📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 দুআ কবুল না হওয়ার ওয়াসওয়াসা

📄 দুআ কবুল না হওয়ার ওয়াসওয়াসা


অনেক সময় এই ওয়াছওয়াছা হয় যে, আমরা আল্লাহর কাছে কত দুআ করি, আলেম-উলামা বুযুর্গানে দ্বীনও দুআ করেন কিন্তু দুআ কবুল হয় কৈ? এই যে সারা দুনিয়ায় মুসলমানদের উপর অমুসলিমদের জুলুম-নিপীড়ন চলছে, সবাই দুআ করছে কিন্তু মুসলমানদের উপর থেকে বিপদ তো হটছে না। এই ওয়াছওয়াছার কয়েকটি উত্তর। যথা:
১. যে বিপদ-মুসীবত তাকদীরে মুআল্লাক¹-এর পর্যায়ে তা সংশ্লিষ্ট দুআ-দুরূদের দ্বারা দূরীভূত হয়। পক্ষান্তরে যে বিপদ-মুসীবত তাকদীরে মুবরাম²-এর পর্যায়ে তা কোনো কিছু দ্বারাই দূরীভূত হয় না।
২. বিপদ-মুসীবত দ্বারা অনেক সময় পাপ মোচন হয়, কখনও কখনও মর্যাদা বুলন্দ হয়।
৩. বান্দার সব দুআই কবুল হয় যদি কবুল হওয়ার শর্তাবলী পূরণ হয়। তবে কখনও কখনও সরাসরি বান্দা যা যেভাবে চায় সেভাবেই কবুল করা হয়, কখনও কখনও বান্দা যা চায় আল্লাহ তা না দিয়ে অন্য কিছু তাকে দেন। কারণ আল্লাহর বিবেচনায় সেটিই বান্দার জন্য বেশি দরকারী।
৪. অনেক সময় বান্দা দুনিয়ার জন্য কিছু চায় কিন্তু আল্লাহ তাকে দুনিয়ায় জন্য তা না দিয়ে আখেরাতে তার জন্য কিছু বরাদ্দ করেন। আখেরাতে যখন মানুষ এরূপ প্রাপ্তি দেখতে পাবে তখন বলবে, হায় দুনিয়ার জন্য আল্লাহর কাছে যতকিছু চেয়েছিলাম তার কোনটা যদি দুনিয়াতে না দিয়ে সেগুলোর বদলে আখেরাতে দেয়া হত তাহলে আরও কত ভাল হত!

টিকাঃ
১। মানুষের জীবনের কিছু বিষয়ের তাকদীর এভাবে লেখা যে, বান্দা যদি অমুক কাজ করে বা অমুক আমল করে তাহলে এরকম হবে আর অমুক কাজ বা অমুক আমল না করলে এরূপ হবে। এ পর্যায়ের তাকদীরকে বলা হয় তাকদীরে মুআল্লাক তথা কোনকিছুর উপর ঝুলন্ত তাকদীর।
২। মানুষের জীবনের কিছু বিষয় তাকদীরে এমনভাবে লেখা আছে যা কোন কাজ বা কোন আমলের উপর ঝুলন্ত নয়, বরং তা যেমন নির্ধারিত তেমনই অকাট্যভাবে তা ঘটবে, কোন কিছুতে তার কোন পরিবর্তন ঘটবে না। এ পর্যায়ের তাকদীরকে বলা হয় তাকদীরে মুবরাম তথা অপরিবর্তনীয় তাকদীর।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 বিপদ-আপদ বিষয়ক দুআ দুরূদের ফায়দা নিয়ে ওয়াসওয়াসা

📄 বিপদ-আপদ বিষয়ক দুআ দুরূদের ফায়দা নিয়ে ওয়াসওয়াসা


মানুষ বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি বা নিরাপত্তা লাভের জন্য যেসব দুআ-দুরূদ পাঠ করে এ নিয়েও শয়তান ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে। যেমন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দুআ পড়লে বাইরের সব রকম আপদ বালা থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা। গাড়িতে আরোহণের দুআ পড়লে এক্সিডেন্ট দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা। নৌযানে আরোহণের দুআ পড়লে নৌযান ডুবি থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা ইত্যাদি। এসব দুআ-দুরূদ পাঠ করার পরও যদি সংশ্লিষ্ট বিপদ-মুসীবত দেখা দেয় তখন শয়তানের পক্ষ থেকে এরূপ ওয়াছওয়াছা আসে যে, কৈ দুআ পড়ার পরও তো বিপদ থেকে রক্ষা হল না, তাহলে কি এসব দুআ ইত্যাদি ভুয়া?
এ ওয়াছওয়াছার উত্তর হল- যে বিপদ-মুসীবত তাকদীরে মুআল্লাকের পর্যায়ে তা সংশ্লিষ্ট দুআ-দুরূদের দ্বারা দূরীভূত হয়। পক্ষান্তরে যে বিপদ-মুসীবত তাকদীরে মুবরামের পর্যায়ে তা কোনো কিছু দ্বারাই দূরীভূত হয় না। অতএব দুআ-দুরূদ পাঠ করার পরও যখন এই বিপদ-মুসীবত দেখা দিয়েছে তাহলে বুঝা গেল এটা তাকদীরে মুবরামের পর্যায়ভুক্ত ছিল। কিন্তু কার জীবনের কোন্ বিপদ তাকদীরে মুআল্লাকের পর্যায়ভুক্ত আর কোন্টা তাকদীরে মুবরামের পর্যায়ভুক্ত তা যেহেতু জানা নেই, তাই সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্যই সংশ্লিষ্ট দুআ-দুরূদ, আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা ইত্যাদি করে যেতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية