📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 বদ নজর ও যেনা প্রসঙ্গে ওয়াসওয়াসা

📄 বদ নজর ও যেনা প্রসঙ্গে ওয়াসওয়াসা


মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন নাখালপাড়া বাইতুল আতীক জামে মসজিদে সুদীর্ঘ ২৩ বৎসর (১৯৮৭-২০০৯) ইমামত করেছেন। এই ইমামতকালে সাধারণ মানুষের মনের অবস্থা সম্বন্ধে প্রচুর জানার সুযোগ ঘটেছে। এ সময় অনেক মুসল্লী অনেক প্রশ্ন নিয়েই তাঁর কাছে আসতেন। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগীর মাসআলা-মাসায়েলসহ পারিবারিক, সামাজিক ইত্যাদি বহু বিষয়ে তারা সমস্যার সমাধান জানতে চাইতেন। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারতেন কত লোকের মনে কত রকম প্রশ্নের উদয় হয়। এ পর্যায়ে একদিন এক ভাই তাঁকে বললেন, হুজুর! মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে, নারীদের রূপ-সৌন্দর্য দেখা নিষিদ্ধ হল কেন? নারীদের রূপ-সৌন্দর্য দেখার সময় যদি চিন্তা এই থাকে যে, আল্লাহর সৃষ্টি কী সুন্দর! কী অপূর্ব!! এই নিয়তে দেখলে তো আল্লাহর কুদরত নিয়ে চিন্তা-ভাবনার মত ছওয়াব হওয়ার কথা; সেখানে উল্টো গোনাহ হয় কেন? আমি বললাম, মনের মধ্যে এই প্রশ্ন এনে দেয় নফছ ও শয়তান। মনের মধ্যে এ প্রশ্ন উঠলে নফছ ও শয়তানকে বলবেন, আল্লাহর এই কুদরতের চিন্তায় ডুব দিলে পরে যে ইয়ের মধ্যে ডুব দিতে মনে চাইবে, তখন ছওয়াব যাবে কোথায়? বুঝা গেল এটা ভাল চিন্তা নয়। যে চিন্তার পরিণাম ভাল সে চিন্তা ভাল। আর যে চিন্তার পরিণাম খারাপ সে চিন্তা খারাপ। যেমন, মনে করুন পড়ন্ত বেলায় সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্য দেখছেন আর আল্লাহর কুদরতের চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়ছেন, এদিকে কিন্তু আপনার মাগরিবের নামাযের জামাত ছুটে যাচ্ছে। আর খুব বেশি মগ্ন হলে তো শুধু জামাত নয় সমূলে নামাযই ছুটে যাবে। তাহলে এই চিন্তা আপাত দৃষ্টিতে আল্লাহর কুদরত নিয়ে চিন্তা বিধায় ভাল মনে হলেও পরিণাম কিন্তু ভাল হচ্ছে না। তাই এরূপ মুহূর্তে এমন চিন্তায় এভাবে মগ্ন হওয়া ঠিক হবে না। কিংবা মনে করুন নামাযের জন্য মানুষকে ডাকা ছওয়াবের কাজ। এই ছওয়াবের চিন্তায় এমনভাবে আপনি মগ্ন হলেন যে, মানুষকে ডাকতে ডাকতে আপনার জামাতই ছুটে গেল। তাহলে নামাযের জন্য মানুষকে ডাকার মত একটি ভাল চিন্তাও এভাবে চর্চা করার কারণে খারাপ প্রতিপন্ন হবে। অনেক সময় শয়তানই মানুষকে কোন একটা ভাল চিন্তার মধ্যে এমনভাবে মগ্ন করে দেয় যে, তার পরিণাম কোন একটা খারাবীর দিকে নিয়ে যায়। শয়তানের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকা চাই। একটি নেক কাজের চিন্তায় যেন আর একটা গোনাহের পথ অবলম্বন করা না হয়। অন্যথায় তা হবে পাগড়ী বাঁধার ফযীলতের কথা চিন্তা করে লুঙ্গি খুলে পাগড়ী বাঁধার মত। সারকথা— নারীর রূপ-সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার মধ্যে ডুব দিলে যদিও আল্লাহর কুদরত দেখছেন ভেবে কাজটা ভাল মনে হবে কিন্তু এ চিন্তা আপনাকে খারাপ দিকে নিয়ে যাবে বিধায় তা ভাল নয়।

