📘 নফসের বিরুদ্ধে লড়াই 📄 নফসের ব্যাধি: ৬

📄 নফসের ব্যাধি: ৬


| অলসতা |

এক

নফসের আরেকটি ব্যাধি হচ্ছে, অলসতা। নফস হচ্ছে আরাম প্রিয়সী। নফস সব সময় আরাম চায়। এই নফস অলসতাকে কাজে লাগিয়ে আজ আপনাকে আমাকে সর্বপ্রকার ইবাদত থেকে দূরে রাখছে। অলস নফস ফজরের ওয়াক্তে ঘুমিয়ে আরাম পেতে চায়। রমজান মাসে গরম দূর করতে কোল্ড-ড্রিংকস্ খেয়ে আরাম পেতে চায়। এই অলসতা ইবাদত-বন্দেগির প্রতিবন্ধকতা। যার মধ্যে যত বেশি আলসেমি, তার ইবাদতে ততবেশি ঘাটতি। অলসতার দরুণ, আজ অনেকেই ফজরের নামাজ কাজা করে। অলসতায় বশীভূত হয়ে জামাত তরক করে। অলস ব্যক্তি কখনো সফলতার মুখ দেখতে পায় না। অলস ব্যক্তি ইহকালীন-পরকালীন উভয় জগতেই ব্যর্থ। না দুনিয়াতে কিছু করতে পারে; আর না আখেরাতের জন্য কিছু করতে পারে!

একজন অলস ব্যক্তি আজ তার অলসতাকে প্রাধান্য দিয়ে ইবাদত-বন্দেগী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সে কি জানে? সে শুধু ইবাদত থেকে দূরে যাচ্ছে না; বরং জান্নাতের চির সুখ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে? সে কি জানে? অলসতাকে প্রশ্রয় দিয়ে, সাময়িক সুখের জন্য চিরস্থায়ী শাস্তির কুটির নির্মাণ করছে?

একজন অলস ব্যক্তি রুজি-রোজগার থেকে হাত গুটিয়ে নেয়। অথচ, হালাল পন্থায় উপার্জন করাও তার ওপর আবশ্যক। কেননা, তার ওপর তার শরীরের একটা হক রয়েছে; তার ওপর তার পরিবারের হক রয়েছে। যদি অলসতায় বশীভূত হয়ে রুজি-রোজগার হতে হাত গুটিয়ে নেয়, তবে তাদের হক আদায় করবে কীভাবে? তাদের হক আদায় করতে তো পারবেই না; উল্টো পেটের ক্ষুধা মেটাতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিড়বে। নিজেও ছোট হবে, পরিবারকেও ছোট করবে। নিজেও শান্তিতে থাকবে না, পরিবারকেও শান্তিতে রাখতে দিবে না।

অলসতার কারণ:
একজন মানুষ কেন অলস হয়? কেন তাকে অলসতায় গ্রাস করে নেয়? একজন মানুষ অলস হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে...

১. অলস হওয়ার পেছনে দায়ী হচ্ছে, আমাদের বাবা-মা কিংবা পরিবার। ছোটবেলা থেকেই এমন আদুরে পরিবেশে বাচ্চাদের লালন-পালন করা হয়, যার কারণে পরবর্তীতে সে আর আদুরে পরিবেশ থেকে বের হতে চায় না। ছেলে যদি হাটতে চায়, মা বলে, "বাবা, মাটিতে হেঁটো না, পিপড়া কামড়াবে; ওভাবে দৌড়িও না, ব্যাথা পাবে।" বাচ্চা যখন এমনি এমনি আবেগপ্রবণ হয়ে নামাজ পড়তে চায়, তখন বাবা বলে, "বাবা, তুমি এখনো ছোট। ঘুম থেকে ওঠার দরকার নেই; বরং ঘুমিয়েই থাকো। কী দরকার ঘুম থেকে ওঠার? কী দরকার এই ছোট বয়সে এতো কষ্ট করার?" মা-বাবার ভুল প্যারেন্টিং -এর এমন বহু উদাহরণ রয়েছে।

