📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 শয়তানের প্রশ্ন: শয়তানকে বানানো হল কেন?

📄 শয়তানের প্রশ্ন: শয়তানকে বানানো হল কেন?


অনেক সময় শয়তানের ওয়াছওয়াছায় মনের মধ্যে এই প্রশ্ন জাগে যে, শয়তানকে বানানো হল কেন? তাকে বানানো না হলে পাপের ওয়াছওয়াছা দেয়ার কেউ থাকত না, তাহলে সকলেই নেককার পরহেযগার হতে পারত! শয়তানকে বানানোর ফলেই তো সব ঝামেলাটা লেগেছে।

উত্তর: এই প্রশ্নের উত্তর হল— যদি খারাপ চেতনা উদ্রেক করে দেয়ার মত কেউ না থাকত আর খারাপ চেতনা তথা পাপের চেতনা সৃষ্টিই না হত, তাহলে তো আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠানোরই প্রয়োজন ছিল না। পাপের চেতনা সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও আমরা পাপ থেকে বিরত থাকব, এভাবে আমরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হব— এরূপ পরীক্ষার জন্যই তো আমাদেরকে দুনিয়ায় প্রেরণ। নতুবা আমাদেরকে দুনিয়ায় প্রেরণের প্রয়োজন ছিল না। পাপের চেতনামুক্ত ইবাদতকারী তথা ফেরেশতাদেরকে তো আমাদের আগেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। তারা তো আল্লাহর ইবাদত করেই যাচ্ছিল এবং এখনও করে যাচ্ছে। আমাদের সৃষ্টি করার প্রয়োজনই বা কি ছিল? এই পরীক্ষার জন্যই তো আমাদের সৃষ্টি করা।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ইবলীছের কী দোষ আল্লাহই তো তাকে এমন বানিয়েছেন

📄 ইবলীছের কী দোষ আল্লাহই তো তাকে এমন বানিয়েছেন


অনেক সময় শয়তানের ওয়াছওয়াছায় মনের মধ্যে এই প্রশ্ন জাগে যে, শয়তানের কী দোষ? আল্লাহই তো পরিকল্পিতভাবে তাকে দাঁড় করিয়েছেন। মনের মধ্যে এই প্রশ্ন জাগলে মনকে বলতে হবে, শয়তানের কোন দোষ না থাকলে শয়তানই তা নিয়ে আল্লাহর সাথে বোঝাপড়া করুকগে, শয়তানের বিষয় নিয়ে চিন্তা করে আমার ঘুম নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। শয়তান আমার কোন খাতেরী লোক নয় যে, তাকে নিয়ে আমার ভাবতে হবে! তবুও সংক্ষেপে একটু উত্তর দেই। শয়তানের যদি কোনই দোষ না থাকবে তাহলে মানুষকে ধোঁকা দেয়ার মত এরকম একটা বাজে কাজের বোঝা তার মাথায় পড়ল কেন? একটা ঘটনা বলি। পুরনো ঢাকার বড়কাটারা মাদ্রাসার ঘটনা। একবার কিছু মাস্তান ধরনের লোকজন মাদ্রাসার আঙিনায় দাঁড়িয়ে হৈ হল্লা করতে থাকল। আল্লাহরই ইচ্ছা একটা বড় সাইজের ইটের টুকরো গিয়ে পড়ল প্রধান মাস্তানের মাথায়। অমনি পুরনো ঢাকাইয়াদের স্টাইলে উর্দু বাংলা মিলিয়ে মাস্তানটা চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, এত্ত বড় ছাহছ কার, মেরে ছার পর ইটা? ইটা কিছু নে গিরায়া? কাহাঁ ছে গিরা? তখন আর এক ঢাকাইয়া বলে উঠল, জিছ নে ভি গিরায়া, জাহাঁ ছে ভি গিরা, তেরে ছার পর কোঁ গিরা, ইছ লিয়ে কে ছালা তু পাপী হায়!