মুসল্লী আমাকে বললেন, হুজুর! আসলে তো তাই। নারীদের সাথে কথাবার্তা ও নারীদের নিয়ে চিন্তা-ভাবনার পরিণতি তো যেনার চিন্তা উদ্রেক হওয়া। তিনি এ সংক্রান্ত একটি ঘটনা শোনালেন যে, হুজুর! একবার ব্যাংকক গিয়েছিলাম। একদিন বিকেলে একটা পার্কে গিয়েছি। ঘুরতে ঘুরতে একটু নির্জন জায়গায় যাওয়ার পর একটা নারী আমার কাছে এসে আমার নামধাম পরিচয় জিজ্ঞেস করল। এক পর্যায়ে সে আমাকে বলে বসল, মিস্টার হক! তোমার কি আমাকে প্রয়োজন আছে? হুজুর! বিশ্বাস করবেন, তখন আমার মনে হয়েছিল একবার না হয় একটু ইয়ে করলাম, পরিচিত কেউ তো আর জানছে না। কিন্তু কীভাবে বিরত হলেন জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, ভাবলাম— বয়স হয়েছে, কখন মৃত্যুর ডাক আসে, না; এ দিকে যাব না। তবে মনের মধ্যে কৌতূহল ছিল, মনে হচ্ছিল বিদেশিনী, একটু ভিন্ন মজা হতে পারে। আমি বললাম, এভাবেই মনের মধ্যে পরকালের আযাবের ভয় জাগ্রত করলে এরূপ মুহূর্তে নিজেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়। এ ছাড়া এরূপ কৌতূহল দূর করার আরও একটা মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি আছে।

এ পদ্ধতিটি শুধু ঐ রকম পার্কের ঘটনার ক্ষেত্রেই নয় বরং যে কোনো সময় রাস্তা-ঘাটে, ঘরে-বাইরে যে কোনো স্থানে কোন নারীর প্রতি নজর যাওয়ার ফলে বা মনের মধ্যে কোন নারীর চিন্তা মন্থন করার ফলে যদি এই চিন্তা জাগ্রত হয় যে, ওকে যদি ইয়ে করতে পারতাম, ওর মধ্যে কী যেন আছে! তখন এ পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে হয়, তাহলে মনের ঐ চিন্তা দূর হয়ে যায়। পদ্ধতিটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمُ امْرَأَةً فَأَعْجَبَتُهُ فَلْيَأْتِ أَهْلَهُ فَإِنَّ الَّذِي مَعَهَا مِثْلُ الَّذِي مَعَها . » (তিরমিযী: হাদীছ নং ১১৫৮) অর্থাৎ, যখন তোমাদের কেউ কোন নারীকে দেখে তার প্রতি মুগ্ধতা বোধ হয় তখন সে যেন তার স্ত্রীর কাছে গমন করে। কেননা ঐ নারীর সঙ্গে যা আছে তার স্ত্রীর সঙ্গেও তা আছে। দুনিয়ার যে দেশেরই নারী হোক, সব নারীর ইয়েই এক রকম। অতএব কোনটির মধ্যে ভিন্ন স্বাদের কিছু নেই। এটা হল এক ওয়াছওয়াছা যে, ওর মধ্যে নতুন কী যেন আছে!

মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন নাখালপাড়া বাইতুল আতীক জামে মসজিদে সুদীর্ঘ ২৩ বৎসর (১৯৮৭-২০০৯) ইমামত করেছেন। এই ইমামতকালে সাধারণ মানুষের মনের অবস্থা সম্বন্ধে প্রচুর জানার সুযোগ ঘটেছে। এ সময় অনেক মুসল্লী অনেক প্রশ্ন নিয়েই তাঁর কাছে আসতেন। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগীর মাসআলা-মাসায়েলসহ পারিবারিক, সামাজিক ইত্যাদি বহু বিষয়ে তারা সমস্যার সমাধান জানতে চাইতেন। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারতেন কত লোকের মনে কত রকম প্রশ্নের উদয় হয়। এ পর্যায়ে একদিন এক ভাই তাঁকে বললেন, হুজুর! মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে, নারীদের রূপ-সৌন্দর্য দেখা নিষিদ্ধ হল কেন? নারীদের রূপ-সৌন্দর্য দেখার সময় যদি চিন্তা এই থাকে যে, আল্লাহর সৃষ্টি কী সুন্দর! কী অপূর্ব!! এই নিয়তে দেখলে তো আল্লাহর কুদরত নিয়ে চিন্তা-ভাবনার মত ছওয়াব হওয়ার কথা; সেখানে উল্টো গোনাহ হয় কেন? আমি বললাম, মনের মধ্যে এই প্রশ্ন এনে দেয় নফছ ও শয়তান। মনের মধ্যে এ প্রশ্ন উঠলে নফছ ও শয়তানকে বলবেন, আল্লাহর এই কুদরতের চিন্তায় ডুব দিলে পরে যে ইয়ের মধ্যে ডুব দিতে মনে চাইবে, তখন ছওয়াব যাবে কোথায়? বুঝা গেল এটা ভাল চিন্তা নয়। যে চিন্তার পরিণাম ভাল সে চিন্তা ভাল। আর যে চিন্তার পরিণাম খারাপ সে চিন্তা খারাপ। যেমন, মনে করুন পড়ন্ত বেলায় সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্য দেখছেন আর আল্লাহর কুদরতের চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়ছেন, এদিকে কিন্তু আপনার মাগরিবের নামাযের জামাত ছুটে যাচ্ছে। আর খুব বেশি মগ্ন হলে তো শুধু জামাত নয় সমূলে নামাযই ছুটে যাবে। তাহলে এই চিন্তা আপাত দৃষ্টিতে আল্লাহর কুদরত নিয়ে চিন্তা বিধায় ভাল মনে হলেও পরিণাম কিন্তু ভাল হচ্ছে না। তাই এরূপ মুহূর্তে এমন চিন্তায় এভাবে মগ্ন হওয়া ঠিক হবে না। কিংবা মনে করুন নামাযের জন্য মানুষকে ডাকা ছওয়াবের কাজ। এই ছওয়াবের চিন্তায় এমনভাবে আপনি মগ্ন হলেন যে, মানুষকে ডাকতে ডাকতে আপনার জামাতই ছুটে গেল। তাহলে নামাযের জন্য মানুষকে ডাকার মত একটি ভাল চিন্তাও এভাবে চর্চা করার কারণে খারাপ প্রতিপন্ন হবে। অনেক সময় শয়তানই মানুষকে কোন একটা ভাল চিন্তার মধ্যে এমনভাবে মগ্ন করে দেয় যে, তার পরিণাম কোন একটা খারাবীর দিকে নিয়ে যায়। শয়তানের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকা চাই। একটি নেক কাজের চিন্তায় যেন আর একটা গোনাহের পথ অবলম্বন করা না হয়। অন্যথায় তা হবে পাগড়ী বাঁধার ফযীলতের কথা চিন্তা করে লুঙ্গি খুলে পাগড়ী বাঁধার মত। সারকথা— নারীর রূপ-সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার মধ্যে ডুব দিলে যদিও আল্লাহর কুদরত দেখছেন ভেবে কাজটা ভাল মনে হবে কিন্তু এ চিন্তা আপনাকে খারাপ দিকে নিয়ে যাবে বিধায় তা ভাল নয়।

মুসল্লী আমাকে বললেন, হুজুর! আসলে তো তাই। নারীদের সাথে কথাবার্তা ও নারীদের নিয়ে চিন্তা-ভাবনার পরিণতি তো যেনার চিন্তা উদ্রেক হওয়া। তিনি এ সংক্রান্ত একটি ঘটনা শোনালেন যে, হুজুর! একবার ব্যাংকক গিয়েছিলাম। একদিন বিকেলে একটা পার্কে গিয়েছি। ঘুরতে ঘুরতে একটু নির্জন জায়গায় যাওয়ার পর একটা নারী আমার কাছে এসে আমার নামধাম পরিচয় জিজ্ঞেস করল। এক পর্যায়ে সে আমাকে বলে বসল, মিস্টার হক! তোমার কি আমাকে প্রয়োজন আছে? হুজুর! বিশ্বাস করবেন, তখন আমার মনে হয়েছিল একবার না হয় একটু ইয়ে করলাম, পরিচিত কেউ তো আর জানছে না। কিন্তু কীভাবে বিরত হলেন জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, ভাবলাম— বয়স হয়েছে, কখন মৃত্যুর ডাক আসে, না; এ দিকে যাব না। তবে মনের মধ্যে কৌতূহল ছিল, মনে হচ্ছিল বিদেশিনী, একটু ভিন্ন মজা হতে পারে। আমি বললাম, এভাবেই মনের মধ্যে পরকালের আযাবের ভয় জাগ্রত করলে এরূপ মুহূর্তে নিজেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়। এ ছাড়া এরূপ কৌতূহল দূর করার আরও একটা মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি আছে।

এ পদ্ধতিটি শুধু ঐ রকম পার্কের ঘটনার ক্ষেত্রেই নয় বরং যে কোনো সময় রাস্তা-ঘাটে, ঘরে-বাইরে যে কোনো স্থানে কোন নারীর প্রতি নজর যাওয়ার ফলে বা মনের মধ্যে কোন নারীর চিন্তা মন্থন করার ফলে যদি এই চিন্তা জাগ্রত হয় যে, ওকে যদি ইয়ে করতে পারতাম, ওর মধ্যে কী যেন আছে! তখন এ পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে হয়, তাহলে মনের ঐ চিন্তা দূর হয়ে যায়। পদ্ধতিটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمُ امْرَأَةً فَأَعْجَبَتُهُ فَلْيَأْتِ أَهْلَهُ فَإِنَّ الَّذِي مَعَهَا مِثْلُ الَّذِي مَعَها . » (তিরমিযী: হাদীছ নং ১১৫৮) অর্থাৎ, যখন তোমাদের কেউ কোন নারীকে দেখে তার প্রতি মুগ্ধতা বোধ হয় তখন সে যেন তার স্ত্রীর কাছে গমন করে। কেননা ঐ নারীর সঙ্গে যা আছে তার স্ত্রীর সঙ্গেও তা আছে। দুনিয়ার যে দেশেরই নারী হোক, সব নারীর ইয়েই এক রকম। অতএব কোনটির মধ্যে ভিন্ন স্বাদের কিছু নেই। এটা হল এক ওয়াছওয়াছা যে, ওর মধ্যে নতুন কী যেন আছে!

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 যেনার ওয়াসওয়াসা থেকে পরিত্রাণের পন্থা

📄 যেনার ওয়াসওয়াসা থেকে পরিত্রাণের পন্থা


যেনার ওয়াছওয়াছা থেকে পরিত্রাণের জন্য বুযুর্গানে দ্বীন কুরআন-হাদীছের আলোকে নিম্নোক্ত পন্থাগুলো গ্রহণের কথা বলেছেন:
১. যেনার উপসর্গ যেমন: প্রেমালাপ, গোপন যোগাযোগ, ফোনে বা মোবাইলে আলাপ, গায়র মাহরামের সঙ্গে নির্জন বাস, পর্দা লংঘন ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা।
২. যেনার কারণে জাহান্নামের যে কঠিন শাস্তি হবে তা স্মরণ করা।
৩. একথা স্মরণ করা যে, আল্লাহ সবকিছুই দেখেন, আমার এ অবস্থাও তিনি দেখবেন এবং কোনো মানুষ এখন না দেখলেও কিয়ামতের ময়দানে সকলের সামনে এটা প্রকাশ করে দেয়া হবে। তখন শরমের অন্ত থাকবে না।
৪. বিয়ে না করে থাকলে বিয়ে করে নেয়া। না পারলে রোযা রাখা।
৫. যেনার খাহেশ প্রবল হলে নিম্নোক্ত আয়াত তিনবার পড়ে শরীরে ফুঁক দেয়া। يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
৬. যে নারীর সাথে যেনার কামনা জাগে বা যে পরিবেশে যেনার সুযোগ সৃষ্টি হয় সেখান থেকে দূরে সরে যাওয়া।
৭. যে নারীর সাথে যেনার কামনা জাগে তার সম্বন্ধে চিন্তা করা যে, সে অত্যন্ত কুৎসিত, বিশ্রী চেহারার বা কঠিন রোগে আক্রান্ত ইত্যাদি। এতেও মন থেকে তার সঙ্গে যেনায় লিপ্ত হওয়ার চেতনা হ্রাস পাবে।
৮. যেসব কথা শুনলে, যেখানে গেলে বা যা দেখলে কিংবা যা পড়লে অথবা যা চিন্তা করলে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বা যেনার মনোভাব জাগ্রত হয় তা থেকে বিরত থাকা।

