📄 কিছু কথন
১. প্রেমে তো সবাই পড়ে। কেউ প্রেমে পড়ে স্রষ্টার; কেউ প্রেমে পড়ে সৃষ্টির। সৃষ্টির প্রেমের প্রেমিক হচ্ছে, নফস। আর স্রষ্টার প্রেমের প্রেমিক হচ্ছে, রুহ। এখন আপনি কোন প্রেমিককে প্রাধান্য দিবেন? যে স্রষ্টার প্রেমে মত্ত হয়েছে তাকে, নাকি যে সৃষ্টির প্রেমে মত্ত হয়েছে তাকে?
২. হাসান বসরী রহি. বলেন: মুমিন তার নফসের হিসাব ব্যতীত সামনে অগ্রসর হয় না। নফস কী করতে চায়, কী খেতে চায়, কী পান করতে চায়—সব কিছু সে হিসাব করে। পক্ষান্তরে, যারা গোনাহগার, তারা নফসের হিসাব ব্যতীতই সামনে অগ্রসর হয়。
৩. যে স্বীয় নফসের অনুসরণ করেছে, সে নিজের দীন বিক্রি করে ধন- সম্পদ ক্রয় করছে। যে নফসের গোলামী করেছে, সে স্রষ্টাকে ভুলে গিয়ে সৃষ্টির দাসত্ব করছে。
৪. হাসান বসরী রহি. বলেন: বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ-এর মধ্যেই থাকে, যতক্ষণ তার নফসের মধ্যে একজন ওয়াজকারী, নসিহতকারী, সমালোচককারী থাকে。
৫. মাইমুন ইবনে মেহরান বলেন: একজন ব্যবসায়ী শরিকের হিসাব- নিকাশের ব্যাপারে যতটা কঠোরতা করে, তারচে' অধিক কঠোরতা নিজের নফসের সাথে না করা অবধি, বান্দা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে না। এজন্যই নফসকে বলা হয়— নফস তো বিশ্বাসঘাতক ব্যবসায়ী শরিকের মতো; যদি ঠিকমতো হিসাব না রাখেন, তবে সে আপনার সব কিছু নিয়ে চম্পট দিবেই。
৬. মালেক ইবনে দিনার বলেন: আল্লাহ তাআলা ঐ বান্দার প্রতি দয়া করেন-যে তার নফসকে বলে, হে নফস! তুমি এই কাজ করো, আর এই কাজ করো না। অতঃপর, জোর করে তার ওপর লাগাম পরিয়ে দেয় এবং আল্লাহর কিতাবকে তার উপর অপরিহার্য করে দেয়। তখন কুরআন তার জন্য চালক হয়ে যায়। (অর্থাৎ, কুরআন তাকে পথ দেখায়)।
৭. আবু সুফিয়ান রহি. বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি ভালো কাজ করার ইচ্ছে করে, তখন তার নফস থেকে সুগন্ধি ছড়াতে থাকে এবং যখন কোনো ব্যক্তি খারাপ কাজ করার ইচ্ছে করে, তখন তার নফস দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে。
৮. তুমি মানব লড়াইয়ে অন্যকে প্রতিহত করে নিজেকে বীর মুজাহিদ দাবি করছো, অথচ প্রকৃত বীর সে, যে স্বীয় নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাকে সংযত রেখেছে。
৯. নফসের কারাগারে বন্দী হয়ে কেউ কখনো সফল হতে পারে না, সফল তো সেই ব্যক্তি-যে মুক্ত স্বাধীন। ব্যক্তি থেকে নয়; স্বীয় নফসের কারাগার থেকে!
১০. নফসের গোলামী তো সে-ই করে, যে স্বীয় রব থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করে। একজন প্রকৃত মাওলা প্রেমিক, নফসের আশেক হতে পারে না!
১১. নফসকে যত বেশি পবিত্র রাখবেন, ততোই সে সংযত থাকবে। অপবিত্র নফস শুধু অশ্লীলতার দিকেই আহ্বান করে। অন্তরকে পবিত্র রাখার অবলম্বনই হলো নফসকে সংযত রাখা。
১২. নফসকে চিনতে না পারলে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়া কঠিন। কেননা, নফসকে যাচাই বাছাই না করা অবধি নিজের দোষ ত্রুটি পরিলক্ষিত হবে না। ফলে, ধীরে ধীরে সে গাইরুল্লাহ-এর পথেই হাঁটবে。
১৩. হযরত সহল ইবনে আব্দুল্লাহ তসতরী রহি. বলেন: উদরপূর্ণ করে পানাহার করলে তা নফসের লালসার চরম মাত্রায় পৌঁছে দেয়। আর তখন মন্দ চাহিদাগুলো তাদের ইচ্ছে পূরণে উঠে পড়ে লেগে যায়。
১৪. হাজী এমদাদুল্লাহ মোহাজিরে মক্কী রহি. বলেন: দুনিয়াতে নফস ব্যতীত কোন কিছুকেই আমি ভয় করি না。
১৫. হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহি. বলেন: নফসের বাসনা যে ত্যাগ করেছে, সে আল্লাহকে পেয়েছে। আর যে আল্লাহর নৈকট্য অজর্ন করেছে সবকিছুই তার নাগালে এসে গেছে。
১৬. যে ব্যক্তি কু-প্রবৃত্তি দমন করে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হয়, আল্লাহ প্রকাশ্যে তার মযার্দা বৃদ্ধি করেন。
১৭. হযরত মালেক বিন দিনার রহি. বলেন: যে সবসময় নফসের অনুগত, শয়তান তার কাছে বেশি যাতায়াত করে না। কেননা, শয়তানের কাজ তো নফসের মাধ্যমেই সম্পাদিত হচ্ছে।