📄 আখলাক-চরিত্র বিষয়ক আরও বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াসওয়াসা
শয়তান আখলাক-চরিত্র বিষয়ক যেসব ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে রিয়া, প্রশংসা ও যশ-প্রীতি, তাকাব্বুর বা অহংকার, উজ্জ্ব বা আত্মগর্ব। এসব বিষয়ে পূর্বে বিভিন্ন প্রসঙ্গের অধীনে আলোচনা পেশ করা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ক আরও কিছু ওয়াছওয়াছা ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে আলোচনা পেশ করা হল।
শয়তান আখলাক-চরিত্র বিষয়ক যেসব ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে রিয়া, প্রশংসা ও যশ-প্রীতি, তাকাব্বুর বা অহংকার, উজ্জ্ব বা আত্মগর্ব। এসব বিষয়ে পূর্বে বিভিন্ন প্রসঙ্গের অধীনে আলোচনা পেশ করা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ক আরও কিছু ওয়াছওয়াছা ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে আলোচনা পেশ করা হল।
📄 বুখ্ল বা কৃপণতার ওয়াসওয়াসা
শরীআতের আলোকে যেখানে ব্যয় করা জরুরি সেখানে ব্যয় করতে সংকীর্ণতা করাকে বলা হয় বুখল বা কার্পণ্য। শয়তান এই ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে এই বলে যে, ব্যয় করলে সম্পদ কমে যাবে, ভবিষ্যতে সম্পদ অর্জিত হবে তার গ্যারান্টি নেই। এ ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল:
১. সম্পদের প্রকৃত মালিক তো আল্লাহ তাআলা। আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মালের মালিক মাত্র। মূল মালিক যেখানে ব্যয় করতে বলেছেন সেখানে ব্যয় করতে কুণ্ঠা বোধ করার প্রশ্ন উঠবে কেন?
২. মনে করতে হবে যে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছেন, তাঁর হুকুম অনুযায়ী ব্যয় করলে তিনি বঞ্চিত করবেন তা হতে পারে না।
৩. প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস মনে না চাইলেও মনের উপর জোর দিয়ে সেটা কাউকে দিয়ে দেয়া। কৃপণতা দূর না হওয়া পর্যন্ত এরূপ করতে থাকা।
শরীআতের আলোকে যেখানে ব্যয় করা জরুরি সেখানে ব্যয় করতে সংকীর্ণতা করাকে বলা হয় বুখল বা কার্পণ্য। শয়তান এই ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে এই বলে যে, ব্যয় করলে সম্পদ কমে যাবে, ভবিষ্যতে সম্পদ অর্জিত হবে তার গ্যারান্টি নেই। এ ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল:
১. সম্পদের প্রকৃত মালিক তো আল্লাহ তাআলা। আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মালের মালিক মাত্র। মূল মালিক যেখানে ব্যয় করতে বলেছেন সেখানে ব্যয় করতে কুণ্ঠা বোধ করার প্রশ্ন উঠবে কেন?
২. মনে করতে হবে যে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছেন, তাঁর হুকুম অনুযায়ী ব্যয় করলে তিনি বঞ্চিত করবেন তা হতে পারে না।
৩. প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস মনে না চাইলেও মনের উপর জোর দিয়ে সেটা কাউকে দিয়ে দেয়া। কৃপণতা দূর না হওয়া পর্যন্ত এরূপ করতে থাকা।
📄 ইসরাফে নফ্ছের ওয়াসওয়াসা
কারও থেকে কিছু পাওয়ার আশায় এমনভাবে অপেক্ষায় থাকা যে, তা না পেলে মন খারাপ হয়ে যায় এবং যার থেকে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল তার প্রতি রাগ জন্মে, এটাকে বলা হয় এশরাফে নফস। শয়তান মানুষের মনে এই এশরাফ জাগিয়ে তোলে। এটা তাওয়াক্কুল পরিপন্থী হওয়ার কারণে নিন্দনীয়। মনের মধ্যে তাওয়াক্কুলের চেতনা জাগ্রত করলে এশরাফে নফস সংক্রান্ত ওয়াছওয়াছা দূরীভূত হবে। তবে উল্লেখ্য যে, শুধু যদি পাওয়ার চিন্তা মনে উদয় হয় কিন্তু না পেলে মনে কষ্ট আসে না, তাহলে এতটুকু গর্হিত নয়।
কারও থেকে কিছু পাওয়ার আশায় এমনভাবে অপেক্ষায় থাকা যে, তা না পেলে মন খারাপ হয়ে যায় এবং যার থেকে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল তার প্রতি রাগ জন্মে, এটাকে বলা হয় এশরাফে নফস। শয়তান মানুষের মনে এই এশরাফ জাগিয়ে তোলে। এটা তাওয়াক্কুল পরিপন্থী হওয়ার কারণে নিন্দনীয়। মনের মধ্যে তাওয়াক্কুলের চেতনা জাগ্রত করলে এশরাফে নফস সংক্রান্ত ওয়াছওয়াছা দূরীভূত হবে। তবে উল্লেখ্য যে, শুধু যদি পাওয়ার চিন্তা মনে উদয় হয় কিন্তু না পেলে মনে কষ্ট আসে না, তাহলে এতটুকু গর্হিত নয়।
📄 বুগ্ব (বিদ্বেষ/মনোমালিন্য) ও স্বভাব সংকোচনের ওয়াসওয়াসা
রাগ দমনের দ্বারা মনের মধ্যে ক্ষোভ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় এবং অন্যভাবে তার প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তা-ভাবনা জাগে। এই মনোভাবকে বলা হয় বুগ্ব বা কীনা। শয়তান মনের মধ্যে প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তা জাগিয়ে তোলে এবং তাকে ক্ষমা না করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।
বুগ্ব বা কীনা রোগের প্রতিকার হল:
১. যার প্রতি বিদ্বেষ হয় তাকে ক্ষমা করে দেয়া।
২. মনে না চাইলেও তার সাথে মেলামেশা অব্যাহত রাখা।
তবে উল্লেখ্য যে, যদি প্রতিশোধ গ্রহণের মনোভাব জাগ্রত না হয় বরং শুধু একটা সংকীর্ণতা সৃষ্টি হয় এবং যার উপর রাগ হয় তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে মন না চায়, তাহলে সেটাকে বলে ইন্কিবাযে তবয়ী বা 'স্বভাব সংকোচন'। সেটা নিন্দনীয় নয়।
রাগ দমনের দ্বারা মনের মধ্যে ক্ষোভ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় এবং অন্যভাবে তার প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তা-ভাবনা জাগে। এই মনোভাবকে বলা হয় বুগ্ব বা কীনা। শয়তান মনের মধ্যে প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তা জাগিয়ে তোলে এবং তাকে ক্ষমা না করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।
বুগ্ব বা কীনা রোগের প্রতিকার হল:
১. যার প্রতি বিদ্বেষ হয় তাকে ক্ষমা করে দেয়া।
২. মনে না চাইলেও তার সাথে মেলামেশা অব্যাহত রাখা।
তবে উল্লেখ্য যে, যদি প্রতিশোধ গ্রহণের মনোভাব জাগ্রত না হয় বরং শুধু একটা সংকীর্ণতা সৃষ্টি হয় এবং যার উপর রাগ হয় তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে মন না চায়, তাহলে সেটাকে বলে ইন্কিবাযে তবয়ী বা 'স্বভাব সংকোচন'। সেটা নিন্দনীয় নয়।