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ইবলীছ কি ভাল হতে পারে না?

📄 ইবলীছ কি ভাল হতে পারে না?


অনেকে মনে করে ইবলীছ যদি ভাল হয়ে যেত তাহলে তো দুনিয়ার কেউ আর খারাপ পথে যেত না। সকলেই জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজেই অবলম্বন করতে পারত। কিন্তু ইবলীছের ভাল হতে হলে তাকে তওবা করতে হবে। সে তো তওবা করতে রাজি নয়। ইবলীছের তওবার উপায় কি তা বোঝার জন্য ইবলীছের পাপটা কি ছিল তা বুঝা দরকার। ইবলীছের পাপ ছিল অহংকার। তার অহংকারই ইবলীছকে ইবলীছে পরিণত করেছিল। আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করার পর যখন ইবলীছকে সাজদা করতে হুকুম দিয়েছিলেন, সে বলেছিল— আমি আগুনের তৈরী আর আদম মাটির তৈরী। আগুনের স্বভাব উপরের দিকে থাকা, তাই আমি নিচের দিকে নত হয়ে তাকে সাজদা করতে পারি না। এভাবে অহংকারবশত আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করায় সে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হল। একবার ইবলীছের সাথে হযরত মূসা (আ.)-এর দেখা হলে হযরত মূসা (আ.) আল্লাহর কাছে তার জন্য আবেদন জানালেন। আল্লাহ তাআলা বললেন, সে যদি আদমের কবরের কাছে গিয়ে সাজদা করে তবে তাকে ক্ষমা করা হবে। হযরত মূসা (আ.) ইবলীছকে জানালে সে বলে উঠল— জীবিত আদমের কাছে মাথা নত করিনি, এখন মৃত আদমের কাছে মাথা নত করব? (অসম্ভব!)

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 মানুষের চাটুকারিতা করতে ইবলীছের অহংকারে লাগে না?

📄 মানুষের চাটুকারিতা করতে ইবলীছের অহংকারে লাগে না?


আশ্চর্য লাগে যে অহংকার ইবলীছের জন্য হযরত আদম (আ.) কে সাজদা করতে বাধা হয়ে দাঁড়াল, তার সেই অহংকার যায় কোথায় যখন সে একটা পাপের জন্য বারবার নির্লজ্জের মত সেই আদমের সন্তানদের কারও কাছে ধর্ণা দেয়, তার চাটুকারিতা করে, তার কাছে একই বিষয় নিয়ে বারবার ঘ্যানর ঘ্যানর করে। ফজরের নামাযে যেন যেতে না পারে তার জন্য তার হাত পা পর্যন্ত টিপে দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। এতে কি তার অহংকারে লাগে না? যে বনী আদমের শ্রেষ্ঠত্ব সে স্বীকার করে নিতে পারেনি বলে সাজদা থেকে বিরত রয়েছে, যার ফলে সে অভিশপ্ত হয়েছে, সেই বনী আদমের পা টিপে দিতে তার শরম লাগে না? স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সেই বনী আদমের চাটুকারিতা করতে, তার কাছে বারবার ঘ্যানর ঘ্যানর করতে লজ্জা লাগে না? আসলে ইবলীছের হায়া-শরম নেই। যদি তার হায়া-শরমই থাকত, তাহলে কোন মানুষ আউযু বিল্লাহ... পড়ার পর পাদতে পাদতে তার কাছ থেকে ভেগে গিয়েও আবার তার কাছে আসতে পারত? সর্বোপরি কথা হল যদি তার হায়া-শরমই থাকত, তাহলে যে মুহসিনে আজীম মহান আল্লাহ দয়া করে তাকে ফেরেশতাদের মধ্যে থাকার মত সৌভাগ্য দান করলেন, সেই আল্লাহর মুখের সামনে তার কথাকে কীভাবে সে অস্বীকার করতে পারত?

ফন্ট সাইজ
15px
17px