যেনার ওয়াছওয়াছা থেকে পরিত্রাণের জন্য বুযুর্গানে দ্বীন কুরআন-হাদীছের আলোকে নিম্নোক্ত পন্থাগুলো গ্রহণের কথা বলেছেন:
১. যেনার উপসর্গ যেমন: প্রেমালাপ, গোপন যোগাযোগ, ফোনে বা মোবাইলে আলাপ, গায়র মাহরামের সঙ্গে নির্জন বাস, পর্দা লংঘন ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা।
২. যেনার কারণে জাহান্নামের যে কঠিন শাস্তি হবে তা স্মরণ করা।
৩. একথা স্মরণ করা যে, আল্লাহ সবকিছুই দেখেন, আমার এ অবস্থাও তিনি দেখবেন এবং কোনো মানুষ এখন না দেখলেও কিয়ামতের ময়দানে সকলের সামনে এটা প্রকাশ করে দেয়া হবে। তখন শরমের অন্ত থাকবে না।
৪. বিয়ে না করে থাকলে বিয়ে করে নেয়া। না পারলে রোযা রাখা।
৫. যেনার খাহেশ প্রবল হলে নিম্নোক্ত আয়াত তিনবার পড়ে শরীরে ফুঁক দেয়া। يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
৬. যে নারীর সাথে যেনার কামনা জাগে বা যে পরিবেশে যেনার সুযোগ সৃষ্টি হয় সেখান থেকে দূরে সরে যাওয়া।
৭. যে নারীর সাথে যেনার কামনা জাগে তার সম্বন্ধে চিন্তা করা যে, সে অত্যন্ত কুৎসিত, বিশ্রী চেহারার বা কঠিন রোগে আক্রান্ত ইত্যাদি। এতেও মন থেকে তার সঙ্গে যেনায় লিপ্ত হওয়ার চেতনা হ্রাস পাবে।
৮. যেসব কথা শুনলে, যেখানে গেলে বা যা দেখলে কিংবা যা পড়লে অথবা যা চিন্তা করলে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বা যেনার মনোভাব জাগ্রত হয় তা থেকে বিরত থাকা।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 বদ নজরের ওয়াসওয়াসা থেকে পরিত্রাণের পন্থা

📄 বদ নজরের ওয়াসওয়াসা থেকে পরিত্রাণের পন্থা


বদ নজর থেকে পরিত্রাণের বিস্তারিত উপায় হল:
১. এ চিন্তা করা যে, আল্লাহ আমার মনের অবস্থা দেখছেন এবং কিয়ামতের দিন এ নিয়ে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, তখন সবার সামনে লজ্জিত হতে হবে এবং এই পাপের দরুন জাহান্নামের আযাব হবে।
২. এই চিন্তা করবে যে, আমার আপনজনকে কেউ এভাবে দেখলে তো আমার অপছন্দ লাগে, তাহলে আমার দেখাটা কি তাদের অপছন্দনীয় নয়?
৩. এরপরও তাকে সুন্দর মনে হলে এবং নজর দিতে মনে চাইলে তাকে কুৎসিত কল্পনা করবে।
৪. হিম্মত এবং এরাদা করবে যে, এ থেকে বিরত থাকব। আর হঠাৎ নজর পড়ে গেলে তার থেকে নজর ফিরিয়ে নিলে কলবে নূর পয়দা হয়— এই ফিকির রাখবে।

