সম্পর্কেও জানেন, যদিও সে তা গোপন রাখতে চায়।
চোখের সকল খেয়ানত আল্লাহ তাআলা খুব ভালো করে জানেন। চোখের খেয়ানত কী, তা স্পষ্ট করেছেন হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। (তিনি বলেন) 'চোখের খেয়ানতের উদাহরণ হলো ওই ব্যক্তির দৃষ্টিপাতের মতো, যে লোকজনের উপস্থিতিতে কোনো বাড়িতে প্রবেশ করল। আর সেখানে সকলের সামনে দিয়ে অতিক্রম করল কোনো সুন্দরী নারী। এমতাবস্থায় লোকেরা তার থেকে অমনোযোগী হলেই সে নারীটির দিকে তাকায়, আবার মনোযোগী হলে দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। অনুরূপভাবে, তারা বেখেয়াল থাকলেই সে ওই নারীর দিকে তাকায়, আবার খেয়াল করলেই না দেখার ভান করে।'
প্রিয় ভাই ও বোনেরা আমার! আপনি কি কখনো এভাবে ভেবে দেখেছেন? আপনি কি কখনো অনুধাবন করেছেন— কোনো নারীর দিকে আপনার দৃষ্টিপাত আল্লাহ তাআলা এতটা ভালোভাবে দেখেন; এমনকি আপনি যা অন্তরে লুকিয়ে রাখেন তাও তিনি জানেন।
হজরত জুনাইদ বাগদাদি রাহিমাহুল্লাহকে দৃষ্টি সংযত রাখার উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'তুমি তোমার ইলম তথা জ্ঞানের সাহায্য নিতে পার। অর্থাৎ তুমি স্মরণে রাখবে যে, মানুষের দৃষ্টিপাতের চেয়ে আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিপাত অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং দ্রুত।'
আমরা যারা অবৈধ জিনিস দেখি, তারা কি একবারও চিন্তা করেছি, আমাদের দৃষ্টিপাতের আগেই তা আল্লাহ নজরে ধরা পড়ে যায়। কসম আল্লাহর, এভাবে ভেবে দেখলে লজ্জায় আমাদের মস্তক অবনত হয়ে আসবে।
📄 কুরআন থেকে তৃতীয় দলিল
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
আর যে বিষয়ে আপনার অবগতি নেই, তার পেছনে পড়বেন না। নিশ্চয় কান, চোখ, অন্তর—সবই তার (কর্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। [সুরা ইসরা, আয়াত: ৩৬]
অর্থাৎ, এ অঙ্গগুলোর কাছে নিজ নিজ কর্মের হিসেব চাওয়া হবে। যা ভেবেছে ও যে বিশ্বাস রেখেছে—সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে অন্তরকে। যা দেখেছে ও শুনেছে—সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে কান ও চোখকে।
কী ভয়ংকর পরিস্থিতিই-না হবে সেদিন, যেদিন বান্দা আল্লাহর সামনে হাজির হবে, আর এক এক করে তিনি তাকে দেওয়া সব নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা স্বীকার করে নেবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার কাছে জানতে চাইবেন—এসকল নিয়ামত তুমি কী কাজে ব্যবহার করেছ? আমি যা পছন্দ করি, তেমন কিছু কি তুমি করেছ? নাকি স্বেচ্ছাচারী হয়ে পাপাচারে লিপ্ত হয়েছ?