২. অলসতার আরেকটি কারণ হচ্ছে, সিদ্ধান্তে অটল না থাকা। আমরা হয়তো মনে মনে সিদ্ধান্ত নিই, আগামীকাল থেকে আর দেরিতে ঘুম থেকে উঠবো না। এখন থেকে প্রতিদিন ফজরের আযানের সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠবো। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিই ঠিকই, কিন্তু সেটা আর বাস্তবায়ন করি না। অলসতাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিদিন নাক ডেকে ঘুমিয়ে থাকি। ফলে, অলসতা ধীরে ধীরে আমাদের ওপর আরো বেশি ভর করে নেয়।

৩. অলসতার আরেকটি কারণ হচ্ছে অজ্ঞতা। অজ্ঞতার জন্যও অবশ্য অলসতাই দায়ী। মানুষ যখন কোন কর্মের ফলাফল সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তখন সে ওই কাজ করার জন্য ভালোভাবে প্রচেষ্টা চালাতে চায় না। যেমন: ভিক্ষুক জানে না-পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জনে কত শান্তি নিহিত রয়েছে। এখানে অবশ্য, সে ভিক্ষুক হওয়ার জন্য তার অজ্ঞতা এবং অলসতা দু'টোই দায়ী।

দুই

প্রতিদিন একই কাজ করতে আমরা অভ্যস্ত। সেই সাতসকালে কর্মস্থলে যাওয়া আর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আরো কত কিছু করার ইচ্ছে, কিন্তু অলসতার কারণে তা আর করা হয় না। ইবাদত-বন্দেগিতেও অলসতা ভর করে। মসজিদে যাব যাব বলে আর যাওয়া হয় না। ফরজ নামাজের পর নফল পড়বো বলে মনস্থির করলেও, ফরজ শেষ করার পর নফলের জন্য দাঁড়াতে আর মন চায় না। তাসবিহ-তাহলিল পড়বো পড়বো বলে আর পড়া হয়না। মোটকথা, অলসতার দরুন কোনো কিছুই হয়ে উঠে না- সম্ভাব্য কাজটুকু অসম্পাদিত রয়ে যায়; সম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা কাজটুকুও অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। তাই তো বলা হয়, অলসতা সফলতার প্রতিবন্ধকতা। তাই, যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে, ইবাদত-বন্দেগীতে মন বসাতে অবশ্যই আমাদেরকে অলসতাকে এড়িয়ে যেতে হবে। অলসতা নামক হিংস্র পশুকে ভিতর থেকে বের করতে হবে। কিন্তু, অলসতাকে কীভাবে দূর করবো, কীভাবে অলসতা মুক্ত জীবন যাপন করব-সেটা ভাবতে ভাবতে অনেক সময় দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যাই। আসুন, এবার জেনে নিই, কীভাবে অলসতাকে দূর করবেন....

১. শুরুটা সহজ কিছু দিয়ে হোক:
এক বছরে ১০০ বই পড়ার ইচ্ছে। এদিকে ১০০ বইয়ের নাম শুনেই ভয়ে কুপোকাত। ফলে শুরুটা আর হচ্ছে না। কাঠিন্যতার ভয় দেখিয়ে অলসতা সেখানে জায়গা করে নিচ্ছে। শুরুতেই কঠিন কিছুকে অভ্যাস হিসেবে তৈরি করা বেশ কঠিন। তাই, শুরু করুন সহজ কিছু দিয়ে। নিজের ওপর চাপ না হয় এমন কিছু দিয়ে। যেমন: প্রথম মাসে একটি বই, দ্বিতীয় মাসে দু'টি বই, তৃতীয় মাসে ৫ টি বই—এভাবে ক্রমাগতভাবে মাস অনুযায়ী বাড়াতে থাকবেন। তাহলে এটা খুব সহজেই আপনার মস্তিষ্ক কেচ করবে। অন্যথায়, চাপ মনে করে অলসতা বাসা বাঁধবে।