বদ নজর থেকে পরিত্রাণের বিস্তারিত উপায় হল:
১. এ চিন্তা করা যে, আল্লাহ আমার মনের অবস্থা দেখছেন এবং কিয়ামতের দিন এ নিয়ে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, তখন সবার সামনে লজ্জিত হতে হবে এবং এই পাপের দরুন জাহান্নামের আযাব হবে।
২. এই চিন্তা করবে যে, আমার আপনজনকে কেউ এভাবে দেখলে তো আমার অপছন্দ লাগে, তাহলে আমার দেখাটা কি তাদের অপছন্দনীয় নয়?
৩. এরপরও তাকে সুন্দর মনে হলে এবং নজর দিতে মনে চাইলে তাকে কুৎসিত কল্পনা করবে।
৪. হিম্মত এবং এরাদা করবে যে, এ থেকে বিরত থাকব। আর হঠাৎ নজর পড়ে গেলে তার থেকে নজর ফিরিয়ে নিলে কলবে নূর পয়দা হয়— এই ফিকির রাখবে।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 অবৈধ প্রেম করার ওয়াসওয়াসা

📄 অবৈধ প্রেম করার ওয়াসওয়াসা


যৌবনে কোন নারীর সাথে প্রেম করার ওয়াছওয়াছায় আক্রান্ত হওয়া যুবকের সংখ্যা একেবারে কম নয়। অনেক যুবক সুন্দর বালকের সঙ্গে প্রেম করার ওয়াছওয়াছায়ও আক্রান্ত হয়ে থাকে। অনেক সময় শয়তান বোঝায় যে, প্রেম করা খারাপ হবে কেন, প্রেম তো একটা পবিত্র জিনিস! কিন্তু এই পবিত্র প্রেমের পরিণাম যে অপবিত্র কর্মকাণ্ডের দিকে গড়ায় তা কি অস্বীকার করা যাবে? কোন নারী বা সুন্দর বালকের অবৈধ প্রেমে পড়লে তা থেকে পরিত্রাণের জন্য যা যা করতে হবে তা হল—
১. প্রথমত বুঝতে হবে যে, সাহস, কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করা ব্যতীত কোনো সহজ কাজও হয় না। শরীরের সামান্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে গেলেও তিতা ওষুধ সেবন করতে হয়। অভ্যন্তরীণ রোগের ক্ষেত্রে আরও বেশি ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকারের জন্য মনকে প্রস্তুত করতে হবে।
২. যার প্রেমে পড়া গেছে তার সাথে কথা-বার্তা, দেখা-শোনা, আসা-যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। অন্য কেউ তার আলোচনা করলে তাকে বাধা দিতে হবে এবং পরিকল্পিতভাবে তার সমালোচনা করতে থাকবে।
৩. একটা নির্জন সময়ে গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করে আতর ও সুগন্ধি মেখে দুই রাকআত তওবার নামায পড়বে এবং কেবলামুখী অবস্থায় বসে খুব তওবা-এস্তেগফার করে এই বিপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহ্র নিকট দুআ করবে এবং পাঁচশত থেকে এক হাজার বার লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ এর যিকির করবে। লা-ইলাহা বলার সময় ঘাড় ডান দিকে ঘুরাবে এবং এই ধ্যান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুকে অন্তর থেকে বের করে দিলাম। অতঃপর ইল্লাল্লাহ বলার সময় বাম স্তনের সামান্য নিচের দিকে খেয়াল করে মাথা সেদিকে সজোরে ঝুঁকাবে আর ধ্যান করবে যে, আল্লাহ্র মহব্বত অন্তরে গেঁথে দিলাম।
৪. দোযখের বর্ণনা এবং আল্লাহ্ নাফরমানীর কারণে আল্লাহ কিরূপ অসন্তুষ্ট হন— এ জাতীয় বর্ণনা আছে এমন কোন কিতাব বা হাদীছের গ্রন্থ পাঠ করবে।
৫. একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্জনে বসে এ চিন্তা করবে যে, আমি কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ্র সামনে দণ্ডায়মান রয়েছি আর আল্লাহ আমাকে ধমক দিয়ে বলছেন, "হে বেহায়া, বেশরম! তোমার লজ্জা হয় না, আমাকে ছেড়ে একটা মুরদার দিকে ঝুঁকে পড়লে? এর জন্য তোমাকে আমি পয়দা করেছিলাম? বেহায়া, আমার দেয়া চোখ আমার দেয়া অন্তরকে তুমি আমার নাফরমানীর কাজে ব্যবহার করলে? তোমার শরম হয় না? ইত্যাদি।

