📘 নফসের বিরুদ্ধে লড়াই 📄 নফসের ব্যাপারে সতর্ক হোন

📄 নফসের ব্যাপারে সতর্ক হোন


নফসের ওপর কখনো আস্থা রাখবেন না। নফস খুবই ভয়ঙ্কর। যখন তখন আপনাকে ধোঁকায় ফেলে তার মনোবৃত্তি পূরণ করতে পারে। তাই, আশঙ্কাজনক কোনো ক্ষেত্র থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। কেননা, নফস হচ্ছে ক্ষুধার্ত বিড়ালের ন্যায়। বিড়াল যেমনি-ভাবে দুধ দেখলেই তাতে মুখ দিয়ে দেয়, ঠিক তদ্রুপ নফস যদি আশঙ্কাজনক স্থানে থাকে তবে সেখানে কোনো কিছু ঘটাবেই। তাই, নিজেকে যথাসম্ভব আশঙ্কাজনক ক্ষেত্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। নয়তো নফসের তাড়নায় জড়িয়ে পড়তে পারেন, বড় কোনো অপরাধে।

হযরত ওমর রাযি. নিজের নফসকে বিশ্বাস করতেন না। তিনি নফসকে অনেক বড় শত্রু মনে করতেন। নফস কখন কী করে বসে—এই ভেবে নিজেকে হেফাজত রাখার চেষ্টা করতেন।

একবার, হযরত ওমর রাযি. বাহিরে শুয়ে আছেন। শীতের মৌসুম। প্রচন্ড শীত। ওপরে কোন ছাউনি নেই। তবু তিনি কষ্ট করে বাহিরে শুয়ে আছেন। তখন একজন সাহাবী তাকে দেখতে পেলেন। হযরত ওমরকে বাহিরে শুয়ে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে গেলেন—একজন আমিরুল মু'মিনিন এই শীতের রাতে বাহিরে শুয়ে আছে! ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন ওমরের কাছে। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন,' হে আমিরুল মু'মিনিন! এই শীতে আপনি বাহিরে শুয়ে আছেন কেন?' তিনি জবাবে বললেন,' আমি আমার নফসকে অনেক ভয় করি। তার ওপর আমার মোটেও আস্থা নেই। সে আমার অনেক বড় শত্রু। নফসের প্ররোচনা থেকে বাঁচার জন্য, আমি বাহিরে শুয়ে আছি। কারণ, হুযুর সা.-এর স্ত্রী, আমার কন্যা হাফসা আজ বাড়িতে এসেছে। আর আমার বাড়ি হচ্ছে এক রুম বিশিষ্ট।

যে ঘরে আমার কন্যা ঘুমিয়ে আছে, সেখানে আমি থাকতে পারি না। কারণ, আমি আমার নফসকে বিশ্বাস করি না। তাই আমি বাহিরে শুয়ে আছি।

দেখুন, একজন জান্নাতি সাহাবী স্বীয় নফসের ব্যাপারে কতটা সতর্ক ছিলেন। আর আজকাল আমরা?

📘 নফসের বিরুদ্ধে লড়াই 📄 এই গোনাহের পিছনে ইন্ধনদাতা কে?

📄 এই গোনাহের পিছনে ইন্ধনদাতা কে?


নফস হচ্ছে বিড়ালের মতো। বিড়াল যখন কোনো কিছু খেতে আসে, তখন সাধারণত আমরা তাকে তাড়িয়ে দিই। যখন আমরা তাকে তাড়িয়ে দিই তখন সে চলে যায়। তবে যাবার সময় পেছন ফিরে বেশ কয়েকবার তাকায়। কয়েকবার থমকে দাঁড়ায়। আবার সে খাবারের কাছে আসতে চায়। এভাবে থমকে থমকে, পেছন ফিরতে ফিরতে সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার খাবারের সন্নিকটে আসে। ওই খাবারে আবার মুখ দিতে চায়। ঠিক তখনই আপনি যখন আবার তাকে তাড়িয়ে দিবেন, সে দৌড়ে পালিয়ে যাবে। কিছুক্ষণ পর আপনার অগোচরে আবার খেতে আসবে। আপনি তাকে আবার তাড়িয়ে দিবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত এই খাবারটা আপনি তার নাগালের বাইরে না নিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বেহায়ার মত বারবার ওই খাবারের কাছে যাবেই।