নেক কাজ, ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রেও এমনটাই করুন। নফল নামাজের ক্ষেত্রে প্রথমদিন দু'রাকাত দ্বিতীয় দিন চার রাকাত তৃতীয় দিন ছ' রাকাত— এভাবে শুরুটা সহজভাবে করে ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকুন। কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রথম দিন দুই পৃষ্ঠা, দ্বিতীয় দিন চার পৃষ্ঠা, তৃতীয় দিন ছয় পৃষ্ঠা—এভাবে ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকুন। প্রথম দিনে যদি ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার এবং পাঁচ পারা কুর'আন তেলাওয়াত করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেটা শুরু করতে অলসতার বাধা আসবে। তাই, শুরুটা স্বাভাবিকভাবে সহজ ভাবে করুন।

২. কাজের গুরুত্ব, প্রয়োজন ও ফলাফল কী হবে, সেটা মাথায় রাখা:
ব্যক্তিজীবন ও কর্মক্ষেত্রে কোনো কাজের গুরুত্ব কেমন তা বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। কাজের প্রকৃতিকে যদি গুরুত্ব ও প্রয়োজন বুঝে কাজ ভাগ করতে পারেন, তাহলে সহজেই অলসতা কাটানো যায়। যেমন: "আপনার কাছে এমন একটি কাজ আসলো, যা করলে আপনি কিছু অর্থ পাবেন। আর ওই অর্থের দিকে আপনার পুরো পরিবার তাকিয়ে আছে।" এটা ভাবলে ওই কাজের গুরুত্ব আপনার বুঝে আসবে এবং এর ফলাফল কী, সেটাও বুঝে আসবে। ঠিক ইবাদতের ক্ষেত্রেও ইবাদতের গুরুত্ব এবং তা আদায় করার পর কী ফলাফল আসবে—তা নিয়ে ভাবুন। যখন শরীয়তের বিধি-বিধান এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানবেন তা সম্পাদনে আগ্রহী হবেন। অতঃপর যখন এর ফলাফল তথা জান্নাত লাভের কথা ভাববেন, তখন অলসতার দরজা এমনিতেই তালাবদ্ধ হয়ে যাবে।

৩. নিয়মে অভ্যস্ত হোন:
কাল সকাল থেকে নিজেকে বদলে ফেলবো। কাল থেকে আর নামাজ ত্যাগ করব না-এমন করে কতই-না অনুপ্রেরণা দিই, কতই-না প্রতিজ্ঞা করি। কিন্তু সময় আসলে সেটা আর বাস্তবায়ন করি না। নিজেকে বদলে ফেলব বলে সিদ্ধান্ত নিই, কিন্তু বদলানোর জন্য চেষ্টা করি না। নিয়মিত নামাজ পড়বো, নামাজ ছাড়বো না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই-কিন্তু নামাজের সময় আসলে সেটা আর মাথায় থাকে না। অনেক সময় শুরুটা করি ঠিক, কিন্তু সেটা আর নিয়ম তান্ত্রিক হয় না। একদিন দু'দিন, পরে সেই আগের মতই।

৪. সময়ের কাজ সময়ে শেষ করুন:
আজকে সারাদিন কী কী কাজ করবেন, কী কী আমল করবেন-তা ছোট একটি কাগজে লিখে নিন। অতঃপর, নোট করা সেই কাজগুলো সে-দিনেই সম্পন্ন করুন। আগামীকালের জন্য ফেলে রাখবেন না। আগামীকালের জন্য ফেলে রাখলেই তা জমা হয়ে যায়। আর জমা কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে, অলসতার বাধা আসে।

৫. বই পড়ুন:
বই পড়ার মতন আনন্দ আর কোনো কাজে নেই। ইসলামিক আত্মউন্নয়নমূলক, আত্মশুদ্ধি মূলক বই পড়ুন। বই পড়ার মাধ্যমে প্রকৃত অর্থেই আপনার আত্ম-উন্নতি ঘটবে। তাই ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অলসতা দূর করতে বই পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত সহায়ক।

৬. কল্পনা করুন:
সকালে উঠে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন, আপনি ভবিষ্যতে ঠিক কীভাবে নিজেকে দেখতে চান। আপনার সাফল্যের চিত্রটি ঠিক কীরকম হবে? সেই বিষয়ে কল্পনা করুন।

কিছু কথন

> অলস ব্যক্তি কিছু না-করার মধ্যে পরিতৃপ্ত হলেও, কিছু না- পাওয়ার কারণে ঠিকই ছটফট করে। এমন নয়—সে কিছু করে না বলে তার কোনো চাহিদা নেই। বাস্তবে, সে চায় ঠিকই, কিন্তু আমল করে না।

