📘 নজরের হেফাজত সফলতার হাতিয়ার > 📄 অধিকাংশ গুনাহের কারণ অসংযত দৃষ্টি ও বাক্‌-অসংযম

📄 অধিকাংশ গুনাহের কারণ অসংযত দৃষ্টি ও বাক্‌-অসংযম


সাধারণত অধিকাংশ গুনাহের সূত্রপাত ঘটে কথার আধিক্য এবং যত্রতত্র দৃষ্টিপাত থেকে। শয়তান এ-দুটি হাতিয়ার ব্যবহার করে মানুষকে সবচেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট করে। কারণ, খাবার খেয়ে পেটের ক্ষুধা দূর করা যায়। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জবান ও অসংযত চোখের ক্ষুধা দূর করার কোনো উপায় এ জগতে নেই। তাই এ-দুটিকে সংযত না রাখা গেলে, দেখা ও বলার চাহিদা কখনোই শেষ হয় না। ঠিক যেমন লোকমুখে প্রচলিত আছে—চারটি চাহিদা কখনো শেষ হবার নয়: এক. দেখার প্রতি চোখের চাহিদা, দুই. তথ্য-উপাত্ত শোনার প্রতি কানের চাহিদা, তিন. বৃষ্টির প্রতি শুকনো ভূখণ্ডের চাহিদা, চার. পুরুষের প্রতি নারীর চাহিদা।
আজ পত্র-পত্রিকা, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, মোবাইলের স্ক্রিন ও টিভির মনিটরসহ সবখানে অশ্লীল দৃশ্যের ছড়াছড়ি। মানুষ এসবের নেশায় বুঁদ হয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। অথচ কী ছিল তাদের রবের প্রতিশ্রুতি। আফসোস! হায় আফসোস!!

📘 নজরের হেফাজত সফলতার হাতিয়ার > 📄 'নজর' হৃদয়ে নিক্ষিপ্ত এক বিষাক্ত তির

📄 'নজর' হৃদয়ে নিক্ষিপ্ত এক বিষাক্ত তির


সত্যিকার অর্থেই কুনজর মানুষের মনে বিষাক্ত তিরের মতো বিদ্ধ হয় এবং হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে এর বিষক্রিয়া ছড়িয়ে যায়। শয়তান মানুষকে বিপথে নেওয়ার জন্য যত রকম পাঁয়তারা করে, এ-নজর তারমধ্যে অন্যতম। নজরকে যে অসংযত রাখে—আল্লাহর কসম—তার বালা-মুসিবতের কোনো শেষ থাকে না।
মনে রাখতে হবে, শয়তান একদিকে পরনারীকে পুরুষদের চোখে আকর্ষণীয় করে দেখাতে চেষ্টা করে; অপরদিকে আর নিজ স্ত্রীর প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে—যদিও সে হোক-না অপরূপা সুন্দরী। তাই আসুন, পরনারীর প্রতি চোখ পড়ামাত্রই আমরা আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিই এবং আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে অবিরত আশ্রয় প্রার্থনা করি।

📘 নজরের হেফাজত সফলতার হাতিয়ার > 📄 ‘চোখ’ হৃদয়ের প্রধান কপাট

📄 ‘চোখ’ হৃদয়ের প্রধান কপাট


ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'অন্তরের গভীরে প্রবেশ করার সবচেয়ে বড় দরোজা হলো চোখ। অনুভূতিকে প্রকম্পিত করে তোলার অন্যতম উপায়ও এটি। ফলে মানুষের অধিকাংশ পদস্খলন ঘটে এই চোখের কারণে। এজন্য এ বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা চাই। যাবতীয় হারাম বিষয়, এমনকি ফিতনা সামান্য আশঙ্কা রাখে—এমন সবকিছু থেকে নজরকে হেফাজত রাখা চাই।'[৩]

টিকাঃ
[৩] তাফসিরু কুরতুবি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৪৮।

📘 নজরের হেফাজত সফলতার হাতিয়ার > 📄 অসংযত দৃষ্টি মানুষের মান-সম্মান ক্ষুণ্নকারী

📄 অসংযত দৃষ্টি মানুষের মান-সম্মান ক্ষুণ্নকারী


একজন সম্মানী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যত্রতত্র দৃষ্টিপাত— নিঃসন্দেহে তার সম্মানের জন্য হানিকর। জেনে অবাক হবেন, জাহিলি যুগের সেই বরবর মানুষদের মধ্যেও এই ধারণা প্রচলিত ছিল যে, উন্নত চরিত্রের কোনো পুরুষ কখনো পরনারীর দিকে তাকায় না। এ প্রসঙ্গে আল্লামা কাহতানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন— 'পরনারীর প্রতি যাদের থাকে দৃষ্টি লোভাতুর, তারা তো মাংস নিয়ে কাড়াকাড়ি করা কুকুর।'
কিন্তু অত্যন্ত আফসোস ও পরিতাপের বিষয় এই যে, এ-যুগের অধিকাংশ মুসলিম পরনারীদের থেকে নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখেন না, রাখার প্রয়োজনও মনে করেন না। অনেক যুবকের তো রাস্তা-ঘাটে নারী-দর্শনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা অভ্যাসেই পরিণত হয়ে গিয়েছে। দুঃখ নিয়ে বলতে হয়, পরনারীর দিকে দৃষ্টিপাত গর্হিত কাজ জেনে জাহিলি যুগের মূর্খরা যে কাজটি করত, সভ্যতা ও ভদ্রতার দাবিদার এই আমাদের পক্ষে আজ সেটুকুও সম্ভব হয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00