আমাদের নফস ঠিক সেই বিড়ালের মত বেহায়া। সে বারবার তার মনের চাহিদাকে পূরণ করতে চায়। যতক্ষণ পর্যন্ত নফসের উপর লাগাম না দিবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তার কৃতকর্ম থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। বেহায়ার মত অশ্লীলতার দিকে ছুটেই চলবে। যতই বাধা দিবেন, ততই সেদিকে যাবে।

উঠতে-বসতে চলতে-ফিরতে নানান সময়, নানান গোনাহ আমাদের দ্বারা সংঘটিত হয়। কোনো গোনাহ শয়তানের প্ররোচনায়, আবার কোনো গোনাহ নফসের প্ররোচনায়। আবার কোনো কোনো গোনাহ উভয়ের ওয়াসওয়াসায় সংঘটিত হয়। আমরা গোনাহ করি, কিন্তু বুঝতে পারি না—গোনাহের পিছনে কার হাত রয়েছে? এই গোনাহের পেছনে কে ওয়াসওয়াসা দিয়েছে—শয়তান, নাকি নফস। আমরা যখন বুঝতে পারি না—আমরা কার দ্বারা প্রভাবিত। তাই এর সঠিক ট্রিটমেন্টও করতে পারি না।

আসুন জেনে নিই, নফস এবং শয়তানের কৃত প্ররোচনার ধরন...

আপনি রাস্তায় বের হয়েছেন। আপনার সামনে দিয়ে একজন বেপর্দা বেগানা নারী হেলে-দুলে হেঁটে যাচ্ছে। প্রথমবার তার দিকে চোখ পড়েছে। এটা শরীয়তে মাফ। প্রথমবার দেখার পর পরই আপনি তার থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলেন। এবার নফস এবং শয়তানের খেলমা দেখুন। আপনি ওই মেয়ে থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছেন। এবার আপনার মনে যদি এটা উদয় হয়—বাসায় গিয়ে মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও দেখবো। বাসায় গিয়ে আকাম-কুকাম করবো। এরকম যদি মনে মনে উদয় হয়, তখন বুঝে নিবেন এগুলোর পেছনে ইন্ধনদাতা হচ্ছে শয়তান। অপরদিকে আপনি ওই মেয়ের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন, আপনি ভাবছেন আর দেখব না, চোখ নিচে নামিয়ে হেঁটে চলে যাব। কিন্তু আপনার ভেতর থেকে ওয়াসওয়াসা আসছে— দেখ, একবার দেখ, একবার দেখলে কিছুই হবে না; বরং মজা পাবি। আপনি বারবার বারণ করছেন, কিন্তু ভেতর থেকে বারবার ওয়াসওয়াসা আসছে—"দেখ দেখ, আবার দেখ, কত সুন্দর মেয়ে, তাড়াতাড়ি দেখ না! নয়তো চলে যাবে।" যদি এরকম হয় তবে আশরাফ আলী তানুভি রহি. বলেন— বুঝে নিবেন, এই গোনাহের পিছনে ইন্ধনদাতা হচ্ছে বেহায়া নফস। বেহায়া এ কারণে যে, আপনি বারবার বারণ করেছেন—"দেখবো না, দেখবো না; এতে আমার পাপ হবে, এর কারণে আমার চোখে গরম সিসা ঢালা হবে।" এতবার বারণ করার পরও সে ওই বেগানা নারী দেখে মনোবৃত্তি পূরণ করল। এজন্যই নফসকে বলা হয়, বিড়ালের মত বেহায়া।

📘 নফসের বিরুদ্ধে লড়াই 📄 নফসের গোলামীর কারণ

📄 নফসের গোলামীর কারণ


১. শৈশবে নফসকে নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত না হওয়া:
এটা হয়ে থাকে মা-বাবার ভুল প্যারেন্টিং-এর কারণে। অতি আদুরে বাচ্চা শৈশবে মা-বাবার কাছে যা-ই বায়না ধরে, তা-ই সে পেয়ে যায়। মা-বাবাও সন্তানের আবদার পূরণে কোনো কমতি রাখেন না। তারা দেখে না, কোনটা হালাল কোনটা হারাম। শুধু এটাই ভাবে—আমার বাচ্চা চেয়েছে তাকে এটা দিতেই হবে।

