📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 রাগ দমনের পন্থাসমূহ

📄 রাগ দমনের পন্থাসমূহ


১. রাগ হলেই "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রজীম" পড়ে নেয়া।
২. "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” পড়া।
৩. যার উপর রাগ হয় তাকে সম্মুখ থেকে সরিয়ে দেয়া বা নিজে অন্যত্র সরে যাওয়া।
৪. তারপর এ চিন্তা করা যে, সে আমার নিকট যতটুকু অপরাধী, আমি আল্লাহ্র নিকট তার চেয়ে বেশি অপরাধী। আমি যেমন চাই আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন আমারও তেমনি উচিত তাকে ক্ষমা করা।
৫. এতেও রাগ না গেলে দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়বে, বসে থাকলে শুয়ে পড়বে।
৬. তাতেও রাগ না গেলে ঠাণ্ডা পানি পান করবে বা উযূ কিংবা গোসল করে নিবে।
৭. এই চিন্তা করবে যে, আল্লাহ্র ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই হয় না। অতএব আমি আল্লাহ্র ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করার কে?
৮. স্বভাবগতভাবে যিনি বেশি রাগী, তার রাগ দমনের পন্থা হল— যার উপর রাগ হয় রাগ ঠান্ডা হওয়ার পর জনসমক্ষে তার হাত পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তার জুতো সোজা করে দিবে। দু'একবার এরূপ করলেই রাগের হুশ ফিরে আসবে।

১. রাগ হলেই "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রজীম" পড়ে নেয়া।
২. "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” পড়া।
৩. যার উপর রাগ হয় তাকে সম্মুখ থেকে সরিয়ে দেয়া বা নিজে অন্যত্র সরে যাওয়া।
৪. তারপর এ চিন্তা করা যে, সে আমার নিকট যতটুকু অপরাধী, আমি আল্লাহ্র নিকট তার চেয়ে বেশি অপরাধী। আমি যেমন চাই আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন আমারও তেমনি উচিত তাকে ক্ষমা করা।
৫. এতেও রাগ না গেলে দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়বে, বসে থাকলে শুয়ে পড়বে।
৬. তাতেও রাগ না গেলে ঠাণ্ডা পানি পান করবে বা উযূ কিংবা গোসল করে নিবে।
৭. এই চিন্তা করবে যে, আল্লাহ্র ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই হয় না। অতএব আমি আল্লাহ্র ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করার কে?
৮. স্বভাবগতভাবে যিনি বেশি রাগী, তার রাগ দমনের পন্থা হল— যার উপর রাগ হয় রাগ ঠান্ডা হওয়ার পর জনসমক্ষে তার হাত পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তার জুতো সোজা করে দিবে। দু'একবার এরূপ করলেই রাগের হুশ ফিরে আসবে।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 মানুষের সাহায্য বা উপকারে এগিয়ে না যাওয়ার ওয়াসওয়াসা

📄 মানুষের সাহায্য বা উপকারে এগিয়ে না যাওয়ার ওয়াসওয়াসা


মানুষ যেন অন্যের সাহায্যে বা উপকারে এগিয়ে না যায় সেজন্য শয়তান মনের মধ্যে কিছু চেতনা উদ্রেক করে দিয়ে থাকে। এ জাতীয় চেতনার মধ্যে রয়েছে:
• এই চেতনা যে, আমি কেন ওকে সাহায্য করব, ও আমাকে সাহায্য করেছিল? আমি কেন ওর উপকার করব, ও আমার উপকার করেছিল? একটু ভেবে দেখুন তো আপনি ওকে সাহায্য করলেন না এই যুক্তিতে যে, সে আপনাকে সাহায্য করেনি। তাহলে সে যে আপনাকে সাহায্য করেনি তারও তো যুক্তি এই থাকতে পারে যে, আপনি তাকে সাহায্য করেননি। বস্তুত প্রত্যেকেই যদি আগে সাহায্য পেয়ে তারপর সাহায্য করতে চায়, তাহলে কেউই কাউকে সাহায্য করতে পারবে না। মহানুভবতা হচ্ছে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাহায্য করা। এমনকি কেউ অপকার করার পরও তার সাহায্য ও উপকার করা হচ্ছে অতি মহানুভবতা। এক হাদীছে এসেছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «صِلْ مَنْ قَطَعَكَ، وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ، وَأَعْرِضْ عَمَّنْ ظَلَمَكَ.» অর্থাৎ, যে তোমার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, তুমি তার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক জুড়ে রাখ। যে তোমাকে বঞ্চিত করে, তুমি তাকে দাও। যে তোমার প্রতি জুলুম করে তুমি তার সঙ্গে জুলুম করা থেকে এড়িয়ে চল। (মুসনাদে আহমদ)
• এই চেতনা যে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। নিজেরটা আগে দেখতে হবে, পরের কী হল তা দেখার সময় নেই। এটা শয়তানের উস্কে দেয়া চেতনা। প্রত্যেকেই যদি নিজেরটাই দেখে তাহলে দুনিয়া একটা অসামাজিক ও নিষ্ঠুর গারদখানায় পরিণত হবে। সমাজের লোকদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হবে।

