📄 ইবলীছ কি ভাল হতে পারে না?
অনেকে মনে করে ইবলীছ যদি ভাল হয়ে যেত তাহলে তো দুনিয়ার কেউ আর খারাপ পথে যেত না। সকলেই জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজেই অবলম্বন করতে পারত। কিন্তু ইবলীছের ভাল হতে হলে তাকে তওবা করতে হবে। সে তো তওবা করতে রাজি নয়। ইবলীছের তওবার উপায় কি তা বোঝার জন্য ইবলীছের পাপটা কি ছিল তা বুঝা দরকার। ইবলীছের পাপ ছিল অহংকার। তার অহংকারই ইবলীছকে ইবলীছে পরিণত করেছিল। আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করার পর যখন ইবলীছকে সাজদা করতে হুকুম দিয়েছিলেন, সে বলেছিল— আমি আগুনের তৈরী আর আদম মাটির তৈরী। আগুনের স্বভাব উপরের দিকে থাকা, তাই আমি নিচের দিকে নত হয়ে তাকে সাজদা করতে পারি না। এভাবে অহংকারবশত আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করায় সে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হল। একবার ইবলীছের সাথে হযরত মূসা (আ.)-এর দেখা হলে হযরত মূসা (আ.) আল্লাহর কাছে তার জন্য আবেদন জানালেন। আল্লাহ তাআলা বললেন, সে যদি আদমের কবরের কাছে গিয়ে সাজদা করে তবে তাকে ক্ষমা করা হবে। হযরত মূসা (আ.) ইবলীছকে জানালে সে বলে উঠল— জীবিত আদমের কাছে মাথা নত করিনি, এখন মৃত আদমের কাছে মাথা নত করব? (অসম্ভব!)
📄 মানুষের চাটুকারিতা করতে ইবলীছের অহংকারে লাগে না?
আশ্চর্য লাগে যে অহংকার ইবলীছের জন্য হযরত আদম (আ.) কে সাজদা করতে বাধা হয়ে দাঁড়াল, তার সেই অহংকার যায় কোথায় যখন সে একটা পাপের জন্য বারবার নির্লজ্জের মত সেই আদমের সন্তানদের কারও কাছে ধর্ণা দেয়, তার চাটুকারিতা করে, তার কাছে একই বিষয় নিয়ে বারবার ঘ্যানর ঘ্যানর করে। ফজরের নামাযে যেন যেতে না পারে তার জন্য তার হাত পা পর্যন্ত টিপে দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। এতে কি তার অহংকারে লাগে না? যে বনী আদমের শ্রেষ্ঠত্ব সে স্বীকার করে নিতে পারেনি বলে সাজদা থেকে বিরত রয়েছে, যার ফলে সে অভিশপ্ত হয়েছে, সেই বনী আদমের পা টিপে দিতে তার শরম লাগে না? স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সেই বনী আদমের চাটুকারিতা করতে, তার কাছে বারবার ঘ্যানর ঘ্যানর করতে লজ্জা লাগে না? আসলে ইবলীছের হায়া-শরম নেই। যদি তার হায়া-শরমই থাকত, তাহলে কোন মানুষ আউযু বিল্লাহ... পড়ার পর পাদতে পাদতে তার কাছ থেকে ভেগে গিয়েও আবার তার কাছে আসতে পারত? সর্বোপরি কথা হল যদি তার হায়া-শরমই থাকত, তাহলে যে মুহসিনে আজীম মহান আল্লাহ দয়া করে তাকে ফেরেশতাদের মধ্যে থাকার মত সৌভাগ্য দান করলেন, সেই আল্লাহর মুখের সামনে তার কথাকে কীভাবে সে অস্বীকার করতে পারত?
📄 ইবলীছের সিংহাসন সাগরে কেন?
হাদীছে এসেছে ইবলীসের সিংহাসন সাগরে। সেখান থেকে সে তার বাহিনী বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করে থাকে। হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত— রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «إِنَّ عَرْشَ إِبْلِيسَ عَلَى الْبَحْرِ فَيَبْعَثُ سَرَايَاهُ فَيَفْتِنُونَ النَّাসَ فَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةٌ». অর্থাৎ, ইবলীছের সিংহাসন সাগরে। সেখান থেকে সে তার বাহিনী প্রেরণ করে থাকে, যারা মানুষকে ফিতনায় ফেলে থাকে। তাদের মধ্যে যে মানুষকে বেশি ফিতনায় লিপ্ত করতে পারে সে ইবলীছের কাছে বেশি সম্মানিত গণ্য হয়ে থাকে। (মুসলিম)
এখন কারও মনে কৌতুহল জাগতে পারে যে, ইবলীছের সিংহাসন সমুদ্রে কেন? সমুদ্রভাগ স্থলভাগের তুলনায় নিচ এলাকা। শয়তানের তো অহংকার হওয়ার কথা যে, বনী আদম থেকে আমি নিচে থাকব কেন? সে নিচ হতে পারবে না বলেই তো শেষতক হযরত আদম (আ.)-কে সাজদা করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। তাহলে সে তার সিংহাসন সাগরে বানাল কেন? কোন উঁচু পর্বতের উপর তার সিংহাসন বানালে বরং সে কৃত্রিমভাবে এই মানসিক তৃপ্তি বোধ করতে পারত যে, সমস্ত বনী আদম আমার পায়ের তলে! হাম হ্যেয় সব ছে বড়া মিয়াঁ! হেঁ হেঁ হেঁ। আসলে ইবলীছের সিংহাসন সাগরে হওয়ার রহস্য গভীর। সে হয়তো মনে করে সাগরে থাকলে সে বেশি সুরক্ষিত থাকবে। অথবা লোকালয় থেকে দূরে থেকে তার কুকর্মের পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধা হয়।