আমাদের প্যারেন্টিং -এ এতটাই ঘাটতি যে, বাচ্চা যখন টিভি, আইপ্যাড ইত্যাদির বায়না ধরে—তখন সাথে সাথে আমরা তা তার হাতে তুলে দিই! এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকে না—এটা ভালো নাকি খারাপ। অথচ, টিভি আইপ্যাড এগুলো অশ্লীলতার কারখানা। আর আপনি আমি বাচ্চার নফসের চাহিদা মেটাতে, সেই শৈশবেই তার জন্য এইসব আসবাবের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। শুধু তাই নয়, শরীয়তের বিধি-বিধান পালনে ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে অভ্যস্ত না করে উল্টো তাদেরকে প্রশ্রয় দিয়ে গেছি। ফজরের আজান দিচ্ছে, বাচ্চাকে না ডেকে বলি, 'বাচ্চা মানুষ, এখন নামাজ না পড়লেও সমস্যা নেই। তার পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের দরকার; সে ঘুমাক।'

বাচ্চারা যখন যা চাচ্ছে, আমরা তখনই তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমরা বাচ্চাদের মনোক্ষুন্ন করতে চাই না; তারা মন খারাপ করে থাকুক, এটাও চাই না। এজন্য, সে যখন যা চায় তখনই তার হাতে আমরা সেটা তুলে দিই। অথচ একবারও ভেবে দেখি না—এটা তার জন্য কল্যাণকর নাকি অকল্যাণকর। একবারও মাথায় রাখি না—এই চাওয়া-পাওয়া গুলো তার ভবিষ্যতের জন্য কতটা ক্ষতিকর।

আসলে, প্রকৃত-পক্ষে তার এই চাওয়া-পাওয়া গুলো নফসের চাহিদা বৈ কিছুই নয়। আমাদের ভুল প্যারেন্টিং -এর কারণে সে ছোটবেলা থেকেই নফসের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করে বেড়ে ওঠে। শৈশবকাল থেকেই তার নফস যা চেয়েছে, আমরা তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সে যা-ই চেয়েছে, তা-ই পেয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ ছিলনা বাধাদানকারী। নফসের তাকাজা অনুযায়ী সে যা চেয়েছে তা-ই পেয়েছে। আর এই পাওয়া গুলো শৈশবেই কেড়ে নিয়েছে তার ফিতরাতে নফসানিয়্যাহ। ফলে, ধীরে ধীরে তার চলাফেরা থেকে শুরু করে সবকিছুই লাগামহীন হয়ে যায়। শৈশব কাল থেকেই সে তার নফসের চাহিদার বিপরীত যায়নি, ফলে বড় হওয়ার পরও সে তার নফসের বিরুদ্ধে যেতে পারে না। শৈশব থেকেই নফসকে দিতে দিতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাই যৌবনে পদার্পণ করার পরও সে আর ওই অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। যৌবনে পদার্পণ করার পর, শৈশবের মতোই নফসকে দিতেই থাকে। কেননা, নফসের গোলামী তার পুরনো দিনের অভ্যাস। আর এ- জন্য সম্পূর্ণরূপে মা-বাবাই দায়ী। কারণ, সে তার বাচ্চাকে শৈশব কাল থেকে নফসকে নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রতি তাগিদ দেয়নি। সে তাকে শরীয়তের বিধি-বিধান এ অভ্যস্ত করে তোলেনি। অতি আদরকে প্রাধান্য দিয়ে, তার খেয়াল-খুশি অনুযায়ী ছেড়ে দিয়েছে।

