📄 ইবাদতের ইখলাস সম্বন্ধে ওয়াসওয়াসা
ইবাদতের ব্যাপারে শয়তানের প্রথম ওয়াছওয়াছা থাকে যেন কেউ ইবাদতের জন্য উদ্বুদ্ধই না হয়। এই ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা করে ইবাদত শুরু করেই দিলে তখন ওয়াছওয়াছা হয় যেন ইবাদতে ইখলাস না আসে। আর যদি ইখলাস এসে যায় তখন সেই ইখলাস নষ্ট করার জন্য ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে। যেমন কোন এক লোক ইবাদত শুরু করলে যেমন নামায শুরু করলে প্রথমে শয়তান তার মনের মধ্যে এই চিন্তা এনে দেয় যে, খুব সুন্দরভাবে নামায পড়া দরকার, যাতে মানুষ বলে, আমি সুন্দরভাবে নামায পড়ি। এই লোক দেখানোর চিন্তাকে বলা হয় রিয়া। এই চিন্তা দূর করে ইখলাসের চেতনায় ফিরে আসা হয়, তখন এই ওয়াছওয়াছা হয় যে, আল-হাম্দু লিল্লাহ আমার মধ্যে ইখলাস এসে গেছে। আমি তো মাশাআল্লাহ ইখলাসের অধিকারী হয়ে গেছি, আমি তো কামেল লোক হয়ে গেছি!
যাকাত, দান-সদকা, রোযা, হজ্জ ইত্যাদি সমস্ত ইবাদতের ক্ষেত্রেই প্রথমে রিয়ার চেতনা আসে। যখন সেই রিয়ার চেতনা দূর করে ইখলাসের চেতনায় ফিরে আসা হয়, তখন শয়তান এই ওয়াছওয়াছা দেয় যে, আল-হাম্দু লিল্লাহ আমার মধ্যে ইখলাস এসে গেছে। এভাবে সব ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রেই ইখলাস এসে গেলে সেই ইখলাসকে নষ্ট করার জন্য শয়তান এরূপ ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে। এই ওয়াছওয়াছা দূর করার উপায় হল- ইখলাস এসেছে কি না তা নিয়েও চিন্তা না করা। শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোনোকিছু নিয়েই না ভাবা।
📄 নামাযের মধ্যে শয়তানের সঙ্গে বাহাছ না করা চাই
এখানে একটা বিষয় মনে রাখা চাই। তা হল নামাযের মধ্যে যখন ইখলাস-বিরোধী চিন্তা জাগে বা ইখলাস এসে যাওয়ার চিন্তা জাগে, কিংবা এই নামায পড়ে কী হবে? এই নামায দ্বারা জান্নাত অর্জন হবে বলা হয় তা আসলেই জান্নাত বলে কিছু আছে কি না ইত্যাদি- এজাতীয় যে কোনো চিন্তা মনে এলেই তা নিয়ে মনে মনে শয়তানের সাথে বাহাছ শুরু করা যাবে না। মনে একটা চিন্তা জাগবে আর আপনি তার মোকাবেলার চিন্তায় লিপ্ত হবেন আর মনে মনে তৃপ্তি অর্জন করবেন যে, শয়তানের ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা করছি তা করা যাবে না। কেননা এভাবে এগুলো নিয়ে চিন্তায় লিপ্ত হলেও তো আপনি নামাযের চিন্তা থেকে সরে গেলেন। শয়তানের এটাও কৌশল হতে পারে যে, এভাবেই আপনাকে নামাযের চিন্তা থেকে সরিয়ে দিবে। তাই নামাযের মধ্যে যেকোনো ওয়াছওয়াছা এলে তখন সেটা নিয়ে কোনো উত্তর-পশ্চিম না করে সোজা নামাযের চিন্তায় ফিরে যাবেন। শয়তানের এসব ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা ও তা নিয়ে বাহাছ চর্চা করতে হলে নামাযের বাইরে করবেন, নামাযের মধ্যে নয়।