📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 পর্দা করলে লাভ কী?

📄 পর্দা করলে লাভ কী?


উত্তর: কিছু লাভের বর্ণনা তো আগেই গেল। তা ছাড়াও পর্দা ব্যবস্থায় আরও বহু লাভ রয়েছে। যেমন:
১. পর্দা ব্যবস্থা দ্বারা নারী ও পুরুষ নিজেদেরকে যিনা ও ব্যভিচার থেকে হেফাজত করতে পারে। কেননা অনেক সময় পর্দাহীনভাবে পর নারী পুরুষের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ, হাসি-তামাশা ও অবাধ মেলামেশার ফলে বাস্তবেই অবৈধ মেলামেশা পর্যন্ত হয়ে যায়। পর্দায় থাকলে এ সমস্ত অঘটন হতে পারে না। পর্দা হচ্ছে নারীর সতীত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়।
২. পর্দা রক্ষা করলে স্বামী স্ত্রীর জীবনে সন্দেহ আসতে পারে না, স্ত্রীর মন অন্য কোনো পুরুষের দিকে যেতে পারে না, স্বামীর দিকেই তার সব দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে। স্বামীও শরীয়তসম্মতভাবে চললে এবং পরনারীর প্রতি দৃষ্টি না দিলে তার মনও অন্য নারীর দিকে ঝুঁকতে পারে না বরং স্ত্রীর দিকেই তার দৃষ্টি সম্পূর্ণ নিবদ্ধ থাকে। এভাবে পর্দার বিধান রক্ষা করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দৃষ্টি নিজেদের মধ্যে নিবদ্ধ থাকে এবং তাদের ভালবাসা অটুট থাকে, তাদের জীবনে সন্দেহ দেখা দেয় না, তাদের পারিবারিক জীবন শান্তিময় থাকে।
৩. পর্দা করলে পূত-পবিত্র মেয়ে ও মহিলাদের প্রতি বাজে নোংরা লোকদের কুদৃষ্টি পড়তে পারে না।
৪. পর্দা ব্যবস্থা থাকলে সম্ভ্রান্ত ও বংশীয় নারী পুরুষের বংশ তালিকায় কোনো কলঙ্করেখা অঙ্কিত হতে পারে না। কোনো বাজে লোক কোনো মহিলার সন্তান সম্পর্কে সামান্যতম সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে না এবং সন্তানের পিতা নিশ্চিত বিশ্বাসের সঙ্গে এ কথা বলতে পারে যে, এ আমারই সন্তান, অন্য কারও সন্তান নয়। বেপর্দা মহিলা -যার পর্দাহীনভাবে পর পুরুষের সঙ্গে উঠাবসা বিদ্যমান- তার সন্তানের বেলায় এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে, এটি তার স্বামীরই পক্ষ থেকে সন্তান।
৫. পর্দা ব্যবস্থা দ্বারা পুরুষ ও নারী প্রত্যেকের অন্তর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে পবিত্র থাকে। পর্দাহীন চলাফেরায় যখন পুরুষ ও নারী একে অপরের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করে, তখন শয়তান তাদের অন্তরে কুকথা উদয়ের সুযোগ পায়।
৬. পর্দা রক্ষা করে চললে নারীর চরিত্র নিয়ে কোনো সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার অবকাশ থাকে না। পক্ষান্তরে কোনো নারী যখন পর পুরুষের সঙ্গে বেপর্দা চলাফেরা, খোলামেলা সাক্ষাৎ, হাসাহাসি ও রঙ্গতামাশা করে, তখন তার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ দেখা দিতে পারে।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 পর্দা হল মনের ব্যাপার; মন ঠিক থাকলে সব ঠিক

📄 পর্দা হল মনের ব্যাপার; মন ঠিক থাকলে সব ঠিক


উত্তর: এগুলো এক শ্রেণীর বিভ্রান্ত লোকের কথা। পর্দা হল মনের ব্যাপার; মন ঠিক থাকলে সব ঠিক— এ কথা বলে তারা বুঝাতে চায় যে, মন ঠিক হয়ে গেলে আর বাইরের পর্দার দরকার হয় না। এটা একটা বিভ্রান্তিকর কথা। এটা পর্দা সম্পর্কে একটা ভ্রান্ত ধারণা। পর্দা চেহারা ও শরীরের বিষয়, মনের বিষয় নয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বিবি এবং কন্যাদেরকে পর্দা করতে বলতেন, তাহলে কি তাদের মন ঠিক হয়েছিল না? নাউযু বিল্লাহ! মহিলা সাহাবীগণ পর্দা করেছেন, তাদের কি মন ঠিক হয়েছিল না? বুযুর্গ নারীরা পর্দা করেছেন তাদের কি মন ঠিক হয়েছিল না? এসব বিভ্রান্তিকর কথা বলে মানুষকে হয়তো চুপ করানো যাবে, কিন্তু আল্লাহ্র কাছে পার পাওয়া যাবে না। কুরআন-হাদীছে কোথাও এ কথা নেই যে, মন ঠিক হয়ে গেলে পর্দার দরকার হয় না, মন ঠিক হয়ে গেলে পর্দার হুকুম উঠে যায়। বস্তুত পর্দা মনের বিষয় নয়, পর্দা হল শরীরের বিষয়, চেহারার বিষয়। মনের বিষয় হল সবর, তাকওয়া, তাওয়াক্কুল, ইখলাস প্রভৃতি।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 পর্দার বিষয়টাকে আমাদের হুজুররাই বেশি কড়া করে ফেলেছে

📄 পর্দার বিষয়টাকে আমাদের হুজুররাই বেশি কড়া করে ফেলেছে


উত্তর: পর্দার কড়া নির্দেশ কুরআন-হাদীছেই এসেছে। হুজুররা তথা আলেমরা এ ব্যাপারে মোটেই বাড়িয়ে কিছু বলেন না। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে সূরা আহযাবে ইরশাদ করেছেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرُّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَاتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ .
অর্থাৎ, (হে নারীগণ!) তোমরা গৃহের মধ্যে অবস্থান করবে, অজ্ঞ যুগের নারীদের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। আর নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। (সূরা আহযাব: ৩৩)
উক্ত সূরার অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ .
অর্থাৎ, হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে এবং মুমিনদের নারীদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। (সূরা আহযাব: ৫৯)
রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে এই চাদর উড়নার উপর পরিধান করা হত এবং চেহারার উপর তা ঝুলিয়ে দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে দেয়া হত। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে— এই চাদর মাথা থেকে পা পর্যন্ত লম্বা হত এবং মাথার উপর দিয়ে ছেড়ে দিয়ে চেহারা ঢেকে দেয়া হত। এ দুই আয়াতসহ আরও কয়েকটি আয়াত ও একাধিক হাদীছের ভিত্তিতে পর্দা ফরয সাব্যস্ত হয়েছে। উলামায়ে কেরাম তা-ই বলেন, তারা এ ব্যাপারে মোটেই অতিরিক্ত কোন কড়াকড়ি বাড়াবাড়ি করেন না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px