বাচ্চাদের নফস রয়েছে। তাদেরও রয়েছে নফসের চাহিদা। কেবল যৌবনের চাহিদা একটু বিলম্বে আসে, তবে অন্যান্য চাহিদা শৈশব থেকেই বিদ্যমান। বাচ্চাদের নফসও খেয়াল-খুশির পিছনে ছুটে। তাই, আমাদের উচিত তাদের অবৈধ অনৈতিক অকল্যাণ জনক কোন আবদার পূরণে বিরত থাকা। সে যদি না-বুঝে প্রয়োজনে তাকে শাস্তি দেয়া। নফসের চাহিদার বিপরীত কাজ করতে সর্বদাই তাকে উদ্বুদ্ধ করা। তাকে নফসের নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত হতে প্রশিক্ষণ দেয়া। সাহাবায়ে কেরাম তাদের বাচ্চাদের সেভাবেই গড়ে তুলেছেন। তারা তাদের বাচ্চাদের শৈশবেই নফস নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত হতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাদের সাথে নামাজ পড়তে, রোজা রাখতে বাচ্চাদেরও উদ্বুদ্ধ করেছেন। শরিয়তের বিধি-বিধানে শৈশবেই তাদেরকে অভ্যস্ত করেছেন।

এ ব্যাপারে একটি হাদিস রয়েছে: রুবায়্যি' বিনতু মু'আব্বিয রাযি. থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, 'আশুরার সকালে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেন: যে ব্যক্তি সওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি') রাযি. বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সওম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।

লক্ষ্য করে দেখুন-সাহাবায়ে কেরাম নিজেরা রোজা রাখার পাশাপাশি বাচ্চাদেরকে রোজা পালন করাতেন। কারণ, তারা জানতেন-এখন থেকে রোজা রাখলে এটা ধীরে ধীরে তার অভ্যাসে পরিণত হবে, ফলে পরবর্তীতে রোজা রাখতে তার কোনো সমস্যা হবে না।

তাই আমাদের উচিত-ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদেরকে সেভাবে গড়ে তোলা। তাদের অনর্থক চাহিদার বিরুদ্ধে গিয়ে, নফসকে নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত করে তোলা। যেন, বড় হয়ে সে নিজেই নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

এই নফসের গোলামী, দুনিয়া আখেরাত উভয়টাই বরবাদ করে দেয়। উভয় জগতে তার জন্য দুঃখ-কষ্ট বরাদ্দ হয়ে থাকে। নফসের গোলামী করতে গিয়ে, যখন বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে নামাজ রোজা আদায় করতে দূরে সরে যায়, তখন সে পরকালের সুখ থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। অপরদিকে, নফসের গোলামী করে যখন অনর্থক কাজে সময় ব্যয় করে, তখন ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে না, নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে পারে না, ফলে দুনিয়ার ভবিষ্যৎও অন্ধকার হয়ে যায়।

দারিদ্রতা তাকে গ্রাস করে নেয়। বাকিজীবন কঠোর পরিশ্রম করেই কাটাতে হয়, তবু তার দারিদ্রতা মোচন হয় না। সর্বদা সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে। শুধু তাই নয়—নফসের গোলামী করতে গিয়ে মান-ইজ্জতও খুইয়ে ফেলে। নফস যখন খারাপ কাজে অগ্রসর হতে প্রেরণা দেয়, তখন সে সেটাই করে। আর লোক সমাজে ঐ কাজটা কেউ-ই ভালো চোখে দেখে না। যার ফলে নিজের মান-সম্মান, পরিবারের মান-সম্মান সব কিছু ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।

আর মেয়েদের ক্ষেত্রে তার নফস যখন লাগামহীন হয়ে যায়, তখন সমাজের চোখে সে খারাপ হয়ে যায়। ফলে, অতি সহজে তার বিয়ের প্রস্তাব আসে না। আসলেও, ভালো কোনো জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে না। তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়। বিয়ে হলে, কোনো গুন্ডা মাস্তান বাজে প্রকৃতির লোকের সাথেই হয়। ফলে, তার পরবর্তী জীবন দুঃখ- কষ্টকে সাথী করেই কাটাতে হয়। আর এ- সব কিছুই হয়—নফসের গোঁড়ামির কারণে। আর নফসের গোঁড়ামির কারণ খুঁজতে গেলে, মা-বাবার ভুল প্যারেন্টিং-ও উঠে আসে।