একটু ভাবুন তো চোখদুটো বন্ধ করে! আপনার কী জবাব হবে তখন আল্লাহর সামনে? যদি অপরাধ স্বীকার করে নেন, তবে কী পরিস্থিতি যে হবে—আমার কলম তা বর্ণনা করতে অক্ষম। আর যদি অস্বীকার করে ফেলেন, তবে তো তখন আল্লাহ আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জবান খুলে দেবেন। তারা আপনার কৃতকর্মের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে শুরু করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللَّهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ . حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ . وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدْتُمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنْطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنْطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ . وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ وَلَكِنْ ظَنَنْتُمْ أَنَّ اللَّهَ لَا يَعْلَمُ كَثِيرًا مِمَّا تَعْمَلُونَ . وَذَلِكُمْ ظَنُّكُمُ الَّذِي ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ أَرْدَاكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ مِنَ الْخَاسِرِينَ . فَإِنْ يَصْبِرُوا فَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ وَإِنْ يَسْتَعْتِبُوا فَمَا هُمْ مِنَ الْمُعْتَبِينَ .
যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে। এবং তাদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমাদের কান, তোমাদের চোখ এবং তোমাদের ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে না—(এ) ধারণার বশবর্তী হয়ে তোমরা তাদের কাছে কিছু গোপন করতে না। কিন্তু তোমাদের ধারণা ছিল যে, তোমরা যা কর তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে তোমাদের এ-ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছ। অতঃপর যদি তারা সবর করে, তবু জাহান্নামই তাদের আবাসস্থল। আর যদি তারা ওজর পেশ করে, তবে তাদের ওজর কবুল করা হবে না। [সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ১৯-২৪]
সুতরাং প্রিয় ভাই ও বোনেরা! এখন থেকেই প্রস্তুত হোন। এমন আমল করুন—যা আল্লাহর সামনে আপনার চেহারা দীপ্ত করে রাখবে। এমন কিছু করবেন না, যা বিচার দিবসে আপনাকে লাঞ্ছিত-অপমানিত করবে। নিঃসন্দেহে তা এমন এক দিবস, যে দিবসে ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি কারো কোনো কাজে আসবে না। পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে যে আল্লাহর কাছে আসবে, সেই কেবল মুক্তি পাবে।
📄 হাদিসে বর্ণিত দলিলসমূহ
দৃষ্টিসংযম নিয়ে কুরআনের মতো হাদিস থেকেও অনেকগুলো দলিল উল্লেখ করা যায়। এখানে আমরা অল্প কয়েকটি তুলে ধরছি।
প্রথম দলিল : হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
إياكم والجلوس في الطرقات. قالوا: يا رسول الله ما لنا من مجالسنا بد نتحدث فيها. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : فإذا أبيتم إلا المجلس، فأعطوا الطريق حقه قالوا: وما حق الطريق يا رسول الله؟ قال: غض البصر، وكف الأذى، ورد السلام، والأمر المعروف والنهي عن المنكر .
তোমরা পথেঘাটে বসে থেকো না। তখন সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের তো তা ছাড়া বসে কথা বলার মতো জায়গা নেই। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি তোমাদের বসতেই হয়, তাহলে রাস্তার হকও আদায় করবে। তারা জিজ্ঞেস করেন, রাস্তার হক কী, হে আল্লাহর রাসুল? নবিজি বলেন, দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা, সালামের জবাব দেওয়া এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা। [৯]
লক্ষণীয় বিষয় হলো, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তার হক বর্ণনা করতে গিয়ে শুরুতেই উল্লেখ করেছেন পরনারী থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার বিষয়টি। কিন্তু আফসোস আমাদের যুবকদের জন্য, যারা নারী-দর্শনের উদ্দেশ্যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, পাড়ার ওলিতে-গলিতে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করে। হায়, যদি তারা এই হাদিসটি নিয়ে ভাবত! তারা যদি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ-নিষেধ মেনে চলত!