মানুষ যেন অন্যের সাহায্যে বা উপকারে এগিয়ে না যায় সেজন্য শয়তান মনের মধ্যে কিছু চেতনা উদ্রেক করে দিয়ে থাকে। এ জাতীয় চেতনার মধ্যে রয়েছে:
• এই চেতনা যে, আমি কেন ওকে সাহায্য করব, ও আমাকে সাহায্য করেছিল? আমি কেন ওর উপকার করব, ও আমার উপকার করেছিল? একটু ভেবে দেখুন তো আপনি ওকে সাহায্য করলেন না এই যুক্তিতে যে, সে আপনাকে সাহায্য করেনি। তাহলে সে যে আপনাকে সাহায্য করেনি তারও তো যুক্তি এই থাকতে পারে যে, আপনি তাকে সাহায্য করেননি। বস্তুত প্রত্যেকেই যদি আগে সাহায্য পেয়ে তারপর সাহায্য করতে চায়, তাহলে কেউই কাউকে সাহায্য করতে পারবে না। মহানুভবতা হচ্ছে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাহায্য করা। এমনকি কেউ অপকার করার পরও তার সাহায্য ও উপকার করা হচ্ছে অতি মহানুভবতা। এক হাদীছে এসেছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «صِلْ مَنْ قَطَعَكَ، وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ، وَأَعْرِضْ عَمَّنْ ظَلَمَكَ.» অর্থাৎ, যে তোমার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, তুমি তার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক জুড়ে রাখ। যে তোমাকে বঞ্চিত করে, তুমি তাকে দাও। যে তোমার প্রতি জুলুম করে তুমি তার সঙ্গে জুলুম করা থেকে এড়িয়ে চল। (মুসনাদে আহমদ)
• এই চেতনা যে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। নিজেরটা আগে দেখতে হবে, পরের কী হল তা দেখার সময় নেই। এটা শয়তানের উস্কে দেয়া চেতনা। প্রত্যেকেই যদি নিজেরটাই দেখে তাহলে দুনিয়া একটা অসামাজিক ও নিষ্ঠুর গারদখানায় পরিণত হবে। সমাজের লোকদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হবে।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 আখলাক-চরিত্র বিষয়ক আরও বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াসওয়াসা

📄 আখলাক-চরিত্র বিষয়ক আরও বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াসওয়াসা


শয়তান আখলাক-চরিত্র বিষয়ক যেসব ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে রিয়া, প্রশংসা ও যশ-প্রীতি, তাকাব্বুর বা অহংকার, উজ্জ্ব বা আত্মগর্ব। এসব বিষয়ে পূর্বে বিভিন্ন প্রসঙ্গের অধীনে আলোচনা পেশ করা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ক আরও কিছু ওয়াছওয়াছা ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে আলোচনা পেশ করা হল।

শয়তান আখলাক-চরিত্র বিষয়ক যেসব ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে রিয়া, প্রশংসা ও যশ-প্রীতি, তাকাব্বুর বা অহংকার, উজ্জ্ব বা আত্মগর্ব। এসব বিষয়ে পূর্বে বিভিন্ন প্রসঙ্গের অধীনে আলোচনা পেশ করা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ক আরও কিছু ওয়াছওয়াছা ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে আলোচনা পেশ করা হল।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 বুখ্ল বা কৃপণতার ওয়াসওয়াসা

📄 বুখ্ল বা কৃপণতার ওয়াসওয়াসা


শরীআতের আলোকে যেখানে ব্যয় করা জরুরি সেখানে ব্যয় করতে সংকীর্ণতা করাকে বলা হয় বুখল বা কার্পণ্য। শয়তান এই ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে এই বলে যে, ব্যয় করলে সম্পদ কমে যাবে, ভবিষ্যতে সম্পদ অর্জিত হবে তার গ্যারান্টি নেই। এ ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল:
১. সম্পদের প্রকৃত মালিক তো আল্লাহ তাআলা। আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মালের মালিক মাত্র। মূল মালিক যেখানে ব্যয় করতে বলেছেন সেখানে ব্যয় করতে কুণ্ঠা বোধ করার প্রশ্ন উঠবে কেন?
২. মনে করতে হবে যে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছেন, তাঁর হুকুম অনুযায়ী ব্যয় করলে তিনি বঞ্চিত করবেন তা হতে পারে না।
৩. প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস মনে না চাইলেও মনের উপর জোর দিয়ে সেটা কাউকে দিয়ে দেয়া। কৃপণতা দূর না হওয়া পর্যন্ত এরূপ করতে থাকা।

শরীআতের আলোকে যেখানে ব্যয় করা জরুরি সেখানে ব্যয় করতে সংকীর্ণতা করাকে বলা হয় বুখল বা কার্পণ্য। শয়তান এই ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে এই বলে যে, ব্যয় করলে সম্পদ কমে যাবে, ভবিষ্যতে সম্পদ অর্জিত হবে তার গ্যারান্টি নেই। এ ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল:
১. সম্পদের প্রকৃত মালিক তো আল্লাহ তাআলা। আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মালের মালিক মাত্র। মূল মালিক যেখানে ব্যয় করতে বলেছেন সেখানে ব্যয় করতে কুণ্ঠা বোধ করার প্রশ্ন উঠবে কেন?
২. মনে করতে হবে যে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছেন, তাঁর হুকুম অনুযায়ী ব্যয় করলে তিনি বঞ্চিত করবেন তা হতে পারে না।
৩. প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস মনে না চাইলেও মনের উপর জোর দিয়ে সেটা কাউকে দিয়ে দেয়া। কৃপণতা দূর না হওয়া পর্যন্ত এরূপ করতে থাকা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px