📄 দাড়ি রাখলে, টুপি পরলে, ইসলামী লেবাস-পোশাক পরিধান করলে অনেকে হুজুর বলে টিটকারি দিবে
উত্তর: হুজুর বলে টিটকারী দিলে কী এসে যায়? না-বুঝ লোকেরা তো কত কিছুই বলতে পারে এবং বলে থাকে। যারা ধর্মীয় জীবন-পদ্ধতির সমালোচনা করে তারা না-বুঝ, অজ্ঞ কিংবা সজ্ঞান পাপী। যারা ধর্মীয় বেশভূষা নিয়ে টিটকারি দেয় তারা না-বুঝ, অজ্ঞ কিংবা সজ্ঞান পাপী। এমন না-বুঝ, অজ্ঞ ও সজ্ঞান পাপীদের কথায় কি আমরা আমাদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে দিব? না-বুঝ ও অজ্ঞ লোকদের কথায় উঠাবসা করা কি বোকামী নয়? যেসব পিতা-মাতা বা গুরুজন যুবকদেরকে যৌবনকালে দাড়ি, টুপি, ইসলামী লেবাস-পোশাক গ্রহণের বিরুদ্ধে বলে, তারাও না-বুঝ কিংবা অজ্ঞ। তারা গোনাহের কথা বলে। আর কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গোনাহের বিষয়ে কোন মানুষের আনুগত্য করা চলে না, তা সেই গোনাহের নির্দেশদাতা পিতা-মাতা কিংবা অন্য যতবড় গুরুজনই হোন না কেন। এক হাদীছে ইরশাদ হয়েছে,
«لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقِ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ.» (রওয়াহু আহমদ...)
অর্থাৎ, আল্লাহ জাল্লা শানুহুর নাফরমানী হয় এমন কোনো কাজে কোনো মাখলুকের আনুগত্য করা চলবে না। (মুসনাদে আহমদ ও ইবনে আবী শাইবা)
📄 দাড়ি রাখা তো আর ফরয ওয়াজেব নয়, এটা সুন্নাত, এটাকে এত গুরুত্ব দেয়ার কী দরকার?
উত্তর: কে বলেছে, দাড়ি রাখা ওয়াজেব নয়? চার ইমামের সব ইমামের নিকটই দাড়ি রাখা ওয়াজেব। এটা সর্বসম্মতভাবে ওয়াজেব। কোন হুজুর এ ব্যাপারে কোন বাড়াবাড়ি করেন না। এটাকে সুন্নাত বলা হয় এ হিসেবে যে, এটা নবীজীর আদর্শ। নবীজীর সব আদর্শকেই সুন্নাত বলা হয়। এ হিসেবে দাড়ি রাখাকেও সুন্নাত বলা হয়। কিন্তু এই সুন্নাত অর্থ সেই সুন্নাত নয় যা ফরয ওয়াজেবের নিচের স্তর। বরং দাড়িকে সুন্নাত এই অর্থে বলা হয় যে, এটা নবীজীর আদর্শ। হুকুমগত দিক থেকে এটা ওয়াজিব।
📄 এখনও এসব ধর্মকর্ম করার বয়স হয়নি, বয়স হলে এগুলো করবে
উত্তর: বয়স হওয়া মানে কি বুড়ো হওয়া? বয়স তো হয়েছেই। বালেগ হওয়া মানেই তো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। অতএব আমি যখন বালেগ হয়েছি তখন বয়স তো হয়েছেই।
📄 দাড়ি, টুপি, ইসলামী লেবাস সমাজের বহু লোক পছন্দ করে না
উত্তর: আমরা মুসলমান। ইসলাম আমাদের আদর্শ। যে যা-ই বলুক আমরা আমাদের আদর্শে অটল থাকব। এর বিরুদ্ধে আমরা কারও কোনো কথার পরোয়া করব না, কারও পছন্দ-অপছন্দের পরোয়া করব না, এ-ই তো হল ধর্মীয় অটলতা। আমরা আমাদের আদর্শে অটল থাকব। আমাদের আদর্শের ব্যাপারে আমরা কখনও হীনম্মন্যতার শিকার হব না। নিজেদের ধর্মীয় আদর্শে এমন অটল থাকতে পারলেই আমরা লাভ করতে পারব ফেরেশতাদের বাচনিক সুসংবাদ, জান্নাতের সুসংবাদ। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْশِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّذِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ .
অর্থাৎ, যারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, তারপর অটল থাকে, তাদের নিকট ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না। তোমরা ঐ জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। (সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ: ৩০)