📄 ইবলীছের সিংহাসন সাগরে কেন?
হাদীছে এসেছে ইবলীসের সিংহাসন সাগরে। সেখান থেকে সে তার বাহিনী বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করে থাকে। হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত— রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «إِنَّ عَرْشَ إِبْلِيسَ عَلَى الْبَحْرِ فَيَبْعَثُ سَرَايَاهُ فَيَفْتِنُونَ النَّাসَ فَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةٌ». অর্থাৎ, ইবলীছের সিংহাসন সাগরে। সেখান থেকে সে তার বাহিনী প্রেরণ করে থাকে, যারা মানুষকে ফিতনায় ফেলে থাকে। তাদের মধ্যে যে মানুষকে বেশি ফিতনায় লিপ্ত করতে পারে সে ইবলীছের কাছে বেশি সম্মানিত গণ্য হয়ে থাকে। (মুসলিম)
এখন কারও মনে কৌতুহল জাগতে পারে যে, ইবলীছের সিংহাসন সমুদ্রে কেন? সমুদ্রভাগ স্থলভাগের তুলনায় নিচ এলাকা। শয়তানের তো অহংকার হওয়ার কথা যে, বনী আদম থেকে আমি নিচে থাকব কেন? সে নিচ হতে পারবে না বলেই তো শেষতক হযরত আদম (আ.)-কে সাজদা করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। তাহলে সে তার সিংহাসন সাগরে বানাল কেন? কোন উঁচু পর্বতের উপর তার সিংহাসন বানালে বরং সে কৃত্রিমভাবে এই মানসিক তৃপ্তি বোধ করতে পারত যে, সমস্ত বনী আদম আমার পায়ের তলে! হাম হ্যেয় সব ছে বড়া মিয়াঁ! হেঁ হেঁ হেঁ। আসলে ইবলীছের সিংহাসন সাগরে হওয়ার রহস্য গভীর। সে হয়তো মনে করে সাগরে থাকলে সে বেশি সুরক্ষিত থাকবে। অথবা লোকালয় থেকে দূরে থেকে তার কুকর্মের পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধা হয়।