যৌবনে কোন নারীর সাথে প্রেম করার ওয়াছওয়াছায় আক্রান্ত হওয়া যুবকের সংখ্যা একেবারে কম নয়। অনেক যুবক সুন্দর বালকের সঙ্গে প্রেম করার ওয়াছওয়াছায়ও আক্রান্ত হয়ে থাকে। অনেক সময় শয়তান বোঝায় যে, প্রেম করা খারাপ হবে কেন, প্রেম তো একটা পবিত্র জিনিস! কিন্তু এই পবিত্র প্রেমের পরিণাম যে অপবিত্র কর্মকাণ্ডের দিকে গড়ায় তা কি অস্বীকার করা যাবে? কোন নারী বা সুন্দর বালকের অবৈধ প্রেমে পড়লে তা থেকে পরিত্রাণের জন্য যা যা করতে হবে তা হল—
১. প্রথমত বুঝতে হবে যে, সাহস, কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করা ব্যতীত কোনো সহজ কাজও হয় না। শরীরের সামান্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে গেলেও তিতা ওষুধ সেবন করতে হয়। অভ্যন্তরীণ রোগের ক্ষেত্রে আরও বেশি ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকারের জন্য মনকে প্রস্তুত করতে হবে।
২. যার প্রেমে পড়া গেছে তার সাথে কথা-বার্তা, দেখা-শোনা, আসা-যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। অন্য কেউ তার আলোচনা করলে তাকে বাধা দিতে হবে এবং পরিকল্পিতভাবে তার সমালোচনা করতে থাকবে।
৩. একটা নির্জন সময়ে গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করে আতর ও সুগন্ধি মেখে দুই রাকআত তওবার নামায পড়বে এবং কেবলামুখী অবস্থায় বসে খুব তওবা-এস্তেগফার করে এই বিপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহ্র নিকট দুআ করবে এবং পাঁচশত থেকে এক হাজার বার লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ এর যিকির করবে। লা-ইলাহা বলার সময় ঘাড় ডান দিকে ঘুরাবে এবং এই ধ্যান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুকে অন্তর থেকে বের করে দিলাম। অতঃপর ইল্লাল্লাহ বলার সময় বাম স্তনের সামান্য নিচের দিকে খেয়াল করে মাথা সেদিকে সজোরে ঝুঁকাবে আর ধ্যান করবে যে, আল্লাহ্র মহব্বত অন্তরে গেঁথে দিলাম।
৪. দোযখের বর্ণনা এবং আল্লাহ্ নাফরমানীর কারণে আল্লাহ কিরূপ অসন্তুষ্ট হন— এ জাতীয় বর্ণনা আছে এমন কোন কিতাব বা হাদীছের গ্রন্থ পাঠ করবে।
৫. একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্জনে বসে এ চিন্তা করবে যে, আমি কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ্র সামনে দণ্ডায়মান রয়েছি আর আল্লাহ আমাকে ধমক দিয়ে বলছেন, "হে বেহায়া, বেশরম! তোমার লজ্জা হয় না, আমাকে ছেড়ে একটা মুরদার দিকে ঝুঁকে পড়লে? এর জন্য তোমাকে আমি পয়দা করেছিলাম? বেহায়া, আমার দেয়া চোখ আমার দেয়া অন্তরকে তুমি আমার নাফরমানীর কাজে ব্যবহার করলে? তোমার শরম হয় না? ইত্যাদি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px