📄 ইবাদতের ছওয়াব ও ফায়দা প্রসঙ্গে ওয়াসওয়াসা
ওয়াছওয়াছা: শুনেছি ইবাদতে মজা লাগে, কৈ পেলাম কৈ?
উত্তর: আমাদের ইবাদত যথাযথভাবে হয় না বলেই মজা পাই না। বুযুর্গানে দ্বীন -যারা সুন্দরভাবে ইবাদত করেন তারা তো- ঠিকই মজা পান।
ওয়াছওয়াছা: বুযুর্গানে দ্বীন মজা পান? ভুল কথা। নিজে উপলব্ধি না করলে বিশ্বাস করা যায় না।
উত্তর: কোন জিনিসের মজা নিজে উপলব্ধি না করতে পারলে সমূলে তার মজাকে অস্বীকার করা ভুল। আমরা হাদীছ থেকে জেনেছি এবং বুযুর্গানে দ্বীনের বাচনিক তার বাস্তবতার স্বীকৃতি পেয়েছি যে, ইবাদতের স্বাদ পাওয়া যায় তাই বিশ্বাস করি। হাদীছ শরীফে এসেছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যার মধ্যে এই তিনটি গুণ থাকে সে ঈমানের (ও ইবাদতের) স্বাদ উপলব্ধি করতে পারে: আল্লাহ ও আল্লাহর রসূল তার কাছে অন্য সকলের চেয়ে প্রিয় হবে। আল্লাহর ওয়াস্তেই মানুষের সঙ্গে তার ভালবাসা থাকবে। আর কুফ্রে ফিরে যাওয়া তার কাছে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দের লাগবে। (বোখারী: হাদীছ নং ২১)
ওয়াছওয়াছা: কুরআন শরীফে আছে দান-সদকা করলে সম্পদ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কৈ এত দান-সদকা করলাম সম্পদ তো বাড়ল না।
উত্তর: কুরআন শরীফে বলা হয়েছে, দান-সদকা করলে বৃদ্ধি পাবে। সম্পদের পরিমাণই বৃদ্ধি পাবে এমন তো স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তাই হতে পারে কুরআনের বক্তব্য দ্বারা উদ্দেশ্য কখনও সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে কখনও সম্পদের পরিমাণ নয় বরং বরকত বৃদ্ধি পাবে। অল্প সম্পদেই প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যাওয়া। এই অর্থে আমার বরকত হয়নি তা কে বলল?
ওয়াছওয়াছা: অল্প আমলে ছওয়াব বেশি, এক একটা আমলে কমপক্ষে দশটি নেকী, বাড়তে বাড়তে সাতশ বা তার চেয়েও বেশি হয়ে থাকে। তাহলে তো ভাল হওয়ার চেতনা সৃষ্টির সুযোগ হ্রাস পায়? এতে অল্প আমল করেই ক্ষান্ত হয়ে যাবে যে, অনেক ছওয়াবই তো হয়েছে, ব্যস আর দরকার নেই।
উত্তর: কথা তো উল্টো হয়ে গেল। অল্প পরিশ্রমে যদি বেশি পারিশ্রমিক পায় তাতে কি মানুষ অলস হয়ে যায়? তাতে বরং আরও বেশি কর্মোদ্যোগী হয় যে, মাশা আল্লাহ কত সুবিধা, অল্প পরিশ্রমেই বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে! শয়তান, তুমি মানুষকে উল্টো বোঝাতে চেষ্টা কর। আমি তোমার থেকে আল্লাহর পানাহ চাই। আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতনির রজীম!
📄 ইবাদতের ইখলাস সম্বন্ধে ওয়াসওয়াসা
ইবাদতের ব্যাপারে শয়তানের প্রথম ওয়াছওয়াছা থাকে যেন কেউ ইবাদতের জন্য উদ্বুদ্ধই না হয়। এই ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা করে ইবাদত শুরু করেই দিলে তখন ওয়াছওয়াছা হয় যেন ইবাদতে ইখলাস না আসে। আর যদি ইখলাস এসে যায় তখন সেই ইখলাস নষ্ট করার জন্য ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে। যেমন কোন এক লোক ইবাদত শুরু করলে যেমন নামায শুরু করলে প্রথমে শয়তান তার মনের মধ্যে এই চিন্তা এনে দেয় যে, খুব সুন্দরভাবে নামায পড়া দরকার, যাতে মানুষ বলে, আমি সুন্দরভাবে নামায পড়ি। এই লোক দেখানোর চিন্তাকে বলা হয় রিয়া। এই চিন্তা দূর করে ইখলাসের চেতনায় ফিরে আসা হয়, তখন এই ওয়াছওয়াছা হয় যে, আল-হাম্দু লিল্লাহ আমার মধ্যে ইখলাস এসে গেছে। আমি তো মাশাআল্লাহ ইখলাসের অধিকারী হয়ে গেছি, আমি তো কামেল লোক হয়ে গেছি!
যাকাত, দান-সদকা, রোযা, হজ্জ ইত্যাদি সমস্ত ইবাদতের ক্ষেত্রেই প্রথমে রিয়ার চেতনা আসে। যখন সেই রিয়ার চেতনা দূর করে ইখলাসের চেতনায় ফিরে আসা হয়, তখন শয়তান এই ওয়াছওয়াছা দেয় যে, আল-হাম্দু লিল্লাহ আমার মধ্যে ইখলাস এসে গেছে। এভাবে সব ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রেই ইখলাস এসে গেলে সেই ইখলাসকে নষ্ট করার জন্য শয়তান এরূপ ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে। এই ওয়াছওয়াছা দূর করার উপায় হল- ইখলাস এসেছে কি না তা নিয়েও চিন্তা না করা। শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোনোকিছু নিয়েই না ভাবা।
📄 নামাযের মধ্যে শয়তানের সঙ্গে বাহাছ না করা চাই
এখানে একটা বিষয় মনে রাখা চাই। তা হল নামাযের মধ্যে যখন ইখলাস-বিরোধী চিন্তা জাগে বা ইখলাস এসে যাওয়ার চিন্তা জাগে, কিংবা এই নামায পড়ে কী হবে? এই নামায দ্বারা জান্নাত অর্জন হবে বলা হয় তা আসলেই জান্নাত বলে কিছু আছে কি না ইত্যাদি- এজাতীয় যে কোনো চিন্তা মনে এলেই তা নিয়ে মনে মনে শয়তানের সাথে বাহাছ শুরু করা যাবে না। মনে একটা চিন্তা জাগবে আর আপনি তার মোকাবেলার চিন্তায় লিপ্ত হবেন আর মনে মনে তৃপ্তি অর্জন করবেন যে, শয়তানের ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা করছি তা করা যাবে না। কেননা এভাবে এগুলো নিয়ে চিন্তায় লিপ্ত হলেও তো আপনি নামাযের চিন্তা থেকে সরে গেলেন। শয়তানের এটাও কৌশল হতে পারে যে, এভাবেই আপনাকে নামাযের চিন্তা থেকে সরিয়ে দিবে। তাই নামাযের মধ্যে যেকোনো ওয়াছওয়াছা এলে তখন সেটা নিয়ে কোনো উত্তর-পশ্চিম না করে সোজা নামাযের চিন্তায় ফিরে যাবেন। শয়তানের এসব ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা ও তা নিয়ে বাহাছ চর্চা করতে হলে নামাযের বাইরে করবেন, নামাযের মধ্যে নয়।