📄 'নজর' হৃদয়ে নিক্ষিপ্ত এক বিষাক্ত তির
সত্যিকার অর্থেই কুনজর মানুষের মনে বিষাক্ত তিরের মতো বিদ্ধ হয় এবং হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে এর বিষক্রিয়া ছড়িয়ে যায়। শয়তান মানুষকে বিপথে নেওয়ার জন্য যত রকম পাঁয়তারা করে, এ-নজর তারমধ্যে অন্যতম। নজরকে যে অসংযত রাখে—আল্লাহর কসম—তার বালা-মুসিবতের কোনো শেষ থাকে না।
মনে রাখতে হবে, শয়তান একদিকে পরনারীকে পুরুষদের চোখে আকর্ষণীয় করে দেখাতে চেষ্টা করে; অপরদিকে আর নিজ স্ত্রীর প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে—যদিও সে হোক-না অপরূপা সুন্দরী। তাই আসুন, পরনারীর প্রতি চোখ পড়ামাত্রই আমরা আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিই এবং আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে অবিরত আশ্রয় প্রার্থনা করি।
📄 ‘চোখ’ হৃদয়ের প্রধান কপাট
ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'অন্তরের গভীরে প্রবেশ করার সবচেয়ে বড় দরোজা হলো চোখ। অনুভূতিকে প্রকম্পিত করে তোলার অন্যতম উপায়ও এটি। ফলে মানুষের অধিকাংশ পদস্খলন ঘটে এই চোখের কারণে। এজন্য এ বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা চাই। যাবতীয় হারাম বিষয়, এমনকি ফিতনা সামান্য আশঙ্কা রাখে—এমন সবকিছু থেকে নজরকে হেফাজত রাখা চাই।'[৩]
টিকাঃ
[৩] তাফসিরু কুরতুবি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৪৮।
📄 অসংযত দৃষ্টি মানুষের মান-সম্মান ক্ষুণ্নকারী
একজন সম্মানী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যত্রতত্র দৃষ্টিপাত— নিঃসন্দেহে তার সম্মানের জন্য হানিকর। জেনে অবাক হবেন, জাহিলি যুগের সেই বরবর মানুষদের মধ্যেও এই ধারণা প্রচলিত ছিল যে, উন্নত চরিত্রের কোনো পুরুষ কখনো পরনারীর দিকে তাকায় না। এ প্রসঙ্গে আল্লামা কাহতানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন— 'পরনারীর প্রতি যাদের থাকে দৃষ্টি লোভাতুর, তারা তো মাংস নিয়ে কাড়াকাড়ি করা কুকুর।'
কিন্তু অত্যন্ত আফসোস ও পরিতাপের বিষয় এই যে, এ-যুগের অধিকাংশ মুসলিম পরনারীদের থেকে নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখেন না, রাখার প্রয়োজনও মনে করেন না। অনেক যুবকের তো রাস্তা-ঘাটে নারী-দর্শনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা অভ্যাসেই পরিণত হয়ে গিয়েছে। দুঃখ নিয়ে বলতে হয়, পরনারীর দিকে দৃষ্টিপাত গর্হিত কাজ জেনে জাহিলি যুগের মূর্খরা যে কাজটি করত, সভ্যতা ও ভদ্রতার দাবিদার এই আমাদের পক্ষে আজ সেটুকুও সম্ভব হয় না।
📄 দৃষ্টিসংযম আবশ্যক হওয়ার দলিল
হারাম জিনিস থেকে নজর হেফাজত করা ওয়াজিব—এ মর্মে কুরআন কারিম ও হাদিসে অসংখ্য দলিল-প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহর কসম—দৃষ্টিসংযম সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহে যদি একটি দলিলও বর্ণিত না হতো, তবুও একজন মুসলিমের চারিত্রিক পবিত্রতা তাকে এমন অশুভ কাজ থেকে বাধা দেওয়ার কথা ছিল।