📄 দৃষ্টি থেকে হয় অগণিত গুনাহের উৎপত্তি
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'মানুষ যত গুনাহে লিপ্ত হয়, তার অনেকগুলোর মূলে থাকে কুদৃষ্টির প্রভাব। কারণ, চোখের দেখা থেকেই প্রথমে মানব-মনে 'কুমন্ত্রণা' সৃষ্টি হয়। এরপর সেই কুমন্ত্রণা থেকে সৃষ্টি হয় 'কুচিন্তা'। কুচিন্তা থেকে আবার জন্ম নেয় 'কুপ্রবৃত্তি'। এবার এই কুপ্রবৃত্তি মনের ভেতরে 'আকাঙ্ক্ষা' তৈরি করে। এরপর সেই আকাঙ্ক্ষা রূপ নেয় 'দৃঢ় সংকল্পে'। অতঃপর যা ঘটার, তো সে ঘটিয়েই ফেলে, যদি-না তাকে কেউ বাধা দেওয়ার থাকে। এজন্য বলা হয়, নজরের হেফাজত যতটা কঠিন, তারচেয়ে অনেক বেশি কঠিন কুনজর-ঘটিত বিপদ থেকে বাঁচা বা তাতে ধৈর্যধারণ করা।[২]
টিকাঃ
[২] আদ-দা ওয়াদ দাওয়া, পৃষ্ঠা: ১৮৬।
📄 অধিকাংশ গুনাহের কারণ অসংযত দৃষ্টি ও বাক্-অসংযম
সাধারণত অধিকাংশ গুনাহের সূত্রপাত ঘটে কথার আধিক্য এবং যত্রতত্র দৃষ্টিপাত থেকে। শয়তান এ-দুটি হাতিয়ার ব্যবহার করে মানুষকে সবচেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট করে। কারণ, খাবার খেয়ে পেটের ক্ষুধা দূর করা যায়। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জবান ও অসংযত চোখের ক্ষুধা দূর করার কোনো উপায় এ জগতে নেই। তাই এ-দুটিকে সংযত না রাখা গেলে, দেখা ও বলার চাহিদা কখনোই শেষ হয় না। ঠিক যেমন লোকমুখে প্রচলিত আছে—চারটি চাহিদা কখনো শেষ হবার নয়: এক. দেখার প্রতি চোখের চাহিদা, দুই. তথ্য-উপাত্ত শোনার প্রতি কানের চাহিদা, তিন. বৃষ্টির প্রতি শুকনো ভূখণ্ডের চাহিদা, চার. পুরুষের প্রতি নারীর চাহিদা।
আজ পত্র-পত্রিকা, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, মোবাইলের স্ক্রিন ও টিভির মনিটরসহ সবখানে অশ্লীল দৃশ্যের ছড়াছড়ি। মানুষ এসবের নেশায় বুঁদ হয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। অথচ কী ছিল তাদের রবের প্রতিশ্রুতি। আফসোস! হায় আফসোস!!
📄 'নজর' হৃদয়ে নিক্ষিপ্ত এক বিষাক্ত তির
সত্যিকার অর্থেই কুনজর মানুষের মনে বিষাক্ত তিরের মতো বিদ্ধ হয় এবং হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে এর বিষক্রিয়া ছড়িয়ে যায়। শয়তান মানুষকে বিপথে নেওয়ার জন্য যত রকম পাঁয়তারা করে, এ-নজর তারমধ্যে অন্যতম। নজরকে যে অসংযত রাখে—আল্লাহর কসম—তার বালা-মুসিবতের কোনো শেষ থাকে না।
মনে রাখতে হবে, শয়তান একদিকে পরনারীকে পুরুষদের চোখে আকর্ষণীয় করে দেখাতে চেষ্টা করে; অপরদিকে আর নিজ স্ত্রীর প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে—যদিও সে হোক-না অপরূপা সুন্দরী। তাই আসুন, পরনারীর প্রতি চোখ পড়ামাত্রই আমরা আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিই এবং আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে অবিরত আশ্রয় প্রার্থনা করি।
📄 ‘চোখ’ হৃদয়ের প্রধান কপাট
ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'অন্তরের গভীরে প্রবেশ করার সবচেয়ে বড় দরোজা হলো চোখ। অনুভূতিকে প্রকম্পিত করে তোলার অন্যতম উপায়ও এটি। ফলে মানুষের অধিকাংশ পদস্খলন ঘটে এই চোখের কারণে। এজন্য এ বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা চাই। যাবতীয় হারাম বিষয়, এমনকি ফিতনা সামান্য আশঙ্কা রাখে—এমন সবকিছু থেকে নজরকে হেফাজত রাখা চাই।'[৩]
টিকাঃ
[৩] তাফসিরু কুরতুবি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৪৮।