দ্বিতীয় দলিল : হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَى مُدْرِكَ ذَلِكَ لا مَحَالَةَ فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ وَالْأُذْنَانِ زِنَاهُمَا الاِسْتِمَاعُ وَالنِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ
বনি আদমের জন্য জিনার যে অংশ নির্ধারিত রয়েছে, তাতে সে জড়িত হবেই। চোখের জিনা হলো দেখা, কানের জিনা হলো শোনা, জিহ্বার জিনা হলো বলা, হাতের জিনা হলো ধরা, পায়ের জিনা হলো হাঁটা; আর অন্তর কামনা-বাসনা করতে থাকে; যৌনাঙ্গ তা সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে। [১০]
উল্লেখিত হাদিসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব স্পষ্ট ভাষায় হারাম জিনিসের দিকে দৃষ্টিপাতকে চোখের জিনা আখ্যায়িত করেছেন। বরং এটিকে নবিজি অন্যান্য অঙ্গের জিনার 'উপকরণ' সাব্যস্ত করেছেন। কারণ, মানুষের চোখ তার হৃদয়ের আয়না। তাই হৃদয়ের সকল আকাঙ্ক্ষার পেছনে চোখের ভূমিকা থাকে।
তৃতীয় দলিল : হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
لا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلَا الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ وَلَا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ وَلَا تُفْضِي الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ.
কোনো পুরুষ অপর পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না এবং কোনো নারী অপর নারীর সতরের দিকে তাকাবে না; কোনো পুরুষ অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নিচে ঘুমাবে না এবং কোনো মহিলা অপর মহিলার সাথে একই কাপড়ের নিচে ঘুমাবে না।[১১]
একজন পুরুষের জন্য যদি তার মতো আরেকজন পুরুষের সতর দেখা বৈধ না হয়, তাহলে তার জন্য পরনারীর দিকে তাকানো কি বৈধ হতে পারে!?
চতুর্থ দলিল : হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَظْرَةِ الْفَجْأَةِ فَقَالَ: اصْرِفْ بَصَرَكَ
আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হঠাৎ-দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তুমি তোমার চোখ ফিরিয়ে নেবে।'[১২]
'হঠাৎ-দৃষ্টি' হলো পথ চলতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোনো নারীর দিকে চোখ পড়ে যাওয়া। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ অনুযায়ী এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হবে।
পঞ্চম দলিল : হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে বলেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجُ . فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءُ.
হে যুবক সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে ফেলে। কেননা, তা চোখ ও যৌনাঙ্গ সংযত রাখার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী। আর যে সক্ষমতা না রাখে, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, তা-ই তার যৌনত্তেজনা দমিয়ে রাখবে। [১৩]
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবসমাজকে বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। কারণ, বিয়ে নজর ও যৌনাঙ্গ হেফাজতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহায়ক। আর এ-দুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই ইবাদত-বন্দেগি, ইলম অন্বেষণ এবং দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।
ষষ্ঠ দলিল : হজরত বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
يَا عَلِيُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ.
হে আলি, (কোনো নারীর দিকে) পরপর দুইবার তাকাবে না। কেননা, প্রথমবার তোমার জন্য বৈধ হলেও দ্বিতীয়বার তোমার জন্য বৈধ নয়।'[১৪]
প্রথম দৃষ্টি সম্পর্কে নবিজির আরও একটি নির্দেশনা চতুর্থ দলিলে হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে।
সপ্তম দলিল : হজরত উবাদাহ ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
اضْمَنُوا لِي سِئًا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ : اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ، وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ، وَأَدُّوا إِذَا اؤْتُمِنْتُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ، وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ.
তোমরা আমাকে ছয়টি ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিলে আমি তোমাদের জান্নাতের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেবো : কথা বললে সত্য বলবে, প্রতিশ্রুতি দিলে রক্ষা করবে, আমানত রাখলে ফেরত দেবে, যৌনাঙ্গের হেফাজত করবে, দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং তোমাদের হাত সংবরণ করবে (তথা, ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না, জুলুম করবে না।)।
টিকাঃ
[৯] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ২৪৬৫
[১০] সহিহু মুসলিম, হাদিস নং ৬৬৪
[১১] সহিহু মুসলিম, হাদিস নং ৬৫৫।
[১২] সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং ২১৪৮।
[১৩] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৫০৬৬।
[১৪] সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং ২১৪৯।