২. নফসের অনুসারীর সঙ্গে ওঠাবসা:
আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন-অনেক ভাইয়েরা এক সময় আগে আগে মসজিদে আসত। তাকবিরে ওলার সাথে প্রথম কাতারে নামাজ পড়ত। কিন্তু, হঠাৎ করে তাদের আর মসজিদে দেখা যায় না। মসজিদের ধারে কাছেও আসে না। এই মানুষটাই দাড়ি রাখতে শুরু করে দিয়েছিল, কিন্তু এখন আবার ক্লিন শেভ। তাকে আগে দেখা যেত- বিভিন্ন দীনি মজলিসে, আর এখন দেখা যায় বিভিন্ন নাচ-গানের আসরে। আগে তাকে খুব একটা রাস্তায় দেখা যেত না, কিন্তু এখন তাকে প্রায়-ই দেখা যায় রাস্তার মোড়ে বখাটে ছেলেদের সাথে।

এরকম ঘটনা অনেক আছে। অনেক ছেলেদের সাথেই এরকম হয়। অনেক ছেলেরাই আছে—যারা এক সময় নিয়মিত নামাজ পড়ত, কিন্তু পরবর্তীতে বখাটে ছেলেদের সাথে মিশে খারাপ হয়ে গেছে।

নফসের গোলামীর আরেকটি কারণ হচ্ছে—যারা সব সময় নফসের গোলামী করে, নফসের অনুসরণ করে, প্রবৃত্তির তাড়নায় ছুটে চলে—তাদের সাথে ওঠাবসা করা, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা। সাধারণত, যে ব্যক্তি যার সাথে সবচে বেশি চলাফেরা করে, যার সাথে প্রায়-ই ওঠাবসা করে, তার সাথেই একটি মহব্বতের সম্পর্কে জড়ায়। ফলে, তার আচার-আচরণ, তার স্বভাব, সবকিছু তার সঙ্গীর মধ্যেও বিস্তার হতে থাকে। তাই, যখন একজন ভালো মানুষ একজন নফসের অনুসারীর সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করে, তখন ধীরে ধীরে সেও নফসের অনুসারী হয়ে যায়। যখন সে দেখে—তার পাশে বসেই তার বন্ধু স্মোক করছে, তখন তার নফসও স্মোক করার জন্য তাকে প্রেরণা দেয়। যখন দেখে—তার বন্ধু তার সামনেই বেগানা নারীদের দেখে মজা নিচ্ছে, তখন তার নফসও তার দেখাদেখি বেগানা নারীকে দেখার জন্য, উপভোগ করার জন্য পাগল হয়ে যায়।

মোটকথা, খারাপ নফসের অধিকারী ব্যক্তির প্রভাব, তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির নফসের ওপরেও পড়ে। তার সাথে ওঠাবসা করতে করতে ধীরে ধীরে তার নফসও তার বন্ধুর নফসের মত লাগামছাড়া হয়ে যায়। এজন্য, আমাদের উচিত খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করে, সব সময় আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে সম্পর্ক করা।

৩. আমাদের সমাজ ব্যবস্থা:
নফসে গোলামীর আরেকটি কারণ হচ্ছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, আমাদের কালচার। সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো এক অধ্যায়ে আলোচনা করেছি, তাই এখানে এড়িয়ে গেলাম।

৪. আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা:
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় রয়েছে অনেক অনেক ঘাটতি। সঠিক জ্ঞানের অভাবে মানুষ নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে না। শরীয়তের বিধি-বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা, তাকে নফসের গোলাম বানিয়ে দেয়।

৫. আমাদের দৈনন্দিন রুটিন:
আমাদের দৈনন্দিন রুটিন অনেকটা নফসের চাহিদার অনুকূলে। আমাদের রুটিন: সারাদিন খেলাধুলা, আড্ডাবাজি, স্কুল-কলেজ, কাজ আর কাজ, বিভিন্ন ব্যস্ততা। ঠিক নফসের চাহিদাও অনুরূপ। তাই তো খুব সহজেই আমরা নফসের গোলাম হয়ে যাই।

টিকাঃ
১০ 'সহিহ বুখারী, হাদিস নং- ১৯৬০

ফন্ট সাইজ
15px
17px