> অলস ব্যক্তির কাছে অলসতা কত মধুর, কিন্তু বাস্তবে অলসতা হলো ক্ষুধার্ত সাপের মতো। যা তার টুকটাক চাওয়া-পাওয়া গুলো অলসতা নামক ক্ষুধার্ত সাপ খেয়ে ফেলে।

> অলস ব্যক্তির জন্য অনুপ্রেরণা হলো এক অতিথি, যে স্বেচ্ছায় তাকে পরিদর্শন করে না। কেননা, অলসকে নিজে থেকে যতই বুঝাতে আসবেন, কোনো লাভ হবে না। আপনি বোঝাবেন, সে বলবে: আমি বুঝতে চাই না।

টিকাঃ
২৯ * রিয়াদুস সলিহীন - ৬৭

📘 নফসের বিরুদ্ধে লড়াই 📄 নফসের ব্যাধি: ৭

📄 নফসের ব্যাধি: ৭


| আসক্তি |

এক

• টাকার নেশা:
টাকা ছাড়া জীবন অনেকের কাছেই অর্থহীন। জীবন চলার পথে টিকে থাকতে হলে, টাকার প্রয়োজন। টাকা ছাড়া চলা মুশকিল। টাকা ছাড়া না-পাওয়া যায় খাদ্য, না-পাওয়া যায় বস্ত্র, আর না-পাওয়া যায় বাসস্থান। এজন্য মত্ত হয়ে অর্থ উপার্জনের পিছনে আমরা নিজেকে বিলীন করে দিই। সারাক্ষণ টাকার পিছনে ছুটি। টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে, এক পর্যায়ে ভুলে যাই, জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। সাথে সাথে এ-ও ভুলে যাই—কে আমি, আমাকে কেনো সৃষ্টি করা হয়েছে।

টাকা উপার্জন করা আমাদের দায়িত্ব। টাকা ছাড়া চলার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সুন্দরভাবে জীবনটাকে পরিচালনা করার জন্য, চাওয়া-পাওয়া গুলো বাস্তব রুপ দেয়ার জন্য টাকার প্রয়োজন। টাকা উপার্জন করা ভালো; তবে টাকার নেশায় মত্ত হয়ে জীবনের অর্থ ভুলে যাওয়া খুবই ক্ষতিকর। যারা টাকার নেশায় ডুবে গেছে, তারা তো নিজের মধ্যে নিজেই হারিয়ে গেছে। টাকার নেশায় মত্ত হয়ে, নিজের কাছে নিজেকেই বিক্রি করেছে; সুখ নামক শব্দটা জীবনের ডায়েরীর পাতা থেকে মুছে ফেলেছে। অনেকেই বলে, টাকার মধ্যে সকল সুখ নিহিত, আর একজন মুমিন বলে, প্রয়োজনের অতিরিক্তের মধ্যেই সকল অশান্তি লুকায়িত। তারা টাকা দিয়ে সুখ কিনতে চায়; আর একজন মুমিন রবের হুকুম মেনে সুখি হতে চায়।

একজন প্রকৃত মুমিন টাকা উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহের জন্য। তবে, সে টাকার নেশায় ডুবে যায় না। ইতিপূর্বে যারাই টাকার নেশায় আসক্ত হয়েছে, তারাই ধ্বংস হয়েছে। টাকার নেশায় আসক্ত ব্যক্তি সবসময় টাকার পিছনেই ছুটে। আপনি দেখবেন একজন ব্যক্তির অগাধ ধন-সম্পদ রয়েছে, কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স। এতদসত্ত্বেও, সে শুধু সারাদিন টাকার পিছনেই ছুটে, কীভাবে আরো টাকা লাভ করা যায়, সেই চিন্তায় সর্বদাই বিভোর। তারাই হচ্ছে, টাকার নেশায় আসক্ত-যারা কোটি-কোটি টাকা পেয়েও, গরিবের বুকে লাথি মেরে আরো টাকা পেতে চায়।

টাকার নেশা একজন ব্যক্তির জন্য কতটুকু ক্ষতিকর:
১. টাকার পেছনে ছুটতে গিয়ে, পুরো পরিবারের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। সন্তানকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। স্ত্রীর প্রতি অবহেলা তৈরি হয়। ফলে, স্ত্রী যদি দীনদার না হয়, তখন পরকীয়ার জগতে পা বাড়ায়।
আমার পরিচিত একজনকে দেখেছি অন্যের স্ত্রীর সাথে প্রেম করতে। যখন তাকে বললাম, 'একেতো হারাম সম্পর্কে জড়িয়েছিস, তার ওপর অন্যের স্ত্রীর সাথে। এক অপরাধের উপর আরেক অপরাধ।' তখন সে বলল,' আর বলবেন না, মেয়েটা আমার জন্য পুরোই পাগল। আমাকে ছাড়া কিছুই বোঝে না।' আমি যখন তার কাছে এর কারণ জানতে চাইলাম, তখন সে বলল,' মেয়েটা তার স্বামীর কাছে খুবই অবহেলিত। তার স্বামী সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে; বউয়ের দিকে কোনো নজরই দেয় না। তার হক আদায় করবে তো দূরের কথা; ঠিকমত কথাই বলে না। যার কারণে সে এই পথ বেছে নেয়, আমার সাথে সম্পর্কে জড়ায়।

২. টাকার নেশায় যারা আসক্ত, তারা খুন-খারাবি করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করে না। টাকার জের ধরে কত হানাহানি, কত খুনাখুনি।

৩. টাকার নেশায় আসক্ত ব্যক্তিরা অধিকাংশ সময়ই মামলা-মোকদ্দমায় জড়িত। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জেলে কাটাতে হয়। কেননা, তারা টাকার জন্য যে-কোনো অমানবিক, জঘন্য কাজও বেছে নেয়।

দুই

• নারীর নেশা: নারীর নেশাও আমাদের জন্য খুবই ভয়ংকর। যারা নারীদের নেশায় আসক্ত, তারা সব সময় শুধু নারীদের পেছনেই ছোটে। কীভাবে তাদেরকে কাছে পাওয়া যায়, কীভাবে তাদের সাথে সম্পর্কে জড়ানো যায়—সেই চিন্তায় সর্বদাই বিভোর। নারীর নেশা চারিত্রিক অবক্ষয় নষ্ট করে। চরিত্রে কালো দাগ এঁটে দেয়। যারাই নারীদের নেশায় আসক্ত হয়েছে, তারাই ধ্বংস হয়েছে—পরিবার, আত্মীয়-স্বজন সবার কাছে অপ্রিয় হয়ে, ঘুরে বেড়াতে হয়েছে উদভ্রান্তের ন্যায়।

• পতিতালয় গমনের নেশা: যারা নিজের নফসের ওপর লাগাম দিতে পারে না, তাদের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সারাক্ষণ নফসের গোলামী করে যৌন লালসা নিজের মধ্যে পোষণ করে রাখে—তারাই পতিতালয়ের নিয়মিত কাস্টমার। আর একজন ব্যক্তি যখন পতিতালয়ের কাস্টমার হয়ে যায়, তখন সে আর এটা থেকে বের হয়ে আসতে চায় না। বিয়ের পরেও এই নেশার কাটিয়ে উঠতে পারে না, যতক্ষণ না নিজের নফসের ওপর লাগাম টেনে ধরছে।

• পর্ণ গ্রাফিক্সের নেশা:
পর্ন গ্রাফিক্স যুবকদের জন্য কতটা ভয়াবহ, তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। শুধু এতোটুকুই জেনে রাখুন—জীবন-যৌবন সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে।

• হস্তমৈথুনের নেশা:
এটাতো আরো মারাত্মক নেশা। একবার যে নেশায় নেশাগ্রস্ত হয়েছে, সে জানে তার জীবনে কী চলছে! বার বার নফস তাকে ধোঁকা দিয়ে বলে, ' এটাই ফার্স্ট এটাই লাস্ট'!

এছাড়াও অনেক নেশা রয়েছে যাতে আমাদের আসক্তি তৈরি হয়। আর এই আসক্তি মূলত নফসের এক ব্যাধি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px